উসমানের হত্যাকারীদের পরিচয়

ভুমিকাঃ

মুসলিমদের ৩য় খলিফা উসমানের হত্যা নিয়ে বিভিন্ন গুজব শোনা যায়। হিস্টোরিকে স্টোরি হিসাবে উপস্থাপনার মাধ্যমে আসল হত্যাকারিদের আড়াল করার চেস্টা করা হয়। আলেমদের জিজ্ঞাস করলে নানা ধরনের কথা বলে যেমন বলে মিসর থেকে কিছু লোক এসে উসমানকে হত্যা করে চলে যায়। আবারও বলে যে এটা ইবনে সাবার কাজ ইত্যাদি। আর বেশি জিজ্ঞাস করলে এড়িয়ে যায়।

এখানে এই প্রবন্ধে ইসলামের জগতে প্রসিদ্ধ ইতিহাস থেকে তুলে ধরা হবে উসমানের প্রকৃত হত্যাকারী কারা। জড়িতদের একে একে  চিহ্নিত করা হবে আর নাম প্রকাশ করা হবে।

প্রথমত বলে রাখি এরা সেই যুগে যা কিছু হয়েছে তা যত দোষ নন্দ ঘোষ হিসাবে ইবনে সাবার উপরে চাপিয়ে পাশ কাটিয়ে যেতে যায়।

ইবনে সাবা নিয়ে যা কিছু বলা হয় তার জবাব সংক্ষেপে দিয়ে আসল হত্যাকারীদের সামনে আনা হবে।

ইবনে সাবা

ইবনে সাবা এর কাহানি এক কল্প কাহানী এটার জন্য আপনারা আল্লামা মুরতাদা আস্কারি এর বই পড়তে পারেন।

কিন্তু আসল যে কথাটা সেটা হল উসমান হত্যা নিয়ে ইবনে সাবার জড়িত বর্ণনা করেছে সাইফ বিন উমার আত তামিমি (মৃঃ ১৮০ হিঃ)। ইবনে সাবা নাকি ঘুরে ঘুরে উসমানের বিরুদ্ধে আন্দলন শুরু করেছিল যার ফলস্ত্রুত উসমান কতল হয়। বিভিন্ন সাহাবা যেমন আম্মার রাঃ আবু জর গিফারি রাঃ এর ইবনে সাবার শিষ্য ছিল। মিসর থেকে সাবাইরা এসে মদিনা ঘিরে ফেলে ও উসমান কে হত্যা করে। ইত্যাদি।

(আহলে সুন্নাহের অভিযোগ যে বিখ্যাত  বিখ্যাত সাহাবীরা ইবনে সাবার ছাত্র ছিল সেই বিষয় এখান থেকে পড়তে পারেন)

 এই সাইফ বিন উমার দুটি বই লিখছিল। যেখান থেকে তাবারি কিছু কিছু কপি করেছে তার ইতিহাসে। এখানে লক্ষণীয় বিষয় এটা যে এই ঘটনা অনেক ঐতিহাসিক (তাবারি এর আগের যুগের) বর্ণনা করেছে তাদের বিস্তৃত বর্ণনা থেকে সাইফ বিন উমারের বর্ণনা একেবারে আলাদা!

এখন দেখা যাক আহলে সুন্নার আলেম ও রেজাল শাস্ত্রের অভিজ্ঞ আলেমগন এই সাইফকে কি বলেছেন।

১) আল বানী তার সিলসিলাতুস সাহিহাতে ( খণ্ড ৩ পাতা ১০১/১০২) এ সাইফকে মিথ্যাবাদী বলেছেন।

২) ইমাম ইবনে আবি হাতিম তার জারাহ ওয়া তাদিল এ ( খণ্ড ৪ পাতা ২৭৮) এ মতরুক (যে হাদিস বানায় -Fabricator) বলেছেন।

৩) ইমাম হাইসামি তার মাজমা আজ যাওয়াদ ও শোয়াইব আরনাউত (সিয়ার আন নাবুলার হাসিয়াতে) সাইফকে মাতরুক বলেছেন।

৪)ইবনে হাজার আস্কালানি, ইয়া ইয়া ইবনে মুইন, ইমাম নাসাঈ সাইফকে জাইফ বলেছেন।

5) ইবনে হিব্বান বলেছেন সে (সাইফ) রেওয়াত বানাত।

6) আবু দাউদ ও আবু নাইম ইসবাহানি বলেছে সাইফ তুচ্ছ।

৭) ইবনে জাওজি বলেছেন যে এর বিরুদ্ধে হাদিস বানানোর অভিযোগ আছে।

৮) আল্লামাহ আল ইজমি বলেছেন সে হাদিস বানাত।

৯) ইমাম হাকিম বলেছেন তার বর্ণনা পরিত্যক্ত।

১০) যাহাবি তার আল মুগ্নি (১/৪১৯) লিখেছেন যে ‘সাইফ বিন উমার দুটি বই লিখেছে, যেগুলি ওলামারা রিজেক্ট করে দিয়েছে।(স্ক্যনের জন্য ক্লিক করুন)

এই হল সাইফ বিন উমার আত তামিমি এর চেহারা আহলে সুন্নার নিজেদের নজরে। সর্বসম্মত ভাবে সে গ্রহণযোগ্য নয়।  অথচ আহলে সুন্নার আলেমগন যখন ইতিহাসে গোঁজামিল দিতে চায় তখন এই সাইফের থেকে কিছু বর্ণনা করে সত্যকে ঢাকার চেষ্টা করে!।

সুতারং পাঠকগন বুঝতেই পারছেন যে ইবনে সাবা নিয়ে সাইফ এর উসমান হত্যার কাহানী এর মান কতটুকু।

বরং মিথ্যায় ভরপুর। যাইহোক এখন আসা যাক উসমানের কাতিলদেরকএ সুন্নি ইতিহাসের আলোকে সামনে আনা।

১) উসমানের হত্যায় মদিনাবাসী ও সাহাবাগনঃ

আহলে সুন্না উসমান হত্যায় মদিনাবাসীদের যোগকে আহলে সুন্নারা এড়িয়ে যাওয়ার চেস্টা করে। অথচ এরা এটাও ভাবে না যে মাদিনা যেটা ইসলামের ক্যাপিট্যাল ছিল সেখানে বাইরে থেকে লোক এসে উসমানকে ঘেরাও করে রাখলো আর মদিনাবাসীরা নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছিল! এটা কেউ বিশ্বাস করবে না।

 ক) মিশরের সুন্নি হিস্টোরিয়ান ত্বহা হুসাইন তার “আল ফিতনা আল কুবরা” এর পাতা ২৫৯

“ঐতিহাসিকগন ৩৪ হিজরি ঘটনা বর্ণনা করেছেন ……………………………………… মদিনার সাহাবারা বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থান করা সাহাবাদের লেখে যে ‘মদিনায় আসো এবং দেখ খিলাফত কিভাবে ধ্বংস হচ্ছে। তোমরা নিজেদের বাড়ি থেকে বার হয়েছো জিহাদে অংশগ্রহন করার জন্য কিন্তু জিহাদ তোমাদের পিছনে। মদিনায় ফিরে আসো সুরক্ষা ও দ্বীন রক্ষা করার জন্য। ক্ষমতা দ্বীনের বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে”।

খ) আল বিদায়া ওয়ান নিহায়াতে ইবনে কাসির, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল এর থেকে বর্ণনা করেছেন। ( খণ্ড ৭ পাতা ২০২)

قال الإمام أحمد حدثنا إسحاق بن سليمان سمعت معاوية بن سلم أن سلمة يذكر عن مطرف عن نافع عن ابن عمر أن عثمان أشرف على أصحابه وهو محصور فقال على م تقتلونني؟ فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول لا يحل دم امرئ إلا بإحدى ثلاث رجل زنى بعد احصانه فعليه الرجم أو قتل عمدا فعليه القود أو ارتد بعد اسلامه فعليه القتل فوالله ما زنيت في جاهلية ولا اسلام ولا قتلت أحداً فأقيد نفسي منه ولا ارتددت منذ أسلمت إني أشهد أن لا إله إلا الله وأن محمداً عبده ورسوله . ورواه النسائي عن أحمد بن الأزهر عن إسحاق بن سليمان به

“… উসমানের অবরোধের দিনগুলিতে তার সাহাবীদের প্রতি উঁকি মেরে বলেন কি কারণে আমাকে হত্যা করতে উদ্ধত হয়েছো? আমি রাসুল সাঃ কে বলতে শুনেছি যে তিনটি কারণ ছাড়া কোন মুসল্মানের রক্ত হালাল নয়…………………………………………”।

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল সহিহ সনদ সহ উল্লেখ করেছেনঃ (খণ্ড ১ পাতা ৫৯)

“ উসমানের অবরোধের কালে তিনি তার মহল থেকে উঁকি মেরে বলল ‘আল্লাহের নামে আমি তাদের কাছে আবেদন জানাচ্ছি যারা হেরার দিনে যারা রসুল সাঃ কে দেখেছে, যখন পাহাড় কেপে উঠল আর রসুল সাঃ পা দিয়ে আঘাত করে ………………”।

উপরে উসমানের উক্তি গুলির মধ্যে দিয়ে এটা প্রকাশ পায় যে যারা তার বাড়ি ঘেরাও করে রেখেছিল তাদেরকে উসমান আপিল করছে। আর তারা কে সেটাও বোঝা যাচ্ছে রাসুল সাঃ এর সাহাবিগন।

গ) আর এই জন্যই ইবনে হাজর আস্কালানিকে লিখতে হল যেঃ

وجاء من طرق كثيرة شهيرة صحيحة عن عثمان لما أن أحصروه أنتشد الصحابة في أشياء

“বিভিন্ন সহিহ ও বিখ্যাত সনদ সহ বর্ণিত হয়েছে যে যখন উসমানকে ঘেরাও করা হয়েছিল, তিনি সাহাবীদেরকে কাছে বিভিন্ন বিষয় মিনতি করেন”।  (আল ঈসাবা, খণ্ড ৪ পাতা ৩৭৮)

ঘ) কানযুল  উম্মাল, আল মুত্তাকী আল হিন্দি , খণ্ড ১৩ পাতা ৮২

 “যখন মিশরের সেনা জাহাফাতে এল এবং উসমানের সম্বন্ধে বাজে কথা বলতে শুরু করল, তিনি এটা জানতে পারলেন এবং মিম্বারে উঠে বললেন “হে মুহাম্মাদের সাঃ  সাহাবারা আল্লাহর লানত তোমাদের উপর আমার নামে বাজে কথা বলার জন্য। তোমরা আমার ত্রুটি গুলো প্রচার করো আর আমার গুনাবলি লুকিয়ে রাখো। তোমারা জনগণকে আমার বিরুদ্ধে উত্তেজিত করেছো”।

উপরে কিছু কিছু উল্লেখ করা হল যেখান থেকে এটা পরিষ্কার হয় যে মদিনা বাসীরা ও সাহাবীরা উসমানের বিরুদ্ধে  অন্যান্য সাহাবিদেরকে চিঠি লিখেছিল ও লোকজনদের উত্তেজিত করেছিল। আর উসমানকে মাসের ও বেশি সময় ধরে অবরোধ করে রেখেছিল।

এটা মদিনা ও সাহাবীদের যুক্ত হওয়ার একটা ব্রড ছবি দেওয়া হল। এর মানে এই নয় সব মদিনাবাসী ও সব সাহাবা যুক্ত হয়েছিল। কিন্তু ইতিসাহ পড়লে ও অবরোধের প্রকার দেখালে বোঝা যায় পুরো মদিনা প্রায় সিজ হয়েছিল।

২) আয়শার প্রধান ভুমিকা উসমান হত্যায়ঃ

আহলে সুন্নার কেতাব সমূহে ভরপুর লেখা হয়েছে যে আয়শা উসমানকে নাসাল বলে উল্লেখ করে ও হত্যা করতে হবে বলে ফতোয়া দেয়।

এই বিষয় নিচে উল্লেখিত বই সমূহ কে দেখা যেতে পারেঃ

১। আন নিহায়া। খণ্ড ৫ পাতা  ৮০।

২। আল কুমুস পাতা ৫০০, ‘লুগাত নাসাল’ , ফিরোজাবাদি।

৩। লিসান আল আরব, খণ্ড ১১ পাতা ৬৭০।

৪। শারাহ নাহজুল বালাগাহ, ইবনে আবিল হাদিদ। খণ্ড ২ পাতা ১২২।

৫। আল ইমামাহ আস সিয়াসা, ইবনে কুতাইবা, খণ্ড ১ পাতা ৫২।

৬। তারিখ মুখতাসার, ইবনে আল এব্রাই, খণ্ড ১ পাতা ৫৫।

৭। আল মাসহুল, ইমাম ফখরুদ্দিন রাযী, খণ্ড ৪ পাতা ৩৪৩।

৮। তারাজিব আল উমাম, খণ্ড ১ পাতা ৪১৯।

আরও অনেকে ইতিহাসে।

ইবনে কুতাইবা তার ‘আল ইমামাহ ওয়াস সিয়াসা  এ লিখেছেনঃ

“…উবাইদ তাকে (আয়শাকে) বললেনঃ ‘তুমিই প্রথম জন যে তার ( উসমানের) বিরুদ্ধে লোকদেরকে উত্তেজিত করেছিল, আর তুমি বলতে নাসালকে হত্যা করো কেননা সে ফাসিক হিয়ে গিয়েছে”।

ইবনে আসির তার আন নিহায়াতেঃ

حديث “اقتلوا نعثلا قتل الله نعثلا” تعني عثمان . وهذا كان منها لما غاضبته وذهبت إلى مكة

“ হাদিসে যেখানে বলা হয়েছে ‘নাসালকে হত্যা করো’, এটা উসমানের প্রতি। এটা হয়েছে ঐ সময় যখন তিনি (আয়শা) রাগান্বিত হয়েছিল ও মক্কাতে চলে গিয়েছিল”।

আহলে সুন্নার বিখ্যাত আলেম ইবনে অসিরকে উম্মুল মোমেনিন আয়শার এর জন্য সাফাই গাইতে হয় যে তিনি রেগে গিয়েছিলেন তাই বলেছেন!

 ইমাম ফকরুদ্দুন আর রাজী তার মসহুলের খণ্ড ৪ পাতা ৩৪৩ এ উল্লেখ করেছেনঃ

فكانت عائشة رضي الله عنها تحرض عليه جهدها وطاقتها وتقول أيها الناس هذا قميص رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يبل وقد بليت سنته اقتلوا نعثلا قتل الله نعثلا

“আয়শা আল্লাহ তার উপর রাজী হোক, উসমানের বিরুদ্ধে জনগণকে উত্তেজিত করেতে সবরকম করেছিলেন, তিনি বলতেন  ‘হে জনগণ এটা রাসুল সাঃ এ জামা এখনো পুরানো হয় নি, কিন্তু তার সুন্নাহ পুরানো হয়েগিয়েছে, নাসালকে হত্যা করো, আল্লাহ তাকে হত্যা করুক’”। (স্ক্যনের জন্য ক্লিক করুন)

আবুল ফারাজ ইবনে আল এবরি তার বিখ্যাত বই ‘তারিখ আল মুখতাসার আল দুওয়াল’ খণ্ড ১ পাতা ৫৫ এ এক সাহাবি হজরত আয়শাকে কি বলছেন সেটা তুলে ধরেছেন

ولقد كنت تقولين: اقتلوا نعثلا فقد كفر

“তুমি এটা বলতে ‘নাসালকে হত্যা করো, সে কাফের হয়ে গিয়েছে”। (অনলাইন লিঙ্ক তারিখ এ মুখতাসার ৫৫)

আহলে সুন্নার স্বনাম ধন্য ঐতিহাসিক ও দার্শনিক আহমাদ বিন ইয়াকুব মাস্কুয়াহ ( মৃঃ ৪২১ হি) তাজারেব আল উমাম খণ্ড ১ পাতা ৪১৯ এ লিখেছেনঃ

و كانت من قبل تشنّع على عثمان، و تحضّ عليه، و تخرج راكبة بغلة رسول الله- صلى الله عليه- و معها قميصه و تقول: – «هذا قميص رسول الله، صلى الله عليه، ما بلى و قد بلى دينه، اقتلوا نعثلا، قتل الله نعثلا.»

“তিনি উসমানের বদনাম করত আর তার বিরুদ্ধে উত্তেজিত করত, তিনি আল্লাহের নবির সাঃ গাধার পিঠে চড়ে একটা কাপড় নিয়ে বলতেন ‘এটা আল্লাহের নবীর সাঃ এর জামা পুরানো হয় নি। কিন্তু তার দ্বীন পুরানো হয়ে গিয়েছে, নাসালকে হত্যা করো, আল্লাহ তাঁকে হত্যা করুক”।

উসমানের বিরুদ্ধে আয়শার তাকফির এত পপুলার যে পরবর্তীতে যখন উসমানকে কতল করা হয় তখন অনেক সাহাবা তাঁকে মনে করিয়ে দেয় যে এটা আপনিই যিনি উসমানকে কতল করার জন্য দ্বায়ই।

কিছু নাসিবিদেরকে দেখা গিয়েছে তার হজরত আয়শার ভুমিকাকে অস্বীকার করার চেষ্টা করে, এবং আয়শার কিছু বক্তব্য তুলে ধরে যেগুলিতে বর্ণিত হয়েছে যে আয়শা নিজে তার ভুমিকাকে অস্বীকার করছে।

এখানে নাসিবিরা আনপড় তস্য নাসিবিদেরকে কৌশলে ধোঁকা দিতে চায়। যেটাকে এখানে পরিস্কার করার প্রয়োজন মনে করছি।

আয়শা উসমানের বিরুদ্ধে তাকফিরি ও তাঁকে হত্যা করার ক্যাম্পেন বহুল বর্ণিত এবং তার কিছু উল্লেখ করেছি। আর এই সব কিছু করেছিল উসমান হত্যার আগে। আয়শা চাইত যে উসমানের পরে তার আত্বীয় তালহাকে খলিফা করা হবে।

আয়শা উসমানের বিরুদ্ধে হত্যার ফতোয়া জারি করে ও লোকদেরকে উত্তেজিত করে হজ্জের সময় আয়শা মক্কায় চলে যায়। এবং মক্কা থেকে ফেরার পথে শোনে যে উসমানের কতল হয়েছে। তখন জিগ্যেস করে কে খলিফা হয়েছে? যেই শোনে যে আলি আঃ খলিফা হয়েছে হজরত আয়শা  বলে মক্কায় ফিরে চলো মক্কায় ফিরে চলো।

উসমানকে মজলুম ভাবে কতল করা হয়েছে।

এখানে বোঝা যাচ্ছে যে আয়শা তার ক্যাম্পেন এ সফল হতে পারে নি, তালহাকে খলিফা করতে পারে নি বরং  আয়শা যাকে ঘৃনা করত সেই আলি আঃ এর কাছে লোকেরা জড় হয়ে বায়াত করেছে এই কথা বোঝার পরেই আয়শা মক্কায় ফিরে যেতে চায় এবং নিজের রূপ বদল করে বলে যে উসমানে মজলুম ভাবে কতল করা হয়েছে।

একথা যখনই বলতে থাকে বিভিন্ন সাহাবারা তাঁকে বলে এটা আপনিই যে উসমানের হত্যার করারা জন্য উঠে পড়ে লেগেছিলেন। এটা উসমানের জন্য তার কোন মায়া ছিল না বরং ঝানু রাজনিতিক এর পট ও পরিস্থিতি বদলের সাথে সাথে নিজে ইউ (U) টার্ন নিয়ে নেয়। এই বিষয় আরও বিশদ বলা হবে কিছুটা পরে।

এখানে আয়শা এক শাস্তির ভয়ে মদিনায় যাওয়ার পথ থেকে ফিরে মক্কায় যায়। এবং উসমানের বিরুদ্ধে যে ভাবে শুরু করেছিল এবং তাতে জনগণের যে সাড়া পেয়েচিল সেটাকে চিন্তা করে আবারও হাঙ্গামা শুরু করলো এবং ইমাম আলি আঃ খালিফায় রাসেদ নাফসে রাসুল সাঃ, রাসুল সাঃ যাকে বলেছেন যে তার সাথে যুদ্ধে করা আমার সাথে যুদ্ধ করা। সেই আলি আঃ এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করে এবং মক্কা থেকে ১০০০ মাইল দূরে বসরা আক্রমণ করে এবং লুটপাট করে। এর মাঝে তালহা ও যুবাইরকে ডেকে নেয়। এবার আয়শার অজুহাত ছিল উসমানের কাতিলদের সাজা দিতে হবে!! আসল উদেশ্য ছিল ইমাম আলি আঃ কে পরাস্ত করা এবং তাঁকে খেলাফত থেকে চ্যুত করা। পরের ইতিহাস জানতে চাইলে উৎসাহী পাঠকদের কে ইতিহাস পড়ার আহ্বান করছি। আমি এখন সেদিকে যাচ্ছি না।

আমরা এখানে আয়শার উসমান হত্যার আগের কিছু ক্যাম্পেন এর কথা উল্লেখ করেছি আরও কিছু উল্লেখ করা হচ্ছেঃ

আনসাব আল আশারাফ এ বালাজুরি লিখেছেনঃ খণ্ড ৬ পাতা ১৯২,১৯৩

“যখন পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে পড়ল, উসমান মারোয়ান বিন হাকামকে আর আব্দুর রহমান বিন আত্তাব কে আদেশ দিল আয়শাকে বোঝাতে (মানাতে), যে সে যেন তার বিরুদ্ধে প্রচার করা বন্ধ করে। তারা তার কাছে গেল তখন মক্কায় হজে যাওয়ার জন্য আয়শা বন্দ ব্যাবস্থা করছিল। তারা তাকে বলল ‘আমারা প্রার্থনা করি যে আপনি মদিনাতেই থাকুন, আর আল্লাহ এই মানুষটাকে (উসমানকে) রক্ষা করুক আপনার মাধ্যমে”। আয়শা উত্তর দিল ‘আমি যাতায়াতের সব ব্যাবস্থা করেছি আর হজ্জ করার প্রতিজ্ঞা করেছি, অয়াল্লাহ আমি তোমাদের কথা রাখবো না…………… আমি ইচ্ছা করি যে সে (উসমান)আমার একটা ঝোলার  মধ্যে থাকতো আর যাতে অমি ওকে বহন করতাম। আর তার পর তাকে সমুদ্রে ছুঁড়ে দিতাম”।

এটা পরিষ্কার যে উসমান তার বিরুদ্ধে লোকদেরকে উত্তেজিত করার প্রধান ব্যাক্তিত্ব আয়শাকেই মানত তাই আয়শার কাছে আপিল করতে মারওয়ান ও অন্য একজনকে পাঠায়। অথচ আয়শা তাকে স্মুদ্রে ছুড়ে ফেলার বাসনা প্রকাশ করলেন।

আগেই বলেছি উম্মুল মোমিনিন আয়শা চাইছিল যে উসমানকে কতল করে তালাহাকে খলিফা করা এই বিষয় বিখ্যাত ইতিহাসের বই ‘তারিখ আত তাবারি’ থেকে উধৃতি দেও হল। উম্মুল মোমেনিন আয়শা হজরত ইবনে আব্বাসকে ডেকে বলে।

“ইবনে আব্বাস, আমি তোমার নিকট অনুরোধ করছি যে এই লোকটাকে ত্যাগ করো, জনগণের মধ্যে তার ব্যাপারে সন্ধেয়ের বীজ বপন করো, কেননা তোমাকে তীক্ষ্ণ জিহব্বা দেওয়া হয়েছে। তাদের সমাধান করার ক্ষমতা তাদের কাছে পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে, আলোর রশ্মি প্রস্ফুটিত হয়েছে তাদের হেদায়াত(লক্ষ্য পাওয়ার) করার জন্য …………………………, আমি তালহাকে দেখেছি তালহা বিন উবাইদুল্লাহ বায়তুল মাল আর গুদামের চাবি নিয়েছে। সে যদি খলিফা হয় তবে সে তার চাচাত ভাই আবু বকের অনুসরণ করবে’।

(ইবনে আব্বাস) বললেন “ ও উম্মুল মোমেনিন, যদি উসমানের উপর যদি খারাব কিছু নেমে আসে, জনগণ আমাদের সাথি (আলি) এর কাছে আশ্রয় নেবে’।

তিনি (আয়শা) উত্তর দিল ‘চুপ থাকো, তোমার সাথে ঝগড়া করার কোন ইচ্ছা আমার নেই”।

(তারিখ এ তাবারি খণ্ড ১৫ পাতা ২৮৯,২৩৯)

বালাজুরি তার আনসাব আল আশরাফ এ এর খন্ড ৬ পাতা ২১২ উল্লেখ করেছেনঃ

وكانت عائشة تؤلب على عثمان، فلما بلغها أمره، وهي بمكة، أمرت بقبتها فضربت في المسجد الحرام وقالت: إني أرى عثمان سيشوم قومه كما شأم أبو سفيان قومه يوم بدرٍ.

“আয়শা লোকদেরকে উসমানের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করছিল, যখন তাকে উসমানের কতলের খবর দেওয়া হয় তখন সে মসজিদুলে হারামে ছিল এবং বলল ‘আমি বিশ্বাস করি উসমান তার লোকেদের জন্য অশুভ ভাগ্য বয়ে আনবে যেমন ভাবে আবু সুফিয়ান বদরের দিন তার লোকেদের জন্য অশুভ ভাগ্য বয়ে এনেছিল’”।

সুতারং উসমানের হত্যার আগে আয়শা এর কর্মকাণ্ড এই রকমঃ

১) আয়শা উসমানকে নাসাল ও কাফির বলে ফতোয়া দেয় এবং হত্যা করার জন্য বলে।চাইছিল তার আত্বীয় উসমান খলিফা হবে।

২) উসমান যখন ঘেরাও হল তখন তিনি মক্কায় হজ্জ করতে গেলেন এবং উসমানের জান বাঁচানোর জন্য আবেদনের কোন রকম সাড়া দিলেন না।

৩)ইবনে আব্বাসকে উসমানের বিরুদ্ধে সরব হতে বললেন এবং তালহাকে খালিফার ক্যান্ডিডেট হিসাবে তুলে ধরলেন।

৪)উসমানের কতলের সংবাদ পেয়ে আয়শা আবু সুফিয়ান বদরের দিনে যেমন উমাইয়াদের জন্য দুর্ভাগ্য ডেকে এনেছিল তার সাথে উসমানকে তুলনা করলেন।

পাঠকদের কাছে পরিস্কার যে উসমানের জীবিত কালে আয়শা তার বিরুদ্ধে চরম অবস্থান নিয়েছিল। এমনকি উসমানের মৃত্যুর সংবাদ শুনে ও তিনি বদরের দিনের উমাইয়াদের সাথে তুলোনা করলেন।

কিন্তু একটু পরেই পাঠকগন জানতে পারবে যে যেই আয়শা সংবাদ পেল যে আলি আঃ খলিফা হয়েছে তখন আয়শা তার পঠ পরিবর্তন করলেন।

সাহাবা আর তাবেঈনগণ আয়শার এই রাজনৈতিক ভোল বদলকে নিজেরাই উল্লেখ করেছেন।

বিখ্যাত ঐতিহাসিক ইবনে আসির তার ‘তারিখ আল কামিল’ এ উল্লেখ করেছেন। (খণ্ড ৩ পাতা ১০০)

“উসাইদ ইবনে আবি সালমা যে আয়শার মায়ের দিক থেকে আত্বীয় ছিল, আয়শার সাথে দেখা করল যখন আয়শা মাদিনায় ফিরছিল। উসাইদ বলল ‘উসমানকে কতল করা হয়েছে এবং লোকেরা ৮ দিন ধরে কোন ইমাম ছাড়া ছিল’, এতে আয়শা বলল ‘তারা এর পর কি করলো’?উসাইদ বলল ‘জনগণ আলি এর কাছে গিয়েছে এবং তার বায়াত করেছে’। আয়শা তখন বলল ‘আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে চলো, আমাকে মক্কায় ফিরিয়ে নিয়ে চলো”। সে মক্কার দিকে মুখ করে বলল ‘উসমানকে অন্যায় ভাবে হত্যা করা হয়েছে, অয়া আল্লাহ, আমি তার রকের প্রতিশোধ নেব’। তখন উসাইদ বলল ‘এখন তুমি বলছো উসমান নির্দোষ, কিন্তু এটা তুমিই বলেছিলে ‘এই ইহুদি নাসালকে হত্যা করো’” (স্ক্যানের জন্য ক্লিক করুন)

এমনকি ইমাম আলি আঃ জামালের যুদ্ধের আগে আয়শাকে চিঠি লেখে যেখানে আলি আঃ প্রকাশ্যে আয়শার জড়িত থাকার কথা বলেছেনঃ

আয়শা উটে চড়ে মক্কা থেকে পাড়ি দিয়ে বসরায় যায় যুদ্ধ করতে যার সমালোচনা করে ইমাম আলি আঃ লেখেনঃ

“তুমি আল্লাহ ও তার রসুলের বিরুদ্ধে কাজ করেছো ঘর থেকে বার হয়ে, তুমি যে জিনিষের দাবী করছো সে দাবী করার হক্ক তোমার নেই। তুমি উম্মাহকে পুনর্গঠন করতে চাও বলে দাবী করছো। আমাকে বলো মহিলাদের কি ভুমিকা আছে উম্মাহকে পুনর্গঠন করার আর যুদ্ধে অংশগ্রহন করার? তুমি দাবী করছ উসমানের হত্যার শোধ নেবে অথচ সে বানু উমাইয়ার গোত্রের লোক আর তুমি বানু তামিম এর মহিলা। যদি আমরা ঘটনাক্রমের দিকে দেখি এটা মাত্র গতদিনের কথা তুমিই বলেছিলে ‘নাসালকে হত্যা করো, আল্লাহ নাসালকে হত্যা করুক কারন সে কাফির হয়ে গিয়েছে”।

সীরাত এ হালাবিয়া খণ্ড ২ দ্বিতীয় ভাগ, পাতা ৩৪৭। দেওবান্দি আলেম মুহাম্মাদ আসলাম কাসমির উর্দু অনুবাদ।

ইকদ আল ফারিদ খণ্ড ২ পাতা ৯১

خرجت عائشة باكيةَ تقول: قُتل عثمان مظلوماً! فقال لها عمار: أنتِ بالأمس تُحرضين عليه، واليومَ تَبْكِين عليه

“আয়শা কাঁদতে কাঁদতে বাইরে গেল আর বলল ‘উসমান অত্যাচারিত হয়ে কতল হয়েছে’। আম্মার বিন ইয়াসির রাঃ উত্তর দিলেন ‘গতকাল তুমি লোকদেরকে তার বিরুদ্ধে উত্তেজিত করছিলে আর আজ তার জন্য কাঁদছ”!

ইকদ আল ফরিদ খন্ড ২ পাতা ৯২

فقال مَرْوان: فقلت لها: هذا عَملك، كتبتِ إلى الناس تأمرينهم بالخروج عليه

“ মারোয়ান আয়শার কাছে গিয়ে বলল ‘তোমার জন্য সে (উসমান) কতল হয়েছে, তুমি জনগণকে চিঠি লিখেছিলে আর তার বিরুদ্ধে জনগণকে উত্তেজিত করেছিলে’”।

তাবাকাত আল কুবরা ইবনে সা’দ খন্ড ৩ পাতা ৮২ তে বিখ্যাত তাবেঈ মাসরুকের এর সাক্ষী তুলে ধরেছেঃ

“মাসরুক আয়শাকে বলেছেন, উসমান তোমার জন্য মারা গিয়েছে। তুমি জনগনকে তার বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে লিখছিলে”।

উসমানের হত্যার পরে আয়শার অস্বীকার তার কোন কাজে আসবে না। যে সাহাবী ও তাবেঈকেই আয়শা কিছু সাফাই বলতে গিয়েছে সবাই উল্টে তাকেই অভিযুক্ত করেছে।

ইকদ আল ফরিদ খণ্ড ২ পাতা ৯৩    (সৌদি লাইব্রেরী এর লিংক)

دخل المُغيرة بن شُعبة على عائشة فقالت: يا أبا عبد الله، لو رأيتني يومَ الجمل وقد نفذتْ النِّصالُ هَوْدجي حتى وصل بعضُها إلى جِلْدي. قال لها المغيرة: وددتُ والله أن بَعضها كان قتلك. قالت: يرحمك الله، ولم تقول هذا؟ قال: لعلَها تكون كَفّارة في سَعْيك على عُثمان

“মুগিরা ইবনে শুবা আয়শার কাছে গেলে আয়শা তাকে বলল যে ‘জামালের (যুদ্ধের) দিনে কিছু তীর ছোড়া হয়েছিল যেগুলি আমার চামড়া ছুঁয়ে গিয়েছিল’। মুগিরা উত্তর দিল ‘যদি একটা তীর তোমাকে মেরে ফেলত’, আয়শা বলল ‘তুমি একথা বলতে পারলে’? মুগিরা বলল ‘সেটাই  তোমার প্রায়শ্চিত্ত হত, কেননা তুমি জনগণকে উসমানকে হত্যা করার জন্য উত্তেজিত করত’”।

নাসিবিরা যারা বলে বলার চেস্টা করে যে উসমান ও আয়শার মধে মুহাব্বাতের সম্পর্ক ছিল তাদের জন্য বোমা আয়শা নিজেই ফাটিয়েছেন, নিচে রেফারেন্স দেওয়া হলো আয়শার স্বীকার উক্তি।

“ইবনে জরির তাবারি-যিয়াদ ইবনে আইউব-মুসাইব ইবনে সুলাইমান- মুহাম্মাদ –আসিম বিন কুলাইব- তার পিতা থেকেঃ

উসমানের জামানায় আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম, আমি দেখেছিলাম,  একজন অসুস্ত বিছানায় শয্যা  অবস্থায় শাসন করছে, আর একজন মহিলা তার মাথার কাছে ছিল। জনগণ তার তাকে খুঁজছিল আর দিকে ছুটছিল যদি সেই মহিলা বারণ করত তারা ক্ষান্ত হত। কিন্তু তিনি তা করেননি, সুতারং তারা তাকে ধরলো এবং কতল করলো। আমি আমার এই স্বপ্ন সবার সাথে বলতাম (গ্রামের) বাসিন্দা বা রাখাল সাবাইকে, তারা অবাক হয়ে যেত কিন্তু এর মানে জানতো না।

তারপর যখন উসমানের কতল হল আমাদের কাছে খবর এল যখন আমরা একটা যুদ্ধ থেকে ফিরছিলাম, আমার সাথী বলল ‘কুলাইব তোমার স্বপ্ন’! যখন আমরা বসরায় পৌঁছলাম এবং অবস্থান করছিলাম একজন বলল ‘তালহা আর যুবাইর আসছে এবং সাথে উম্মুল মোমেনিন আছে’। এতে জনগণের মধ্যে চাঞ্চল্য এসে গেল এবং তারা আশ্চারয্য হয়ে গেল, কিন্তু তারা জনগনের কাছে দাবি করছিল যে তারা উসমানের ব্যাপারে রাগান্বিত হয়ে বার হয়েছে এবং প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য কারণ লোকজন তাকে (উসমানকে) রক্ষা করেনি।

উম্মুল মোমেনিন বল্লেল ‘আমরা তোমাদের হয়ে উসমানের ব্যাপারে রাগান্বিত হয়েছিলাম তিনটি কারণে যেগুলি সে করেছিলঃ অল্প বয়েস্কদের হাতে ক্ষমতা দেওয়া, জনগনের সম্পত্তি ( বাইতুল মাল) লুটপাট করা আর লাঠি ও বেত দিয়ে লোকদেরকে মারধোর করা”। (স্ক্যনের জন্য ক্লিক করুন)

সনদঃ

যিয়াদ বিন আইউবঃ যাহাবি বলেছেন ‘হুজ্জা’ (তাজকিরাতুল হুফফাজ, খঃ ২ পাতা ৫০৮), ইবনে হাজর বলেছেন শিকা (তাকরিব আত তাহযীব খঃ১ পাতা ৩১৮)।

মুসাব বিন সালাম আল তামিমিঃ আলবানি তাকে শিকা হিসাবে গ্রহন করেছেন( সিলসিলা সাহিহাহ খঃ৫ পাঃ৩৮), ইবনে হাজর বলেছেন সুদুক (তাকরিব আত তাহযীব, খনঃ২ পাতা ১৮৬)।

মুহাম্মাদ বিন সুকাহঃ যাহাবি বলেছেন হুজ্জা (সিয়ার আলাম নাবুলা খঃ৬ পাঃ১৩৪), ইবনে হাজর বলেছেন শিকা (তাকরিব আত তাহযীব খঃ ২ পাঃ ৮৪)।

আসিম বিন কুলাইবঃ যাহাবি বলেছেন ‘সাহিহ’ ( তারিখ ইসলাম খঃ৮ পাতা ৪৫৭), আলবানী বলেছনে ‘শিকা’ (সিলসিলা সাহিহাহ খঃ৩ পাঃ৩৩৪), ইবনে হাজর বলেছেন ‘সুদুক’ ( তাকরিব আত তাহযিব খঃ১ পাতাঃ৪৫৭)

কুলাইব বিন শেহাবঃ ইবনে হাজর “সুদুক” (তাকরিব আত তাহযিব খঃ ২ পাঃ৪৪)  যাহাবি আল কাসিফ খন্ড ২ পাতা ১৪৯।

শুধু এই নয় আয়শা উসমানের প্রতি বিরোধিতার কারণে মিশরীয়দের মজলুম বলত আর পরে উসমান হত্যা যাওয়ার পরে ইমাম আলি আঃ এর বিরোধিতা ও ঘৃনায় মিশরীয়দের অত্যাচারী আখ্যা দেয়!

এখানে দেখা যাবে যে মিশরীয় যারা উসমানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল তাদেরকে উসমান হত্যা করেছে বলে একজন হজরত আয়শাকে মক্কায় খবর দেয় আর দেখুন আয়শার কি রিএকশন!

জরির ইবনে তাবারি তার ইতিহাসের খন্ড ১৬ পাতা ৩৯ এ লিখেছেনঃ

“আয়শা যখন মদিনা ছেড়েছিল তখন  উসমান ঘেরাও অবস্থায় ছিল। আখদার নামে একজন (যে মদিনা থেকে এইমাত্র) মক্কায় এসেছিল এবং তার (আয়শার) সাথে দেখা করলে সে তাকে জিজ্ঞাগ করে  ‘লোকজন কি করছে?’

–  ‘উসমান মিশরের লোকদেরকে হত্যা করেছে’। সে উত্তর দিল।

–  ‘ইন্না লিল্লাহে অইন্না ইলাহে রজেউন’! আয়শা বিস্মিত হয়ে বলল ‘সে লোকদেরকে হত্যা করল যারা বিচার চাইতে এসেছিল অন্যাইয়ের বিরুদ্ধে? আল্লাহের কসম আমরা এইধরনের কাজকে অনুমতি দেই না’।

তখনই অন্য একজন এল এবং তাকে জিজ্ঞাসা করল ‘লোকজন কি করছে’?

‘উসমানকে হত্যা করেছে মিশরিয়রা’ সেই লোক উত্তর দিল।

আখদার মজা পেল। তিনি (আয়শা) বলল ‘এনি (আখদার) অভিযোগ করলো যে যাকে হত্যা করা হয়েছে সে হত্যা কারী’।

উপরে সমস্ত আলোচনা থেকে এটা পরিষ্কার যে আয়শা নিজেই উসমান কে কতলের ফতোয়া দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে লোকজনকে লিখেছে, উত্তেজিত করেছে। এবং ইবনে আব্বাসকেও দলে টানার চেস্টা করেছে আর তালহাকে পরবর্তী খলিফা হিসাবে প্রজেক্ট করেছে। অতঃপর উসমানের সাহায্যের আবেদনকে অস্বীকার করে মক্কায় হজ্জ করতে গিয়েছে এবং উসমান কতল হলেও স্বাভাবিক রিএক্সশন করেছে। কিন্তু যেই শুনেছে আলি আঃ খলিফা হয়েছে তখনই সে তার পলিসি পরিবর্তন করেছে এবং উসমান মজলুম হয়ে মরেছে বলে প্রচার করতে লাগল ও আলি আঃ এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বসরায় গিয়ে গনহত্যা শুরু করে।

৩) তালহার ভুমিকা উসমান হত্যায়ঃ

উসমান হত্যায় পুরুষদের মধ্যে বিখ্যাত সাহাবা তালহা ইবনে উয়াবাইদুল্লাহ এর হাত সব থেকে বেশী। তালহাই সমস্ত ঘটনা পরিচালনা করে, ঘেরাও থেকে শুরু করে পানি বন্ধ করে দেওয়া। আর এই সব কারনেই উসমান নিজেই তালাহার কাছে আবেদন করে যেন তালহা ইসলামে উসমানের অবদানকে মনে রাখে।

তালহার পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে নাসিবীরা প্রায় এইটা উল্লেখ করে যেঃ

উসমান মসজিদে প্রবেশ করে তালহাকে ডেকে বলে যে আমি নিজে একটুকরো জমি কিনে এই মসজিদে যোগ করেছি নবীর আবেদনে। আমি আল এসরাহ এর সেনাদের সাহায্য করেছি। এর উত্তরে তালহা বলে হা হা। আমি জানি উসমান এইগুলি করেছে।

নাসিবীরা এটা উল্লেখ করে বোঝাতে চায় যে তালহা নির্দোষ ছিল উসমানের হত্যায়। কিন্তু ঘটনা সেটা নয়, এই কথার কথন দ্বারা আসল ঘটানার কোন কিছুই বোঝা যায় না।

ইনশাআল্লাহ আমারা এখানে তালহার জড়িত থাকার প্রচুর পরিমাণ প্রমান উল্লেখ করবো সে কি বলেছে ও করেছে।

মুহামামদ ইবনে সাদ তার ‘তাবাকাত আল কুবরা’ এর খন্ড ৫ পাতা ৩৮ এ উল্লেখ করেছেনঃ

“যখন উসমানের হত্যা হয়ে গিয়েছিল, তালহা, যুরাইর আর আয়শা বসরায় গিয়েছিল উসমানের রক্তের প্রতিশোধ নেবার জন্য, এই সময় মারোয়ান ও এসেছিল তাদের সাথে সাথে। যখন সাবাই যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে পালাতে শুরু করল (যখন আয়শার দল যুদ্ধে হেরে গেল) মারোয়ান তালহাকে দেখে বলল ‘আল্লাহের কসম সে উসমানের হত্যার জন্য দায়ী, সেই উসমানের সাথে খারাব আচরন করেছে। আমি যখন সবচক্ষে দেখেছি আমার কোন সাক্ষীর প্রয়োজন নেই’। সে একটা তীর নিয়ে তালহার দিকে ছুড়ে দিল যেটা তাকে হত্যা করল”।

আহলে সুন্নার ইমাম হাফিজ ইবনে হজর আস্কালানী তার ‘ইসাবা’ খণ্ড ৩ পাতা ৪৩২

وأخرجه أبو القاسم البغوي بسند صحيح عن الجارود بن أبي سبرة قال : لما كان يوم الجمل نظر مروان إلى طلحة ، فقال : لا أطلب ثأري بعد اليوم ، فنزع له بسهم فقتله

“আবুল কাশিম আল বাগভি সহিহ সনদ সহ জারুদ বিন আবি সাবরা থেকে বর্ণনা করেছেন যে সে বলেছে ‘জামালের যুদ্ধে মারোয়ান তালহার দিকে দেখে বলল ‘আমি আজকের পরে আর প্রতিশোধ তলব করব না’। সে একটা তীর ছুড়ে তাকে (তালহাকে) হত্যা করল’। (স্ক্যানের জন্য ক্লিক করুন)

ইমাম হাকিম ও তার ‘মুসতাদরাক’ এ অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আহলে সুন্নার ইমামা যাহাবি তার ‘সিয়ার আলাম আন নুবালা’ এর খণ্ড ১ পাতা ৩৬ এ উল্লেখ করেছেনঃ

جويرية بن أسماء عن يحيى بن سعيد عن عمه أن مروان رمى طلحة بسهم فقتله ، ثم التفت إلى أبان فقال قد كفيناك بعض قتلة أبيك

“মারোয়ান তালহাকে তীর ছুড়ে হত্যা করে, তার পরে সে আবানের ( উসমানের ছেলে) দিকে ফিরে বলে ‘আমি তোমার আব্বার হত্যাকারীদের একজনের থেকে তোমাকে মুক্ত করলাম”।

(অন লাইন লিংক)

এখানে একটা বিষয় উল্লেখ করা জরুরী যে মারোয়ান যে জামালের যুদ্ধে আলি আঃ এর বিপক্ষে আয়শা তালহা যুবাইরের হয়ে এসেছিল সে জানত উসমানের কাতিল কারা তার পরেও ঘোলা জলে মাছ ধরার জন্য ইমাম আলি আঃ এর বিপক্ষে জমা হয়েছিল। জামালের যুদ্ধের আগে সাহাবী সাইদ বিন আসের সাথে মারোয়ানের দেখা হয় তখন সাইদ বিন আস যা বলে সেটাও খুবই উল্লেখ যোগ্য।

“ সাইদ বিন আল আস মারোয়ান ও তার লোকদেরকে দেখে বলল ‘কোথায় যাচ্ছো? যাদের থেকে তুমি প্রতিশোধ নিতে চাও তার উটের উপরে। তাদের হত্যা করো এবং বাড়ি ফিরে যাও’।(তাবারি , খন্ড ১৬ পাতা ৪৪)

সুতারং তালহকে ও তার উটের দলবলকে উসমান হত্যার দায়ে হত্যা করার জন্য বলা হচ্ছে এবং মারোয়ান সুযোগ পেয়ে তালহাকে মেরে সেটাই করল।

এমনকি তালহার নিজের পুত্র স্বীকার করছে উসমানের হত্যায় তার বাবার হাত।

ইবনে কুতাইবা তার ‘আল ইমামহ ওয়াস সিয়াসা’ এর  পাতা ৬০ এ লিখেছেঃ

“কেউ একজন মুহাম্মাদ বিন তালহাকে জিগ্যেস করল কারা উসমানকে হত্যা করল? সে উত্তর দিল যে ‘তিন ভাগের একভাগ আয়শার প্রতি বলা হয় আর তিন ভাগের একভাগ আমার আব্বা তালহার জন্য”।

নাসিবীরা যতোই বৃথা চেস্টা করুক না কেন এটা বোঝাতে যে তালহা আর উসমানের মধ্যে মধুর সম্পর্ক ছিল কিন্তু ঐতিহাসিক ঘটনা সমূহ উল্টো কথা বলছে। একেবারে প্রথম যুগের আহলে সুন্নার ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে শিরিনের বক্তব্য তুলে ধরেছে ‘ইকদ আল ফারিদ’ এর খন্ড ২ পাতা ৯৫ এ

عن إبن سيرين: لم يكن من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم أشد على عثمان من طلحة۔

“ইবনে শিরিন বলেছেনঃ ‘নবি সাঃ এর সাহাবীদের মধ্যে উসমানের প্রতি তালহার থেকে বেশি আর কেউ কঠোর ছিল না”।

‘তারিখ আল মদিনা’ এর খণ্ড ৪ পাতা ১১৬৯ এ আমরা একজন তাবেঈ আউফ বিন আবি জামিলা এর সাক্ষ্যী তুলে ধরেছেঃ

حدثنا محمد بن منصور قال، حدثنا جعفر بن سليمان الضبعي، عن عَوف قال: كان أشد الصحابة على عثمان طلحة بن عبيد الله، وإنما أفسدَ عثمان رضي الله عنه بطانة استَبْطَنَها من الطلقاء

“মুহাম্মাদ বিন মন্সুর>জাফার বিন সুলাইমান>আউফ বলেছেনঃ ‘সাহাবীদের মধ্যে তালহা উসমানের বিরুদ্ধে সবথেকে আক্রমণাত্মক ছিল……”। ( এর সনদের সব সাহিহ/শিকা)

এইগুলি প্রমান করে যে অন্যান্য সাহাবী সহ তালহা উসমানের বিরুদ্ধে ছিল আর তালহা তাদের হর্তাকর্তা ছিল। এর পরেও নাসিবীদের মুখে চপেটাঘাত করে নিচে রেফারেন্স দেওয়া হল উসমানের নিজের অভিযোগ।

হাফিয ইবনে শাবাহ আল নুমাইরি (মৃঃ ২৬২ হিঃ) তার ‘তারিখ আল মাদিনা’র খণ্ড ৪ পাতা ১১৯৭/১১৯৮ এ উল্লেখ করেছেনঃ

فلما كان يوم العيد صلى علي رضي الله عنه بالناس ، فمال الناس إليه وتركوا طلحة ، فجاء طلحة إلى عثمان رضي الله عنه يعتذر ، فقال عثمان : الآن يا إبن الحضرمية ألبت الناس علي حتى إذا غلبك علي على الأمر ، وفاتك ما أردت جئت تعتذر ، لا قبل الله منك

“আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর বর্ণনা করেছে ‘ঈদের দিন আলি রাঃ জনগণকে নামায পড়লেন, ফলে জনগণ তার (আলির) কাছে গেল তালহাকে ত্যাগ করে। তখন তালহা উসমানের রাঃ কাছে গেল ক্ষমা চাইতে, উসমান বলল ‘ও হাদরামিয়ার ছেলে!(ব্যঙ্গ অর্থে বলা হয় ‘সন অফ জিনিয়াস) তুমি লোকদেরকে আমার বিরুদ্ধে উত্তেজিত করেছো, আর যখন আলি জিতেছে তোমার বিরুদ্ধে এবং তুমি যেটা পেতে চাইছিলে সেটা হারিয়েছ, তুমি তখন ক্ষমা চাইতে এসেছো, আল্লাহ তোমার থেকে কবুল না করুক”।

(অনলাইন লিংক)  (স্ক্যানের জন্য ক্লিক করুন)

পাঠকগনে আগেই বলা হয়েছে যে তালাহা উসমানকে হত্যাকরে কি হাসিল করতে চাইছিল। উপরে উসমানের নিজের মতামত দেওয়ায় হয়েছে এখানে আরও একটা রেফারেন্স দেওয়া হল যেখানে পাঠকগন দেখতে পাবেন উসমান কাকে দায়ী করছে। দ্বিতীয় চপেটাঘাত নাসিবীদের গালে।

তাবারি তার তারিখে লিখেছেনঃ (খণ্ড ১৫ পাতা ১৯৯/২০০) (স্ক্যানের জন্য ক্লিক করুন)

“আব্দুল্লাহ ইবনে আইয়াস থেকে বর্ণিত ‘আমি উসমানের কাছে গেলাম (ঘেরাও এর সময়) এবং  তার সাথে এক ঘন্টার মত ব্যাকালাপ করলাম। সে বলল ‘এসো ইবনে আইয়াস’ এবং সে মারা হাত ধরে নিয়ে গেল দরজার পাশে লোকেরা কি বলছে শোনাতে। আমরা কিছু লোকদেরকে বলতে শুনলাম ‘অপেক্ষা কিসের জন্য’? অন্যরা বলল ‘অপেক্ষা করো হতে পারে সে তাওবা করবে’। যখন আমরা দুজন ঐখানে দাঁড়িয়েছিলাম (দরজার পাশে থেকে শুনছিল) তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ গেল আর বলল ‘ইবনে উদাইস কোথায়’? তাকে জানানো হয় “ঐ সেইখানে’। ইবনে উদাইস এলো এবং( তালহার) কিছু ফিসফিস করলো, তার পরে লোকদের কাছে গিয়ে বলল ‘কাউকে এর ভিতরে (উসমানের বাড়ির ভিতরে) ঢুকে এই লোকের সাথে দেখা করতে দেবে না আর কাউকে এই বাড়ি থেকে বার হতে দেবে না’।

উসমান আমাকে বলল ‘এইগুলি তালহার হুকুম’। আরও বলল ‘ও আল্লাহ ! আমাকে তালহার থেকে রক্ষা করো, সে এই সব লোকদেরকে আমার বিরুদ্ধে উত্তেজিত করেছে। আল্লাহের সাক্ষী, এর থেকে কিছুই লাভ হবে না, বরং তার নিজের রক্ত বইবে। তালহা আমাকে অন্যায় ভাবে অপমান করেছে। …………………’।

ইবনে আইয়াস আরও বলেন ‘ আমি বাড়ি থেকে বার হতে যাচ্ছিলাম কিন্তু তারা রুকে দেয় যতক্ষন না আবু বকরের পুত্র মুহাম্মাদ সেখান দিয়ে যাচ্ছিল তাদেরকে আমাকে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করল, ফলে তারা আমাকে যেতে দিল’।

পাঠকদের এখানে (আব্দুর রহমান) ইবনে উদাইসকে নোট করে রাখার অনুরোধ করা হচ্ছে। কে এই ইবনে উদাইস ছিলেন তার কথা ও লেখা হবে ইনশাআল্লাহ।

উসমানের এই কথাগুলি যথেষ্ট নাসিবীদের জন্য তালহার জড়িত থাকার বিষয়। তবে এর পরে ও যদি কোন তস্য নাসিবী ছটফট করে তবে তাকে আরও একটা চপেটাঘাত করা হল। তালহার নিজের উক্তি তুলে ধরা হল।

ইমাম আলি আঃ এর সাথে জামাল যুদ্ধের আগে আগে তালহা কথা বার্তা।

আলকামাহ বর্ণনা করেছেনঃ “যখন তালহা, যুবাইর আর আয়শা বার হল।আমি লক্ষ্য করলাম একাকি থাকা পছন্দ করছে আর বুকের উপর দাঁড়ি ঝাড়ছে থাকছে। সুতারং আমি তাকে বললাম ‘আবু মুহাম্মাদ! আমি দেখছি তুমি একাকি থাকতে পছন্দ করছো আর বুকের উপর দাঁড়ি ঝাড়তে থাকছো। যদি তুমি কিছু  অপছন্দ  করো , তবে বসো ( কথা বলি)’।

‘আলকামা বিন ওয়াক্কাস’ সে আমাকে উত্তর দিল ‘আমরা সবাই সংঘবদ্ধ ছিলাম অন্যদের বিরুদ্ধে, কিন্তু আজ আমারা একে অপরকে খতম করতে দুটি পাহাড়ের মত হয়ে দাঁড়িয়েছি।অবশ্যই আমি উসমানের বিরোধিতা করে কিছু করেছিলাম আর আমার প্রায়শ্চিত্ত এর থেকে কম হতে পারে না যে আমার বক্ত বইবে উসমানের রক্তের প্রতিশোধ নিতে”।

 (তাবারি, খণ্ড ১৬ পাতা ৭৯)

পাঠকগন লক্ষ্য করুণ তালহা নিজেই স্বীকার করেছে যে তারা সংঘবদ্ধ ভাবে অন্যদের (উমাইয়াদের) বিরুধ্যে ছিল আর সে কিছু করেছিল উসমানের বিরুদ্ধে কিন্তু যখন নিজে খলিফা হতে পারল না বরং ইমাম আলি আঃ খলিফা হয়ে গেল তখন সে মুসলিমদের খলিফায় রাসেদ ইমাম এ হক্ক ইমাম আলো আঃ এর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে দিল আর বলতে লাগল যে তার রক্ত প্রবাহ তার জন্য প্রায়শ্চিত্ত!

নাসিবীরা আরও বলার চেস্টা করে যে উসমানের হত্যায় তালহা ও যুবাইর দুঃখে জর্জরিত হয়ে গিয়েছিল।

নিচে দেখানো হল নাসিবীদের দুঃখে জর্জরিত হওয়ার মানে কেমনঃ

আনসাব আল আশরাফ খণ্ড ৬ পাতা ১৯২ (স্ক্যানের জন্য ক্লিক করুন)

“মাজমা বিন জারিয়া আল আনসারি তালহার সামনে দিয়ে যাচ্ছিল, সে (তালহা) বলল ‘ ও মাজমা তোমার বন্ধু (উসমান) কেমন আছে’?  সে উত্তর দিল ‘আমি ভাবছিলাম তুমি তাকে হত্যা করবে’। তালহা বলল ‘যদি তাই হত্যা করা হয়, সে কোন ফেরেশতা বা নবি নয়”। 

তালহা উসমানের মহল ঘেরাও এর তদারকি করত।

উপরে প্রচুর পরিমাণ রেফারেন্স দেওয়া হয়েছে যেখানে দেখানো হয়েছে যে তালহার জড়িত থাকার প্রমান। এখানে তালহা যে উসমানের মহল ঘেরাও এর নায়ক ছিল সেটা আরও পরিস্কার ভাবে দেখানো হবে।

তাবারী খণ্ড ১৫ পাতা ২৩৫ঃ

“আলি তালহাকে বলল ‘আমি তোমাকে বলছি আল্লহের ওয়াস্তে লোকদেরকে দূরে পাঠিয়ে দাও উসমানের থেকে’। তালহা বলল ‘ না, আল্লহের কসম যতক্ষন না উমাইয়ারা নিজ ইচ্ছায় আত্বসমর্পন সেটা ঠিক তার প্রতি”।

ইবনে আসাকির তার তারিখ এ দামিস্ক এ উল্লেখ করেছেনঃ

“কায়েস বিন আবি হাযিম বর্ণনা করেছে ঘেরাওয়ের সময় একজন তালহার কাছে গেল এবং উসমানের হত্যার থেকে (লোকদের)বিরত করার জন্য অনুরোধ করল। তালহা জবাব দিল ‘না, আল্লাহের কসম, যতক্ষণ না বনু উমাইয়ারা নিজে থেকে সেটা হক্ক তার প্রতি সমর্পণ করবে”।

(ইবন আসাকির খণ্ড ৩৯ পাতা ৪০৩) (অন লাইন লিংক)

ইমাম ইবনে আবি শায়বা তার হাদিসের কিতাব আল মুসান্নাফ খন্ড ৮ পাতা ৬৮৫ এ উল্লেখ করেছেনঃ

يعلى بن عبيد عن إسماعيل بن أبي خالد عن حكيم بن جابر قال : لما حصر عثمان أتى على طلحة وهو مستند إلى وسائد في بيته فقال : أنشدك الله ! ما رددت الناس عن أمير المؤمنين فإنه مقتول ، فقال طلحة : لا والله حتى تعطي بنو أمية الحق من أنفسها

“উসমানের ঘেরাও এর সময়, আলি উসমানের কাছে গেল যখন সে বাড়িতে বালিশের উপর হেলান দিয়েছিল, (আলি)বলল ‘আমি বলছি আল্লাহের ওয়াস্তে লোকদেরকে আমিরুল মোমিনিনের(উসমান) (আক্রমণ করা)থেকে দূরে সরিয়ে দাও কেননা সে প্রায় মৃত অবস্থায়’। তালহা জবাব দিল ‘না, আল্লাহের কসম যতক্ষন না উমায়ারা স্বইচ্ছায় যেটা সত্য তার প্রতি প্রতি সমর্পণ করবে”। (স্ক্যানের জন্য ক্লিক করুন)

সনদঃ

ইয়ালা ইবনে উবাইদঃ শীকা (তাকরিব আত তাহযীব ২/৩৪১)।হাফেজ, শীকা, ইমাম (সিয়ার আলাম নাবুলা ৯/৪৭৬)।

ইস্মাইল বিন আবি খালিদঃ শীকা (তাকরিব আত তাহযীব ১/৯৩)। হাফেজ, ইমাম কবীর (সিয়ার আলাম নাবুলা ৬/১৭৬)

হাকীম বিন জাবীরঃ শীকা ( তাকরিব আত তাহযীব ১/২৩৪)। যাহাবী শীকা (আল কাশিফ ১/৩৪৭) চারটে সুনানের রাবী।(তাজযীব আত তাজযীব)

সুতারং দেখা যাচ্ছে মিশর থেকে আসা বিভিন্ন বদরী ও বাইয়াতে রেযোয়ান এর সাহাবী ( যাদের কথা যথা সময়ে উল্লেখ করা হবে) যেমন ইবনে উসাইস যারা উসমানের মহলকে ঘেরাও করে রেখছিল তাদের কে পরিচালনা করছিল তালহা। এমনকি আলি আঃ তার কছে গিয়ে আবেদন করলেও রিজেক্ট করে দেয়।

তালহা উসমানকে পানি দেওয়া বন্দ করে দেয়।

তালহা শুধু ঘেরাও করে ক্ষান্ত হয় নি বরং উসমানকে পানি দেওয়া বন্ধ করে দেয়।

বালাজুরি তার আনসাব আল আশরাফ এ খণ্ড ২ পাতা ২৯২/২৯৩ তে উল্লেখ করেছেঃ

وحدثني أحمد بن إبراهيم الدورقي حدثنا وهب بن جرير بن حازم حدثنا أبي عن يونس بن يزيد الأيلي عن الزهري قال:۔۔۔ وكان الزبير وطلحة قد استوليا على الأمر، ومنع طلحة عثمان من أن يدخل عليه الماء العذب

“যুহুরি বর্ণনা করেছেনঃ যখন যুবাইর ও তালহা অবস্থার উপর নিয়ন্ত্রন পায়, উসমানের জন্য জলের পরিসেবায় বাঁধা দান করে তালহা”।

সনদঃ

আহমাদ বিন ইব্রাহিম আদ দুরাকীঃ শীকা (তাকরিব আত তাহযীব ১/২৯)।

ওহাব বিন জারিরঃ  শীকা (যাহাবী, আল কাশিফ, ২/৩৫৬), শীকা (তাকরিব আত তাহযিব ২/২৯১)

জরির বিন (হাজিম) বিন যাইদঃ শীকা ( তাকরিব আত তাহযীব ১/১৫৮), ইমাম হাফিজ (সিয়ার আলাম নাবুলা ৭/৯৮)

ইউনুস বিন ইয়াযিদ আল ইলিঃ সাবিতদের মধ্যে একজন (যাহাবী আল কাশিফ, ২/৪০৪), শীকা(তাকরিব আত তাহযিব ২/৩৫০-৩৫১)

তারিখ আত তাবারি খন্ড ১৫ পাতা ১৮০/১৮১

“আব্দুর রাহমান বিন আল আসোয়াদ বর্ণনা করেছেন ‘আমি সর্বদা লক্ষ্য করেছি যে আলি উসমানকে এড়িয়ে চলছে আগের যেরকম করছিলেন (উপদেশ দিচ্ছিল) তেমন আর করছেন না। কিন্তু আমি জানি যখন উসমানের গৃহবন্দীর সময় আলি তালহার সাথে কথা বলে পানির মশক যেন তার (উসমানের) কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।

আলী এ ব্যাপারে রাগান্বিত ছিল (তালহার উপর) যতক্ষণ পর্যন্ত না মশক উসমানের কাছে পাঠানো হল”।

এখানে নাসিবীদের কাছে প্রশ্নঃ

ইমাম আলি আঃ কেনই বা তালহার কাছে গেলেন পানি আবেদন নিয়ে? মিশরের লোকজনদের কাছে গেলেন না?

ইমাম আলি আঃ তালহার উপরে রাগান্বিত ছিলেন কেন যদি তালহা মাসুম হয়?

আসলে সবাই বুঝতে পারছে যে তালহাই ঘেরাও করার নায়ক ছিল আর তালহার নির্দেশেই পানি বন্ধ করা সহ উসমানের ঘরে লোকজনদের ঢোকা বন্ধ হয়।

৪) যুবাইরের ভুমিকা উসমান হত্যায়।

উসমানের হত্যায় যুবাইরের ভুমিকাকে লুকানোর জন্য নাসিবীরা নানা ফন্দী আঁটে,বলে যে যুবাইর নাকি তার ছেলেকে পাঠিয়েছিল উসমানকে রক্ষা করার জন্য!

অথচ আমরা দেখি উসমান হত্যার চাক্ষুস সাক্ষী তার স্ত্রী নায়লা এর সাক্ষ্য অন্য রকম। মুয়াবিয়ার কাছে নায়লার চিঠিঃ

وكان في كتابها: مِن نائلة بنت الفُرافصة إلى معاوية بن أبي سفيان، أما بعد:…… وإني أقُص عليكم خَبره، إني شاهدةٌ أمرَه كُلَّه: إنّ أهل المدينة حَصروه في داره وحَرسوه ليلَهم ونهارَهم، قياماً على أبوابه بالسِّلاحِ، يَمنعونه من كل شيء قَدروا عليه، حتى مَنعوه الماء، فمكث هو ومَن معه خمسين ليلةً؛ وأهلُ مصر قد أسندوا أمرَهم إلى عليّ ومحمد بن أبي بكر وعمّار بن ياسر وطلحة والزُبير، فأمروهم بقتله

“নায়লা বিনতে ফুরাফাসার থেকে মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান এর প্রতি।

উসমানের হত্যার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম আর আমি তোমাকে এই ঘটানার বর্ণনা করব। মদিনার জনগণ (উসমানের ) ঘরকে ঘিরে রেখেছিল আর তার দরজায় পাহারা দিতে লাগল তাদের অস্ত্র নিয়ে। পঞ্চাশ রাত ধরে তারা বাড়িতে কিছুই ঢোকাতে দেয় নি এমনকি পানিও না। আবু বকরের ছেলে, আম্মার বিন ইয়াসির, তালহা ও যুবাইর মিশরের লোকদেরকে (উসমানকে) হত্যার জন্য আদেশ দেয়”।

(ইকদ আল ফারিদ খণ্ড ২ পাতা ৯৫ )

সুতারং উসমানের হত্যায় যুবাইরের জড়িত থাকার প্রমান ভালোভাবে দেখা যাচ্ছে।

সুতারং যুবাইরের ছেলেকে যুবাইর পাঠিয়েছিল উসমানের রক্ষায় এই গল্প সহজেই ধরা যায়। আর ইবনে যুবাইর (যুবাইরের ছেলে) যে আয়শার বোন আসমার ছেলে ছিল সে আয়শাকে জামালের যুদ্ধে বার হওয়ার জন্য উত্তেজিত করে।

‘গরিব আল হাদিস’ ইব্রাহীম হারবি খন্দ৪ পাতা ২৪, হাদিস নং ১১১৪ (আন লাইন লিংক)

حدثنا عبد الرحمن بن صالح ، حدثنا أبو بكر ، عن مغيرة ، عن إبراهيم ، عن علقمة ، قال الأشتر : « كان الذي أز أم المؤمنين على الخروج ابن الزبير

“আলকামা বর্ণনা করেছেঃ ‘আল আশতার বলেছেন যে যে আয়শাকে (যুদ্ধের জন্য) বার হতে উত্তেজিত করেছে সে ইবনে যুবাইর”।

যুবাইরের জড়িত থাকার কথা ইমাম আলি সালাওতুল্লাহ আলাইহ প্রকাশ করেছেন।

আল ইসতিয়াব, ইবনে আবদুল বার। খণ্ড ১ পাতা পাতা ১৪৮ ও ২৩২ (অনলাইন লিংক)

“যখন আলি জামাল যুদ্ধের জন্য বার হল। আলি রাঃ মিম্বার থেকে বলল ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ জেহাদের প্রয়োজন দিয়েছে আর এটাকে দ্বীনের একটা সাহায্যকারী হিসাবে রেখেছেন…………………………………………।

…………………………………………………………………………। তারা (তালহা, যুবাইর আর আয়শা) যে অধিকার চাইছে সেটা তারা নিজেরাই পরিত্যাগ করেছে। তারা রক্তের প্রতিশোধ নেবে বলছে যেটা তারা নিজেরাই বইয়েছেতারা উসমানের হত্যার জন্য দায়ী ছিল, যাতে আমি যুক্ত ছিলাম না, কিন্তু এখন তারা অস্বীকার করছে। আর উসমানের হত্যার জন্য যে দলকে ভুগতে হবে সেটা শুধুমাত্র এই বাগী দলকে। তারা তাদের বায়াত আমার প্রতি করেছে আর তারপর ভঙ্গ করেছে, আর আমি আল্লাহের হুজ্জাকে তাদের উপর গ্রহন করি”।

ইমাম আলি আঃ এর উপরের বক্তব্য থেকে পরিস্কার যে তালহা, যুবাইর আর আয়শা উসমানের হত্যায় জড়িত।

শেখ কামালুদ্দিন মুহাম্মাদ ইবনে তালহা আস শাফেয়ী তার ‘মতালিব আল সেউল’ এর ১১৭ পাতায় জিকরে জামাল এ লিখেছেনঃ

“আলি যুবাইরকে জিগ্যেস করলেন কি কারণ তাকে আলির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে টেনেছে। এতে যুবাইর বলল ‘আমি উসমানের হত্যার প্রতিশোধ নিতে চাই’। আলি উত্তর দিল ‘যদি তোমার হৃদয়ে বিচারবুদ্ধি থাকে, তুমি বুঝতে পারতে এটা তুমি আর তোমার বন্ধুরা উসমানকে হত্যা করেছো”।

আহলে সুন্নার হাদিসের ইমামদের ইমাম মহান ইমাম যুহুরি ও একই ধরনের বক্তব্য লিখেছে, জামাল যুদ্ধের আগের ঘটনা থেকে। এটা তালহা আর যুবাইরকে রক্ষা করারা যে নাসিবীদের অপচেষ্টা একে বারে গুড়িয়ে দেবে।

তাবারীঃ

خبر وقعة الجمل من رواية أخرى قال أبو جعفر: وأما غير سيف فإنه ذكر من خبر هذه الوقعة وأمر الزبير وانصرافه عن الموقف الذي كان فيه ذلك اليوم غير الذي ذكر سيف عن صاحبيه، والذي ذكر من ذلك بعضهم ما حدّثنيه أحمد بن زهير، قال: حدّثنا أبي أبو خيثمة، قال: حدثنا وهب بن جرير بن حازم، قال: سمعت أبي قال: سمعت يونس بن يزيد الأيليّ، عن الزّهريّ، في قصة ذكرها من خبر عليّ وطلحة والزبير وعائشة في مسيرهم الذي نحن في ذكره في هذا الموضع، قال: وبلغ الخبر عليّاً – يعني خبر السّبعين الذين قتلوا مع العبديّ بالبصرة – فأقبل – يعني عليّاً – في اثني عشر ألفاً، فقدم البصرة، وجعل يقول:

يا لهف نفسي على ربيعة … ربيعة السامعة المطيعه

سنّتها كانت بها الوقيعة

فلما تواقفوا خرج عليّ على فرسه، فدعا الزبير، فتواقفا، فقال عليّ للزبير: ما جاء بك؟ قال: أنت، ولا أراك لهذا الأمر أهلاً، ولا أولى به منّا؛ فقال عليّ: لست له أهلاً بعد عثمان! قد كنا نعدّك من بني عبد المطلب حتى بلغ ابنك ابن السوء ففرّق بيننا وبينك؛ وعظّم عليه أشياء، فذكر أن النبيّ صلى الله عليه وسلم مرّ عليهما فقال لعليّ: ” ما يقول ابن عمتك؟ ليقاتلنّك وهو لك ظالم ” . فانصرف عنه الزبير، وقال: فإني لا أقاتلك. فرجع إلى ابنه عبد الله فقال: ما لي في هذه الحرب بصيرة، فقال له ابنه: إنك قد خرجت على بصيرة، ولكنك رأيت رايات ابن أبي طالب، وعرفت أن تحتها الموت، فجبنت. فأحفظه حتى أرعد وغضب ……………

“আহমাদ বিন যুহাইর- তার পিতা আবু খাইসামা-ওহাব বিন জারির বিন হাজিম-তার পিতা(জরির বিন (হাজিম) বিন যাইদ)-ইউনুস বিন ইয়াজিদ আল আইলি -যুহুরি>বসরায় আল আবদি সহ ৭০ জনকে হত্যা করা হয়েছে এই খবর আলির কাছে পৌছাল,ফলে আলি ১২০০০ লোক নিয়ে বার হল এবং বসরায় পৌঁছালো।………………………।

যখন উভয় দল একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড়াল, আলি তার ঘোড়ায় উঠে বার হল আর যুবাইরকে হাক দিল আর উভয় মুখোমুখি হলো(যুদ্ধের জন্য), আলি বল্লো যুবাইরকে ‘কি তোমাকে এনেছে (এখানে যুদ্ধ করতে)’?

যুবাইর বল্লো ‘তুমি, আমি তোমাকে নেতৃত্বের জন্য যোগ্য মনে করি না অন্তত আমাদের থেকে বেশি অধিকারি’।

আলি বল্লো ‘উসমানের পরে তুমি কোন মতেই এটার যোগ্য অধিকারী নও, আমরা তোমাকে বনী আব্দুল মুত্তালিবের থেকে মনে করতাম, যতক্ষন না তোমার পুত্র, অসৎ এর পুত্র(*) যুবক হল এবং আমাদের ও তোমার মধ্যে ফারাক তৈরি করলো।

আলি তারপরে সে কি খারাব ও ক্ষতিকরেছে বল্লো আরো বল্লো একবার রাসুল সাঃ তাদের দুজনের পাশ দিয়ে গিয়েছিলেন আর বলেছিলেন ‘আলি , তোমার ফুফুর ছেলে কি বলে? সে তোমার সাথে যুদ্ধ করবে জালিম হয়ে’।

যুবাইর তখন এটা বলে চলে গেল যে ‘আমি তোমার সাথে যুদ্ধ করবো না’। সে তার ছেলে আব্দুল্লাহের কাছে গিয়ে বল্লো ‘এই যুদ্ধে আমার কোন ভালো দেখছি না’। তার ছেলে বল্লো ‘যখন তুমি বার হয়েছিলে তখন (ভাল) দেখছিলে। কিন্তু যখন তুমি আবু তালিবের পুত্রের ঝান্ডা দেখলে তুমি বুঝলে এর অর্থ মৃত্যু ফলে তুমি ভয় পেয়ে গেলে’।

এই কথা গুলি তাকে রাগান্বিত করলো আর বল্লো  “বুদ্ধু, আমি তার কাছে (আলির কাছে) ওয়াদা করেছি তার সাথে যুদ্ধ না করার জন্য”।

(যুবাইরের) ছেলে বল্লো “তোমার গোলাম সারজিসকে মুক্ত করে ওয়াদার কাফফারা দাও”। সুতরাং সে গোলামকে মুক্ত করে যুদ্ধের সারিতে যুক্ত হল।

আলি যুবাইরকে বলেছিল “তুমি উসমানের রক্তের বদলা আমার থেকে চাইছো? অথচ এটা তুমিই যে তাকে হত্যা করেছে। আমি আল্লাহকে ডাকছি তাঁর শক্তির সাহায্যে এখনি তিনি কঠিন শাস্তি দিক আমাদের মধ্যে যে উসমানের বিরোধিতায় অধিক কঠোর ছিল’। আলি তালহাকে বলল ‘তুমি আল্লাহের রাসুল সাঃ এর স্ত্রীকে বাইরে এনেছো তাকে যুদ্ধ করানোর জন্য নিজের বউকে ঘরে লুকিয়ে রেখে এসেছো’।

(তাবারী, খণ্ড ১৬ পাতা ১২৫,১২৬ স্ক্যানের জন্য ক্লিক করুন)

(*) অসৎ এর পুত্র বলতে এখানে আসমা বিন্তে আবু বকর বা আবু বকরকে বলেছে ইমাম আলি আঃ

সনদঃ

আহমাদ বিন যুহাইরঃ শিকা (আলবানী সিলসিলাতুস সাহিহা, ৩/৩৬০), বিখ্যাত হাফিজ ( যাহাবী, তারিখ ইসলাম ২০/২৫২)

আবু খাইসামা যুহাইর বিন হরবঃ শীকা, সাবিত (তাকরিব আত তাহযিব ১/২১৫, তাহযীব আত তাহযিব ৬৩৭),হাফেজ, হুজ্জা, হাদিসের সর্বচ্চ জ্ঞানিদের মধ্যে একজন (সিয়ার আলাম নাবুলা ১১/৪৮৯)

ওহাব বিন জারিরঃ  শীকা (যাহাবী, আল কাশিফ, ২/৩৫৬), শীকা (তাকরিব আত তাহযিব ২/২৯১)

জরির বিন (হাজিম) বিন যাইদঃ শীকা ( তাকরিব আত তাহযীব ১/১৫৮), ইমাম হাফিজ (সিয়ার আলাম নাবুলা ৭/৯৮)

ইউনুস বিন ইয়াযিদ আল ইলিঃ সাবিতদের মধ্যে একজন (যাহাবী আল কাশিফ, ২/৪০৪), শীকা(তাকরিব আত তাহযিব ২/৩৫০-৩৫১)

ইমাম আলি আঃ আগেই এটা বলে দিয়েছিলেন যে যুবাইর/তালহা এই ধরনের কথা বলবে। অর্থাৎ উসমানেকে মেরে উসমানের রক্তের প্রতিশোধ নেবে বলে নাটক শুরু করবে।

তাবারি খন্ড ১৬ পাতা ২৩

“ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেছেন ‘ উসমানের হত্যার পাঁচদিন পরে আমি মদিনায় এলাম মক্কা থেকে, আমি আলি এর কাছে গেলাম কিন্তু বলা হল যে মুগিরা ইবনে শুবা ভিতরে তাঁর সংগে আছে। সুতারং আমি ঢোকার মুখে অপেক্ষা করতে লাগলাম। যখন মুগিরা বাইরে এল আমাকে সালাম জানলো আর বলল ‘তুমি এখানে কতক্ষণ আছো’? আমি বললাম ‘এই ঘণ্টা খানেক’। আমি আলি এর সাথে দেখা করতে গেলাম এবং সালাম দিলাম। তিনি জিগ্যেস করলেন ‘যুবাইর আর তালহার সাথে তোমার দেখা হয়েছে’?

‘নাওাসিফ এ তাদের সাথে দেখা হয়েছে’।

‘কে তাদের সাথে আছে’? আলি জিগ্যেস করল।

‘ আবু সাইদ বিন হারিস বিন হিসাম আর কুরাইশি দল’। আমি বললাম।

আলি বলল ‘আমি নিশ্চিত যে তারা এটা বলতে নিজেদেরকে বিরত রাখবে না যে ‘ আমরা উসমানের রক্তের প্রতিশোধ নিতে চাই’। আল্লাহের কসম আমরা জানি যে তারাই উসমানকে কতল করেছে’।

এই রেফারেন্স গুলি থেকে পরিস্কার যে আলি আঃ যুবাইরকে উসমান হত্যার দায়ী মনে করতো।

এখন আহলে সুন্নার বড় মাপের তাবে’ঈ হাসান বসরি এর কথা শুনুনঃ

فحدثنا أبو بكر بن إسحاق الفقيه و علي بن حمشاد قالا : ثنا بشر بن موسى ثنا الحميدي ثنا سفيان ثنا أبو موسى يعني إسرائيل بن موسى قال : سمعت الحسن يقول : جاء طلحة و الزبير فقال لهم الناس ما جاءكم قالوا نطلب دم عثمان قال الحسن أيا سبحان الله أفما كان للقوم عقول فيقولون و الله ما قتل عثمان غيركم قال : فلما جاء علي الكوفة و ما كان للقوم عقول فيقولون أيها الرجل إنا و الله ما ضمناك

“ইস্রাইল বিন মুসা বর্ণনা করেছে আমি হাসানকে বলতে শুনেছি ‘তালহা আর যুবাইর বসরায় এলে লোকেরা জিগ্যেস করল ‘তোমরা এখানে কেন এসেছো’? তারা উত্তর দিল ‘আমরা এখানে এসেছি উসমানের জন্য প্রতিশোধ নিতে’। হাসান বলল ‘ সুবহান আল্লাহ তাদের কলবে কোন আকল নেই এটা বলল, অল্লাহ তোমরা (তালহা ও যুবাইর) ছাড়া কেউ উসমানকে কতল করেনি’। (মুসতাদরাক আল হাকিম,  হাদিস নং ৪৬০৬)

এখন দেখা যাক আরও এক তাবে’ঈ মুতরিফ বিন আব্দুল্লাহ বিন শাখির এর মন্তব্যঃ

قلت : ورد فيه ما أخرجه أحمد والبزار من طريق مطرف بن عبد الله بن الشخير قال : ” قلنا للزبير – يعني في قصة الجمل – يا أبا عبد الله ما جاء بكم ؟ ضيعتم الخليفة الذي قتل – يعني عثمان – بالمدينة ثم جئتم تطالبون بدمه – يعني بالبصرة – فقال الزبير : إنا قرأنا على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم واتقوا فتنة لا تصيبن الذين ظلموا منكم خاصة ، لم نكن نحسب أنا أهلها حتى وقعت منا حيث وقعت “۔

“মুতারিফ বিন আব্দুল্লাহ বিন শাখির বলেছেঃ ‘ আমরা জামালের যুদ্ধের সময় যুবাইরকে বললাম ‘ ও আবা আব্দুল্লাহ! কি জন্য এখানে এসেছো? তুমি খলিফাকে পরিত্যাগ করেছিলে যে হত্যা হয়েছে ( মানে উসমান) মদিনায়, আর বসরায় এসেছো তার রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ’? যুযাইর বলল ‘ আমারা রাসুল সাঃ এর জামানায় এইটা (আয়াত) পড়তাম

{ আর তোমরা এমন ফেতনা থেকে বেঁচে থাক যা বিশেষতঃ শুধু তাদের উপর পতিত হবে না যারা তোমাদের মধ্যে জালেম এবং জেনে রেখ যে, আল্লাহর আযাব অত্যন্ত কঠোর।} (আনফাল ২৫)

আমরা বুজতে পারেনি যে আমারা এই লোকজন যতক্ষণ না পর্যন্ত এটা ঘটেছে, যেটা ঘটেছিল”।

উপরোক্ত বর্ণনা এই সমস্ত কিতাবে পাওয়া যায়”

১। ফাতহুল বারী শারাহ সহিহ আল বুখারি খণ্ড ১৩ পাতা ৩

২। তাফসীর ইবনে কাসির খণ্ড ২ পারা ৩১১

৩। সিয়ার আলাম এ নাবুলা, যাহাবি। খণ্ড ১ পাতা ৫৭

৪। তারিখ দামিস্ক। খণ্ড ১৮ পাতা ৪০৫

৫। ফাতহুল কাদীর, খণ্ড ২ পাতা ৩০০০

৬। মাজ’মা আল জাওয়াদ, খণ্ড ৭ পাতা ২৭, হাদিস নং ১১০২৭ ( হাইসামি বলেছেন বর্ণনাকারীগন সহিহ )

এছাড়া এটা সামান্য শব্দের পার্থক্যে আরও বহু তাফসীর আর হাদিসের কিতাবে এসেছে।

উপরের উক্তি থেকে বোঝা যায় যে যুবাইর উসমানকে পরিত্যাগ করেছিল ঘেরাওয়ের সময় এখন যারা যুবাইরকে বাঁচানোর জন্য দুর্বল গল্পো ফাঁদে যে যুবাইর তার ছেলেকে পাঠিয়েছিল উসামানকে রক্ষা করারা জন্য তাদের পর্দা ফাঁস হয়ে গেল।

আর দ্বিতীয়ত যুবাইর নিজে স্বীকার করছে যে এই ফেতনার লোক তারাই যাদেরকে কুরআনে বলা হয়েছে। সুতারং যুবাইর এখন সংগ্রাম করে ফেত্হনার হাত থেকে বাঁচতে চাইছে। (আসলে আরও জড়িয়ে পড়ছে ইমাম হক্ক খলিফায় রাসেদ আলি আঃ এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে!)

আয়শা তালহা আর সাহাবারা চিঠি লিখেছিল লোকদেরকে উসমানের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করার জন্য।

আহলে সুন্নাহ গোঁজামিল দেওয়ার জন্য বলে যে ইবনে সাবা গোপনে চিঠি লিখেছিল, এখন দেখানো হচ্ছে আসলে ইবনে সাবা কে ছিল, কারা গোপনে চিঠি লিখেছিল।

উপরে আয়শা, তালহা আর যুবাইরের জড়িত থাকার প্রমান দেখানো হয়েছে এই পর্যায় সম্মিলিত ভাবে তারা লোকদেরকে চিঠি লিখত সেটার প্রমান দেওয়া হবে।

এখানে উল্লেখ্য যে নাসিবীরা বলে যে ইবনে সাবা চিঠি লিখেছিল আর তাই লোকজন উসমানে বিরুদ্ধে ক্ষেপে যায়।

আসলে এরা সাহাবী সহ তাবে’ইদের কে মহা গাধা ভাবে। নাম গন্ধহীন এক লোক চিঠি লিখেছে আর সবাই উসমানকে মারতে দোউড়াচ্ছে! কেউ এসে আর যারা চিঠি লিখেছিল তাদের থেকে ভেরিফাই করে নি! তারা মদিনায় ছিল আর ওরাও মদিনায় এসেছিল। নাসেবীদের গল্পে গরু গাছে ওঠে। নির্বোধ বা চরম মিথ্যুকরা ছাড়া এই ইবনে সাবার চিঠির কথা কেহ বলবে না।

পাঠকগন এখুনি অবগত হবেন যে কে বা কারা চিঠি লিখেছিল প্রকৃত ইবনে সাবা কারা ছিল।

‘আল ইমামাহ ওয়াস সিয়াসা’ ইবনে কুতাইবা পাতা ৬৪

যখন তালহা আর আয়শা বসরায়  মারপিট করতে এসেছিল তখন এক ব্যাক্তি তালহার কাছে বলে।

“‘ও তালহা তুমি কি এই চিঠিগুলি চিনতে পারছো’? তালহা উত্তর দিল ‘হা’ আর তাতে ঐ ব্যাক্তি বলল ‘তুমি কি লজ্জিত নও যে এই কদিন আগেই তুমি চিঠি লিখে আমাদেরকে উসমানের হত্যার জন্য উত্তেজিত করেছিলে আর এখন তুমি তার রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বলছ’”?

বালাজুরি তার আনসাব আল আশরাফ এর খন্ড ১ পাতা ৩০৮ এ একই ধরণের কথা উল্লেখ করেছেনঃ

وحدثني أبو خيثمة زهير بن حرب، حدثنا وهب بن جرير، عن أبيه، عن النعمان بن راشد: عن الزهري قال: لما قدم طلحة والزبير البصرة، أتاهما عبد الله بن حكيم التميمي بكتب كتبها طلحة إليهم يؤلبهم فيها على عثمان، فقال له حكيم: أتعرف هذه الكتب ؟ قال: نعم. قال: فما حملك على التأليب عليه أمس والطلب بدمه اليوم ؟ فقال: لم أجد في أمر عثمان شيئاً إلا التوبة والطلب بدمه

“জুহারি বর্ণনা করেছেন ‘ যখন তালহা আর যুবাইর বসরায় এল আব্দুল্লাহ বিন হাকীম আত তামিমি তাদের কাছে  কিছু চিঠি নিয়ে এল যে গুলি তালহা তাদেরকে লিখেছিল উসমানের বিরুদ্ধে উস্কানি দিয়ে। ফলে হাকিম তালহাকে জিগ্যেস করল ‘এই চিঠিগুলিকে তুমি চিনতে পারছো’? সে বলল ‘হা’ । ফলে সে(হাকিম০ বলল ‘ তবে কেন কাল আমাদেরকে তার বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে আজ তার রক্তের প্রতিশোধ চাইছো’? তালহা বলল ‘আমি উসমানের ব্যাপারে তেমন কিছু পাইনি, ফলে আমি তওবা করেছি আর তার রক্তের প্রতিশোধ চাইছি’”

আবু খাইসামা যুহাইর বিন হরবঃ শীকা, সাবিত (তাকরিব আত তাহযিব ১/২১৫, তাহযীব আত তাহযিব ৬৩৭),হাফেজ, হুজ্জা, হাদিসের সর্বচ্চ জ্ঞানিদের মধ্যে একজন (সিয়ার আলাম নাবুলা ১১/৪৮৯)

ওহাব বিন জারিরঃ  শীকা (যাহাবী, আল কাশিফ, ২/৩৫৬), শীকা (তাকরিব আত তাহযিব ২/২৯১)

জরির বিন (হাজিম) বিন যাইদঃ শীকা ( তাকরিব আত তাহযীব ১/১৫৮), ইমাম হাফিজ (সিয়ার আলাম নাবুলা ৭/৯৮)

নুমান বিন রাশিদঃ  সুদুক(তাকরিব আত তাহযীব ২/২৪৮), সুদুক ফি আসল ( বুখারি, তারিখ আল কাবীর ৮/৮০)

এই হল তালহা যে চিঠি লিখে উসমানকে মারতে বলেছিল সে যখন দেখলো যে আলি আঃ খলিফা হয়ে গিয়েছে ভোল পালটে আলির বিরুদ্ধে লড়াই করতে দৌড়ালো। এই হল ইবনে সাবাদের চিঠি।

মারওয়ান যে উসমানের জামাই ছিল সে তালাহকে কি বলছে দেখুন “উসমান হত্যা হয়েছে তোমার চিঠির দোউলাতে”। (ঈকদ আল ফরিদ খণ্ড ৬ পাতা ২১৮)

তো আহলে সুন্নাহরা কি তালহাকে ইবনে সাবা নামে ডাকে?

শুধু তালহা আর আয়শা নয় মদিনার অবস্থিত সাহাবারা চিঠি লিখেছিলঃ

তাবারি খন্ড ১৫ পাতা ১৮৪

“যখন লোকজন দেখল উসমান যেগুলি করছিল, মদিনায় অবস্থিত রাসুল সাঃ এর সাহাবিগন অন্যান্য সাহাবিদেরকে চিঠি লেখে যারা বিভিন্ন প্রদেশে সম্মুখ (সমর) এ অবস্থান করছিল ‘তোমরা আগিয়ে গিয়েছো আল্লাহের পথে  জিহাদের জন্য মুহাম্মাদের সাঃ ধর্মের জন্য। তোমাদের অনুপুস্থিতিতে মুহাম্মাদের সাঃ ধর্মকে পরিত্যাগ ও বিকৃত করা হয়েছে। সুতারং ফিরে এসো আর পুনরায় মুহাম্মাদের সাঃ ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করো’। সুতারং তারা সমস্ত দিক থেকে আসতে থাকল যতক্ষন না তারা খলিফাকে (উসমানকে) হত্যা করে”।

সুতারং সাহাবিরাই মদিনা থেকে চিঠি লিখেছিল।

তাবারি, তার ইতিহাসে আহলে সুন্নার মহান ইমাম যুহুরির থেকে উল্লেখ করেছেন যেটা নাসিবীদের কফিনে শেষ পেরেক।

আহমাদ বিন যুহাইর- তার পিতা আবু খাইসামা-ওহাব বিন জারির বিন হাজিম–ইউনুস বিন ইয়াজিদ আল আইলি -যুহুরি>

“যখন তালহা আর যুবাইর জানতে পারলো যে আলি যুওকার এ তাবু গেড়েছে, তারা বসরার উদেশ্যে রওনা দিল আর আল মুনকাদির এর রাস্তা বেছে নিল। আয়শা শুনলো কুকুররা (তার প্রতি)ডাকছে ফলে জিগ্যেস করলো ‘এই জলাশয়টা কি’? তারা জবাব দিল ‘ আল হাওয়াব’।

‘ইন্নালিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাহে রাজেউন’ আউশা চিৎকার করলো। ‘আমিই সেই ! আমি রাসুল সাঃ কে স্ত্রীদের উপস্থিতিতে বলতে শুনেছি ‘তোমাদের মধ্যে কার প্রতি হাওয়াবের কুত্তা ডাকবে’!

আর সে ফিরতে চাইলো। আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর তার কাছে এসে বলল যে ‘যারা এটাকে বলেছে যে হাওয়াব তার মিথ্যা কথা বলেছে’। আর তারপর যাওয়ার জন্য পিড়াপিড়ি করতে লাগলো যতক্ষণ না আয়শা রাজী হল। তারা বসরায় হাজির হল যেখানে উসমান বিন হুনাইফ গভর্নর ছিল তাদেরকে জিগ্যেস করল ‘কি বিষয় তোমারা আমাদের সাহাবী (আলি) এর প্রতি ক্রুদ্ধ’?

‘আমরা তাকে আমাদের থেকে বিশি যোগ্য কলে মনে করি না, এটার পরে সে য করেছে’। তারা উত্তর দিল।

‘সে (আলি) আমাকে গভর্নর বানিয়েছে। আমি তাকে চিঠি লিখছি এবং জানাচ্ছি তোমরা কেন এসেছো’।উসমা্ল।(বিন হুনাইফ) বলল। ‘একটা শর্তে আমি নামাযে ইমামতি করব যতক্ষণ না তার উত্তর আসে’।

সুতারং তারা ফিরে গেল আর সেও উঠে পড়লো।

কিন্তু তারা মাত্র দুদিন অপেক্ষা করল আর উসমান ( বিন হুনাইফ) কে আক্রমণ করল এবং যুদ্ধ করল যাবুকাহ এর কাছে। তারা বিজয়ই হল ও উসমানকে গ্রেফতার করল। তারা তাকে হত্যা করতে যাচ্ছিল কিন্তু (মদিনায়) আনসারদের ভয় পেল**।সুতরাং তারা তার দাঁড়ি আর চুল তুলে নিল।

তালহা আর যুবাইর তার পর উঠলো আর বক্তৃতা দিল ‘হে বসরার জনগণ। তওবা হচ্ছে গোনাহার জন্য। আমরা আমিরুল মুমিনিনকে (উসমান) চাইছিলাম যে সে যেন আমাদের দাবী মেনে নেয়। আমরা তাকে হত্যা করতে চাইছিলাম না, কিন্তু বুদ্ধুরা চালাক লোকের উপর প্রতিষ্ঠিত হল এবং তাকে হত্যা করল’।

‘কিন্তু আবু মুহাম্মাদ’ জনগণ তালহাকে বলল ‘ তুমি যে চিঠিগুলি পাঠিয়েছিলে সেগুলি অন্য কথা বলছে’।

(তালহা উত্তর দিতে না পারলে যুবাইর এগিয়ে আসে)।

‘তোমরা কি আমার থেকেও চিঠি পেয়েছো যে সে (উসমান) কি করছে সে ব্যাপারে’? যুবাইর বলল।

এবং উসমানের কতল নিয়ে বলতে লাগলো কেন আলি এর প্রতি দোষ দেওয়া হচ্ছে।

এই সময় আবদ আল কাইস থেকে একজন উঠে দাড়ালো এবং তাদের দিকে ফিরে বলল ‘চুপ করো, এবং এবং শোন যাতে আমরা বলতে পারি’।

আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর চিৎকার করল ‘তুমি কে হে যে বলবে’?

আব্দি বলল ‘ মুহাজিরদের দল, তোমরা আলালহের রাসুলের ডাকে প্রথম সাড়া দিয়েছো আর এটার মাধ্যমে লাভবান হয়েছো।তার পরে সবাই ইসলামে দাখিল হয়েছে তোমাদের উদাহরন দেখে।আর যখন আল্লাহের রাসুল সাঃ মারা জান তোমারা তোমাদের একজনকে বায়াত করছিলে আমাদের সাথে কোনরূপ আলোচনা না করে।আমরা কোনভাবে সেটা মেনে নিয়েছিলাম ও তোমাদের সাথ দিয়ে ছিলাম……………………………………………………তার পরে যখন এই খলিফা মারা গেল সে ছয়জনের হাতে সিদ্ধান্তের ক্ষমতা দিল এবং তোমরা উসমানে সিলেক্ট করলে এবং বায়াত করলে আমাদের সাথে আলোচনা না করে। তার পরে তোমরা তার মধ্যে কিছু দোষ দেখেলে আর তোমরা তাকে কতল করলে আমাদের সাথে আলোচনা না করেই। তার পরে তোমরা আলির হাতে বায়াত করলে আমাদের সাথে আলোচনা না করেই। সুতারং ঠিক কোন ব্যাপারে তোমরা তার উপর ক্ষিপ্ত যে সেই ব্যাপারে আমাদেরকে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে?সে কি গনিমতে হেরফের করেছে না কোন অন্যায় করেছে? সে কি এমন কিছু করেছে যে আমরা তোমাদের সাথ দেব তার বিরুদ্ধে। যদি না হয় তবে এটা কি হচ্ছে’?

তালহা ও যাবাইর তাকে হত্যা করতে উদ্দত হল কিন্তু তাদের গোত্র ঊঠে দাঁড়াল তাদের পথে। কিন্তু পরের দিন সকালে তারা তার ও তার লোকেদের উপর আক্রমণ করলো এবং ৭০ জনকে হত্যা করল”।

(তাবারি, খন্ড ১৬ পাতা ৬৮/৬৯)

*উসমান বিন উনাইফ রাঃ যাকে ইমাম আলি আঃ বসরার গভর্নর ছিল তার ভাই সোহেল বিন হুনাইফ রাঃ কে ইমাম আলি আঃ মদিনার গভর্নর করে। তালহা, যুবাইর এদের বাড়ির লোকজন আর সম্পত্তি সব মদিনায় ছিল যদি উসমান বিন হুনাইফকে হত্যা করা হয় মদিনায় সোহাইল বিন হুনাইফ প্রতিশোধ নিতে পারে সেই ভয়ে তাকে হত্যা না করে দাঁড়ি উপড়িয়ে ছেড়ে দেয়।

উপরে প্রকৃত  চিঠি লেখক ইবনে সাবা ও তার দল কারা ছিল সেটার প্রমান পাওয়া গেল।

৫) সাহাবী আমর বিন আল আস এর ভুমিকা

আহলে সুন্নার কাছে এই মস্ত বড় সাহাবী ও জড়িত ছিল আর এই সাহাবী প্রচন্ড রকম নাসেবী ছিল।

যাহাবি তার ইতিহাস এর বই ‘তারিখ আল ইসলামের ৪থ খণ্ডের ৯৪ পাতায় লিখেছে ইবনে আব্বাস , মুয়বিয়া আর আমর বিন আসকে যা বলেছেন তা উল্লেখ করেছে।

وإن أحق الناس أن لا يتكلم في أمر عثمان لأنتما ، أما أنت يا معاوية فزينت له ما كان يصنع حتى إذا طلب منك نصرك أبطأت عنه وأحببت قتله ، وأما أنت يا عمرو فأضرمت المدينة عليه

“ইবনে আব্বাস বলেছেনঃ ‘………উসমানের ব্যাপারে যাদের কথা বলার অধিকার নেই তাদের মধ্যে তোমরা দু’জন প্রধান, তুমি মুয়াবিয়া, তুমি তার (উসমানের) কাজ গুলি তার কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছিলে আর যখন সে তোমার কাছে সাহায্য চাইলো তুমি তাকে পরিত্যাগ করলে, এবং সে হত্যা হোক চাইলে। আর তুমি আমর, তুমি লোকদেরকে তার বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে তুলে ছিলে”।

ইবনে আব্দুল বার উসমান আর আমর ইবনে আসের মধ্যে তিক্ত সম্পর্কের কারন উল্লেখ করেছেনঃ

খন্ড ১ পাতা ৩৬৮ (অন লাইন লিংক)

“২৫ হিজরিতে মিশরের লাগোয়া এলাকায় বিদ্রোহ হয়েছিল, ফলে আমর বিন আস ঐ এলাকা দখল করে আর ওই এলাকার লোকদেরকে দাস বানায়।

উসমান  ঐ সমস্ত দাস/দাসিদের ফিরত দিতে নির্দেশ দেয় যেসব গ্রামের লোকেরা যুদ্ধে যোগ দেয় নি। তার পর আমর বিন আসকে মিশরের গভর্নর পদ থেকে আপসারণ করে আর আব্দুল্লাহ ইবনে সারাহকে গভর্নর করে। এটা ছিল উসমান আর আমর বিন আসের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত”।

ইবনে আসির তার বিখ্যাত ইতিহাসের বই ‘ আল কামিল ফিত তারিখ’ এর খন্ড ৩ পাতা ১৬৩ এ উল্লেখ করেছেনঃ

وخرج عمرو بن العاص إلى منزله بفلسطين وكان يقول : والله إني كنت لألقى الراعي فأحرضه على عثمان ، وأتى عليا وطلحة والزبير فحرضهم على عثمان … ثم مر راكب آخر فسأله قال : قتل عثمان فقال عمرو : أنا أبو عبد الله إذا حككت قرحة نكأتها

“আমর বিন আস ফিলিস্তিনে তার বাড়িতে গেল এবং বলল “ওল্লাহ আমি রাখালদের কাছে যেতাম আর উসমানের বিরুদ্ধে তাদেরকে উত্তেজিত করতাম, আমি আলি, তালহা আর যুবাইরের কাছে যেতাম আর তাদেকে উসমানের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করতাম’…………একজন পথচারী জিগ্যেস করল ‘উসমান কি কতল হয়েছে’? আমর বলল ‘আমি আবু আব্দুল্লাহ, আমি কোন ঘা চুলকাই না যতক্ষন না সেটাকে উপড়ে ফেলি”।

৬) সাহাবী আমর বিন বাদিল আল খুজাই রাঃ এর ভুমিকা উসমান হত্যায়।

ইমাম ইবনে হজর আস্কালানি তার ‘আল ইসাবা’ এর খন্ড ৪ পাতা ৬০৬ এ হাদিস নং ৫৭৮১

عمرو بن بديل بن ورقاء الخزاعي قال الطبراني له صحبة وهو أحد من جاء مصر في أثر عثمان واستدركه بن فتحون

“তাবারানি বলেছেন ‘সে একজন সাহাবী, আর সে তাদের একজন ছিল যে উসমানের বিরুদ্ধে মিশর থেকে অগ্রসর হয়েছিল”।

তারিখ এ মাদিনা  খন্ড ৪ পাতা ১৩০৩ঃ

حدثنا عفان قال : حدثنا أبو محصن قال : حدثنا حصين بن عبد الرحمن قال : حدثني جهيم قال : أنا شاهد ، دخل عليه عمرو بن بديل الخزاعي , والتجيبي يطعنه أحدهما بمشقص في أوداجه , وعلاه الآخر بالسيف فقتلوه

“ আমি দেখছি যে আমর বিন বাদিল আল খুজাই আর আল তেজিবি তার (উসমানের) কাছে দাখিল হল, আর তাদের মধ্যে একজন একটা ছুরি  দিয়ে আঘাত করল আর অন্যজন তরবারি দিয়ে এবং তাকে মেরে ফেল্লো”।

এসব বর্ণনায় সবাই শিকা রাবি।

৭) সাহাবী আব্দুর রহমান বিন উদাইস রাঃ এর ভুমিকা উসমানের হত্যায়।

ইবনে উদাইস একজন বড়মাপের সাহাবী ছিলেন তিনি বায়াতে রিযোয়ান এর সাহাবী ছিলেন অর্থাৎ গাছের নিচে যে বায়াত অনুষ্ঠান হয়। এর আগে ও দেখানো হয়েছে যে ইবনে উদাইস ,তালহার থেকে নির্দেশ নিয়ে উসমানকে পানি বন্ধ করে দিচ্ছেন। এখানে আরও কিছু প্রমান দেওয়া হল।

ইবনে আসির তার ‘উসুদ আল গাবা’ এর খণ্ড ৩ পাতা ৩০৯ এ এই সাহাবী জীবনীতে উল্লেখ করেছেন।

“আব্দুর রহমান ইবনে উদাইস ইবনে আমর ইবনে উবাইদ ইবনে কালাব ইবনে দাহমান ইবনে ঘানাম ইবনে হামিম ইবনে দুহাল ইবনে হানী ইবনে বালি। এটা তার বংশপরিচয়, সে বালাভি, সে সাহাবী ছিল, বায়াতে রেযোয়ানে উপস্থিত ছিল।সে সেই সময় বায়াতও করেছিল, আর সে ঐ সেনা দলের কামান্ডার ছিল যারা মিশর থেকে এসে উসমানকে ঘেরাও করেছিল তার হত্যার সময়”।

ইমাম ইবনে সাদ তার ‘তাবাকাত আল কুবরাতে’ খণ্ড ৭ পাতা ৫০৯

 عبد الرحمن بن عديس البلوي من صحب النبي صلى الله عليه وسلم وسمع منه وكان فيمن رحل إلى عثمان حين حصر حتى قتل وكان رأسا فيهم

“আব্দুর রহমান ইবনে উদাইস আল বালাভি তাদের মধ্যে ছিল যারা রাসুল সাঃ এর সাথ দিয়েছিল এবং তাঁর সাঃ থেকে (বচন)শুনেছিল এবং সে তাদের মধ্যে একজন ছিল যারা উসমানকে ঘেরাও করার জন্য কুচ করেছিল তার (উসমানের)কতল পর্যন্ত, সে তাদের কমান্ডার ছিল”।

ইবনে সাদ তার ‘তাবাকাত আল কুবরা’ এর খণ্ড ৩ পাতা ৭১ এ আরও লিখেছেনঃ

كان المصريون الذين حصروا عثمان ستمائة رأسهم عبد الرحمن بن عديس البلوي وكنانة بن بشر بن عتاب الكندي وعمروبن الحمق الخزاعي

“মিশরীয় যারা উসমানকে আক্রমণ করে ৬০০ জন ছিল আর তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছিল আব্দুর রাহমান ইবনে উদাইস ও আমর বিন হামাক্ক আল খুজাই”।

ইবনে আব্দুল বার তার ইস্তিয়াব এর খন্ড ২ পাতা ৪১১ এ উল্লেখ করেছেন

عبد الرحمن بن عديس البلوي مصري شهد الحديبية ۔۔۔ ممن بايع تحت الشجرة رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ أبو عمر هو كان الأمير على الجيش القادمين من مصر إلى المدينة الذين حصروا عثمان وقتلوه

“আব্দুর রহমান ইবনে উদাইস আল বালাভি হুদাইবিয়ার দেখেছে আর তিনি তাদের মধ্যে ছিলেন যারা গাছের নিচে বায়াত করেছিল। আবু উমার বলেছেন ‘সে সেই সেনা দলের প্রধান ছিল যারা উসমানকে আক্রমণ করে এবং তাকে হত্যা করে”।

ইবনে হাজর আস্কালানি তার ‘আল ইসাবা’ এর খণ্ড ৪ পাতা ২৮১ এ জীবনী নং ৫১৬৭ এ উল্লেখ করেছেঃ

وقال بن البرقي والبغوي وغيرهما كان ممن بايع تحت الشجرة ۔۔۔ وقال بن يونس بايع تحت الشجرة ۔۔۔ وقال بن يونس بايع تحت الشجرة وشهد فتح مصر واختط بها وكان من الفرسان ثم كان رئيس الخيل التي سارت من مصر إلى عثمان في الفتنة

“ইবনে বারকি, আল বাগাভি এবং অন্যান্যরা বলেছেন যে সে গাছের নিচে বায়াতে অংশ গ্রহন করেছিলেন………। ইবনে ইউনুস বলেছেন গাছের নিচে বায়েত ছিলেন, মিশরের বিজয়ে অংশ গ্রহন করেছিলেন এবং বীর যোদ্ধা ছিলেন আর সে উসমানকে আক্রমণ করা সেনা দলের প্রধান ছিল”।

অনুরূপ ভাবে ইবনে হাজর আস্কালানি তার ‘তাজিল আল মানফা’ এর ৪৭১ পাতায় উল্লেখ করেছেন তিনি সাহাবী ছিল এবং অন্য সাহাবী তার থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইবনে কাসির তার ‘আল বেদায়া ওয়ান নিহায়া’ এর খণ্ড ৭ পাতা ১৭৯ এ উল্লেখ করেছেনঃ

“উসমানের হত্যার পরে তার কাতিলরা তার মাথা কেটে নিতে চেস্টা করছিল, মেয়েরা চিৎকার করতে শুরু করল আর মুখে চপেটাঘাত করতে লাগল (মাতম), উসমানের দুটো স্ত্রী নাইলা আর উম্মুল বানিন আর তার কন্যারা এর মধ্যে ছিল। ইবনে উদাইস বলল ‘উসমানকে ছেড়ে দাও’। ফলে তারা তাকে ছেড়ে দিল আর ঘরে যা কিছু ছিল লুটে নিল”।

ইবনে আসাকির তার ‘তারিখ এ দামিস্ক’ এ রেওয়াত করেছেন। ( খন্ড ২ পাতা ৪৭২)ঃ

له صحبة وهو ممن بايع تحت الشجرة

“সে সাহাবী, এবং সে গাছের নিচে বায়াত কারীদের মধ্যে ছিল”।

এখানে উল্লেখ্য যে আহলে সুন্না ও নাসিবী রা সাহাবাদের মহান মর্যাদা দেখাবার জন্য গাছের নিচে বায়াত করা তথা বায়াতে রেজোয়ান এর কথা উল্লেখ করে  এবং কুরআনের আয়াত পড়ে। যে বায়াত এ রেজোয়ান এর সাহাবীরা কিভাবে উসমানকে হত্যা করছে!

এখন নাসিবীরা কি করবে?

৮) সাহাবী আমর বিন হামক আল খুজাই এর ভুমিকা উসমান হত্যায়।

ইবনে হাজর আস্কালানি তার ‘তাকরীব আত তাহজিব’ পাতা ৪২০ এ এন্ট্রি নং ৫০১৭

“আমর বিন হামক, ইবনে কাহিল আর তাকে ইবনে কাহিন, ইবনে হাবীব আল খজাই ও বলা হয়।

সাহাবী যে কুফায় থাকত তারপর মিশরে, সে মুয়াবিয়ার খেলাফাত এ মারা যায়”।

ইবনে সাদ তার ‘তাবাকাত’ এ উল্লেখ করেছেন। “মিশরীয় যারা উসমানকে আক্রমণ করে ৬০০ জন ছিল আর তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছিল আব্দুর রাহমান ইবনে উদাইস ও আমর বিন হামাক্ক আল খুজাই”। (খণ্ড ৩ পাতা ৭১)

ইবনে সা’দ তার তাবাকাত এ আরও উল্লকেহ করেছেনঃ( খণ্ড ৩ পাতা ৬৫)

“যখন মিশরের লোকেরা উসমানের কাছে এল, তারা দিখাসাবা তে ঘাটী গাড়লো। উসমান, মুহামামদ বিন সালামাহকে ডেকে বলল ‘যাও আর তাদেরকে আমার কাছে আসতে বিরত করো, তারা যাতে খুশি হয় সেই সব দাও, বলো যে আমি তাদের দাবী অনুযায়ী কাজ করবো আর সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবো’।

মুহাম্মাদ ইবনে সালামাহ তাদের কাছে দিখাসাবাতে গেল। জাবির বলে ‘উসমান আনসারদের মধ্যে থেকে পঞ্চাশ জন যোদ্ধা কে পাঠিয়েছিল আমি তার মধ্যে ছিলাম, আর তাদের (মিশরের থেকে আসা লোকেদের) চারজন নেতা ছিল আব্দুর রহমান বিন উদাইস আল বালাভি, সাউদান বিন হিমরান, ইবনে বায়া আর আমর বিন হামক আল খুজাই”।

নাসিবীদের প্রিয় আলেম ইবনে কাসির তার ‘বেদায়া আর নেহায়া’ তে উল্লেখ করেছেনঃ

وفيها‏:‏ كانت وفاة عمرو بن الحمق بن الكاهن الخزاعي، أسلم قبل الفتح وهاجر‏.‏ وقيل‏:‏ إنه إنما أسلم عام حجة الوداع‏.‏ وورد في حديث أن رسول الله دعا له أن يمتعه الله بشبابه، فبقي ثمانين سنة لا يُرى في لحيته شعرة بيضاء‏.‏ ومع هذا كان أحد الأربعة الذين دخلوا على عثمان

“আমর বিন হামাক বিন কাহিন আল খুজাই এর মৃত্যুঃ সে ইসলামের মক্কা বিজয়ের আগে দাখিল হয়েছিল এবং হিজরত করেছিল। কেউ কেউ বলে সে বিদায় হজের সময় ইসলাম গ্রহন করেছিল। আর হাদিসে এটা এসেছে যে রাসুল সাঃ তার জন্য দোয়া করেছিল যে ‘আল্লাহ তোমাকে যুবক হিসাবে রাখুক’। ফলে সে ৮০ বছর বেঁচেছিল কিন্তু তার একটাও চুল পাকে নি। সে ঐ চারজন লোকের মধ্যে একজন ছিল যে উসমানের ঘরে প্রবেশ করেছিল”। (খণ্ড ৮ পাতা ৪৮)

ইবনে কাসীর আরও উল্লেখ করেছেনঃ

“ইবনে আসাকির বর্ণনা করেছেন আউন ইবনে কানানা থেকে যে কানানা বিন বাশার লোহার রড দিয়ে উসমানের কপালে আর মাথায় আঘাত করে ফলে যে পড়ে যায় আর তখন সাউদান বিন হিমরান তরবারীর দ্বারা আঘাত করে এবং হত্যা করে। আমর বিন হামক তার বুকের উপর চেপে বসে আর এই সময় উসমান শেষ নিশ্বাস নিচ্ছিল, সে ন’বার বর্শাদিয়ে আঘাত করলো। বর্ণনা কারী বলেন যে তার মধ্যে তিনটে ফসকিয়ে যায় আর ছ’টা তাকে আঘাত করে আর এই সময় সে মৃত আমার সামনে পড়ে ছিল”।

(খণ্ড ৭ পাতা ২০৮)

আহলে সুন্নার রেজাল ও হাদিস শাস্ত্রের ইমাম ইবনে হিব্বান তার ‘শিকাত’ ( বিশস্ত) এ উল্লখে করেছেনঃ

“৭০০ লোক মিশর থেকে এলো যাদের নেতা ছিল আব্দুর রাহমান ইবনে উদাইস, আমর বিন হামক আল খুজাই, কানান বিন বাশার, সাউদান বিন হিমরান আল মুরাদি’। ( খণ্ড ২ পাতা ২৫৬)

৯) সাহাবী মুহাম্মাদ বিন আবি হুযাইফা রাঃ এর ভুমিকা উসমান হত্যায়।

ইবনে আব্দুল বার তার ইস্তিয়াবের খণ্ড ৩ পাতা ১৩৬৯ এ উল্লেখ করেছেনঃ

“সে রাসুল সাঃ এর সময় হাবশায় জন্মগ্রহন করেন”।

ইমাম যাহাবী তার সিয়ার আলাম নাবুলা এর খণ্ড ৩ পাতা ৪৮০ এ বলেছেনঃ

“সে রাসুল সাঃ কে দেখেছেন”।

ইস্তিয়াবে ইবনে আব্দুল বারঃ

وكان محمد بن أبي حذيفة أشد الناس تأليبا على عثمان وكذلك كان عمرو بن العاص مذ عزله عن مصر يعمل حيله في التأليب والطعن على عثمان

“মুহাম্মাদ বিন আবু হুযাইফা সেই সব লোকেদের মধ্যে ছিল যারা জনগণকে উসমানের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করেছিল যেমন আমর বিন আস কেননা তাকে উসমান পদচ্যুত করেছিল মিশর থেকে, সে উসমানের বিরুদ্ধে জনগণকে উত্তেজিত করার কৌশল অবলম্বক করে”।

উসুদুল গাবা খণ্ড ১ পাতা ৯৯২ঃ

“আবু নাইম বলেছেন ‘সে ওই সব লোকেদের মধ্যে ছিলে যারা উসমানের ঘরে ঢুকেছিল যখন সে ঘেরাও অবস্থায় ছিল”।

১০) সাহাবী জাহজাহ বিন সাইদ আল গিফারি রাঃ এর ভুমিকা উসমানের হত্যায়।

এই সম্মানীয় সাহাবী বায়াতে রেজয়ানে ছিল, যাহাবী তার ‘তারিখ আল ইসলামে’ ২/৩১৭ এ উল্লেখ করেছেঃ

جهجاه بن قيس وقيل بن سعيد – الغفاري، مدني، له صحبة. شهد بيعة الرضوان

“সে (রাসুলের) সাহাবিয়াত পেয়েছিল, বায়াতে রেজোয়ানের সাক্ষ্যী ছিল”।

উনুরুপ ভাবে ইবনে হাজর আস্কালানী তার আল ইসাবা এর খণ্ড ১ পাতা ৬২১ এ উল্লেখ করেছেঃ

شهد بيعة الرضوان بالحديبية

“হুদাইবিয়াতে বায়াতে রেজোয়ানের সাক্ষ্যী ছিল”।

ইবনে আব্দুল বার তার আল ইস্তিয়াব এখ খণ্ড ১ পাতা ২৬৮ এ উল্লেখ করেছেনঃ

إنه شهد بيعة الرضوان تحت الشجرة

“তিনি গাছের নিচে বায়াতে রেজোয়ানের সাক্ষ্যী ছিলেন”।

এই সম্মানীয় সাহাবি জাহজাহ বিন সাইদ গিফারি সেই সব সাহাবীদের মধ্যে ছিলেন যারা উসমানের বিরুদ্ধে ছিল।এই সাহাবী উসমানকে মিম্বার থেকে টেনে নামিয়ে দেয় এবং তার লাঠি ভেঙ্গয়ে দেয়।(ইবনে কাসীরের আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া দেখুন)।

ইবনে শাবাহ আল নুমাইরি ( মৃঃ ২৬২ হিঃ) তার তারিখ এ মদিনা এ খণ্ড ৩ পাতা ১১১০ এ উল্লেখ করেছেনঃ

حدثنا موسى بن إسماعيل قال، حدثنا يوسف بن الماجشون قال، أخبرني عقبة بن مسلم المدني: أن آخر خرجة خرجها عثمان يوم جمعة وعليه حلة حبرة مصفرا رأسه ولحيته بورس، قال: فما خلص إلى المنبر حتى ظن أن لن يخلص (3)، فلما استوى على المنبر حصبه الناس، وقام رجل من بني غفار يقال له الجهجاه (1) فقال: والله لنغربنك إلى جبل الدخان.

“মুসা ইবনে ইস্মাইল-ইউসুফ বিন মাজেসুন-উকবা বিন মুসলিম- উসমানের শেষের দিনের দিকে সে ঘর থেকে বার হলো, সেদিন জুম্মা দিন ছিল আর সে সুন্দর পোষাক পরেছিল চুল আর দাড়িতে রং করাছিল।  যখন সে মিম্বারে পৌছিয়ে তাতে উঠলো লোকেরা তাকে পাথর মারতে শুরু করলো আর বনী গিফারী থেকে একজন যাকে জাহজাহ বলে সে উসমানকে বলল ‘আল্লাহের কসম, আমরা তোমাকে দুখানের পাহাড়ে নির্বাসন দেব”।

 সনদঃ

মুসা বিন ইস্মাইলঃ শিকা (যাহাবী আল কাশিফ ২/৩০১), শিকা (ইবনে হজর তাকরিব আত তাহযিব ২/২২০)

ইউসুফ বিন মাজেসুনঃ শিকা (আল কাশিফ ২/৪০২) শীকা (তাকরিব আত তাহযিব ২/৩৪৭)

উকবা বিন মুসলিমঃ শিকা (আল কাশিফ ২/৩০) শীকা (তাকরিব আত তাহযীব ১/৬৮৩)

কেউ কেউ উকবা এর জায়গায় উতবা ও লিখেছে। উতবা বিন মুসলিম ও শিকা (তারিখ ইসলাম যাহাবি, ৩/৬৯৪, তাকরিব আত তাহযীব ১/৬৫৪)

ইমাম ইবনে আবি শায়বা তার মুসান্নাফে খণ্ড ৭ পাতা ৪৪২ এঃ

عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ , عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ , عَنْ نَافِعٍ «أَنَّ رَجُلًا , يُقَالُ لَهُ جَهْجَاهٌ تَنَاوَلَ عَصًا كَانَتْ فِي يَدِ عُثْمَانَ فَكَسَرَهَا بِرُكْبَتِهِ , فَرَمَى فِي ذَلِكَ الْمَوْضِعِ بِآكِلَةٍ»

“আব্দুল্লাহ বিন ইদরিস-উবাইদুল্লাহ বিন উমার-নাফে বর্ননা করেছে যে একজন যাকে জাহজাহ বলে সে উসমানের লাঠি কেড়ে নিয়েছিল এবং হাটু দিয়ে ভেঙ্গয়ে দিয়েছিল”।

সনদঃ

আব্দুল্লাহ বিন ইদরিসঃ শীকা (তাকরিব আত তাহযিব ১/৪৭৭), শাইখুল ইসলাম (যাহাবী, সিয়ার আলাম ৯/৪২)

উবাউদুল্লাহ বিন উমারঃ শীকা ( তাকরিব আত তাহযিব ১/৬৩৭), সাবিত (আল কাশিফ ১/৬৮8)

নাফেঃ তাবেইদের ইমাম

সুতারং নাসিবীদের এখন কি হবে? তারা সাহাবী নক্ষত্র এর স্লোগান দিয়ে  জোল ঘোলা করতে চায়। আর বায়াতে রেযোয়ান এর হাওয়া তুলে শিয়াদের বিরুদ্ধে গালি দেয়। অথচ মহান সাহাবীরাই জড়িত উসমানের বিরোধিতায় এবং হত্যায়।

মুহাজির , আনসার দের মধ্যে মদিনায় অবস্থিত সাহাবা ও তাবেইনরা উসমানের হত্যায় জড়িত ছিল এবং ইয়াজিদের মদিনা আক্রমন ও আনসারদের উপর গনহত্যা চালনার এক্তা বাহানাই ছিল যে তার উসমান হত্যায় জড়িত ছিল।

উসমানের সাক্ষ্যী যে আল্লাহের মোমিনগন তাকে হত্যা করেছেনঃ এক্ষেত্রে সব থেকে গুরুত্বপুর্ন সাক্ষ্যী উসমানের কারণ মরার আগে ভিকটিমের কথাকে প্রমান হিসাবে সব থেকে জোর দেওয়া হয়।

তাফসীরে দূররুল মানসুর সুরা আরাফের ১৪৪ আয়াতের তাফসীরে অনলাইন লিংক।

এবং তাবাকাত আল কুবরা ইমাম ইবনে সা’দ (৩/৮২) অনলাইন লিংক।

ال: أخبرنا روح بن عبادة قال: أخبرنا عثمان بن عتاب عن خالد الربعي قال: إن في كتاب الله المبارك أن عثمان بن عفان رافع يديه إلى الله يقول: يا رب قتلني عبادك المؤمنون

“রুহ বিন আবাদা-উসমান বিন ইতাব-খালিদ রাবেঈ বলেছেন ‘উসমান দু হাত উচু করে দোয়া করলো ‘হে রব তোমার মোমিন বান্দারা আমাকে কতল করেছে”।

এই হাদিসের সব রাবী শিকা ইমাম ইবনে হিব্বানের অনুযায়ী।

প্রথম অংশ শেষ করছি গত কয়েক বছর আগে মিশরের একটা ঘটনা দিয়ে।

মিশরের এক প্রখ্যাত সালাফি আলেম যাকে টিভিতে ও দেখা যায় জ্বালাময়ি বক্তব্য রাখতে। আর তিনি মসজিদের ইমাম ও বটে। এক শুক্রবার মসজিদে খুতবা দিতে উঠে উসমানের হত্যা নিয়ে বললেন আর আমর বিন হামক আল খুজাই এর প্রতি গালি পাড়লেন, যিন্দিকুন, সাবাই, মাজুসি যে উসমানকে হত্যা করেছে যচ্চাতাই বলে খোদবা দিলেন।

 পরে তার ছাত্ররা তার কাছে গিয়ে বললে উস্তাদ কিন্তু আমর বিন হামক তো সাহাবী আপনি তাকে গালি দিলেন আর মাজুসি জিন্দিক বললেন! ফলে সেই আলেম একটু পড়াশনা করে দেখলেন তাইত!

তার পরের শুক্রবার আবার মসজিদে উঠে বললেন যে গতবারে যেটা বলেছিলাম সেটা হচ্ছে আমর বিন হামক সাহাবী রাদিয়াল্লাহ উসমান রাদিয়াল্লাহকে হত্যা করেছে। আমর বিন হামক রাদি আল্লাহ আল্লাহ তার উপর রাজী হোক উসমানকে কতল করেছে আল্লাহ তার উপর রাজী হোক।

এই হচ্ছে আহলে সুন্নার অবস্থা! রাদি আল্লাহ রাদি আল্লাহ লড়াই ও হত্যা এক রাদি আল্লাহকে মজলুম বলে আর এক রাদি আল্লাহকে জালিম বলে আবার সবাই জান্নাতে যাবে। সেখানে গিয়ে কি করবে কে জানে!