কোরআনে বিয়োজন  -আহলে সুন্নার প্রকৃত আকীদা!! 

(প্রকাশনার বিভিন্নতার কারনে রেফারেন্স এর পাতার নং বদলিয়ে যেতে পারে। রেফারেন্স পেতে যোগাযোগ করুন)

শিয়ারা কুরআনে তাহরিফ (পরিবর্তন) এ বিশ্বাস করে করে বলে নাসিবা মাঝে মাঝে দোড় ঝাপ করে এটা দেখা গিয়েছে। তার উত্তরে আহলে সুন্নার কিতাব সমূহ থেকে পরিষ্কার ভাবে দেখান হয়েছে যে আহলে সুন্নার গ্রন্থ সমূহে কুরআন এ তাহরিফ হয়েছে বলে অগণিত হাদিস ও বর্ণনা আছে।

প্রথম ভাগে এটা দেখান হয়েছে যে  আহলে সুন্না মতে বর্তমান কুরআনে আতিরিক্ত যোগ করা হয়েছেএখন এটা দেখান হবে যে আহলে সুন্নার মতে কুরআন থেকে কিছু সূরা ও আয়াত বাদ পড়েছে।

আহলে সুন্নার হাদিস ও তাফসিরের কিতাব গুলিতে কুরআনে তাহরিফ ( পরিবর্তন) হয়েছে বলে অগণিত বর্ণনা আছে, এক্ষেত্রে কুরআন থেকে সূরা ও আয়াত বাদ পড়েছে বলে আহলে সুন্নার কেতাব সমূহে প্রচুর উল্লেখ আছে। কিন্তু এই সব হাদিস ও বর্ণনা সমূহকে কিছু কিছু অন্ধ নাসিবি মানসুখ হয়েছে বলে বলে মুখ লিকাতে চায়। নিজেদের মুখকে চোরা বালির মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে লজ্জায় মুখ ঢাকতে চায়। এই প্রবন্ধে তাদের মুখ চোরা বালি থেকে টেনে বার করে আয়নার সামনে ধরা হবে। সেক্ষেত্রে প্রথমে নসখ/মানসুখ এর আহলে সুন্নার মত অনুযায়ী অনুযায়ী কি ও কিভাবে হতে পারে সেটা তুলে ধরছি।

ইমাম শাফেই ও ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল এর মতে কুরআনে মনসুখ এর নিয়ম

قطع الشافعي وأكثر أصحابه وأكثر أهل الظاهر بامتناع نسخ الكتاب بالسنة المتواترة وإليه ذهب أحمد بن حنبل في إحدى الروايتين عنه

“শাফেয়ী আর তার বেসির ভাগ সাহাবী ও বেশীর ভাগ আহলুল যহির এর ফতোয়া যে কেতাব (কুরআনের আয়াত) মুতাওয়াতির সুন্নাহ( হাদিস) দিয়ে মনসুখ হতে পারে না। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল ও এটাই বলেছেন তার থেকে বর্ণিত দুটোর মধ্যে একটা রেওয়াতে”।

-আমেদি, তার আল আহকাম ফি উসুল আল আহকাম।

ইমাম ফখরুদ্দিন আর রাজী তার গ্রন্থ ‘আল মাহসুল’ এর খণ্ড ৩ পাতা ৩৪৮ ও এই কথার উল্লেখ করেছেন।

نسخ الكتاب بالسنة المتواترة جائز وواقع ، وقال الشافعي رضي الله عنه لم يقع

 “মুতাওয়াতির ( হাদিস) দিয়ে কুরআন কে রহিত হতে পারে আর এটা হয়েছেও কিন্তু শাফেয়ী রাঃ বলেছেন এটা হয়নি”।

আয়াত মনসুখ( রহিত) শুধুমাত্র সাহাবাদের মুতাওয়াতির বর্ণনার মাধ্যমে হতে পারে

আল্লামাহ জালালুদ্দিন সুয়ুতি তার ‘ইতকান ফি উলুম আল কুরআন’ ( উর্দু অনুঃ) এ পাতা ৬৩ তেঃ-

“ইবনে হাসার বলেছেন ‘মনসুক হওয়ার ক্ষেত্রে এটা জরুরী যে রসুল সাঃ বা কিছু সাহাবাদের থেকে পরিষ্কার ভাবে প্রমাণিত বর্ণনা থাকতে হবে যে এই এই আয়াত ঐ ঐ আয়াতকে মনসুখ ( রহিত) করে দিয়েছে, যখন এ ব্যাপারে বিপরীত বর্ণনা পাওয়া যাবে সেক্ষেত্রে এটা দেখা যেতে পারে কোনটা আগে আনা হয়েছে আর কোনটা পরে, মনসুখ করার ব্যাপারে, মুফাসসির এমনকি মুজতাজিদ্দের বক্তব্য যথেষ্ট নয় যদি না এব্যাপারে রহিত সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয় এবং তার বিরুদ্ধে কোন ধরনের বিরোধপূর্ণ যুক্তি থাকবে না। কারণ মনসুখ হয় একটা নির্দেশকে মিটিয়ে দেওয়ার জন্য অথবা সেটাকে শক্তিশালী করার জন্য, এবং এটা রসুলের সঃ এর জীবদ্দশায় চালু ছিল, বর্ণনা ( হাদিস) ও ইতিহাসের উপর নির্ভর করতে হবে, মতামত ও ইজতেহাদের উপর নয়। আর লোকজন পরস্পর বিরোধী দুটি গ্রুপে বিভক্ত, প্রথম গ্রুপ মনসুখের ক্ষেত্রে সাহিহ আহাদ বর্ণনা গ্রহণ করে না আর অন্য পক্ষ্য খুবই সাধারণ ভাবে মুফাসসির দের কথাকে যথেষ্ট বলে মানে, অথচ সত্য অন্য পথে”।

অতপর দেখা যাক আহলে হাদিসি সালাফি দের উপমহাদেশের মহান আলেম আল্লামাহ সাদিক হাসান খান ভূপালী কি বলেন। আল্লামাহ সাদিক হাসান খান মনসুখে ব্যাপারে কিছু শর্ত উল্লেখ করেছেন সেই গুলি না পূর্ণ হলে এটা বলা যাবে না যে ঐ ঐ আয়াত ঐ ঐ আয়াতকে রহিত করে দিয়েছে।

‘ইয়াফাদাতুল শাইয়ুখ’ পাতা ৫

“রহিত হওয়ার প্রথম শর্ত হল যে মনসুখ হওয়ার ‘বিষয়টা’ শারাই (শরিয়াতের বিষয়) হতে হবে ‘যুক্তি ভিত্তিক’ নয়( আকলি নয়), রহিতকারি আয়াত রহিত হয়ে যাওয়া আয়াতের থেকে পৃথক হতে হবে। রহিতকারি আয়াত পরে নাজিল হতে হবে কারণ যখন কোন আয়াত (অন্য আয়াতের) শর্ত আরপকারি হও বা ব্যাখ্যাকারি হয় সেটাকে রহিতকারি বলা যাবে না, এটাকে ‘তাখসিস’ ( পার্থক্যকারী) বলা হয়। সুতরাং মনসুখ অবশ্যই ব্যাখ্যা সহ আসতে হবে। একটা নির্দেশ (কারও)মৃতুর সাথে মিলিয়ে যেতে পারে না। রহিতকারি আয়াত সময়ের সাথে যুক্ত নয়, অর্থাৎ সময়ের সাথে কোন আয়াত রহিত হয়ে যেতে পারে না। রহিতকারী আয়াত রহিত হয়ে যাওয়া আয়াতের সামান শক্তি সম্পন্ন হতে হবে, বরঞ্চ রহিতকারি আয়াত বেশী শক্তিশালী হতে হবে, কেননা দুর্বল কখন সবলকে রহিত করতে পারে না। এই বক্তব্য যুক্তি সঙ্গত আর ইজমা এটাকে সাপোর্ট করে কেননা সাহাবাগন কখনই কোন আয়াতকে রহিত করেনি খবরে ওহেদ ( একক বর্ণনা) এর উপর ভিত্তি করে।ষষ্ঠ হচ্ছে রহিত হওয়ার উদ্দেশ্য আর যেটা রহিত হচ্ছে তার উদ্দশ্য পৃথক হতে হবে নইলে বাদা এর বেপার এসে যাবে …………।। তাউহিদের ব্যাপারে কিছু মনসুখ হতে পারে না। ……।। এইভাবে যে সমস্ত আয়াত ‘খবর’ হিসাবে নাজিল হয়েছে সেগুলি এই ভাবে মনসুখ হতে পারে না কারণ যে সত্যবাদি রসুল সাঃ এর কাছে এই ব্যপারে কোন জ্ঞান থাকবে না সেটা অকল্পনীয়”।

অনুরূপ ভাবে সামানি তার ‘কাওয়াতে আল আয়লে ফি আল উসুল” এর খণ্ড ১ পাতা ৪৭১ –এ

ولا يجوز نسخ المتواتر بالآحاد لضعف الناسخ وقوة المنسوخ

“মুতাওয়াতিরকে আহাদ দিয়ে রহিত করা জায়েজ না……………।

গাযালি তার ‘আল মুস্তফা’ এর পাতা ৯৮ এঃ

لا يجوز نسخ المتواتر بخبر الواحد

“মুতাওয়াতিরকে আহাদ দিয়ে রহিত করা জায়েজ না”।

আহলে সুন্নার খোদার উপর খোদগারি- নতুন ধরনের ‘মনসুখের’ আবিস্কার!

আহলে সুন্নার সাহিহ হাদিস ও তাফসীর ও কুরআনের উপর লেখা গ্রন্থগুলিতে সাহিহ ও মুতাওতির হাদিস এ আছে বড় বড় সাহাবারা কুরআনে ‘তাহরিফ’ –বিকৃতি হয়েছে বলে মানত এবং সেই মত বর্ণনা করেছে। ফলে তাদের এই কুফরি থেকে বাঁচাবার জন্য আহলে সুন্নার কিছু আলেম আল্লাহের উপর হাত চালিয়েছে এবং ‘তিলাওয়াতের মনসুখ’-তিলাওয়াত রহিত আবিস্কার করেছে, অর্থাৎ তারা বলে যে কুরআনে কিছু আয়াত ছিল যে গুলি এখনকার কুরআনে নেই কিন্ত সেগুলির হুকুম আহকাম এখনো বর্তমান। অর্থাৎ কুরানেই ছিল আর সেগুলি আগে পাঠ করা হত কিন্তু পরে সেগুলি রহিত হয়ে যায় শুধু মাত্র সেগুলির পাঠ বা তেলাওয়াত, কিন্তু সেগুলির হুকুম আহকাম ইত্যাদি চালু থাকবে। বোঝাই যাচ্ছে যে নিজেদের থেকে শরিয়াতে কিছু এক্সট্রা ঢুকিয়ে দেওয়ার এটা একটা পিছনের দরজার পদ্ধুতি।

উপরে আহলে সুন্নার মনসুখ এর ব্যাপারে আকিদা দেওয়া হল এখন দেখাযাক এই মনসুখ বা আয়াত রহিত হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আল্লাহ কি বলছেন। তার পরে শিয়া আকীদা দেওয়া হবে অতপর মুল আলচনায় যাওয়া হবে। ইনশাআল্লাহ তালা।

আল কুরআন সুরাহ বাকারাহ ১০৬

“আমরা কোন আয়াত রহিত করলে অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান”?

( নোটঃ এই আয়াতটাকে সাবাই কে মনে রাখার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে যাতে করে পরবর্তী আলোচনা ভাল করে বোঝা যায়)

যদিও কুরআনের আয়াতটা পরিষ্কার এবং আল্লাহের এই আয়াত নাজিল করার উদ্দেশ্য যে পরে লোকেরা এটা রহিত হয়েছে সেটা রহিত হয়েছে বলে চালাবার চেস্টা করবে।  আয়াতটি সহজ তবুও এখানে শিয়া মুফাসসির ও উলেমারা ‘মনসুখ’ হওয়ার ব্যপারে কি বলেছেন সেটাও উল্লেখ করা হলঃ

সুন্নিদের অনুরূপ শিয়াদের ও বিশ্বাস যে আহাদ বর্ণনার মাধ্যমে কুরআনের কোন আয়াতকে রহিত করা যায় না বা রহিত হয়েছে বলে বলা যায় না। অর্থাৎ কুরআনের অমুখ আয়াত রহিত হয়ে গিয়েছে এটা কোন আহাদ বর্ণনার দ্বারা হয় না। শীয়া আলেমদের মতামতা তুলে ধরা হলঃ

শেইখ তুসি তার ‘আল ইদা’ এর খণ্ড ২ পাতা ১৩৭

النسخ بخبر الواحد وهذا لا يقول به أحد

“অহেদ( একক) বর্ণনার দ্বারা রহিত করাকে কেউ বিশ্বাস করে না” 

নাজমুদ্দিন আল হেলি তার ‘মারিজ আল অউসুল’ এর পাতা ১৫৯ এ

من شرط الناسخ أن يكون في قوة المنسوخ ، فلا ينسخ المتواتر بالآحاد

“এটা রহিতকরনের একটা শর্ত যে রহিতকারি সামান শক্তিশালী হতে হবে যাকে রহিত করা হচ্ছে, মুতাওয়াতির কে আহাদ রহিত করতে পারে না”।

এখন দেখা যাক ‘তেলাওয়াতের রহিত’ এর ব্যাপারে বেশিরভাগ শিয়া আলেমগণ কি বলেনঃ

আল্লামাহ মুহাম্মাদ বকের আল হাকিম তার ‘উলুম আল কুরআন’ এর ২০৪ পাতায়ঃ

أن لا يكاد يعترينا الشك ببطلانه وعدم ثبوته في القرآن الكريم

“সন্ধেয়হীন ভাবে এটা মিথ্যা এবং এটা কুরআন থেকে প্রমাণিত হয়নি”।

 ‘উসুল আল ফিকাহ’ – শেইখ মুজাফার, খণ্ড ৩ পাতা ৫৬

لعدم ثبوت نسخ التلاوة بالدليل القطعي

“তেলোয়াতের রহিত কুরআন থেকে দলিল দ্বারা প্রমাণিত নয়”।

“আল সাহিহ মিন সিরাত আল নাবি’ – জাফার মুরতাদা খণ্ড ৭ পাতা ২৯৫

إن نسخ التلاوة المدعى مرفوض

“তেলাওয়াতের রহিত –এর দাবিসমূহ প্রত্যাখ্যাত”।

আয়াতুল্লাহ জাফার সুবহানী তার ‘মাফাহিম আল কুরআন’ এর খণ্ড ১০ ৩৬৪

بيين الفساد

“এটা একদম বেকার কথা”

ফাদলুল্লাহ তার “ মিন ওহি আল কুরআন’ এর খণ্ড ২ পাতা ১৫৬

ونحن لا نوافق على نسخ التلاوة

“আমরা তেলাওয়াতের রহিতের ব্যাপারে অসম্মতি রাখি”।

কিছু নাসিবি প্রপাগ্নডা চালাতে চায় যে শেখ তুসি ‘তেলায়তের রহিত’ এর ব্যাপারে মত দিয়েছেন।

শেইখ তুসি তার ‘তুবিয়ান ফি তাফসীর আল কুরআন’ এ নাসেখ ও মনসুখের উপর নানা ধরনের সাধারণ সবার  মতামত উল্লেখ করেছেন আর তার পরে উল্লেখ করেছেনঃ

“…এবং মনসুখ হওয়ার শর্ত সমূহ যেগুলি সত্য আর যেগুলি ভুল, আরও কোনগুলি কুরআনের আয়াতকে রহিত করে আর কোনগুলি রহিত করে না সে বিষয় আমরা ‘আল ইদা’তে লিখেছি”।

এখন দেখি শেইখ তুসি তার ‘আল-ইদা এ তথাকথিত হজরত উমারের ‘রজম এর আয়াত’  এর কথা উল্লেখ কি লিখেছেনঃ- খণ্ড ২ পাতা ৫১৪

“আমরা এই আয়াত গুলি উল্লেখ করেছি উদাহরন হিসাবে যদিও এসবের কিছুই ঘটেনি”।

অর্থাৎ এই সুন্নিরা যে ‘তেলায়াতের রহিত’ বলে রজমের আয়াত কে কুরআনে ছিল বলে দাবি করে শেইখ তুসি সেটাকে নৎসাত করে দিয়েছেন।

পাঠকদের আবারও কুরআনের আয়াতটাকে পড়তে অনুরোধ করা হচ্ছে যেখানে আল্লাহ পাক রহিত হওয়ার নিয়মাবলী পরিষ্কার ভাবে বলে দিয়েছেন- সেখানে এই মনসুখন এ তিলাওয়াত কোন ধরনের ধারণাই দেওয়া হয়নি। অথচ এই তেলাওয়াতের মনসুখ একটা বেদাতি আবিস্কার।

মুল বিষয় শুরু করার আগে আরও একটি বিষয় খুবই সংক্ষেপে বলে রাখি যে আহলে সুন্নার মতে কুরআন আল্লাহের নবী সাঃ সংকলন করে যাননি সেটা আবু বকর করেছেন, আবার দেখা যায় উমার কিতাব আকারে সংকলন করে নিজের মেয়ে হাফসা এর কাছে রাখে। আবার দেখা যায় উসমানের সময় কুরআনের বিভিন্ন আয়াত নিয়ে সাহাবাদের মধ্যে ঝামেলা লাগে যায়েদ বিন সাবিতকে আবারও উসমান একটা কুরআন সংকলন করতে বলে।এবং দেখা যাচ্ছে যে তরুণ সাহাবা যায়েদ বিন সাবিতকে দিয়ে আবু বকর কুরআন সংকলন করিয়েছিলেন তিনি ভুল পড়ছেন আর আবান ইবনে সাইদ ঠিক পড়ছেন!! অবশেষে যায়েদ যখন এই কাজ থেকে অবসর নেন তখন তিনি বলেন যে দুটি আয়াত খুঁজে পাচ্ছেন না!

তাবারি তার তাফসীরের মুকাদ্দামায় লিখেছেনঃ-

“ইমাম যুহুরী (র) বলেন, নবী করীম (সাঃ)-এর ইন্তিকালের সময় কুরআন মজীদ গ্রন্থাকারে একত্রে সংকলিত ছিল না । তা খেজুর গাছের বাকল ও হাড়ের উপর লিপিবদ্ধ ছিল । তিনি বলেন, আবু বাকর (রা) ই প্রথম ব্যাক্তি যিনি সন্তানহীন ও পিতামাতাহীন ব্যাক্তির ওয়ারিস নির্ধারণ করেন এবং কুরআন মজীদ গ্রন্থাকারে সংকলন করেন । ইমাম আবু জাফর তাবারী বলেন, ‘ উসমান (রাঃ) কুরআনের যে সংকলন তৈরী করেছিলেন এবং তার অনেকগুলো কপি প্রস্তুত করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠিয়েছিলেন — এ সম্পর্কে আরও বহু হাদিস রয়েছে । মুসলিম উম্মাতের প্রতি এটা ছিল তার একটা বিরাট অবদান”।

আরও লিখেছেনঃ

“যায়েদ ইবন সাবিত (রাঃ) বলেন, ইয়ামামার যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) -এর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাহাবী শহীদ হওয়ার পর হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) আবু বাকর সিদ্দীক (রাঃ)-র নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, কীট-পতঙ্গ আগুনে ঝাপিয়ে পড়ার ন্যায় ইয়ামামার যুদ্ধে নবী করীম (সাঃ) এর সাহাবীগণ নিহত হয়েছেন । আমার আশংকা হচ্ছে ভবিষ্যতেও এরূপ যুদ্ধ সমুহে তাঁরা ঝাপিয়ে পড়বেন এবং শহীদ হবেন ফলে কুরআনের বহু অংশ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে, কারন তাঁরা হচ্ছেন কুরআনের হাফিয । অতএব আপনি যদি তা একত্রে সংগ্রহ ও সংকলনের ব্যাবস্থা করতেন ( তবে ভালোই হত ) । হযরত আবু বাকর (রা) এতে দ্বিমত পোষণ করে বললেন, যে কাজ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) করেননি তা আমি কি ভাবে করতে পারি ? তাঁরা উভয়ে এ ব্যাপারে মতবিনিময় করছিলেন । অতঃপর আবু বাকর (রা) যায়েদ ইবনে সাবিত (রা) কে ডেকে পাঠালেন । যায়েদ (রা) বলেন, আমি তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম তখন উমার (রা) ইতস্তত অবস্থায় ছিলেন । আবু বাকর (রা) বললেন, এই ব্যাক্তি আমাকে একটি কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছে, কিন্তু আমি তা প্রত্যাখ্যান করেছি । আপনি হচ্ছেন ওহী লেখক সাহাবী । যদি আপনি তাঁর সাথে একমত হন তবে আমি আপনাদের অনুসরণ করব । আর যদি আপনি আমার সাথে একমত হন তবে আমি তা করব না । যায়েদ (রা) বলেন, অতঃপর তিনি আমার কাছে উমার (রা)-র বক্তব্য তুলে ধরলেন এবং উমার (রা) নীরব থাকলেন । আমিও তাঁর কথায় দ্বিমত পোষণ করে বললাম, যে কাজ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) করেননি তা কি আমরা করতে পারি ? এর পরিপ্রেক্ষিতে উমার (রা) বললেন, তা করলে আপনাদের কি ক্ষতি হবে ? যায়েদ (রা) বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে গভীর ভাবে চিন্তা- ভাবনা করে বললাম, কোন ক্ষতি নেই । আল্লাহ্‌র শপথ ! এ কাজে আমাদের কোন ক্ষতি নেই । যায়েদ (রা) বলেন, আবু বাকর (রা) আমাকে তা লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেন এবং তদনুযায়ী আমি তা  চামড়া, কাঁধের হাড় এবং গাছের বাকলে লিপিবদ্ধ করি”।

অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে যে কুরআন সংকলন এর দাবী নিয়ে বকরি ( আবু বকরের অনুসারী), উমরি (উমারের অনুসারী) ও উসমানীদের মধ্যে টানা পোড়ান আছে। আসলে কুরআন সংকলনের এই দাবী এর Credit এর কেক নিয়েও নিজের ভাগে বেশী নেব এই করে টানা হেঁচড়া করেছে এরা। (এখানে পাঠকদের একটু বলে রাখি যে আসল ব্যপারটা সম্পূর্ণ আলাদা- অন্য কোন আর্টিকেল ইনশাআল্লাহ বলা হবে, সেই সাথে সুন্নিদের ছটি কুরআন ধংশের যে বেদাতি আকিদা রাখে সেটার ও পর্দা ফাস করা হবে ইনশাআল্লাহ)।

***************************************************************

১) আহলে সুন্নার ৪০ পারার কুরআন ।

ইবনে হজর আস্কালানি তার “ফাতহুল বারী শারাহ সাহিহ আল বুখারি” খণ্ড ৯ পাতা ৯৫

قال أقل ما يجزئ من القراءة في كل يوم وليلة جزء من أربعين جزءا من القرآن

“………কমপক্ষে এতটুকু তেলাওয়াত যথেষ্ট ১ পারা করে প্রত্যেক দিন ও রাতে মোট চল্লিশ পারা কুরআনের থেকে”।

আরও রেফারেন্স-

-বদরুদ্দিন আইনি তার ‘উমদাতুল কারী’ খণ্ড ৯ পাতা ৩৪৫

আল্লামাহ কাস্তালানি তার ‘ইরশাদ আল সারী’ খণ্ড ৭ পাতা ৪৮২

আমারা সবাই জানি যে আমাদের হাতে যে কুরআন আছে তাতে ৩০ পারা আছে। কিন্তু সুন্নিদের কাছে ৪০ পারার কুরআন ছিল যা তাদের বাপ দাদারা মনে হয় লুকিয়ে রেখেছে।

২) সুন্নি বিশ্বাস কুরআনের ৭,০০,৩৬৯ অক্ষর হারিয়ে গিয়েছে।

এ বিষয় নিচে উল্লেখিত আহলে সুন্নার বইগুলির আশ্রয় নেব।

   ১) মুত্তাকি আল হিন্দি এর কানযুল আম্মাল খণ্ড ১ পাতা ১৩৫ হাদিস নং ২৩০৮

   ২) আল্লামাহ জালালুদ্দিন সুয়ুতি এর  আল ইতকান কি উলুম আল কুরআন এর খণ্ড ১ পাতা ৮৮

   ৩) জামে আস সাগীর খণ্ড ১ পাতা ৮৮

আল ইতকানঃ- “উমার বর্ণনা করেছেন যে নাবি সাঃ বলেছেন যে ‘কুরআনে ১০,২৭,০০০ অক্ষর আছে আর যে নেকী পাওয়ার  নিয়েতে সেগুলি পড়বে সে জান্নাতে প্রত্যেক অক্ষরের বিনিময় একটা করে হুর পাবে’”। এই হাদিসের প্রত্যেক বর্ণনা কারী বিশ্বস্ত”।

ইবনে আব্বাসের মত অনুযায়ী এখনকার কুরআনে ৩,২৬,৬৩১ অক্ষর আছে, সুতারং উমারের বর্ণনা অনুসারে কুরআন থেকে ৭,০০,৩৬৯ সংখ্যক অক্ষর বাদ পড়েছে বর্তমান কুরআন থেকে। সুতারং উমারের মতে আসল কুরআন বর্তমান কুরআনের থেকে তিন গুন বড় ছিল! এবং এটা প্রমান করে উমার কুরআনে বিকৃতির উপর বিশ্বাস করতেন।

এখন যদি নাসিরা বলে ঐ সব আয়াত গুলি রহিত হয়ে গিয়েছে তবে এটা যে কত কষ্ট কল্পনা তা বোঝা যাচ্ছে কারণ আল্লাহ বলেছেন “আমরা কোন আয়াত রহিত করলে অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি”।

সুতারং সেই সমপর্যায়ের বা উত্তম আয়াতগুলি কোথায়? আয়াত আয়াত দিয়ে রহিত হলে সংখ্যা বেড়ে যায় কমে না।

উপরউন্তু উমার বলছে যে প্রতিটা অক্ষর পড়ার জন্য একটা করে হুর পাবে নেকী এর ফল হিসাবে তবে যেসমস্ত আয়াত গুলি রহিত হওয়ার ফলে কুরআনে নেই সেগুলির পাঠের জন্য নেকী পাবে এটা মূর্খের কথা হতে পারে কোন যুক্তি পূর্ণ কথা নয়।

সুতরাং উমারের মতে তিন গুন বড় কুরআন ছিল।

৩) সুন্নি ইমাম  সুফিয়ান সাওরি বিশ্বাস করে কুরআন থেকে অক্ষরসমূহ হারিয়ে গিয়েছে।

আহলে সুন্নার মহান আলেম জালালুদ্দিন সুয়ুতি তার মূল্যবান তাফসীর দূররুল মানসুর এর ভুমিকাতে লিখেছে।

“আলহামদুলিল্লাহ ………যিনি আমাকে তাঁর মহান কিতাবের তাফসীর উচ্চমান সনদ যুক্ত বর্ণনার উপর ভিত্তি করে লেখার সামর্থ্য প্রদান করেছেন”।

সুরাহ আহযাব এর ভুমিকাতে আল্লামাহ জালালুদ্দিন সুয়ুতি, আহলে সুন্নার ইমাম সুফিয়ান সাওরি (মৃঃ১৬১ হি) এর আকিদা লিখেছেন তার ছাত্র ইমাম আব্দুর রাজ্জাক আল সানানি (মৃঃ২১১ হি) থেকে।

وأخرج عبد الرزاق عن الثوري قال : بلغنا ان ناسا من أصحاب النبي صلى الله عليه و سلم كانوا يقرأون القرآن أصيبوا يوم مسيلمة فذهبت حروف من القرآن

“আব্দুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান সাওরি থেকে যে তিনি বলেছেন ‘রসুলের সাহাবাদের থেকে আমি এটা জেনেছি যে কুরআনের কারীগণ মুসাইলামা এর ( যুদ্ধের) দিনে মারা গিয়েছিলেন আর তাদের মৃতুর সাথে কুরআনের অক্ষরসমূহ নষ্ট/হারিয়ে (লস্ট)(যাহাব) হয়ে গিয়েছিল”।

মুয়াবির মানস সন্তানরা যারা শিয়াদের বিরুদ্ধে ফতোয়া দেয় যে শিয়াদের বই এ কিছু বর্ণনা আছে তাই, এখন এরা নিজেদের বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়ে আত্মহত্যা করুক।

৪) নাসিবি উমরি বিশ্বাস যে উমার কুরআন সংকলন করার সিদ্ধান্ত নেন যখন তিনি দেখেন যে একটি আয়াত হারিয়ে গিয়েছে কারণ যে জানত তার মৃত্যু হয়েছে।

কানযুল আম্মাল খণ্ড ২ পাতা ৫৭৪

عن الحسن ان عمر بن الخطاب سأل عن آية من كتاب الله فقيل كانت مع فلان وقتل يوم اليمامة ، فقال إنا لله ، وأمر بالقرآن فجمع ، فكان أول من جمعه في المصحف

“উমার বিন খাত্তাব একটা আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তারা বলল ‘এটা যার সাথে ছিল সে ইয়ামামার (যুদ্ধের) দিনে মারা গিয়েছে’। উমার বলল ‘ইন্না লিল্লাহ’। তারপর তিনি কুরআন সংগ্রহের নির্দেশ দেন, ফলে তিনিই প্রথম ছিলেন যিনি কুরআনকে বই আকারে সংগ্রহ করেন”।

উপরুক্ত হাদিস থেকে এটা পরিষ্কার যে উমারা যে আয়াতটার খোঁজ করছিলেন সেটা একজনের মৃতুর সাথে লুপ্ত হয়ে গিয়েছে যে সেটা জানত, তাই আমরা বুখারিতে পড়ি যে কারী হাফেজদের মৃত্যুর সাথে কুরআন লুপ্ত হয়ে যাওয়ার ভয়ে উমার কুরআনকে বই আকারে লেখার সিদ্ধান্ত নেন।

৫) ওহাবি সালাফি আহলে হাদিসি নাসিবি গ্যাং ইবনে উমারে শিষ্যদের বিশ্বাস বেশীর ভাগ কুরআন নষ্ট হয়ে গিয়েছে।

এবিষয় জানার জন্য আমরা আহলে সুন্নার নিম্নুক্ত মহামান্য কেতাব সমূহের আশ্রয় নেবঃ

১) তাফসীরে দুররুল মানসুর খন্ড ১ পাতা ১০৬

২) আল ইতকান জালালুদ্দিন সুয়ুতি খণ্ড ২ পাতা ৬৪ ( উর্দু)

৩)তাফসীর রুহুল মা’আনি –আল্লামাহ আলুসি খণ্ড ১ পাতা ২৫।

৪) ফাযাইলে কুরআন –কাসিম বিন সালিম খণ্ড ২ পাতা ১৪৬।

আহলে সুন্নার প্রাচীন আলেম কাসিম বিন সালিম ( মৃঃ২২২ হি) তাঁর ফাযাইলে কুরআনে লিখেছেনঃ (স্ক্যানের জন্য ক্লিক করুন)

حدثنا إسماعيل بن إبراهيم ، عن أيوب ، عن نافع ، عن ابن عمر ، قال : « لا يقولن أحدكم قد أخذت القرآن كله وما يدريه ما كله ؟ قد ذهب منه قرآن كثير ، ولكن ليقل : قد أخذت منه ما ظهر منه

“ইসমাইল বিন ইব্রাহিম বর্ণনা করেছেন আইউব থেকে তিনি নাফে থেকে যে ইবনে উমার বলেছেন ‘নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে লোকেরা বলবে যে সে কুরআনকে পেয়েছে অথচ সে জানে না কুরআনের মোট পরিমাণ কত ছিল, কেননা বেশীর ভাগ অংশ কুরআন নষ্ট হয়ে গিয়েছে, বরং তার বলা উচিত যে সে ঐ কুরআন পেয়েছে যেটা সামনে আছে”।

উপরে আব্দুল্লাহ ইবনে উমারের কুরআনের আকীদা দেওয়া হল যে তিনি বিশ্বাস করতেন যে বেশীর ভাগ কুরআন নষ্ট হয়ে গিয়েছে।

আহলে নাওয়াসিব ওয়াল জামাত উপরের হাদিস দেখে নিজেদের মুখ আয়নাতে রাখতে লজ্জা পায় ফলে কিছু এক্সকিউজ/ বাহান খোঁজে, নিচে সেগুলি উল্লেখ করা হল আর সেগুলির জবাব দেওয়া হল।

নাসিবি বাহানা ১) হাদিস টি সহিহ নয়।

জবাবঃ  রেজাল শাস্ত্র থেকে দেখা যায় এই হাদিসের সব রাবি শিকা ( বিশস্ত)

ইসমাইল বিন ইব্রাহিমঃ যাহাবি বলেছেন ‘হুজ্জা’(প্রমান) ( আল কাসিফ খঃ১ পাতা ২৪২), ইবনে হজর বলেছেন ‘শিকা’ ( তাকরিব আত তাহযিব খঃ১ পাতা ৯০)

আয়ুব আল সেখতিয়ানিঃ যাহাবি বলেছেন ‘উলামেদের উস্তাদ’ ( সিয়ার আলাম খঃ৬ পাতা ১৫), ইবনে হজর বলেছেন ‘শিকা’, ‘সাবিত’, ‘হুজ্জা’ (তাকরিব আত তাহযিব খঃ১ পাতা ১১৬)।

নাফেঃ যাহাবি বলেছেন ‘তাবেইনদের ইমাম’ ( আল খাসিফ খঃ২ পাতা ৩১৫), ইবনে হজর বলেছেন ‘শিকা’ ‘সাবিত’ (তাকরিব আত তাহযিব খঃ২ পাতা ২৩৯)।

সুতারং দেখা যাচ্ছে সব বর্ণনা কারিগন বিসস্ত। উপরউন্ত জালালুদ্দিন সুয়ুতি তাঁর তাফসীর এ কি বলেছেন সেটা মনে রাখা দরকারঃ

“আলহামদুলিল্লাহ ………যিনি আমাকে তাঁর মহান কিতাবের তাফসীর উচ্চমান সনদ যুক্ত বর্ণনার উপর ভিত্তি করে লেখার সামর্থ্য প্রদান করেছেন”।

সুতারং উপরের হাদিস যে সহিহ তা প্রমাণিত।

নাসিবি বাহানা ২) উক্ত হাদিসে ‘যাহাব’ শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে, যাহাব মানে ‘নষ্ট/লুপ্ত/হারিয়ে’ নয় আসলে ‘রহিত’ বা মনসুখ। নাসেবীদের মতে আসল মানে হবে

   “………কেননা বেশীর ভাগ অংশ কুরআন মনসুখ হয়ে গিয়েছে,…”।

জবাবঃ ১) অবৈধ ভাবে জন্মান নাসিবিদের কে চ্যালেঞ্জ যে তারা একটা ডিকশনারি নিয়ে আসুক যাতে ‘যাহাব’ মানে ‘মনসুখ- রহিত’ বলে বলা হয়েছে। ইয়াজিদি নসলের অবৈধ মায়ের অবৈধ পেট থেকে যদি কোন ‘লুগাত’ বার করতে পারে।

জবাব ২) উমার বিন খাত্তাব নাসিবিদের এই যাহাব মানে ‘মনসুখ’ প্রপাগ্নডাকে রদ করে দিয়েছে।

সাহিহ আল বুখারিতে আমরা পড়িঃ

أرسل إلي أبو بكر مقتل أهل اليمامة وعنده عمر فقال أبو بكر إن عمر أتاني فقال إن القتل قد استحر يوم اليمامة بالناس وإني أخشى أن يستحر القتل بالقراء في المواطن فيذهب كثير من القرآن إلا أن تجمعوه وإني لأرى أن تجمع ۔۔۔

“মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়ামামার যদ্ধে বহু লোক শহীদ হবার পর আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) আমাকে ডেকে পাঠালেন। এ সময় উমর (রাঃ) ও তাঁর কাছে উপস্থিত ছিলেন। উমর (রাঃ) আমার কাছে এসে বলেছেন,ইয়ামামার যুদ্ধে শাহাদাত প্রাপ্তদের মধ্যে কারীদের সংখ্যা অনেক। আমি আশংকা করছি, এমনিভাবে যদি কারীগণ শহীদ হয়ে যান, তাহলে কুরআন শরীফের বহু অংশ হারিয়ে যাবে। অতএব আমি মনে করি যে, আপনি কুরআন সংকলনের নির্দেশ দিন।…………………”।

এই হাদিসে উমার বিন খাত্তাব ‘যাহাব’ শব্দ ব্যাবহার করেছেন ‘হারিয়ে’ যাওয়া বা নষ্ট হয়ে বলে।

কারণ ইয়ামাম এর যুদ্ধ নবী সাঃ এর ইন্তেকালের পর হয়েছিল আর নবী সাঃ এর ইন্তেকালের পরে কুরআনের বেশির ভাগ অংশ রহিত হয়ে যাবে সেটা শুধু নাসিবিরাই বলতে পারে কারণ এরা নবী সাঃ কে মানে না।

যদি যাহাব মানে ‘রহিত’ হিসাবে ধরা হয় তাবে মানে দড়ায় “আমি আশংকা করছি, এমনিভাবে যদি কারীগণ শহীদ হয়ে যান, তাহলে কুরআন শরীফের বহু অংশ রহিত যাবে”।

যেটা কত absurd তা বলার অপেক্ষ্যা রাখে না। যে কারী হাফেজদের মৃত্যুর সাথে কুরআন রহিত হয়ে যাবে।

যাহাব মানে নষ্ট, লুপ্ত বা হারিয়ে যাওয়া অর্থেই এখানে ব্যাবহার হয়েছে আর তাতেই নাসিবিদের নসল এর পরিচয় পাওয়া যায়।

৬) আহলে সুন্নার চার ইমামের এক ইমাম, ইমাম মালিক- সূরা বারাত ( সূরা তাওবা) এ বিসমিল্লাহ নেই তাঁর কারণ –বিসমিল্লাহ সহ সূরা বারাত এর প্রথম অংশ হারিয়ে গিয়েছে।

  এক্ষেত্রে আমরা নিচে উল্লেখিত আহলে সুন্নার কেতাব সমূহের থেকে রেফারেন্স নেব।

            ১) তাফসীর ফাত আল কাদির, খণ্ড ২ পাতা ৪৭৬ সূরা বারাত।

            ২) তাফসীর কুরতুবি খণ্ড ৮ পাতা ৬২ সূরা বারাত।

            ৩) আল ইতকান খণ্ড ১ পাতা ৮১

            ৪) তাফসীর দুররুল মান্সুর, খণ্ড ৩ পাতা ২০৮ সূরা বারাত।

ফাত আল কাদীরঃ (স্ক্যানের জন্য ক্লিক করুন)

“যখন সূরা বারাত এর প্রথম অংশ হারিয়ে যায়, ইমাম মালিক বলেছেন যে ‘বিসমিল্লাহ’ ও এর সাথে হারিয়ে যায়”।

তাফসীর কুরতুবিঃ

“মালিক বলেছেন, ইবনে ওহাব, ইবনে কসিম আর ইবনে আব্দুল হাকিমের থেকে যে বর্ণনা এসেছে যে যখন সূরা বারাত এর প্রথম অংশ হারিয়ে যায় তার সাথে বিসমিল্লাহ আর রাহমান আর রাহিম ও হারিয়ে যায়। ইবনে আলজান থেকে এটাও বর্ণনা হয়েছে যে সূরা বারাত সূরা বাকারার প্রায় সম দৈর্ঘ্যের ছিল, সুতারং অংশটা হারিয়েছে আর তার ফলে ‘বিসমিল্লাহ আর রাহমান আর রাহিম’ মাঝে লেখা হয়নি।(সুরা আনফাল ও সূরা তাওবার মাঝে লেখা হয় নি)।

৭) সুন্নি নিলজ্জ্য বর্ণনা সাহাবী হজরত হুযাইফা রাঃ এর সাক্ষ্য যে সূরা বারাত ( সূরা তাওবা)-এর মাত্র এক চতুর্থাংশ বাকি আছে।

আল্লামাহ জালালুদ্দিন সুয়ুতি মুহাদ্দিস তাবারানি, হাকিম ও ইবনে শেবাহ থেকে উধৃতি দিয়েছেনঃ

عن حذيفة رضي الله عنه قال : التي تسمون سورة التوبة هي سورة العذاب والله ما تركت أحدا إلا نالت منه ولا تقرأون منها مما كنا نقرأ إلا ربعها

“হুযাইফা বলেছেন যে সূরা যাকে তোমরা তাওবা বল আসলে সূরা আযাব (শাস্তি) আর আমরা যা পড়তাম তার এক চতুর্থাংশ তোমরা এখন পড় মাত্র”।

–তাফসীরে দুররুল মানসুর খণ্ড ৩ পাতা ২০৮।

মুসতাদরক হাকীম এটা সামান্য কিছু কথার পার্থক্যে বর্ননা করেছে, যাহাবি এটাকে সাহিহ বলেছেন।

রেফারেন্স নং ৬ ও ৭ কে আর একবার পড়ার জন্য আবেদন করা হল।হাদিসগুলিতে বলা হচ্ছে যে সূরা বারাত সূরা বাকারাহ এর সমান দৈর্ঘ্য এর ছিল। বর্তমানে সূরা বাকারাহ এর আয়াত সংখ্যা হল ২৮৬ আর সুরাহ বারাত এর আয়াত সংখ্যা ১২৯। সুতারং হাদিস অনুজাই ১৫৭ টা আয়াত সূরা বারাত থেকে হারিয়ে গিয়েছে।

উপরের পরিষ্কার বর্নানর ফলে মুখ পোড়া নাসিবিরা নিজেদের পোড়া মুখ বাঁচাতে কিছু মুখোশের বাহানা নিয়েছে।

বাহানা ১) সূরা বারাতের ১৫৭ সংখ্যক আয়াত ‘রহিত’ হয়ে গিয়েছে।

জবাবঃ ১) ইমাম মালিক যে শব্দ ব্যবহার করেছেন ‘সাকাত’। আমারা নাসিবিদের চ্যালেঞ্জ করলাম যে তারা একটা ডিকশনারি দেখাক যেখানে ‘সাকাত’ মানে রহিত/মনসুখ।

জবাব ২) আহলে নাসিবিরা যদি ইয়াজিদের বাঁদরের দুধ না খেয়ে থাকে বরং তাদের মায়ের(যদি শরিফ হয়ে থাকে) দুধ খেয়ে থাকে তবে, ভুমিকাতে উল্লেখিত নিয়ম অনুজাই পাক রাসুল সাঃ থেকে মুতায়াতির হাদিস আনুক যেখানে বলা হয়েছে যে সূরা বারাত এর ১৫৭ টি আয়াত মনসুখ হয়ে গিয়েছে।

 এবং একথার যৌতিকতা বলুক যে কি কারনে ‘বিসমিল্লাহ আর রাহমান আর রাহিম’ মনসুখ হয়ে গিয়েছে? কারণ ‘বিসমিল্লাহ আর রাহমান আর রাহিম’ আল্লাহের মহান নাম কিভাবে রহিত হতে পারে??

জবাব ৩) যদি নাসিবিরা গোঁয়ার্তুমি করতে থাকে যে সূরা বারাতের ১৫৭ টি আয়াত সত্যই মনসুখ হয়ে গিয়েছে তবে, সুরাহ বাকারার ১০৬ নং আয়াত অনুসারে যেখানে আল্লাহ বলেছেন যে “আমরা কোন আয়াত রহিত করলে অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি”।  তবে নাসিবিরা ১৫৭ টি রহিত হয়ে যাওয়ার পরিবর্তে ১৫৭ টি আয়াত দেখাক যেগুলি ঐ আয়াত গুলিকে রহিত করেছে।

নাসিবি বাহানা ২) ইমাম মালিকের বক্তব্যে ‘সাকাত’ মানে ‘ভুলে যাওয়া’।

জবাব ১) এক্ষেত্রে এই তস্য নাসিবিরা রিফিঊট করে দিয়েছে উপরের বাহানাতে যারা বলে যে ‘সাকাত’ মানে ‘রহিত’ বা মনসুখ। অর্থাৎ এক নাসিবি অন্য নাসিবিকে রিফীউট করছে। আর আমাদের কাছে দুই গ্রুপই মিথ্যাবাদী।

জবাব ২) এক্ষেত্রে উপরের ৩ নং জবাব একই ভাবে প্রয্যেয্য।

৮) সুন্নি আকিদা সাহাবীরা কুরআনের পরিপূর্ণতার উপরে বিশ্বাস করত না। সুরা আহযাব থেকে প্রচুর আয়াত বাদ পড়েছে।

এবিষয় আমরা নিচে উল্লেখিত আহলে সুন্নার কেতাব সমূহের সাহায্য নেবঃ

১)  তাফসীর এ ইবনে কাসির খণ্ড ৪ পাতা ৪৬৫ সুরা আহযাব।

২)  তাফসীরে দুররুল মানসুর খণ্ড ৫ পাতা ১৮০, সূরা আহযাব।

৩) আল ইতকান, খণ্ড ২ পাতা ৩০।

৪) তাফসীর কুরতুবি, খণ্ড ৭ পাতা ১১৩, সুরাহ আহযাব।

৫) তাফসীর ফাতহুল কাদীর খণ্ড ৪ পাতা ২৫১, সুরাহ আহযাব।

৬) তাফসীরে মাযহারি, কাজী সানাউল্লাহ পানি পাথি, খণ্ড ৭ পাতা ৩০২, সুরাহ আহযাব।

৭) তাফসীরে রুহুল মা’আনি পারা ২১ পাতা ১২১।

৮) তাফসীরে কাশশাফ, খণ্ড ২ পাতা ২০৪ সুরাহ আহযাব।

৯) তাফসীরে ঘারাইব আল কুরআন, খণ্ড ৭ পাতা ৭৫।

১০) আল মুহাযরাত, রঘিব ইস্পাহানি এর, খণ্ড ৪ পাতা ৪৩৪।

তাফসীরে দুররুল মানসুরঃ সাহাবী উবাই ইবনে কাব এর সাক্ষ্য।

قال لي أبي بن كعب : كيف تقرأ سورة الاحزاب أو كم تعدها ؟ قلت ثلاثا وسبعين آية فقال أبي : قد رأيتها وانها لتعادل سورة البقرة

“উবাই ইবনে কাব একজনকে জিজ্ঞেস করল ‘সূরা আহযাবে কত আয়াত আছে’? সে উত্তর দিল ’৭২ বা ৭৩ টা আয়াত হবে’। উবাই ইবনে কাব বলল ‘আমি এই সুরাকে, সূরা বারাকার সমান বা বেশী দেখছি’”

উমার বিন খাত্তাবের সাক্ষ্যঃ তাফসীর এ দুররুল মানসুর থেকে।

“ইবনে মারদাওয়াই, হুযাইফা থেকে বর্ণনা করেছেন যে উমার বলেছেন সূরা আহযাব সূরা বাকারার সমান দৌর্ঘের ছিল”।

এদিকে আয়শাও একই ভাবে  পরিপূর্ণ ভাবে বিশ্বাস করত যে কুরআন অপূর্ণ।

তাফসীরে রুহুল মানিঃ

“আয়শা বর্ণনা করেছেন ‘রসুলের সময় আমরা সূরা আহযাবে ২০০ টা আয়াত পড়তাম, যখন উসমান আয়তগুলি একত্রে করল সে এর থেকে বেশী আয়াত পান নি ( ৭৩ এর থেকে বেশী)’’।

(স্ক্যানের জন্য ক্লিক করুন,  অনলাইন পড়ুন)

তাফসীরে কুরতুবিঃ

“আয়শা বর্ণনা করেছেন ‘সূরা আহযাবে রসুলের জিব্দশায় ২০০ টা আয়াত ছিল, কিন্তু যখন কুরআন সংকলন করা হল আমরা মাত্র ঐ সংখ্যক আয়াত দেখি যেটা এখন দেখা যায়”।

আর আয়শার মতে এটা কার জন্য হয়েছে সেটা উল্লেখ করতে উলেমাদের ভয় লাগে, দেখুন সেটাও পাওয়া গিয়েছে আয়শার মতে এর জন্য কে দায়ী!

তাফসীরে দুররুল মানসুরঃ

 “আয়শা বর্ণনা করেছেন ‘রসুল সাঃ এর জিব্দশায় সূরা আহযাবে ২০০ টা আয়াত পড়া হত কিন্তু যখন উসমান বই আকারে সংকলন করেন সে মাত্র বর্তমান সংখ্যক আয়াত সংগ্রহ করতে সফল হয়”

( অন লাইন এডিশনে দেখুন দুররুল মানসুর, ৬ খণ্ড পাতা ৫৬০) http://islamport.com/d/1/tfs/1/11/529.html

নাসিবিদের এখনেও কোন ‘মসুখের’ বাহানা চলবে না। কারণ আগে যেগুলি বলা হয়েছে সে সব প্রয্যেয্য। উপরন্তু আয়শা বলেছেন যে উসমানের সংকলনের এই গুলি পাওয়া যাই নি, আয়শা বলেন নি যে এই গুলি মনসুখ হয়ে গিয়েছে। আয়শা আর বলছেন যে উসমান কেতাব আকারে সংকলন করার পরে এটা কম দেখা গিয়েছে! সুতরাং আয়শা যে কুরান পরিপুর্ন নয় সেটা ১০০ শতাংশ প্রমান পাওয়া যায়।

৯) নাসিবি ওহাবি দেওবান্দি বিশ্বাস যে সূরা বারাত (তাওবা) এর সম দৈর্ঘ্যের একটা সূরা হারিয়ে গিয়েছে। ইমাম মুসলিম ও ইমাম হাকিম এটা পরিপূর্ণ ভাবে সাপোর্ট করেছে।

এ বিষয় আমরা নিচে উল্লেখিত আহলে সুন্নার কেতাব সমূহের থেকে পড়বঃ

১। সহিহ আল মুসলিম অধ্যায়ঃ ১৩/ যাকাত, হাদিস নং ২২৯০। ( অনলাইন সালাফি সাইট থেকে)

২। জামে আল উসুল খণ্ড ৩ পাতা ৫৩

৩। মুস্তাদরক আল হাকিম, খণ্ড ২ পাতা ২২৪, কিতাব আল তাফসীর।

৪। তাফসীর রুহুল মা’আনি খণ্ড ২ পাতা ২৫।

৫। মজাম আল জাওয়াইদ খণ্ড ৭ পাতা ১৪০।

৬। তাফসীর দুররুল মানসুর, খণ্ড ১ পাতা ১০৫

সাহিহ মুসলিমঃ

 “সুওয়ায়দ ইবনু সাঈদ (রহঃ) আবূল আসওয়াদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ মূসা আশ আরী (রাঃ)-কে বসরাবাসী ক্বারীগনের নিকট প্রেরণ করা হল। তিনি তথায় গিয়ে এমন তিনশ লোকের সাক্ষাৎ পেলেন, যারা কুরআনের ক্বারী ছিলেন। তিনি তাদের উদ্দেশ্য করে বললেন, আপনারা বসরা শহরের সম্ভ্রন্ত লোক এবং আল কুরআনের ক্বারী, আপনারা আল-কুরআন তিলাওয়াত করতে থাকুন। বহুকাল অতিক্রান্ত হওয়ার কারণে আপনাদের মন যেন কঠিন না হয়ে যায়, যেমন পূর্বেকার লোকদের মন কঠিন হয়ে গিয়েছিল। আমি একটি সূরা পাঠ করতাম যা দৈর্ঘ ও কাঠিন্যের দিক থেকে সূরা (বারা-আত) তাওবার অনুরুপ। আমি তা ভুলে গিয়েছি। তবে তা ছাড়া এর থেকে এ কথাটি আমার মুখস্ত আছে ‘যদি আদম সন্তানের জন্য দুই মাঠ পরিপূর্ণ ধন-দৌলত হয়, তবে সে আরো মাঠ অবশ্যই খুজে বেড়াবে। মাটি ব্যতীত অন্য কিছু আদম সন্তানের পেট পুরা করতে পারবে না’…………”।

জামে আল উসুলে আমরা পড়ি যে সাহাবী উবাই ইবনে কাব যিনি উমারের বেদআত তারাবির প্রথম ইমাম ছিলেন উপরুক্ত কথাকে জোরদার করছেনঃ

“উবাই ইবনে কাব বর্ণনা করেছেন যে ‘ নবী সাঃ বলেছেন তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আমাদের মধ্যে কুরআন কে পড়ার জন্য এবং তিনি যে কুরআন পড়েছিলেন তাতে এই আয়াতও ছিল ‘যদি আদম সন্তানের জন্য দুই মাঠ পরিপূর্ণ ধন-দৌলত হয়, তবে সে আরো মাঠ অবশ্যই খুজে বেড়াবে। মাটি ব্যতীত অন্য কিছু আদম সন্তানের পেট পুরা করতে পারবে না’

আল মুহাজারাত খন্ড ৩ পাতা ৪৩৩

 “আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ রাঃ এর মুসহাফে (কুরআনের কপিতে) ছিলঃ ‘যদি আদম সন্তানের জন্য দুই মাঠ পরিপূর্ণ ধন-দৌলত হয়, তবে সে আরো মাঠ অবশ্যই খুজে বেড়াবে। মাটি ব্যতীত অন্য কিছু আদম সন্তানের পেট পুরা করতে পারবে না’

অনুরূপ ভাবে আমরা মুসতাদ্রাক আল হাকিম এ পড়ি যে উবাই ইবনে কাব বর্ণনা করেছেন রসুল সাঃ বলেছেনঃ-

“ নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে তোমাদের সামনে আমি কুরআন পড়ি, এবং তিনি ( রসুল সাঃ) পড়লেন ‘আহলে কিতাবদের মধ্যে কাফের ও যদি আদম সন্তান মাঠ পরিপূর্ণ ধন-দৌলত চায় , আর যদি তাকে সেটা দেওয়া হয় সে আরও একটি চাইবে, এবং যদি সেটাও দেওয়া হয় সে তৃতিয় মাঠ চাইবে।  মাটি ব্যতীত অন্য কিছু আদম সন্তানের পেট পুরা করতে পারবে না। আল্লাহ তাওবা কারিদের তওবা কবুল করে। আল্লাহের কাছে দ্বীন হল হানাফিয়া (ইসলাম), ইহুদিয়া বা নাসারি নয়। আর যে ভাল কাজ করে তার ভাল কাজকে অস্বীকার করা হবে না’”।

নাসিবিরা এখন কি সাহাবাদের উপর তাকফিরি ফতোয়া দিয়ে তাঁদেরকে হত্যা করবে???

উল্লেখ্য যে এখানেও মনসুখের বাহানা চলবে না যদি না নাসিবিরা সাহাবা/ নবী সাঃ থেকে মুতাওয়াতির হাদিস আনে যে ঐ আয়াত গুলি অমুক অমুক আয়াত দ্বারা মনসুখ হয়ে গিয়েছে।আর ধরনের খবর মনসুখ হওয়ার প্রশ্নই উঠতে পারে না।

১০) নাসিবিদের কুরআন থেকে দুটি মুল্যবান সূরা হারিয়ে গিয়েছে। সেদুটির নাম সূরা হাফদ/হাকদ ও সূরা খুলা আর এই দুটি সাহাবী উবাই ইবনে কাব এর মুসহাফে ( কুরআনের কপি) তে লেখা ছিল।

আহলে সুন্নার মতে ঐ দূটি সূরা কুরআনে ছিল এবং সাহাবী ও তাবেঈরা একথার সাক্ষ্য দিয়েছেন।

সূরা খুলাঃ

اللهم إنا نستعينك ونستغفرك ونثني عليك ولا نكفرك، ونخلع ونترك من يفجرك

“আল্লাহ আমরা তোমার থেকে সাহায্য চাই আর তোমার মাগফেরাত চাই।

এবং আমারা তোমার প্রশংসা করি আর আমরা কাফের নই, আমরা অনৈতিকতা থেকে নিজেদেরকে মুক্ত রাখি”।

(Rough Translation)

আহলে সুন্নার সুরাহ হাফদঃ

اللهم إياك نعبد ولك نصلي ونسجد وإليك نسعى ونحفد، نرجورحمتك ونخشى عذابك إن عذابك بالكفار

“আল্লাহ আমরা তোমারই এবাদত করি, আর তোমার কাছে প্ররথনা করি তোমাকে সেজদা করি।

আর তোমার দানকে নিয়ে তোমার বাধ্যাতার দিকে ছুটে যাই। আর তোমার রহমতের আশা করি এবং তোমার গজবের ভয় করি।

তোমার আযাব কাফেরদের জন্য”।

এই সূরা দুটি  সাহাবী উবাই ইবনে কাব এর কাছে যে কুরআন ছিল তাতে লেখা ছিল এ বিষয় আহলে সুন্নার তাদের কেতাবে প্রমান করেছেন। নিচে কিতাব গুলির লিস্ট দেওয়া হলঃ

১। তাফসীর দুররুল মান্সুর খণ্ড ৮ পাতা ৬৯৫ (দার আল ফিকর)।

২। আল ইতকান খণ্ড ১ পাতা ১৪১।

৩। তাফসীর রুহুল মা’আনি- আল্লামাহ আলুসি খণ্ড ১ পাতা ২৫।

ইতকানেঃ

هذا تأليف مصحف أبيّ: الحمد ثم البقرة ثم النساء ثم آل عمران ثم الأنعام ثم الأعراف ثم المائدة ثم يونس ثم الأنفال ثم براءة ثم هود ثم مريم ثم الشعراء ثم الحج ثم يوسف ثم الكهف ثم النحل ثم أحزاب ثم بني إسرائيل ثم الزمر أولها حم ثم طه ثم الأنبياء ثم النور ثم المؤمنون ثم سبأ ثم العنكبوت ثم المؤمن ثم الرعد ثم القصص ثم النمل ثم الصافات ثم ص ثم يس ثم الحجر ثم حمعسق ثم الروم ثم الحديد ثم الفتح ثم القتال ثم الظهار ثم تبارك الملك ثم السجدة ثم إنا أرسلنا نوحاً ثم الأحقاف ثم ق ثم الرحمن ثم الواقعة ثم الجن ثم النجم ثم سأل سائل ثم المزمل ثم المدثر ثم اقتربت ثم حم الدخان ثن لقمان ثم الجاثية ثم الطور ثم الذاريات ثم ن ثم الحاقة ثم الحشر ثم الممتحنة ثم المرسلات ثم عم يتساءلون ثم لا أقسم بيوم القيامة ثم إذا الشمس كورت ثم يا أيها النبي إذا طلقتم النساء ثم النازعات ثم التغابن ثم عبس ثم المطففين ثم إذا السماء انشقت ثم والتين والزيتون ثم اقرأ باسم ربك ثم الحجرات ثم المنافقون ثم الجمعة ثم لم تحرم ثم الفجر ثم لا أقسم بهذا البلد ثم والليل ثم إذا السماء انفطرت ثم والشمس وضحاها ثم والسماء والطارق ثم سبح اسم ربك ثم الغاشية ثم الصف ثم التغابن ثم سورة أهل الكتاب وهي لم يكن ثم الضحى ثم ألم نشرح ثم القارعة ثم التكاثر ثم العصر ثم سورة الخلع ثم سورة الحقد ثم

আল ইতকানঃ

 “উবাই ইবনে কাবের মুসহাফ এ সূরা সমূহের যে ক্রম ছিল তা নিম্ন রুপেঃ

[১] আল হামদ [২] আল বাকারাহ [৩] আলে ইমরান [৪] আল আন’আম [৫] আল আরাফ [৬]……………………[৯৪] আত তাকাসসুর [৯৫] আল কদর [৯৬] সূরা আল খুল’আ [৯৭] সূরা হাকদ  [৯৮]…………”।

(স্ক্যানের জন্য ক্লিক করুক)

উপরের উক্তি থেকে একথা পরিষ্কার ভাবে প্রমাণিত হয় যে এদূটি সূরা কুরআনের অংশ হিসাবে লেখা হত। এখন নাসিবিরা সাহাবিদীর উপর তাকফিরি ফতোয়া লাগিয়ে মৃত্যু দন্ড দিক।

সূরা খুলা’ আর সূরা হাফদ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ রাঃ এর কুরানের সংকলনে ছিলঃ

তাফসীরে দুররুল মনসুর খণ্ড ৮ পাতা ৬৯৬

وزعم عبيد أنه بلغه أنهما سورتان من القرآن في مصحف ابن مسعود

“উবাইদ বর্ণনা করেছেন তিনি জানতে পেরেছেন যে এই দুটি কুরআনের সুরা ইবনে মাসুদের কুরআনের সংকলনে ছিল’।

আহলে সুন্নার মহান খলিফা এই দুটি সুরাকে নামাযে পড়তেনঃ

আল ইতকান খন্ড ১ পাতা ১৪৪

 “উমার বিন খাত্তাব কুনুত করেছিলেন রুকুর পরে এবং পড়েছলেনঃ

 ‘বিসমিল্লাহ হির রাহমান নির রাহিম

আল্লাহ আমরা তোমার থেকে সাহায্য চাই আর তোমার মাগফেরাত চাই।

এবং আমারা তোমার প্রশংসা করি আর আমরা কাফের নই, আমরা অনৈতিকতা থেকে নিজেদেরকে মুক্ত রাখি’।

‘বিসমিল্লাহ হির রাহমান নির রাহিম

‘আল্লাহ আমরা তোমারই এবাদত করি, আর তোমার কাছে প্রার্থনা করি তোমাকে সেজদা করি।

আর তোমার দানকে নিয়ে তোমার বাধ্যাতার দিকে ছুটে যাই। আর তোমার রহমতের আশা করি এবং তোমার গজবের ভয় করি।

তোমার আযাব কাফেরদের জন্য’”।

হেব্রুল উম্মাহ সাহাবী ইবনে আব্বাস রাঃ তার কুরআনের সংকলনে সূরা খুলা’ ও সূরা হাকদ লিখতেনঃ

আমরা এ বিষয় নিছের কেতাব সমূহ থেকে উল্লেখ করবঃ

১) তাফসীরে দুররুল মনসুর খণ্ড ৮ পাতা ৬৯৫

২) ইতকান ফি উলুম আল কুরআন খণ্ড ১ পাতা ১৪৪।

আল ইতকানঃ

“ইবনে আব্বাসের কুরআনের সংকলনের, উবাই ও আবু মুসার ক্কেরাত এই রকম ছিলঃ ‘আল্লাহ আমরা তোমার থেকে সাহায্য চাই আর তোমার মাগফেরাত চাই।

এবং আমারা তোমার প্রশংসা করি আর আমরা কাফের নই, আমরা অনৈতিকতা থেকে নিজেদেরকে মুক্ত রাখি’।

এবংঃ-

‘আল্লাহ আমরা তোমারই এবাদত করি, আর তোমার কাছে প্ররথনা করি তোমাকে সেজদা করি।

আর তোমার দানকে নিয়ে তোমার বাধ্যাতার দিকে ছুটে যাই। আর তোমার রহমতের আশা করি এবং তোমার গজবের ভয় করি।

তোমার আযাব কাফেরদের জন্য’”।

আহলে সুন্না প্রমান করেছে মহান তাবেই উমায়া বিন আব্দুল্লাহ ( মৃঃ৮৭ হি) দূটো সুরাই নামাযে পড়তেনঃ

আল ইতকান খণ্ড ১ পাতা ১৪৪

وَأَخْرَجَ الطَّبَرَانِيُّ بِسَنَدٍ صَحِيحٍ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ قَالَ: أَمَّنَا أُمِّيَّةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَالِدِ بْنِ أُسَيْدٍ بِخُرَاسَانَ فَقَرَأَ بِهَاتَيْنِ السُّورَتَيْنِ: إِنَّا نَسْتَعِينُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ

“তাবারানি সহিহ সনদ সহ ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন ‘খুরাসানে উমায়া বিন আব্দুল্লাহ বিন খালিদ বিন উসাইদ নামাযে আমাদের ইমামতি করালেন আর এই দুটি সূরা ( সুরাহ হাফদ/হাকদ ও সূরা খুলা’) পড়লেনঃইন্না নাস্তাইনুকা ও্যা নাস্তাগফিরুকা’”।

উপরের আলোচনা থেকে দেখা গেল যে আহলে সুন্নার খালিফা, সাহাবী ও তাবেইরা এই সূরাদুটিকে তাঁদের কুরআনের সংকলনে লিখত এবং পড়ত।

এখন নাসিবিদের কাছে প্রশ্নঃ

  • কেন এই তিন জন মহান সাহাবিদের কুরআনের সংকলনে এই সূরা দুটি লিখতেন যদি নাসিবিরা মনে করে যে এই সূরা দুটি তেমন কোন গুরুত্বপূর্ণ নয়?
  • উসমান কেন তার সংকলনে এই সূরা দুটি লেখেনি? যখন আহলে সুন্নার হাদিস অনুজাই পাক রাসুল সাঃ নির্দেশ দিয়েছেন যে ইবনে মাসুদ আর উবাই ইবনে কাবের থকে কুরআন শিখতে?
  • ঐ সব সাহাবা, খলিফা ও তাবেইদের উপর নাসিবিরা কবে কাফের বলে ফতোয়া দেবে? এবং কায়েলে তাহরিফ বলে ঘোষণা দেবে?

(এক্ষেত্রে তারা যদি সরাসরি নাও দেয় নাসিবিদের ফর্মুলা অনুজাই এই এই খলিফা ও সাহাবিরা কাফের, ঠিক যে ভাবে শিয়া কুতুবে হাদিসে সামান্য কিছু বর্ণনা থাকার কারনে শিয়াদের কাফের বলা হয়)

১১) সুন্নিদের অভিযোগ যে ইমাম আলী রাঃ এর নাম কুরআনের সূরা মায়েদাতে ছিল, আর সাহাবী ইবনে মাসুদ রাঃ সেটার সাক্ষ্যি।

কুরআনে এখন আমরা পড়িঃ ৫:৬৭

يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ 

“হে রসূল, পৌছে দিন আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে। আর যদি আপনি এরূপ না করেন, তবে আপনি তাঁর পয়গাম কিছুই পৌছালেন না। আল্লাহ আপনাকে মানুষের কাছ থেকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।

এখন আমরা আহলে সুন্নার নিচের কিতাব সমূহ থেকে প্রমান দেবঃ-

১। তাফসীর দুররুল মনসুর খণ্ড ২ পাতা ২৯৭, সূরা মায়েদা আয়াত ৬৭।

২। তাফসীর রুহুল মা’আনি খণ্ড ৯ পাতা ১৯৩।

৩। তাফসীরে ফাতহুল কাকীদ খণ্ড ২ পাতা ৫৭ সূরা মায়েদা আয়াত ৬৭।

৪। তাফসীরে মাযহারি খণ্ড ৩ পাতা ৩৫৩।

তাফসীরে রুহুল মা’আনি ও তাফসীরে দুররুল মনসুর থেকেঃ

وأخرج ابن مردويه عن ابن مسعود قال : كنا نقرأ على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم

يا أيها الرسول بلغ ما أنزل إليك من ربك  أن علياً مولى المؤمنين  وإن لم تفعل فما بلغت رسالته والله يعصمك من الناس .

“ ইবনে মারদাইয়া তার সনদে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ থেকে বর্ণনা করেছেন ‘রসুল সাঃ এর জিব্দদশ্যায় আমরা এই আয়াত এই রকম পড়তামঃ ‘হে রসুল পৌছে দাও যেটা তোমার উপর তোমার রবের পক্ষ্য থেকে নাজিল হয়েছে ‘যে আলী মুমিনদের মাউলা’ আর যদি তুমি তা না করো……………”।

সুতারং আহলে সুন্নার নিজেস্ব কিতাব সমূহের দ্বারা একথা প্রমাণিত যে কুরআনে ইমাম আলী আঃ এর নাম ছিল। এখম নাসিবিদের কাছে প্রশ্ন কি কারনে উসমান এই নাম বাদ দিয়েছিল?নাসিবের কাছে কি প্রমান আছে এই হাদিস অস্বীকার করার? আর যদি না থাকে তাবে সুন্নি আলেমরা কি প্রয়োজনে এই হাদিস গুলিকে ইমাম আলী আঃ এর ফজিলাত এর অধ্যায় উল্লেখ করেছে?

আরও একটা বিষয় কি শিয়া বইয়ে এই একই হাদিস থাকার কারনে শিয়াদেরকে কাফির ও কুরআনে বিকৃতি মানে বলে অজ্ঞ সাধারণ মুসলিমদের কাছে প্রোপাগ্নডা চালানো হয়। এখন সেই সব নাসিবি ও তস্য নাসবিরা কি করবে? এক্ষেত্রে তারা একটা কাজ করতে পারে নিজেদেরকে কাফির বলে একে অপরকে হত্যা করে পাপের প্রাশ্চিত্ত করতে পারে।

১২) আহলে সুন্নার মতে সূরা আহযাবে ইমাম আলী আঃ এর নাম লেখা ছিল, ইবনে মাসুদ রাঃ এর সাক্ষ্য।

৩৩:২৫ তে আমরা এখন পড়িঃ

وَرَدَّ اللَّهُ الَّذِينَ كَفَرُوا بِغَيْظِهِمْ لَمْ يَنَالُوا خَيْرًا وَكَفَى اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ الْقِتَالَ وَكَانَ اللَّهُ قَوِيًّا عَزِيزًا 

“আল্লাহ কাফেরদেরকে ক্রুদ্ধাবস্থায় ফিরিয়ে দিলেন। তারা কোন কল্যাণ পায়নি। যুদ্ধ করার জন্য আল্লাহ মুমিনদের জন্যে যথেষ্ট হয়ে গেছেন। আল্লাহ শক্তিধর, পরাক্রমশালী”।

কিন্তু আহলে সুন্নাহের মতে এখানে আলি’র নাম ছিল কিন্তু উসমানের মুসহাফে এটা পাওয়া যায় না।  আমরা আহলে সুন্নার তাফসীর ও কেতাব থেকে প্রমান দেবঃ

১। তাফসীর দুররুল মনসুর খণ্ড ১২ পাতা ১৪ সূরা আহযাব আয়াত ২৫।

২। তাফসীর রুহুল মা’আনি সূরা আহযাব আয়াত ২৫।

৩। মা’আরিজ আল নাবুওাত –মইন কাসিফি, খণ্ড ১ পাতা ১৬৩।

আল্লামাহ আলুসি তার তাফসীরে মা’আনিতেঃ-

وأخرج ابن أبي حاتم . وابن مردويه . وابن عساكر عن ابن مسعود رضي الله تعالى عنه أنه كان يقرأ هذا الحرف

 { وَكَفَى الله المؤمنين القتال  بَعْلِى }

“………ইবনে মারদাইয়া ইবনে মাসুদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে ইবনে মাসুদ বলেছেন ‘আমরা এই আয়াতটা এই ভাবে পড়তাম ‘…এবং আল্লাহই যথেষ্ট মুমিনদের জন্য যুদ্ধে আলী এর মাধ্যমে”।

আল্লামাহ জালালুদ্দিন সুয়ুতি তার তাফসীরেঃ (স্ক্যনের জন্য ক্লিক করুন)

وأخرج ابن أبي حاتم وابن مردويه وابن عساكر عن ابن مسعود رضي الله عنه أنه كان يقرأ هذا الحرف

 وكفى الله المؤمنين القتال  بعلي بن أبي طالب

“ইবনে আবি হাতিম, ইবনে মারদাইয়া এবং ইবনে আসাকির আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে ‘আমরা এই আয়াতটা নিন্মক্ত ভাবে পড়তাম ‘…এবং আল্লাহই যথেষ্ট মুমিনদের জন্য যুদ্ধে আলী ইবনে আবি তালিব এর মাধ্যমে”।

প্রিয় পাঠক নাসিবি উলেমায় সু গন শিয়াদের বিরুদ্ধে কুফরির ফতোয়া জারি করে কারণ কোন কোন শিয়া আলেম তাঁদের বইয়ে বর্ণনা করেছেন যাতে উপরুক্ত কথাই বলা হয়েছে অর্থাৎ ইমাম আলী আঃ এর নাম কুরআনে ছিল এবং কিছু সাহাবী পাঠ করত বলে বর্ণনা এসেছে। এখন এই নাসিবিরা সাহাবী ইবনে মাসুদ সহ আহে সুন্নার যে সমস্ত আলেম গণ এই হাদিস বর্ণনা করেছেন তাদেরকে কাফের বলে ফতোয়া দিক।

আর যদি না দিতে পারে শিয়া আহলে বাইত আঃ  অনুসারিদের কাফের বলার কারনে নিজেরাই কাফেরে পরিণত হয়ে গিয়েছে।

একথা এখানে উল্লেখ করা দরকার যে আমার উসমানের মুসহাফে এই গুলি পাইনা। আমারা জানি উসমান কুরআন পুড়িয়ে দিয়েছিল আর আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ রাঃ এর থেকে তার মুসহাফ জোর করে কেড়ে নিয়ে জালিয়ে দিয়েছিল। ইবনে মাসুদ কিছুতেই তার কুরআনের সংকলন দিতে চাইছিল না।

১৩) আয়শার ছাগল কুরআন থেকে বয়েস্কদের বুকের দুধ খাওয়ার আয়াত খেয়ে নিয়েছে তাই আর সেই আয়াত কুরআনে পাওয়া যান না।

এবিষয় আমাদের কাছে আহলে সুন্নার নিম্নক্ত কেতাব সমূহের প্রমান আছেঃ

১। সাহিহ মুসলিম কিতাব নং ৮ হাদিস নং ৩৪২১ (ইংরাজি অনুবাদ)

২। সুনান ইবনে মাজা কিতাব আল রাদ্বা’আ কবীর।

৩। সুনান দারকুতনি, কিতাব আল রাগা’আত।

৪। তফাসীর রুহুল মা’আনি খণ্ড ৪ পাতা ২৫৪।

৫। সুনানে আবু দাউদ বাংলা ইঃ ফাঃ হাদিস নং ২০৫৮

  ক) সাহিহ মুসলিমেঃ-

 حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ: ” كَانَ فِيمَا أُنْزِلَ مِنَ الْقُرْآنِ: عَشْرُ رَضَعَاتٍ مَعْلُومَاتٍ يُحَرِّمْنَ، ثُمَّ نُسِخْنَ، بِخَمْسٍ مَعْلُومَاتٍ، فَتُوُفِّيَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهُنَّ فِيمَا يُقْرَأُ مِنَ الْقُرْآنِ 

“আয়শা বলেছেন যে ‘এটা কুরআনে নাজিল হয়েছিল দশবার দুধপানে বিবাহ হারাম হয়ে যায়, অতপর সেটা মনসুখ হয়ে যায় পাঁচবারের (দুধপান করানোর) মাধ্যমে।অতপর আল্লাহের রসুলের ওফাত হয়ে যায় এবং সেটা তাতে ছিল এবং পাঠ করা হত কুরআনের অংশ হিসাবে”।

খ) সুনানে আবু দাউদ (বাংলা অনলাইন লিংক)

পরিচ্ছদঃ ১০৫. পাঁচবারের কম দুধপানে হুরমাত প্রতিষ্ঠিত হবে কি?

২০৫৮. আবদুল্লাহ্  ইবন  মাসলামা (রহঃ) ………. আয়েশা  (রাঃ)  হতে বর্ণিত।  তিনি বলেন,  আল্লাহ্  তা‘আলা কুরআনে যা অবতীর্ণ  করেছেন,  তাতে  দশবার  দুগ্ধ  পান  করা হলে  হুরমাত (বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম) প্রতিষ্ঠিত  হয়।  অতঃপর  পাঁচবার  দুধ  পান  করানো  হুরমাতের (বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম) জন্য  নির্ধারিত  হয়  এবং  পূর্বোক্ত  নির্দেশ  মানসুখ  (রহিত)  হয়।  অতঃপর  নবী  করীম  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  ইন্তিকাল  করেন এবং  এর  শুধু  কিরআত  (পঠন)  অবশিষ্ট  থাকে।

আমরা দেখি যে কুরানে রজমের আয়াত ও নেই আর দশবার বা পাঁচবার স্তন পান করার আয়াতও নেই। কেন নেই? উত্তর দিয়েছেন আয়শা, যে এই আয়াত একটা কাগজে লেখা ছিল আর সেটা তার বালিশের নিচে ছিল কিন্তু ছাগল এসে সেটা খেয়ে ফেলে, সুতরাং এটা আর পাওয়া যায় না।

গ) সুনান ইবনে মাজাঃ (স্ক্যানের জন্য ক্লিক করুন)

عَائِشَةَ قَالَتْ

لَقَدْ نَزَلَتْ آيَةُ الرَّجْمِ وَرَضَاعَةُ الْكَبِيرِ عَشْرًا وَلَقَدْ كَانَ فِي صَحِيفَةٍ تَحْتَ سَرِيرِي فَلَمَّا مَاتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَتَشَاغَلْنَا بِمَوْتِهِ دَخَلَ دَاجِنٌ فَأَكَلَهَا

“আয়শা বর্ণনা করেছেন যে ‘যখন রজম ও দশবার বয়েস্কদের দুধপানের আয়াত নাজিল হয়েছিল সেগুলি একটা কাগজে লেখা ছিল আর সেগুলি আমার তোশকের নিচে রাখা ছিল,যখন রসুল সাঃ মারা গেলেন আর আমরা তাই নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম ছাগল ঢুকে সেটা (কগজটা) খেয়ে নেয়”। (আলবানী বলেছেন হাসান)

( এই হাদিস্টি মুসনাদে আহমাদ বিন হাম্বল সহ প্রচুর গ্রন্থে আছে যেমন ইবনে হযম, ইবনে হজর আস্কালানি প্রভুত মুহাদ্দিস উল্লেখ করেছেন)

দেখুন আয়শার কেমন কুরআনে বিকৃতি তথা পরিবর্তন হয়েছে বলে আকীদা রাখত। আর কিছুদিন আগে পাকিস্তানে একজন চিকিৎসক একজনের ভিজিটিং কার্ড ফেলে দিলে সারা পাকিস্তানে কুফরি আর মৃত্যদন্ডের ফতোয়ার ড্রাম স্যাক্সসোফোন নিয়ে বাজনা বাজাতে থাকে, কেননা তাতে একজনের নাম ছিল যার শুরু মুহাম্মাদ দিয়ে। এখন আল্লাহের আয়াতকে ছাগলে খাওয়ানোর অপরাধে আয়শার প্রতি নাসিবিরা কি ফতোয়া দেবে?

যাইহোক আসল বিষয় ফতোয়ার নয়।বিষয়টা আয়শা যে কুরআন বিকৃতিতে বিশ্বাস করত সেটা প্রমান পাওয়া যায়। সুতরাং আর বয়েস্ক নাসেবিদের রাস্তা ঘাটে মহিলাদের স্তন্যপান করা থেকে কেহ মানা করতে পারবে না, কারন আয়শার কুরান দিয়ে এটা প্রমানিত।

নাসিবিরা এখানে মনসুখ মনসুখ করে চোখ বন্ধ করে পালাতে পারবে না কারণ এখানে আয়শা নিজেই বলছে যে আয়াতটা কুরআনে ছিল এবং নবী সাঃ মারা যাওয়ার পরেও পাঠ করা হত, আর রজম ও বয়েস্কদের দুধপান কারানোর আয়াততো ছাগলে খেয়ে নেওয়ার ফলে এখনকার কুরআনে পাওয়া যায় না!!!!!

১৪) আহলে সুন্নার মহা মান্য খলিফা উমার বিন খাত্তাব বিশ্বাস করত যে কুরআন থেকে রজমের আয়াত বাদ গিয়েছে, উমারের তাকিয়ার কারনে তিনি সেটা কুরআনে গেঁড়ে দিতে পারেন নি।

এখানে পরিষ্কার ভাবে বোঝা যাবে যে উমারের রজমের আয়াত নষ্ট/হারিয়ে গিয়েছে কুরআন থেকে নবী সাঃ এর ইন্তেকালের পরে এবং উমার নিজে সেই আয়াতটা নিজের হাতে কুরআনে ঢুকিয়ে দিতে চাইছিল কিন্তু জনগণের ভয়ে করতে পারেন নি কিন্তু বলে গিয়েছেন।

এবিষয় আমরা আহলে সুন্নার নিচে উল্লেখিত কেতাব সমূহের আশ্রয় নেব।

১। সাহিহ আল বুখারি খণ্ড ৮ ও খন্ড ৯ ( বাংলা খণ্ড ১০)

২। সাহিহ মুসলিম খণ্ড ২ পাতা ৪২

৩। সুনান ইবনে মাজা কিতাব আল হুদুদ।

৪। সুনান আবু দাউদ কিতাব আল হুদুদ।

৫। মুসনাদের আহমাদ বিন হাম্বল, খণ্ড ১ পাতা ২৭৪ ২৭৩।

৬। তাফসীরে ইবনে কাসির, খণ্ড ৩ পাতা ২৬১ সূরা নুর।

৭। তাফসীর দুররুল মনসুর খণ্ড ৫ পাতা ৮৮০।

৮।আল ইতকান ফি উলুম আল কুরআন খণ্ড ২ পাতা ৩২।

৯। আল মুহাযারাত খণ্ড ৪ পাতা ৪২৩

১০। সুনান আল কুবরা, ইমাম বাইহাকি খণ্ড ৮ পাতা ২১১।

১১। মুসনাদে আল শাফেই পাতা ১৬৪।

১২। আল মুসান্নাফ – ইবনে আবি শায়বা খণ্ড ৬ পাতা ৫৫৩।

১৩। সুনান আল কুবরা ইমাম নাসাই খণ্ড ৪ পাতা ২৭৩।

১৪। মারিফাত আল সুন্না ও্যাল আশার – ইমাম বাইহাকি  খন ৬ পাতা ৩২৩।

১৫। তারিখ বাগদাদ খণ্ড ৩ পাতা ১৯০।

 ক) সাহিহ আল বুখারি (বাংলা স্ক্যানের জন্য ক্লিক করুন)

قَالَ عُمَرُ

لَقَدْ خَشِيتُ أَنْ يَطُولَ بِالنَّاسِ زَمَانٌ حَتَّى يَقُولَ قَائِلٌ لَا نَجِدُ الرَّجْمَ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَيَضِلُّوا بِتَرْكِ فَرِيضَةٍ أَنْزَلَهَا اللَّهُ أَلَا وَإِنَّ الرَّجْمَ حَقٌّ عَلَى مَنْ زَنَى وَقَدْ أَحْصَنَ إِذَا قَامَتْ الْبَيِّنَةُ أَوْ كَانَ الْحَبَلُ أَوْ الِاعْتِرَافُ قَالَ سُفْيَانُ كَذَا حَفِظْتُ أَلَا وَقَدْ رَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرَجَمْنَا بَعْدَهُ

“উমর (রাঃ) বলেছেনঃ আমার আশঙ্কা হচ্ছে যে, দীর্ঘ যুগ অতিক্রান্ত হবার পর কোনব্যাক্তি এ কথা বলে ফেলতে পারে যে, আমরা আল্লাহর কিতাবে রজমের বিধান পাচ্ছিনা। ফলে এমন একটি ফরয পরিত্যাগ করার দরুন তারা পথভ্রষ্ট হবে যা আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন। সাবধান! যখন প্রমাণ পাওয়া যাবে অথবা গর্ভ বা স্বীকারোক্তি বিদ্যমান থাকবে তখন ব্যভিচারীর জন্য রজমের বিধান নিঃসন্দেহ অবধারিত। সুফিয়ান (রহঃ) বলেনঃ অনুরুপই আমি স্বরণ রেখেছি। সাবধান! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজম করেছেন, আর আমরাও তারপরে রজম করেছি”।( বাংলা ইঃ ফা এর বুখারির হাদিস নং ৬৩৬৯)

খ) বুখারি থেকে আরোঃ ( হাদিসটা বড় প্রয়োজনীয় অংশ দেওয়া হল) উমারের খেলাফতে উনি এটি খুতবাতে বলেছিলেনঃ-

“……………………………উমর (রাঃ) মিম্বরের উপরে বসলেন। যখন মুয়াযযিনগণ আযান থেকে ফারিগ হয়ে গেলেন তখন তিনি দাড়ালেন। আর আল্লাহর যথোপযূক্ত প্রশংসা করলেন। তারপর বললেনঃ আম্মা বাদ! আজ আমি তোমাদেরকে এমন কথা বলতে চাই, যা আমারই বলা কর্তব্য। ………………………… নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহাম্মাদ -কে সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন। অহর তার উপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। এবং আল্লাহর অবতীর্ণ বিযয়াদির একটি হচ্ছে রজমের আয়াত। আমরা সে আয়াত পড়েছি, অনুধাবন করেছি, আয়োত্ত করেছি। আল্লাহর রাসুল রজম করেছেন। আমরাও তার পরে রজম করেছি। আমি আশংকা করছি যে, দীর্ঘকাল অতিবাহিত – হওয়ার পর কোন ব্যাক্তি এ কথা বলে ফেলতে পারে যে, আল্লাহর কসম! আমরা আল্লাহর কিতাবে রজমের আয়াত পাচ্ছি না। ফলে তারা এমন একটি ফরয বর্জনের দরুন পথভ্রষ্ট হবে, যা আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ঐ ব্যাক্তির উপর রজম অবধারিত, যে বিবাহ বন্ধলে আবদ্ধ হবারপর যিনা করবে, চাই সে পূরুষ হোক বা নারী। যখন সূষ্পষ্ট প্রমান পাওয়া যাবে অথবা গর্ভ বা স্বীকারোক্তি বিদ্যমান থাকবে। অনুরুপভাবে আমরা আল্লাহর কিতাবে এও পড়তাম যে, তোমরা তোমাদের বাপ-দাদা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না। এটি তোমাদের জন্য কুফরী যে, তোমরা স্বীয় বাপ-দাদা থেকে বিমুখ হবে। অথবা বলেছেনঃ এটি তোমাদের জন্য কুফরী, যে স্বীয় বাবা-দাদা থেকে বিমূখ হবে জেনে রেখো!……………………………”। (বাংলা ইঃফা এর বুখারির হাদিস নং ৬৩৭০) (বাংলা স্ক্যনের জন্য ক্লিক করুন)

গ) বুখারি আরও একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন অনুচ্ছেদে যেখান উমার নিজের হাতে রজমের আয়াত কুরআনে ঢুকিয়ে দেওয়ার জন্য মনবাঞ্ছা প্রকাশ করেছেন কেননা তখন আয়াতটা কুরআনে পাওয়া জাচ্ছিল না।

সাহিহ আল বুখারি থেকেঃ

بَاب الشَّهَادَةِ تَكُونُ عِنْدَ الْحَاكِمِ فِي وِلَايَتِهِ الْقَضَاءَ أَوْ قَبْلَ ذَلِكَ لِلْخَصْمِ وَقَالَ شُرَيْحٌ الْقَاضِي وَسَأَلَهُ إِنْسَانٌ الشَّهَادَةَ فَقَالَ ائْتِ الْأَمِيرَ حَتَّى أَشْهَدَ لَكَ وَقَالَ عِكْرِمَةُ قَالَ عُمَرُ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ لَوْ رَأَيْتَ رَجُلًا عَلَى حَدٍّ زِنًا أَوْ سَرِقَةٍ وَأَنْتَ أَمِيرٌ فَقَالَ شَهَادَتُكَ شَهَادَةُ رَجُلٍ مِنْ الْمُسْلِمِينَ قَالَ صَدَقْتَ قَالَ عُمَرُ لَوْلَا أَنْ يَقُولَ النَّاسُ زَادَ عُمَرُ فِي كِتَابِ اللَّهِ لَكَتَبْتُ آيَةَ الرَّجْمِ بِيَدِي وَأَقَرَّ مَاعِزٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالزِّنَا أَرْبَعًا فَأَمَرَ بِرَجْمِهِ وَلَمْ يُذْكَرْ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَشْهَدَ مَنْ حَضَرَهُ وَقَالَ حَمَّادٌ إِذَا أَقَرَّ مَرَّةً عِنْدَ الْحَاكِمِ رُجِمَ وَقَالَ الْحَكَمُ أَرْبَعًا

ইঃ ফাঃ বুখারি অনুচ্ছেদ নং ৩০২৫ (বাংলা স্ক্যনের জন্য ক্লিক করুন)

“বিচারক নিজে বিচারের সাক্ষ্যি হলে, চাই সে বিচারকের পদে সমাসীন থাকা কালে হোক কিংবা তার পূর্বে হোক………………………………। উমার রাঃ বলেন, যদি মানুষ এরূপ বলবে বলে আমি আশঙ্কা না করতাম যে, উমার আল্লাহের কিতাবে নিজের পক্ষ থেকে বৃদ্ধি করেছে। তাহলে আমি নিজের হাতে রজমের আয়াত লিখে দিতাম। মায়েয নবী সাঃ এর কাছে চার বার যিনার কথা স্বীকার করেছিল;……………”।

সুতারং বোঝা গেল উমার কি পরিমাণ কুরআন বিকৃতিকে বিশ্বাস করত! যে তিনি নিজে হাতে আয়াতটা আবার কুরআনে লিখে দিতে চাইছিল কারণ অনেক দিন অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরে রজমের আয়াতটা কুরআনে পাওয়া জাচ্ছিল না!

( নোটঃ যদিও এখনো পাওয়া যায় না)

এখনেও নাসিবিরা মনসুখের তবলা বাজাতে পারবে না। কারণ উমার এটা মনসুখ হয়ে যাওয়ার কথা বলছে না বরং  নিজে বলছে যে কুরানে ছিল কিন্তু এখন (মানে উমারের খেলাফাত কালে অন্তত) পাওয়া যাচ্ছে না। আর নিজে হাতে কুরআনে এটা ঢুকিয়ে দিতে চাইছে! আর আয়াত মনসুখ হলে

এক্ষেত্রে উমারের আকপট স্বীকার যে আয়াতটা রসুলের সাঃ মৃত্যুর সাথে হারিয়ে গিয়েছে!

তাফসীর দুররুল মনসুর, আহলে সুন্নাহের মুফাসসির মুহাদ্দিস মুয়াররিখ ও মুজাদ্দিদ আল্লামাহ সুয়ুতি,  সূরা আহযাবের মুকাদ্দামাতেঃ-

“ আব্দুর রাজ্জাক তার মুসান্নাফে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন উমার বিন খাত্তাব এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দিলেন যে লোকদের কে নামাজের জন্য জড় হতে, অতপর তিনি মিম্বারে উঠএ আল্লাহের প্রশংসা করলেন এবং বললেন  ‘হে জনগণ রজমের আয়াত সম্পর্কে ভীত হয়োনা কেননা এটা একটা আয়াত সেটা আল্লাহের কিতাবে নাজিল হয়েছিল এবং আমরা সেটা পড়েছি, কিন্তু এটা মুহাম্মাদের (মৃত্যুর) সাথে বেশীর ভাগ কুরআন হারিয়ে [যাহাব] যাওয়ার সাথে হারিয়ে গিয়েছে, এবং এর প্রমান যে রসুল সাঃ রজম করেছেন আবু বকর রজম করেছেন এবং আমিও রজম করেছি আর পরে কোন কোম রজমকে অস্বীকার করতে পারে”।

উপরে আমরা এটা জেনেছি যে আয়শাও উমারকে সাপোর্ট করে বলেছেন রজমের আয়াত ছাগল খেয়ে ফেলেছে, আয়াতটা হারিয়া যাওয়ার কারণ বলেছেন।

সুনান ইবনে মাজাঃ

عَائِشَةَ قَالَتْ

لَقَدْ نَزَلَتْ آيَةُ الرَّجْمِ وَرَضَاعَةُ الْكَبِيرِ عَشْرًا وَلَقَدْ كَانَ فِي صَحِيفَةٍ تَحْتَ سَرِيرِي فَلَمَّا مَاتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَتَشَاغَلْنَا بِمَوْتِهِ دَخَلَ دَاجِنٌ فَأَكَلَهَا

“আয়শা বর্ণনা করেছেন যে ‘যখন রজম ও দশবার বয়েস্কদের দুধপানের আয়াত নাজিল হয়েছিল সেগুলি একটা কাগজে লেখা ছিল আর সেগুলি আমার তোশকের নিচে রাখা ছিল,যখন রসুল সাঃ মারা গেলেন আর আমরা তাই নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম ছাগল ঢুকে সেটা (কগজটা) খেয়ে নেয়”। (আলবানী বলেছেন হাসান)

সুতরাং উমার যে কুরানে পরিবর্তন হয়েছে বিশ্বাস করত এবং আহলে সুন্নাহের ‘শিয়া বিরোধী’ ফতোয়া অনুযায়ী উমার কাফের হয়েগিয়েছে।

১৫) ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম হাদিসে কুরান অসম্পুর্ন সেটার ইংগিত দেওয়া হয়েছে।

  এই বিষয়ে আমারা আহলে সুন্নাহের নিম্নোক্ত কেতাব সমূহের সাহায্য নেব।

      ১। সাহিহ আল বুখারি, কেতাব আল তাফসীর।

     ২। ফাতহুল বারী সারাহ সাহিহ আল বুখারি খন্ড ৮ পাতা ৫০৬, হাদিস নং ৩৭৭১।

     ৩। সাহিহ মুসলিম কিতাব ১, হাদিস নং ০৫০৮ (ইং)

     ৪। সাহিহ ইবনে হেব্বান খন্ড ১৪ পাতা ৪৮৭

     ৫। সুনান আল কুবরা বায়হাকী খন্ড ৯ পাতা ৭।

সহিহ আল বুখারি কেতাবুর তাফসীর (বাংলা ইঃফা স্ক্যান)

لَمَّا نَزَلَتْ وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ  وَرَهْطَكَ مِنْهُمْ الْمُخْلَصِينَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى صَعِدَ الصَّفَا فَهَتَفَ يَا صَبَاحَاهْ فَقَالُوا مَنْ هَذَا فَاجْتَمَعُوا إِلَيْهِ فَقَالَ أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَخْبَرْتُكُمْ أَنَّ خَيْلًا تَخْرُجُ مِنْ سَفْحِ هَذَا الْجَبَلِ أَكُنْتُمْ مُصَدِّقِيَّ قَالُوا مَا جَرَّبْنَا عَلَيْكَ كَذِبًا قَالَ فَإِنِّي نَذِيرٌ لَكُمْ بَيْنَ يَدَيْ عَذَابٍ شَدِيدٍ قَالَ أَبُو لَهَبٍ تَبًّا لَكَ مَا جَمَعْتَنَا إِلَّا لِهَذَا ثُمَّ قَامَ فَنَزَلَتْ تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ

وَقَدْ تَبَّ هَكَذَا قَرَأَهَا الْأَعْمَشُ يَوْمَئِذ

“ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। যখন এই আয়াত নাজিল হলে “তুমি সতর্ক করে দাও তোমার কাছে আত্মীয়-স্বজনকে এবং তাদের মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া (মুখলস) একদলকে”, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে সাফা পাহাড়ে গিয়ে উঠলেন এবং (সকাল বেলার বিপদ সাবধান) বলে উচ্চস্বরে ডাক দিলেন। আওয়াজ শুনে তারা বলল, এ কে? তারপর সবাই তাঁর কাছে গিয়ে সমবেত হল। তিনি বললেন, আমি যদি তোমাদেরকে বলি, আশি অশ্বারোহী সৈন্যবাহিনী ও পাহাড়ের পেছনে তোমাদের উপর হামলা করার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে, তাহলে কি তোমরা আমাকে বিশ্বাস করবে? সকলেই বলল, আপনার মিথ্যা বলার ব্যাপারে আমাদের অভিজ্ঞতা নেই। তখন তিনি বললেন, আমি তোমাদের আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করে দিচ্ছি। এ কথা শুনে আবূ লাহাব বলল, তোমার ধ্বংস হোক। তুমি কি এ জন্যই আমাদেরকে একত্র করেছ। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন। তারপর নাযিল হলঃ تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ “ধ্বংস হোক আবূ লাহাবের দু’গাত এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও”। আমাশ (রহঃ) আয়াতটিতে تَبَّ  শব্দের পূর্বে  قَدْ সংযোগ করে  وَقَدْ تَبَّ পড়েছেন”।

ইংরাজিঃ খন্ড ৬ বুক ৬০ হাদিস নং ৪৯৫ (অনলাইন লিংক) (ইংরাজি আরবী স্ক্যান)

Narrated Ibn Abbas:
When the Verse:–’And warn your tribe of near-kindred, and thy group of selected people among them’ was revealed Allah’s Apostle went out, and when he had ascended As-Safa mountain, he shouted, “O Sabahah!” The people said, “Who is that?” “Then they gathered around him, whereupon he said, “Do you see? If I inform you that cavalrymen are proceeding up the side of this mountain, will you believe me?” They said, “We have never heard you telling a lie.” Then he said, “I am a plain warner to you of a coming severe punishment.” Abu Lahab said, “May you perish! You gathered us only for this reason? ” Then Abu Lahab went away. So the “Surat:–ul–LAHAB” ‘Perish the hands of Abu Lahab!’ (111.1) was revealed

এখানে একটা বিষয় লক্ষ্য করার এই হাদিসে ইবনে আব্বাস বলেছেন  “যখন এটা নাজিল হয় ‘তুমি সতর্ক করে দাও তোমার কাছে আত্মীয়-স্বজনকে এবং তাদের মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া (মুখলস) একদলকে’”

কিন্তু ইংরাজি বা বাংলা অনুবাদে লাল রঙ এর আন্ডার লাইন করা অংশটা অনুবাদ করেনি! অর্থাৎ ইবনে আব্বাস বললেনঃوَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ  وَرَهْطَكَ مِنْهُمْ الْمُخْلَصِينَ

  এই আয়াত নাজিল হয়েছে  অনুবাদের সময় وَرَهْطَكَ مِنْهُمْ الْمُخْلَصِينَ  এই অংশটা অনুবাদ করেনি!! কেননা তাতে বুখারির কুরানে তাফরীফ মানত সেটা প্রমান হয়ে যাবে। এবং তাদের কুরানে বিকৃতি মানার আকীদা ফাস হয়ে যাবে।অনুবাদকরা নিশ্চয়ই এখানে তাকীয়ার আশ্রয় নিয়েছে!এবং তাদের অনুবাদ না করাই প্রমান করে যে ডাল মে কুচ কালা হ্যায়। ইংরাজির অনলাইনে এবং সৌদিতে শিক্ষক মুহাসীন খানের অনুবাদে এটা অনুবাদ করা হয় নি।

আয়াতের এই অংশ “তুমি সতর্ক করে দাও তোমার কাছে আত্মীয়-স্বজনকে” এটা কুরানে পাওয়া যায় (২৬:২১৪) কিন্তু আহলে সুন্নাহের প্রতি চ্যলেঞ্জ যে বুখারী যেটা লিখেছে নাজিল হয়েছে “এবং তাদের মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া (মুখলস) একদলকে”  এই আয়াতটা কুরানে দেখাক।

সন্ত্রাসী নাসেবীদের শীয়া বিরোধী তাকফীরী প্রপাগন্ডাকারীদের যদি এই আয়াত কুরান থেকে না দেখাতে পারে তবে তারা ইবনে আব্বাস, ইমাম বুখারি এবং ইমাম মুসলিম এর উপর কুফরের ফতোয়া লাগাতে হবে কুরানে বিকৃতি মানার জন্য। ঠিক যেমন ভাবে তারা শিয়া কুতুবে হাদিসে কিছু বর্ননা থাকার জন্য শীয়াদের উপর কুফরের ফতোয়া লাগায়।

আরো একটা বিষয় এখানে নাসেবীদের ‘মনসুখ’ মনসুখ গান চলবে না, কারণ কোন হাদিসে ইবনে আব্বাসের  থেকে বর্নিত হয়েছে যে এই আয়াত মনসুখ হয়েছে? কেননা মনসুখে যে নিয়ম আল্লাহ বর্ননা করেছেন সেটার শর্ত পুরন হয় না, কোন মুহাদ্দিস বা মুফাসসিরের কথায় কোন আয়াত মনসুখ হয় না। তাছাড়া এই ধরনের বাক্য মনসুখ হতে পারে না। কোন ঐতিহাসিক ঘটনা মনসুখ হতে পারে না। অর্থাৎ আল্লাহ প্রথমে বললেন যে তাদের মধ্যে থেকে কিছু বেছে নেওয়া লোক নিতে তার পরে সেটাকে মানা করেদিলেন! অর্থাৎ আল্লাহ প্রথমে ভুল বলেছিলেন? পরে ভুল শুধরে নিলেন? আয়াতের এই অংশটা মনসুখ হয়ে গিয়েছে বলা বালখিল্য এবং মতিভ্রম ছাড়া কিছুই নয়।

১৬) নাসেবিদের বিশ্বাসকে বুখারি ও মুসলিম অনুমোদন দিয়েছেন যে কুরানের কিছু শব্দ রাসুল সাঃ পড়তেন সাহাবারা পড়তেন যেটা কুরান থেকে বাদ দেওয়ায় হয়েছে।

সুরা কাহাফের ৭৯ ও ৮০ নং আয়াত এখন আমরা এইরুপ পড়িঃ

৭৯)   أَمَّا السَّفِينَةُ فَكَانَتْ لِمَسَاكِينَ يَعْمَلُونَ فِي الْبَحْرِ فَأَرَدْتُ أَنْ أَعِيبَهَا وَكَانَ وَرَاءَهُمْ مَلِكٌ يَأْخُذُ كُلَّ سَفِينَةٍ غَصْبًا

  বাংলা অনুবাদঃ নৌকাটির ব্যাপারে-সেটি ছিল কয়েকজন দরিদ্র ব্যক্তির। তারা সমুদ্রে জীবিকা অন্বেষন করত। আমি ইচ্ছা করলাম যে, সেটিকে ক্রটিযুক্ত করে দেই। তাদের অপরদিকে ছিল এক বাদশাহ। সে বলপ্রয়োগে প্রত্যেকটি নৌকা ছিনিয়ে নিত।

৮০) وَأَمَّا الْغُلَامُ فَكَانَ أَبَوَاهُ مُؤْمِنَيْنِ فَخَشِينَا أَنْ يُرْهِقَهُمَا طُغْيَانًا وَكُفْرًا

বাংলা অনুবাদঃ বালকটির ব্যাপার তার পিতা-মাতা ছিল ঈমানদার। আমি আশঙ্কা করলাম যে, সে অবাধ্যতা ও কুফর দ্বারা তাদেরকে প্রভাবিত করবে।

কিন্তু আহলে সুন্নাহের মতে এই আয়াতের বিকৃতি সাধন হয়েছে কারণ তাদের কাছে প্রমান আছে, এই প্রমানের জন্য তারা নিম্নোক্ত কেতাবের সাহায্য নেয়।

            ১। সাহিহ আল বুখারী কেতাব আত তাফসীর। (ইংরাজি স্ক্যান)

            ২। সাহিহ আল মুসলিম।

            ৩। সুনান আত তিরমিজি।

            ৪। তাফসীর দূররুল মনসুর সুরাহ কাহাফের ৭৯ আয়াতের ব্যখ্যায়।

            ৫। তাসফীরে তাবারী সুরা কাহাফের ৭৯ নং আয়াতে।

            ৬। মুসতাদরক আলা সাহিহাইন, হাকিম নিশাপুরি, খন্ড ২ পাতা হাদিস নং ৩০১৮ (মুল কেতাবের এডিশনে পাতা নং ২৪৪ হাদিস নং ২৯৫৯)

            ৭। তাফসীর ফাত আল কাদীর।

            আরো কিছু কেতাবে।

সাহিহ আল বুখারীঃ বাংলা ইঃফা খন্ড ৮ পাতা ৬৬ হাদিস নং ৪৩৬৬ স্ক্যান।

قَالَ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ: فَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقْرَأُ (وَكَانَ أَمَامَهُمْ مَلِكٌ يَأْخُذُ كُلَّ سَفِينَةٍ صَالِحَةٍ غَصْبًا) وَكَانَ يَقْرَأُ: (وَأَمَّا الغُلاَمُ فَكَانَ كَافِرًا وَكَانَ أَبَوَاهُ مُؤْمِنَيْنِ)

“………সাইদ বিন যুবাইর বর্ণনা করেছেন যে ইবনে আব্বাস এই ভাবে পড়েতেনঃ

‘এবং তাদের সম্মুখে ছিল এক রাজা, সে বল প্রয়োগে প্রত্যেক ভালো নৌকা ছিনিয়ে নিচ্ছিল’(১৮:৭৯) এবং এই ভাবে পড়তেন ‘এবং বালকটির ব্যাপারে সে ছিল কাফের এবং তার পিতামাতা ছিল ইমানদার’ (১৮:৮০)।

মজার বিষয় ইংরাজি ও বাংলা বুখারির অনুবাদকগন এটার অনুবাদ করেনি, কারণ সহজেই বোধগম্য। ইবনে আব্বাস ও সাইদ ইবনে যুবাইর যে কুরানে বিকৃতি মানতেন সেটা প্রমান হয়ে যাবে এবং বুখারি যে সেটা অনুমোদন করেছে সেটাও।

 এখানে লাল রঙয়ে বাক্যটা কুরানে নেই যেখানে  অর্থাৎ ভালো/ চালানোর উপযোগী  কুরানে নেই সেই সাথে পরের আয়াতে  صَالِحَةٍ  বা কাফির এই শব্দটাও নেই কুর’আনে।كَافِرًا

এই হাদিসটা সুনান আত তিরমিজীতেও দেখা যায় বাংলা  নং ৩১৪৯ (অনলাইন লিংক)

.‏ قَالَ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ وَكَانَ يَعْنِي ابْنَ عَبَّاسٍ يَقْرَأُ وَكَانَ أَمَامَهُمْ مَلِكٌ يَأْخُذُ كُلَّ سَفِينَةٍ صَالِحَةٍ غَصْبًا وَكَانَ يَقْرَأُ وَأَمَّا الْغُلاَمُ فَكَانَ كَافِرًا 

“…সাঈদ ইবনু জুবাইর (রাহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) পাঠ করতেনঃ “তাদের সামনে ছিল এক বাদশাহ যে প্রতিটি নিখুঁত নৌকা জোরপূর্বক কেড়ে নিত।” তিনি আরো পাঠ করতেনঃ “আর বালকটি ছিল কাফির”।

আল্লামাহ জালালুদ্দিন সুয়তি তার তাফসীর দূররুল মান্সুরে উল্লেখ করেছেঃ  (স্ক্যানের জন্য ক্লিক করুণ)

“উবাই ইবনে এই আয়াত এই ভাবে পাঠ করতেন ‘……প্রতিটি ভালো/নিখুঁত নৌকা জোরকরে কেড়ে নিত’। (ইয়াখুজু কুল্লা সাফিনাতিন সালেহাত গাসবান)

তাফসীরে তাবারী: অনলাইন লিংক হাদিস নং ১৭৫২১ 

“হাসান বিন ইয়াইয়াহ – আব্দুর রাজ্জাক- মামুর, কাতাদা থেকে বর্ননা করেছে যে ইবনে মাসুদের লেখা এই রকম ছিল ‘……প্রতিটি ভালো/নিখুঁত নৌকা জোরকরে কেড়ে নিত’।

উপরে এই আয়াতের তিন জন সাহাবী অন্য ভাবে পড়তেন সেটার সাহিহ রেফারেন্স দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কেন পড়তেন? এর উত্তর আমরা পাই মুসতাদরাক এল হাকীমে যে রাসুলে আকরাম সাঃ এই ভাবে পড়তেন যেটাকে হাকিম সাহিহ বলেছেন। হাদিসের হাকীম তাকে বলা হয় যার প্রায় সব হাদিস মুখস্ত সারা উম্মাতে একটাই হাকিম।

عن ابن عباس رضي الله عنهما ، « أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يقرأ : » وكان أمامهم ملك ، يأخذ كل سفينة صالحة غصبا « هذا حديث صحيح الإسناد ، ولم يخرجاه

“ইবনে আব্বাস বলেন ‘নবী সাঃ এই ভাবে পড়তেন‘এবং তাদের সম্মুখে ছিল এক রাজা, সে বল প্রয়োগে প্রত্যেক ভালো নৌকা ছিনিয়ে নিচ্ছিল’

(স্ক্যানের জন্য ক্লিক করুণ)

বিঃদ্রঃ অপবিত্র নাসেবীরা এই হাদিসের “সালেহাত’ অংশটা মুসতাদরাক আল হাকিমের বিভিন্ন অনলাইন ভার্শন থেকে থেকে তুলে দিয়েছে।

উপরের আলোচনা থেকে পরিস্কার যে সুরা কাহাফের ওই দুটি আয়াত থেকে ‘সালেহাত’ আর ‘ফাকান কাফিরা’ অংশ টুকু বাদ পড়েছে। সাহাবীরা পড়তে ওই দুটি অংশ যোগ করে যা এখনকার কুরানে পাওয়া যায় না। এটা পরিস্কার ভাবে আহলে সুন্নাহের কুরানে তাহরীফ বা বিকৃতির আকীদাকে প্রমান করে। সুতরাং এখন নাজিস দেওবন্দি সাহাবা পুজারীরা কি এই সব সাহাবা ও মুহাদ্দিসদের কাফের ফতোয়া দেবে? না তাদের আসল আকীদা যে তাহরীফে কুরান বিশ্বাস করে সেটা প্রকাশ করবে??? এই দুটি রাস্তা ছাড়া কোন বিকল্প তাদের হাতে নে আপাতত।

(এখানে মনসুখ এর প্রশ্ন আসছে না কারণ ঐতিহাসিক খবর কোন দিন মনসুখ হতে পারে না বরং কিছু অংশ বাদ পড়ার প্রশ্ন যা সাহাবীরা তাদের জামানায় পড়তো!)

১৭) উম্মাহাতুল মোমিনিন ও অন্যান্য সাহাবীরা কুরানে তাহরীফ এ বিস্বাস করতো সুরা বাকারার ২৩৮ আয়াত থেকে কিছু অংশ বাদ পড়েছে।

সুরা বাকারা এর ২৩৮ এখন আমরা পড়িঃ

حَافِظُواْ عَلَى الصَّلَوَاتِ والصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَقُومُواْ لِلّهِ قَانِتِينَ

সমস্ত নামাযের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাযের ব্যাপারে। আর আল্লাহর সামনে একান্ত আদবের সাথে দাঁড়াও”।

Guard strictly your (habit of) prayers, especially the Middle Prayer; and stand before Allah in a devout (frame of mind).

আয়শার সাক্ষী যে এই আয়াতের কিছু অংশ বাদ পড়েছে সেটা আহলে সুন্নাহের মুহাদ্দিস ও আলেমগণ জোরেশোরে জানিয়েছে। নিচে আহলে সুন্নাহের কেতাব সমূহ উল্লেখ করা হল।

 ১। সাহিহ মুসলিম হাদিস  নং ১৩০৩  অনলাইন ইঃফাঃ

 ২। আল মুসাইফ আবু বকর সাজিস্তানী, আবু দাউদের ছেলে।বাব মুসহাফে আয়শা, হাফসা উম্মে সালামা ইত্যাদি।

 ৩। তাফসীরে দুররুল মান্সুর, সুরা বাকারার ওই আয়াতের তাফসীরে।

 ৪। তাফসীর তাবারী। উক্ত আয়াত প্রসঙ্গে।

 ৫। ফাতহুল বারী খন্ড ৮ পাতা ১৯৭ হাদিস নং ৪৫২২

 ৬। মুসনদে আহমাদ খন্ড ৬ পাতা ৭৩

 ৭। সুনানে আবু দাউদ খন্ড ১ পাতা ১০২

 ৮। সুনানে তিরমিযী খন্ড ৪ পাতা ২৮৫

 ৯। সুনানে নাসায়ী খন্ড ১ পাতা ২৩৬

১০। সুনান আল কুবরা বাইহাকী খন্ড ১ পাতা ৪৬২

সাহিহ মুসলিমঃ ইঃফা বাংলা অনলাইন লিংক

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي يُونُسَ، مَوْلَى عَائِشَةَ أَنَّهُ قَالَ أَمَرَتْنِي عَائِشَةُ أَنْ أَكْتُبَ لَهَا مُصْحَفًا وَقَالَتْ إِذَا بَلَغْتَ هَذِهِ الآيَةَ فَآذِنِّي ‏{‏ حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى‏}‏ فَلَمَّا بَلَغْتُهَا آذَنْتُهَا فَأَمْلَتْ عَلَىَّ حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَصَلاَةِ الْعَصْرِ ‏.‏ وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ ‏.‏ قَالَتْ عَائِشَةُ سَمِعْتُهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

Abu Yunus, the freed slave of ‘A’isha said: ‘A’isha ordered me to transcribe a copy of the Qur’an for her and said: When you reach this verse:” Guard the prayers and the middle prayer” (ii. 238), inform me; so when I reached it, I informed her and she gave me dictation (like this): Guard the prayers and the middle prayer and the afternoon prayer, and stand up truly obedient to Allah. ‘A’isha said: This is how I have heard from the Messenger of Allah (ﷺ).

১৩০৩। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামীমী (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম আবূ ইউনূস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশা (রাঃ) আমাকে তার জন্য কুরআন শরীফের একটি কপি লিখে দিতে আদেশ করলেন। এবং বললেন, যখন তুমি আয়াত, “যখন তুমি তোমার সালাতের প্রতি যত্নবান হবে বিশেষত মধ্যবতীঁ সালাতের” (বাকারাঃ ২৩৮) এ আয়াতে পৌছবে তখন আমাকে জানাবে। তিনি বলেন আমি উক্ত আয়াতে পৌছলে তাঁকে অবহিত করলাম, এবং তিনি আমাকে দিয়ে লিখালেনঃ তোমরা সালাতের প্রতি যত্নবান হবে, বিশেষত মধ্যবতীঁ সালাত ও আসরের সালাত এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে তোমরা বিনীত ভাবে দাঁড়াবে।” (বাকারাঃ ২৩৮) (এরপর) আয়িশা (রাঃ) বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরুপ শুনেছি।

লক্ষ্যকরার বিষয় ‘ ও আসরের সালাত’ (ওয়া সালাতিল আসর) وَصَلاَةِ الْعَصْرِ ‏  এই অংশটা বর্তমানে কুরানে নেই যেটা উসমান সংকলন করেছেন।

এখানে ‘সিদ্দিক’ পরিবার থেকে সাক্ষ্যি দিচ্ছেন যে এটা রাসুল সাঃ থেকে তিনি রাসুল সাঃ থেকে এইরুপ সুনেছেন সুতরাং নাসেবী দেওবন্দিদের কি প্রমান আছে ‘উম্মুল মোমেনিন’ এর কথা অস্বীকার করার?

এখানে নাসেবীদের মনসুখে গান চলবে না কারণ মনসুখ শুধুমাত্র রাসুল সাঃ এর জীবনকালেই হতে পারে। আর আয়শা নিজে তার কুরানে এটা লিখিয়ে নিচ্ছে কেন যদি এটা মনসুখ হয়ে যায়? আর কেনইবা এটা কুরানে ঢুকিয়ে দিচ্ছে আয়শা কারণ কুরানে কিছু ঢূকিয়ে দেওয়া ঘোরতর পাপ।

নাসেবীরা যদি এতে সন্তুষ্ট না হয় তবে ‘ফারুক’ পরিবার থেকে সাক্ষ্যি হাজির আছে। উম্মুল মোমেনিন হাফসা আল ফারুক এর কুরানের কথা নিম্নোক্ত কেতাব সমুহ উল্লেখ করেছেঃ

১। দুররুল মান্সুরে উল্লেখ করেছে।

২। সাহিহ ইবনে হিব্বান খন্ড ১৪ পাতা ২২৮

৩। সুনান আল কুবরা, বাইহাকী ।

৪। তাফসীর আত তাবারী।

তাফসীরে দুররুল মান্সুর থেকে নিচে উল্লেখ করা হল যেখানে আল্লামাহ সুয়ুতি উচ্চমানের সনদে মৌলিক গ্রন্থ থেকে উল্লেখ করেছে।

“আমরও ইবেন রাফে হাফসার গোলাম বলেছে, ‘হাফসা আমাকে একটা কুরান কপি লেখার জন্য নির্দেশ দিল এবং বলল যে ‘আমার কাছে আসবে যখন তুমি এই আয়াতে পৌছাবে যাতে আমি এটা যেমন শিখেছি সেই রকম লেখাতে পারি’। যখন আমি এই আয়াতে আসলাম {সালাতে যত্নবান হও}, সে (হাফসা) বলল  ‘লেখো {তোমরা সালাতের প্রতি যত্নবান হবে, বিশেষত মধ্যবতীঁ সালাত ও আসরের সালাত}  রাসুলের (সাঃ) থেকে আমি এটাই শুনেছি”। (দুররুল মান্সুরের স্ক্যনের জন্য ক্লিক করুন।) 

উপরের দুই উম্মুল মোমেনিন এর থেকে সাক্ষীর পরে আরো একজন উম্মুল মোমেনিন হজরত উম্মে সালামা রাঃ এর বক্তব্য তুলে ধরা হচ্ছে।

আবু দাউদের পুত্র আবি বকর সাজেস্তানি তার ‘আল মুসাহিফ’ বাব মুসহাফে উম্মে সালামা নবীর (সাঃ) স্ত্রী। “আব্দুল্লাহ ইবনে রাফে বর্ননা করেছে ‘উম্মে সালামা আমাকে একটা কুরানের কপি লিখে দিতে বললেন এবং এই {حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى} [البقرة: 238] আয়াতে পৌঁছালে তাকে খবর দিতে বললেন। যখন আমি ওই আয়াতে পৌছালাম তাঁকে বলা হলে তিনি আমাকে এই ভাবে লিখতে বললেন (حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى وَصَلَاةِ الْعَصْرِ)

(স্ক্যানের জন্য ক্লিক করুন)

উনুরুপ ভাবে ইবনে আব্বাস ও লিখেছে ‘সালাতিল আসর’ (দেখুনঃ সুনান আল কুবরা, বাইহাকী কিতাব আস সালাহ ও তাফসীর আত তাবারী)  এবং সাহাবী বারা ইবনে আযীব ও বলেছেন (দেখুনঃ মুস্তাদরক আল হাকীম)

সুতরাং এই ‘সালাত আল আসর’ এর অংশটা এখন পাওয়া যায় না এবং উম্মুম মোমেনিনরা নিজের কুরানে এই গুলি লিখিয়ে নিচ্ছিলেন এর থেকে প্রমান হয় উম্মুল মোমিনিরা কুরানে বিকৃতিতে ১০০ শতাংশ বিস্বাস করতেন। এখানে আবারো নাসেবীদের মনসুখ গান চলবে না কেননা তারা নিজেদের কেতাবে এই অংশটা লিখিয়ে নিচ্ছিলেন। নিশ্চয়ই সেখানে ‘মনসুখ’ হয়ে যাওয়া আয়াত লিখবে না। আরো আয়শা বলেছেন যে তিনি রাসুল সাঃ থেকে এমন শুনেছেন বলেন নি যে এটা মনসুখ হয়ে গিয়েছে। তাছাড়া কি প্রমান আছে এই আয়াত মনসুখ হয়ে যাওয়ার?? এখানে আসরের সালাতের কথা বলা হচ্ছে তবে কি নাসেবী দেওবন্দিরা বলতে চায় যে আসরে সালাত মনসুখ হয়ে গিয়েছে বা আসরের সালাত মনযোগ দিয়ে আদায় করার দরকার নেই কারণ মনসুখ হয়ে গিয়েছে!!?

১৮) আয়শার নিজশ্ব কুরানে যা আছে এখন তা পাওয়া যায় না।

     এই বিষয় আহলে সুন্নাহে তাদের প্রামাণ্য কেতাব সমূহে প্রমান করেছে সেখান থেকে আমরা কিছু তুলে ধরছি।

   ১। আল ইতকান, আল্লামাহ সুউতি।

   ২। তাফসীর দূর রুল মানসুর।

   ৩। আল মুসাহিফ, ইবনে আবি দাউদ, যিকরে মুসহাফে আয়শা।

আল ইতকানঃ

   “হামীদা বিন্তে ইউনুস বর্ননা করেছেঃ ‘আমার পিতা যিনি ৮০ বছরের ছিল আমার জন্য সালাওয়াতের আয়াত এই রকম পড়লেন  আয়শার মুসফাহ থেকে ‘আল্লাহ ও তার মালাইকারা নবীর উপর সালাত(দরুদ) পাঠায় সুতরাং সে মোমিনগণ তোমরাও তাঁর উপর সালাত (দরুদ) পাঠ করো এবং পরিপুর্ন/যথাযোগ্য সালাম পেশ করো, এবং তাদের উপর যারা প্রথম কাতারে নামাজ পড়ে’এই আয়াত  আয়াত এই ভাবেই ছিল উসমান কুরানে পরিবর্তন করার আগে পর্যন্ত”।

(স্ক্যানের জন্য ক্লিক করুন)

এখন আমরা এই আয়াত এই রকম পড়িঃ (৩৩:৫৬)

إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا

“আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরুদ প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর জন্যে দরুদ পেশ কর এবং তাঁর প্রতি সালাম প্রেরণ কর”।

কিন্তু আয়শার কুরানে এই আয়াত  এই { ‘আল্লাহ ও তার মালাইকারা নবীর উপর সালাত(দরুদ) পাঠায় সুতরাং সে মোমিনগণ তোমরাও তাঁর উপর সালাত (দরুদ) পাঠ করো এবং পরিপুর্ন/যথাযোগ্য সালাম পেশ করো, এবং তাদের উপর যারা প্রথম কাতারে নামাজ পড়ে’ }ভাবেই ছিল উসমান কুরানে পরিবর্তন করার আগে পর্যন্ত। এবং হামিদা বিন্তে ইউনুস উসমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে দিয়েছেন যে এই আয়াত  আয়াত এই ভাবেই ছিল উসমান কুরানে পরিবর্তন করার আগে পর্যন্ত”।

সুতরাং নাসেবী  আহলে সুন্নাহের কাছে প্রশ্ন উসমান এটা বাদ দিল কেন?

প্রিয় পাঠকগন এরা বোঝা যাচ্ছে আহলে নওয়াসিব ওয়াল খারাইজুস সুন্নাহ কেন সর্বদা  ‘মুসহাফে ফাতিমা’ নিয়ে চিল্লামিল্লি করে এবং এটা নিয়ে তাহরিফের বিষয় বস্তু করে!!! যদিও মুসহাফে ফাতিমা নাজিলকৃত কোন কিছুর বিষয় নয়। নাওয়াসিব দেওবন্দি সালাফীদের প্রধান উদ্দেশ্য যে তারা অজ্ঞ জঙগণকে আয়শার কুরানের থেকে সরিয়ে রাখতে চায় কেননা আয়শা তার কুরানে এক্ট্রা লিখত যা প্রকাশ হলে আয়শা কুরানে তাহরীফ এর আকীদা রাখতো সেটা সবার সম্মুখে এসে যাবে।

সুতরাং এটা দেখা যাচ্ছে সুন্নি মত উনুযায়ী যে উসমান কুরানে রদবদল ঘটয়েছে। এই রদবদলের জন্য উসমানের উপর কুফরির ফতোয়া আহলে সুন্নাহ কবে লাগাবে? কেননা এটা দেখা যায় তারা কথায় কথায় ফতোয়ার ফোয়ারা ছোটায়।

(পরের অধ্যায়ে ইনশাআল্লাহ দেখানো হবে আহলে সুন্নাহে আকীদা যে কুরানে প্রচুর ভুল আছে)