সত্যের প্রকাশঃ মুত’আ উমার কর্তৃক ‘হারাম’ কৃত রাসুল (সা) দ্বারা নয়

আমরা  সাহিহ হাদিস বর্ণনা থেকে এটা প্রমান করবো যে মুত দ্বিতীয় খলীফা উমার এটাকে নিশেদ করেছেন।

ইনশাআল্লাহ তালা আমরা এক্ষেত্রে আহলে সুন্নাহের বিভিন্ন হাদিসের কেতাব থেকে আলোচনা করবো তাতে জমজম পানির মত পরিষ্কার হয়ে যাবে উমার মুত’আকে নিষিদ্ধ করেছে।

এক্ষেত্রে আমরা  প্রথমে সহিহ  মুসলিম থেকে দুটি হাদিস তুলে ধরতে চাই।

১)সহিহ মুসলীমইবনে উরাইজ বর্ণিত: আতি বর্ণিত যে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ উমরা পালনের জন্য আসল এবং আমরা কিছু লোক তার কাছে গেলাম বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি বললেনআমরা নবীর আমলে সাময়িক বিয়ে  করতাম এটা আবু বকর ওমরের আমল পর্যন্ত চালু ছিল। 

USC-MSA web (English) reference  : Book 8, Hadith 3248

২) সহি মুসলীম: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ বর্ণিত: সামান্য কিছু খাদ্য বা অন্য কিছুর বিনিময়ে আমরা নবীর আমলে সাময়িক বিয়ে করতাম, এটা আবু বকরের আমলেও আমরা এটা করতাম, যতক্ষণ না ওমর এটা নিষেধ করে দেন আমর বিন হুরাইসের ক্ষেত্রে।

USC-MSA web (English) reference  : Book 8, Hadith 3249

৩)মুসনদে আহমাদ  খন্ড ১ পাতা ৪৩৭ রেসালা পাবলিকেশন, সত্যায়ন করেছেনঃ শেইখ শুয়াইব আরনাউত।

عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، قَالَ:قُلْتُ لِجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ: إِنَّ ابْنَ الزُّبَيْرِ يَنْهَى عَنِ الْمُتْعَةِ، وَإِنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ يَأْمُرُ بِهَا. قَالَ: فَقَالَ لِي: عَلَى يَدِي جَرَى الْحَدِيثُ، تَمَتَّعْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – قَالَ عَفَّانُ: وَمَعَ أَبِي بَكْرٍ – فَلَمَّا وَلِيَ عُمَرُ خَطَبَ النَّاسَ، فَقَالَ: إِنَّ الْقُرْآنَ هُوَ الْقُرْآنُ، وَإِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُوَ الرَّسُولُ، وَإِنَّهُمَا كَانَتَا مُتْعَتَانِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِحْدَاهُمَا مُتْعَةُ الْحَجِّ، وَالْأُخْرَى مُتْعَةُ النِّسَاءِ (2) .

(2) إسناده صحيح على شرط مسلم، رجاله ثقات رجال الشيخين غير أبي نضرة – وهو المنذر بن مالك بن قُطَعة – فمن رجال مسلم

মুসনদ আহমাদ বিন হাম্বালঃ আবু নাদরা বর্ণনা করেছেন, আমরা  জাবির বিন আব্দুল্লাহকে বললাম যে ইবনে যুবাইর মুতআকে বারণ করেছেন আর ইবনে আব্বাস এটার অনুমতি দিচ্ছেন, তিনি ( জাবির) বললেন যে আমরাই এই হাদিস বলেছি, আমরা রসুল সাঃ এবং আবু বকরেরে সাথে থেকে মুত করেছি, যখন উমার খলিফা হলেন তিনি জনগণকে উদেশ্যে বললেনকুরআন সেই কুরআন, রসুল সেই রসুল এবং আল্লাহের রসুলের সময় দুই ধরণের মুত ছিল একটা মুত আল হাজ্জ আর অন্যটা মুত আন নিসা ( মেয়েদের সাথে মুত)। (স্ক্যানের জন্য ক্লিক করুন) 

৪) উপরের হাদিসটা সাহিহ আল মুসলিম এ উল্লেখ হয়েছে কিছু শব্দের/বাক্যের পরিবর্তন এ, আর শেষে এই টুকু অংশ বর্ধিত আকারে “………………………… কোন কাউকে যদি মুত করা লোককে আমার কাছে নিয়ে আসলে তাকে পাথর মারা মারা হবে

USC-MSA web (English) reference : Book 7, Hadith 2801

৫) কানযুল উম্মালঃ উমার ( বলেছেন) দুই ধরনের মুত আল্লাহের রসুলের সময় চালু ছিল, আমরা  দুটোকেই নিষিদ্ধ করছি, মুত নিসা মুত হাজ্জ ( খন্ড ১৬ পাতা ৫১৯ হাদিস নং ৪৫৭১৫ ও পাতা ৫২১ হাদিস নং ৪৫৭২২)

আরও কিছু রেফারেন্স এখানে উল্লেখ করা হল।

৬) তাফসির আল কবির –ইমাম ফখরুদ্দিন রাজী।–( খণ্ড ৩ পাতা ১৬৯,খণ্ড ৫ পাতা ১৫৬, খণ্ড ৫ পাতা ১৫৮)

عمر رضي الله عنه وقال : متعتان كانتا على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنا أنهي عنهما

উমার বললেন দুটো মুত রসুলের সময় ছিল, আমি এদুটো নিষিদ্ধ করছি

৭) তফসীর এ দুররুল মনসুর- জালালুদ্দিন সুয়ুতিঃ ইবনে আব্বাস বলেন, আল্লাহ উমারের উপর রহম করুক, মুত আল্লাহের তরফ থেকে মুহাম্মাদের উম্মাতের জন্য রহমত স্বরূপ, যদি উমার এটাকে না নিষিদ্ধ করতো তবে জঘন্য ব্যক্তি ছাড়া কেউ জেনা করত না( সুরাহ নিশা ২৪ নং আয়াতের তাফসিরে)

এটা ইমাম আলি আ: বলেছেন ইবন আব্বাস এখানে ইমাম আলি আঃ এর উক্ত কথা  তুলে ধরছেন।

৮) মুসনাদে আহমাদ ইবন হাম্বালঃ খণ্ড ২২ পাতা ৩৬৫। রেসালা পাবলিকেশন।

حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: ” مُتْعَتَانِ كَانَتَا عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَنَهَانَا عَنْهُمَا عُمَرُ، فَانْتَهَيْنَا “

জাবির ( ইবন আব্দুল্লাহ আনসারী) নবী সাঃ এর সময়ে দুটো মুত ছিল উমার এদুটোকে বারণ করে দিলেন, উমার ( বললেন) আমরা  এই দুটো কে মানা করছি। ফলে আমরা বিরত থাকলাম

৯) সালাফি অহাবি নাসিবিদের প্রিয় ইবনে কাইউম তার ‘যাদ আল মাদ’ এর খণ্ড ২ পাতা ২০৫ এঃ

যারা বলে যে ( মুতার) আয়াত মনসুখ ( রহিত) হয়ে গিয়েছে তাদের জিজ্ঞেস করা দরকার সাহিহ মুসলিমের এই হাদিসের ব্যপারে কি বলে? যেখানে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ বলেছেন যেআমরা সামান্য কিছু খাদ্যের বিনিময় ( মোহর হিসাবে) রসুল সাঃ আবু বকরের সময় মুতা করেছি এবং যতক্ষণ না উমার এটাকে মানা করে দেন আমর এর ঘটনায়”

১০) হানাফিদের ইমাম, ইমাম সারখাসি এর প্রমান্য গ্রন্থ ‘আল মাবসুত’ এর খণ্ড ৪ পাতা ৪৭৭ এঃ

وقد صح أن عمر رضي الله عنه نهى الناس عن المتعة فقال : متعتان كانتا على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم ، وأنا أنهى الناس عنهما متعة النساء ومتعة الحج

এটা সহিহ যে উমার (রাঃ) জনগণকে মুতা করতে মানা করেছিলেন এবং বললেনদুই ধরনের মুতা রসুলের জামানায় ছিল আর আমি  জনগনকে মানা করছি এগুলি থেকে, মুতা আন নিসা এবং মুতা আল হাজ্জ

সহিহ এবং মুতাওয়াতির বর্ণনা থেকে উমার মুত’আকে নিষিদ্ধ করেছিলেন তার প্রমান হয়ে, ফলে আহলে সুন্নার উলেমাগন উমারকে রক্ষা করার জন্য খোঁড়া যুক্তি নিয়ে এসেছে। সেই গুলির কিছু উল্লেখ করা হল।

১) আসলে মুত’আ নবী সাঃ নিষিদ্ধ করেছিলেন, যেহেতু সাহাবাগন সবাই জানত না তাই তারা মুত’আ করত, উমার শুধু মাত্র রসুলের নিষিদ্ধটাকে প্রয়োগ করেছেন।

— একটা মিথ্যাকে কোন সময় ঢাকা যায় না, যদি বলা হয় যে সাহাবীরা জানত না তবে এটা অনেক বড় বড় (সুন্নিদের চোখে) সাহাবিদের উপর অভিযোগ এসে যায়ে। যেমন ইবনে আব্বাস, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আল আনসারী, আসমা বিনতে আবু বকর আরও আনেকের উপর, আরও অভিযোগ এসে যায়ে আবু বকর এর উপর কারণ তার খেলাফত এর সময় তিনি মুত’আ চালু রেখেছিলেন, তবে আবু বকরও রাসুলের সাঃ –এর মুত’আ নিষিদ্ধ –এর কথা জানত না?  কিছু সুন্নি আলেমরা উমারকে বাচাবার চেস্টা করেছে যে উমার ইজিতেহাদ করেছে (!) যেমন আকাইদের ব্যাখ্যাকারী দুই ইমাম আলাউদ্দিন আলি আল হানাফি তার শারাহ তাজরীদ আকাইদ এবং ইমাম তাফতাজানি তার শারাহ মাকাসিদে।

এটা দু:খজনক যে রাসুল সাঃ এর বিরুদ্ধে ইজতেহাদের জন্য মর্যাদা শুধু আহলে সুন্নাহের থেকেই পেতে পারে। অন্যান্য আহলে সুন্নাহের উলামারা উমারকে বাচাবার জন্য চেষ্টা করে কিন্তু দিনের শেষে অশ্বডিম্ব প্রসব।

কেননা  উমারের মুত’আ নিষিদ্ধের হাদিসে এ কথা বলা হচ্ছে যে মুত’আ রসুলের জীবদ্দশায়ে চালু ছিল,  আরও বলা হচ্ছে আবু বকরের সময় ও চালু। আর সবথেকে বড় কথা যে উমার নিজে বলছেন যে রসুলের সময় ছিল, আমি  এটাকে নিষিদ্ধ করছি। উমার নিজে বলছেন যে তিনি নিষিদ্ধ করছেন।

এমন কি উচ্চ মর্যাদার সাহাবী ও তাবেঈরা মুত’আ কে হালাল বলে ফতোয়া দিতেন। অর্থাৎ সাহাবীদের জামানার পরেও তাবেঈরা মুতার পক্ষে ছিলেন, উমারের বিরোধতা করে।

ইবনে হাজর আসকালানী তার তালখিজ আল হাবীরে উল্লেখ করেছেনঃ

قال وقد ثبت على تحليلها بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم جماعة من السلف منهم من الصحابة أسماء بنت أبي بكر وجابر بن عبد الله وابن مسعود وابن عباس ومعاوية وعمرو بن حريث وأبو سعيد وسلمة ومعبد ابنا أمية بن خلف قال وروا جابر عن الصحابة مدة رسول الله صلى الله عليه وسلم ومدة أبي بكر ومدة عمر إلى قرب آخر خلافته قال وروي عن عمر أنه إنما أنكرها إذا لم يشهد عليها عدلان فقط وقال به من التابعين طاوس وعطاء وسعيد بن جبير وسائر فقهاء مكة

“…………………..কিছু তাবেঈ এটাকে হালাল মনে করতেন যেমন তাউসআতা,সাঈদ বিন জুবাইর আর মক্কার অধিকাংশ ফেকাহবিদ”। 

শাওকানী তার নীল আল আউতার এ উল্লখে করেছেন, ইবনে তাইমিয়া তার আল মুনতিকাতেও একই কথা উল্লেখ করেছেন।

আহলে সুন্নাহের কাছে এই সকল তাবেঈদের মর্যাদা অকল্পনীয় তার কিছু নমুনা দেওয়া হলঃ

১) তাউসঃ ১০৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেছেন। বুখারিতে এই তাবেঈর ৮৫ আর মুসলিমে ৭৮ টা হাদিস বর্ননা আছে।

২) সাইদ বিন যুবাইরঃ ৯৪/৯৫ হিজরিতে ইন্তেকাল করেছেন। বুখারিতে ১৪৭ আর মুস্লিমে ৭৮ টা হাদিস বর্ননা আছে।

৩) আতাঃ ১১৪/১১৫ হিজরিতে ইন্তেকাল করেছেন। বুখারি ও মুস্লিমে প্রায় ১০০ একশ টা করে হাদিস বর্ননা আছে।

সুতারং এই তাবেইরা জানতেন না যে মুত’আ হারাম করে দিয়েছেন রাসুল সাঃ? আসলে আহলে সুন্নাহ একটা জাল বুনেছে যে রাসুল সাঃ মুত’আ হারাম করেছিলে কিন্তু সাহাবীরা জানতো না উমার সেটা প্রয়োগ করেছে। যদি এটাই বলা হয় তবে ওই সব বিখ্যাত সাহাবাদের অন্যান্য হাদিস সমূহের কি হবে? ওই সব বিখ্যাত তাবেইদের কি হবে যাদের উপর অজ্ঞতার যারাহ করা হচ্ছে? এই মিথ্যার জালে আহলে সুন্নাহরা নিজেরাই জড়িয়ে আছে। এর আগে দেখানো হয়েছে যে মক্কার অধিকাংশ ফুকাহা মুতা হালালের ফতোয়া দিতেন।

সাহাবী ইমরান বিন হুস্বাইন রাঃ এর ফতোয়া উমারের  মতের বিরুদ্ধে

সাহিহ আল বুখারিঃ

عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ

أُنْزِلَتْ آيَةُ الْمُتْعَةِ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَفَعَلْنَاهَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَمْ يُنْزَلْ قُرْآنٌ يُحَرِّمُهُ وَلَمْ يَنْهَ عَنْهَا حَتَّى مَاتَ قَالَ رَجُلٌ بِرَأْيِهِ مَا شَاءَ

কুরতুবি তার তাফসীরে খন্ড ৫ পাতা ১৩৩ আবু বকর আর তারতুসি এর কথা উল্লেখ করেছেনঃ

وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ الطَّرْطُوسِيُّ: وَلَمْ يُرَخِّصْ فِي نِكَاحِ الْمُتْعَةِ إِلَّا عِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ وَابْنُ عَبَّاسٍ وَبَعْضُ الصَّحَابَةِ وَطَائِفَةٌ مِنْ أَهْلِ الْبَيْتِ

“মুতা বিয়েকে ইমরান ইবনে হুস্বাইন, ইবনে আব্বাস, কিছু সাহাবী এবং আহলে বাইতের একদল ছাড়া কেহ অনুমতি দেয় না”।

ইমাম আবু ইসহাক সালাবী তার তাফসীরে (আল কাসহাফ ওয়াল বায়ান) এর খন্ড ৩ পাতা ৩৮৭ (নিসা ২৪ এর তাফসীরে) এ উল্লেখ করেছেনঃ

قال الثعلبي: قلت ولم يرخص في نكاح المتعة إلّا عمران بن الحصين وعبد الله بن عباس وبعض أصحابه وطائفة من أهل البيت

“সালাবী বলেছেনঃ ‘“মুতা বিয়েকে ইমরান ইবনে হুস্বাইন, ইবনে আব্বাস, কিছু সাহাবী এবং আহলে বাইতের একদল ছাড়া কেহ অনুমতি দেয় না”।

তাফসীরে হাক্কানীতে শাইখ আব্দুল হক্ক হক্কানি দেহলিবী ( খন্ড ২ পাতা ১৪৫ স্ক্যান)

“…কিছু উলামা মুতাকে জায়েজ বলেছেন যেমন ভাবে সাহাবা ইবনে আব্বাস ও ইমরান বিন হুস্বাইন বলতেন, তারা বলেন এই মহিলারাও স্ত্রী“। 

আবু বকরের মেয়ে আসমা মুত’আ 

মহিলাদের মধ্যে আবু বকরের মেয়ে আসমা এর মুতার ব্যাপার সর্বজন বিদিত।

এই বিষয় আমারা নিচে আহলে সুন্নাহের কেতাবের লিস্ট দেবঃ লিংক বা স্ক্যানের জন্য নামের উপর ক্লিক করুন।

১। তালখিজ আল হাবির, ইবনে হাজর আস্কালানী, খন্ড ৩ পাতা ১৫৯, বিষয় নং ১৫০৬।

২। মুসনদে আবু দাউদ তাইয়ালসি, খন্ড ৩ হাদিস নং ১৭৪২। 

৩। সুনান আল কবীর, ইমাম নাসাঈ খন্ড ৩  হাদিস নং ৫৫৪০।

৪। মওজাম আল কাবীর, তাবারানী খন্ড ২৪ পাতা ২০৩ হাদিস নং ২৭৭

৫। নীল আল আউতার, আল্লামাহ শাওকানী, খন্ড ৬ পাতা ১৯৪।

৬। ইকদ আল ফারিদ, আবু উমার সাহাবুদ্দিন, (মারুফ ইবনে আব্দে রব্বিহ)  খন্ড ৪ পাতা ৯৯।

৭। শারাহ মুয়াত্তা , ইমাম যারকানী, খন্ড ৩ পাতা ১৯৯।

৮। তাফসীরে মাজহারী, কাজী সানাউল্লাহ পানিপথী, সুরা নিসা এর ২৪ নং আয়াতের তাফসীরে। খন্ড ৩ পাতা ২৯ ( বাংলা) 

৯। আল মুহাযারাত,আহলে সুন্নাহের ইমাম রাঘীব ইসবাহানী, খন্ড ২ পাতা ২১৪ (অনলাইন লিঙ্ক)

১০। যাদ আল মাদ, ইবনে কাউয়ুম, খন্ড ২ পাতা ১৯১।

ইবনে হজর আস্কালানি তার ‘তালখীজ আল হাবীর এঃ

قال وقد ثبت على تحليلها بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم جماعة من السلف منهم من الصحابة أسماء بنت أبي بكر وجابر بن عبد الله وابن مسعود وابن عباس ومعاوية وعمرو بن حريث وأبو سعيد وسلمة ومعبد ابنا أمية بن خلف قال وروا جابر عن الصحابة مدة رسول الله صلى الله عليه وسلم ومدة أبي بكر ومدة عمر إلى قرب آخر خلافته قال وروي عن عمر أنه إنما أنكرها إذا لم يشهد عليها عدلان فقط وقال به من التابعين طاوس وعطاء وسعيد بن جبير وسائر فقهاء مكة

“ নবী সঃ এর ওফাত এর পরে সালাফ এর একটা জামাত এটাকে ( মুত’আ কে) হালাল মনে করত।এর মধ্যে যারা সাহাবারা হলেন আসমা বিনতে আবি বকর, জাবির, ইবনে মাসুদ, ইবনে আব্বাস, মুয়াবিয়া, আমরু বিন হারিস, আবু সাইদ, সালামা, মুওাবেদ বিন উমায়াজাবির বর্ণনা করেছেন……………………কিছু তাবেঈ এটাকে হালাল মনে করতেন যেমন তাউস, আতা,সাঈদ বিন জুবাইর আর মাক্কার আধিকাংশ ফেকাহবিদ।

فأما ما ذكره عن أسماء فأخرجه النسائي من طريق مسلم القري قال دخلت على أمساء بنت أبي بكر فسألناها عن متعة النساء فقالت فعلناها على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم

“যেমনটি আসমার (বিন্তে আবু বকর)থেকে বর্ণিত, ( ইমাম) নাসাঈ মুসলিম বিন কারি থেকে বর্ণনা করেছেন- আমরা আবু বকরের মেয়ে আসমা এর কাছে গেলাম এবং মহিলাদের সাথে মুত’আ এর ব্যপারে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, সে বললেন রসুলের জামানায় আমরা এটা করেছি” (লিংক/স্ক্যান)

শাওকানী তার নীল আল আউতারের একই কথা ইবনে হজমের থেকে বর্ননা করেছেন যে সাহাবাদের লিস্ট তাতে আসমা বিন্তে আবু বকরের নাম উল্লেখ করেছেন।

মুহাম্মাদ বিন আব্দুল বাকী আল যারকানী তার শারাহ মুয়াত্তায় সাহাবাদের নাম উল্লেখ করেছেন যে যারা মুত’আ হালাল বলে মানত।

ثبت الجواز عن جمع من الصحابة كجابر وابن مسعود وأبي سعيد ومعاوية وأسماء بنت أبي بكر وابن عباس وعمرو بن الحويرث وسلمة، وعن جماعة من التابعين

“এটার জায়েজ সাবিত হয়েছে সাহাবাদের একটা জামাত থেকে যেমন জাবির, ইবনে মাসউদ,আবি সাইদ (আল খুদরি), মুয়াবিয়া, আসমা বিন্তে আবি বকর, ইবনে আব্বাস, আমরু বিন হুরাইস , সালামাহ আরো এবং তাবেঈনদের জামাত থেকে”।  (লিংক/স্ক্যান)

আবু দাউদ তিলিয়াসি তার মুসনদে সাহিহ সনদ সহ বর্ননা করেছেঃ

حدثنا يونس قال : حدثنا أبو داود قال : حدثنا شعبة ، عن مسلم القري ، قال : دخلنا على أسماء بنت أبي بكر ، فسألناها عن متعة النساء ، فقالت : « فعلناها على عهد النبي صلى الله عليه وسلم

“আমরা আসমা বিন্তে আবু বকরের কাছে গেলাম এবং তাকে মেয়েদের সাথে মুতার ব্যাপারে জিজ্ঞাস করলাম, সে উত্তর দিল ‘রাসুল সাঃ এর সময় আমরা এটা করেছি”। (লিংক/স্ক্যান)

উপমহাদেশের কাজী ও মুফতি সানাউল্লাহ পানিপথী তার তাফসীর মাযহারীতে

روى النسائي والطحاوي عن اسماء بنت ابى بكر قالت فعلناها على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم

 “নাসাঈ ও তাহাবী বর্ননা করেছেন আসমা বিনতে আবু বকর বলেছে রাসুল সাঃ এর সময় আমারা এটা করেছি”।  ( নোটঃ বাংলা অনুবাদে ‘করেছি’ এর জায়গায় ‘দেখেছি’ বসিয়েছে) (আরবী স্ক্যান, বাংলা স্ক্যান)

ইতিহাস ও হাদিসে যেটা পাওয়া যায় যে আসমা বিন্তে আবি বকর সাহাবী যুবাইরের সাথে মুতা করেছিল এবং আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর ও উরুয়া ইবনে যুবাইর মুতা বিবাহের মাধ্যমে জন্ম গ্রহন করেছেন । এর আগেও দেখানো হয়েছে আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর, ইবনে আব্বাসের সাথে মুতা নিয়ে বিতর্ক করতো যা সাহিহ মুসলিম থেকে আগের অধ্যায়ে রেফারেন্স দেওয়া হয়েছে।  এখানে আহলে সুন্নাহের ইমাম রাঘিব ইস্পাহানী এর আল মুহাযরাত থেকে উধৃতি দেওয়া হল।

عير عبد الله بن الزبير عبد الله بن عباس بتحليله المتعة فقال له: سل أمك كيف سطعت المجامر بينها وبين أبيك؟فسألها فقالت: ما ولدتك إلا في المتعة

“আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর, ইবনে আব্বাসকে তাছিল্য করেছিল কেননা সে মুত’আ হালাল বিশ্বাস করত তাই, ইবনে আব্বাস বললেন ‘যাও তোমার মায়ের কাছে জিজ্ঞাসা করো কিভাবে সে ও তোমার বাবা প্রথম এটা করেছে’। সে (আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর) তার মাকে জিজ্ঞাসা করলো, সে (আসমা বিন্তে আবু বকর) উত্তর দিল ‘আমি মুত’আ বিবাহের মাধ্যেমে  তোমাকে জন্ম দিয়েছি’”। (স্ক্যান)

সালাফি ও আহলে হাদিসিদের প্রিয় আলেম ইবনে তাইমিয়ার ছাত্র ইবনে কাইউম তার ‘যাদ আল মাদ’ এ

وَقَالَ عَبْدُ الرّازِقِ حَدّثَنَا مَعْمَرٌ عَنْ أَيّوبَ قَالَ قَالَ عُرْوَةُ لِابْنِ عَبّاسٍ أَلَا تَتّقِي اللّهَ تُرَخّصُ فِي الْمُتْعَةِ ؟ فَقَالَ ابْنُ عَبّاسٍ : سَلْ أُمّك يَا عُرَيّةَ

“আব্দুর রাজ্জাক বলেছে, মামুর আইউব থেকে বর্ননা করেছে যে উরুয়া, ইবনে আব্বাসকে বলল ‘ তুমি কি আল্লাহকে ভয় করো না যে মুত’আকে অনুমতি দিচ্ছো? ইবনে আব্বাস উত্তর দিল ‘ও উরুয়া তোমার মা কে জিজ্ঞাস করো”।  

وأول مجمر سطع في المتعة مجمر آل الزبير

“(ইবনে আব্বাস বলেছেন) ‘মুত’আ প্রথম করেছে যুবাইর’। (স্ক্যান)  (সৌদি প্রপাগন্ডা লাইব্রেরী থেকে অনলাইন লিংক)

আসমা বিন্তে আবু বকরের স্বামী ছিল যুবাইর। আসমার মুত’আ প্রমানিত ব্যাপার।

সাহাবী জাবির বিন আব্দুল্লাহ আল আনসারী এর মুত’আ

বিখ্যাত সাহাবী জাবীর বিন আব্দুল্লাহ আল আনসারী রাদিয়াল্লাহ আনহু এর পরিচয় দিতে লাগে না। এই জলিল ও কদর সাহাবীর মুত’আ হালাল মানত এমন কি রাসুল সাঃ এর ইন্তেকালের পরেও, যা সুন্নি ধর্মের ভিত্তিকে নাড়িয়ে দেয়।

এর আগে ইবনে হাজর আসকালানীর থেকে রেফারেন্স দেওয়া হয়েছে জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাঃ এর মুত’আ হালাল হওয়ার মতামত।

এই বিষয় ও অনেক হাদিস বর্নিত হয়েছে, জানার জন্য আমরা নিচে কেতাব সমূহের সাহায্য নেব।

১। সাহিহ মুসলিম। বাব নিকাহ মুত’আ

২। কাঞ্জুল উম্মাল, মুত্তাকী হিন্দি  খন্ড ৮ পাতা ২৯৩

৩। নীল আল আওতার, আল্লামাহ শওকানী খন্ড ৬ পাতা ১৫৩

৪) সুনান কবীর বাইহাকী, হাদিস নং ১৪১৭০

আরো ফাতহুল বারী এবং মুসনদে আহমাদ।

লেখা সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে মাত্র দুটি দলিল দেওয়া হল।

সহিহ  মুসলিম: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ বর্ণিত: সামান্য কিছু খাদ্য বা অন্য কিছুর বিনিময়ে আমরা নবীর আমলে সাময়িক বিয়ে করতাম, এটা আবু বকরের আমলেও আমরা এটা করতাম, যতক্ষণ না ওমর এটা নিষেধ করে দেন আমর বিন হুরাইসের ক্ষেত্রে।

সুনান আল কবীর বাইহাকীঃজাবির ইবনে আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞাস করা হল যে ইবনে যুবাইর লোকদেরকে মুত’আ  করা থেকে মানা করছে আর ইবনে আব্বাস অনুমতি দিচ্ছেন। জাবির বললেন ‘আমরা রাসুল সাঃ ও আবু বকরের জামানায় মুতা করেছি। উমার খলিফা হলে একটা খুতবা দেয় রাসুল সাঃ এবং কুর’আন পরিবর্তন হয়নি, রাসুল সাঃ এর সময় দুই ধরনের মুতা ছিল। আমি সেগুলিকে নিশেদ করলাম আর যে এটা ভংগ করবে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে, একটা মহিলাদের সাথে মুত’আ, যে এটা করবে তাকে আমি পাথর মারবোআর একটা হাজ্জ এ তামাত্তু, হজ্জ আর উমরাকে আলাদা আলাদা করবে এটাই পরিপুর্ন হজ্জ ও উমরা”।

( স্ক্যান হাদিস নং ১৪১৭০ )

সাহাবী আবু সাইদ আল খুদদি রাঃ এর মুত’আয় বিশ্বাস

সাহাবী আবু সাইদ আল খুদদি রাঃ এর মুত’আয় বিশ্বাস  এবং রাসুল সাঃ এর ওফাতের পরেও মুত’আ করেছেন।

আহলে সুন্নাহের মুহাদ্দিস  বাদরুদ্দিন আইনী তার শারাহ বুখারিতে লিখেছেন।

عن أبي سعيد الخدري وجابر بن عبد الله قالا: تمتعنا إلى نصف من خلافة عمر رضي الله عنه حتى نهى عمر الناس عنها في شأن عمرو بن حريث

“আবু সাইদ খুদরি এবং জাবিন বিন আব্দুল্লাহ বর্ননা বলেছেন ‘আমরা মুত’আ উমারের খেলাফতের প্রথম অর্ধ পর্যন্ত করেছি যতক্ষন পর্যন্ত না আমরো বিন হুরাইসের ঘটনায় নিশেদ করে দেয়”।

(উমদাতুল কারী শারাহ সাহিহ আল বুখারি খন্ড ১৭ পাতা ২৪৬)

মুত’আ নিয়ে একজন সাহাবীর সাথে উমারের বিতর্ক

কাঞ্জুল উম্মাল খন্ড ১৬ পাতা ৫ জিকরে মুত’আ হাদিস নং ৪৫৭২৬

উম্মে আব্দুলাহ বিন্তে আবি খুজাইমা বর্ননা করেছেন যে সিরিয়া থেকে একজন এসেছিল, সে বললকামনা আমার জন্য কস্টকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, একজন মহিলাকে ঠিক করো যারা সাথে আমি মুত বয়ে করতে পারি সে (উম্মে আব্দুল্লাহ) একজন মহিলার খোজ দিলেন যার সাথে সে মুত করলো এবং সাক্ষ্যি সাবুদ সহ সে ওই মহিলার কাছে থাকলো যতক্ষন আল্লাহ চাইলো তার পরে সে চলে গেল

উমার এই ঘটনার খরব পেল এবং আমাকে ডেকে পাঠিয়ে জিজ্ঞাস করলো ‘যেটা ঘটেছে সত্য’? আমি বললাম ‘হ্যাঁ’ উমার বলল ‘সে যদি আবার আসে তবে আমাকে জানাবে’। ফলে সে যখন আবার আসলে আমি উমারকে জানালাম। উমার তাকে ডেকে পাঠালো, যখন সে পৌছাল উমার তাকে জিজ্ঞাস করলো ‘তুমি এটা করলে ‘ ?

সে উত্তর দিল ‘আমি রাসুল সাঃ এর জীবদ্দশায় এটা করেছি এবং তিনি এটা কক্ষনই নিশেদ করেননি  তার ওফাত পর্যন্ত। তার পরে আমি আবু বকরের জামানায় করেছে এবং তিনি এটা কক্ষনই মানা করেনি তার মৃত্যু পর্যন্ত, আমি এখন এটা তোমার জামানায় করেছি আর তুমি এটা নিষেদের কোন প্রমান বর্ননা করনি’।

 উমার বলল ‘যার হাতে আমার জান! যদি আমি এটা আজকের আগে মানা করতাম তবে তোমাকে রজম করতাম, জনগনের কাছে ঘোষনা করো যাতে তারা বিয়ে আর যেনার মধ্যে পার্থক্য করে’”।

উপরের হাদিস থেকে এটা আবারো প্রমান হয় যে মুত’আ রাসুল সাঃ এর জামানায় ছিল পরে আবু বকরের জামানায়ও ছিল। উমার এটাকে শাস্তির ভয় দেখিয়ে বন্ধ করেছে।

মুয়াবিয়া, আহলে সুন্নাহ ও নাসেবীদের মহান পঞ্চম ইমাম মুতা করেছে

ইবনে হাজর আস্কালানী তার ‘তালখিজ আল হাবীরের উল্লেখ করেছে যে সাহাবাদের লিস্ট যারা রাসুল সাঃ এর পরেও মুত’আ হালালে বিশ্বাস করতো এবং মুত’আ করতো সেই লিস্টে মুয়াবিয়াও আছে যা আগে কয়েকবার উল্লেখ করা হয়েছে পাঠাকগন যাতে বরিং না অনুভব করে তাই সেটা আবারো উল্লেখ করা হল না।

নিচে আহলে সুন্নাহের অন্যান্য কেতাব থেকে দলিল দেওয়া হয়

১। ফাতহুল বারী সারাহ সাহিহ আল বুখারি খন্ড ৯ পাতা ১৭৪

২। যারকানী তার সারাহ মুয়াত্তা খন্ড ৩ পাতা ৫৩

৩। মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক খন্ড ৭ পাতা ৪৯৯।

হাফেজ ইবনে হাজর আস্কালানী তার ফাতহুল বারীতেঃ  (অনলাইন লিংক)

“আব্দুর রাজ্জাক, সাফোয়ান বিন ঈয়ালা বিন উমাইয়া থেকে বর্ননা করেছে যে সে বলেছে ‘ইয়ালা আমাকে বলেছে মুয়াবিয়া তায়েফের এক মহিলার সাথে মুত’আ করেছে’। এটার সনদ সহিহ, কিন্তু আবি যুবাইর, জাবির থেকে বর্ননা করেছে যেমন আব্দুর রাজ্জাক উল্লেখ করেছেন যার মতন ‘যখন মুয়াবিয়া তায়েফে গিয়েছিল, সে একজন দাসীর সাথে মুত’আ করেছিল যার নাম মু’আনা এবং সে বনী হাযরামি থেকে ছিল’। জাবির আরো বলেন যে মু’আনা মুয়াবিয়ার জামানা পর্যন্ত ছিল আর মুয়াবিয়া তাকে ভাতা পাঠাত”।

এখন নাসেবিদের কাছে প্রশ্ন যে যদি এটা হারাম ও যেনা হত তবে তাদের পঞ্চম ইমাম হাদি মুয়াবিয়ায় ‘খালুল মোমেনিন’ মুতা করলো?

সাহাবী সালামা বিন আল আকওয়া এর বিরোধতা উমারের প্রতি

সুন্নি ইমাম আবু বকর মুহাম্মাদ বিন হারুন আল রাওয়ানি (মৃঃ৩০৭ হিঃ) তার মুসনদে একটা ঘটনা বর্নানা করেছে যে সাহাবী সালামা বিন উমরি বিন আল আকওয়া এর মুত’আ এর ঘটনা উল্লেখ করেছে।

হাদিসটি উল্লেখ করার আগে ‘মুসনদ আল রাওয়ানি’ এর মান আহলে সুন্নাহের কাছে কতটা সেটা উল্লেখ করা হল

ফায়েজ আল কাদির খন্ড ২ পাতা ৪১ এ আল মানাবী উল্লেখ করেছে “ইবনে হাজর বলেছেন ‘ মুসনদ আল রাওয়ানি (সাহা সিত্তাহের) থেকে কোন অংশে কম নয়, বরং পাঁচটা কুতুবের সাথে এটা যোগ হওয়ার যোগ্য ইবনে মাজার জায়গায়  কেননা এটা অনেক বেশি সাহিহ”। (সৌদি লাইব্রেরী অনলাইন লিংক, ১২৭৪ নং হাদিসের হাসিয়াতে)

ইমাম রাওয়ানি তার মুসনদের খন্ড ২ পাতা ২৫৯,২৬০ হাদিস নং ১১৭০ তে উল্লেখ করেছেনঃ (অন লাইন লিংক)

قال له الحسن : متعة النساء ، قال : نعم ، قال : أي ابن أخي ، اكتما عني حديثي ما عشت ، فإذا مت فحدثا ، فإن شاءوا بعد ذلك أن يرجموا قبري فليرجموه : أمر بها رسول الله صلى الله عليه وسلم فعملنا بها حتى قبضه الله ، ما أنزل الله فيها من تحريم ، ولا كان من رسول الله صلى الله عليه وسلم إلينا فيها من نهي

“উবাদা বিন ওয়ালিদ বিন উবাদা বিন সামেত বর্ননা করেছে যিনি একজন আনসার এবং সভ্রান্ত পরিবার থেকে ছিল, একদা হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন আলি ইবনে আবি তালিব বলল ‘আমার পরিবার জোর দেয় যে মুত’আ হালাল আর আল্লাহের রাসুল সাঃ এটার অনুমতি দিয়েছেন, কিন্তু তুমি ভিন্য ধরনের কথা বলো, চলো আমরা সালমা বিন আকওয়া কাছে গিয়ে এই ব্যাপারে জিজ্ঞাস করি, তিনি একজন ধর্মভীরু সাহাবী’।

(উবাদা) বলল ‘আমরা তার পরে তার কাছে গেলাম ও মারওয়ানের প্রসাদে তার সাথে সাক্ষ্যাত করলাম সেই সময় তিনি অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন’। হাসান বলল ‘অপেক্ষা করুন যতক্ষন না আমার বন্ধু আর আমি কিছু হাদিসের ব্যাপারে জিজ্ঞাস করি’। সালামা জজ্ঞাস করলেন ‘ তোমরা কারা’? হাসান বলল ‘ আবি তালিবের পুত্র মুহাম্মাদের পুত্র হাসান’।

সালামা বললেন ‘হে আমার ভাইয়ের পুত্র, তোমার সাথে কে এসেছে আর কোন বিষয় আমার থেকে জানতে চাও’? হাসান উত্তর দিল ‘মেয়েদের সাথে মুত’আ’।

সালামা বললেন ‘হ্যাঁ, আমার ভাইপো! তোমরা দুজনে আমার কথা গোপন রাখবে যতদিন আমি বেঁচে থাকি, আমি মরে গেলে তোমরা এটাকে প্রকাশ করতে পারো, যদি লোকেরা রজম করতে চায় তবে (তারা শুধু) আমার কবরে পাথর মারতে পারবে। রাসুল আল্লাহ সাঃ এটার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং আমরা এটা করতাম রাসুল সাঃ এর ইন্তেকাল পর্যন্ত, আল্লাহ এটাকে হারাম করে কোন কিছু নাজিল করেননি এবং রাসুল সাঃ এটাকে নিশেদ করেননি”।

 সনদ: যাহাবি আল কাশিফ খঃ১ পাঃ৫৩৪ উবাদা বিন ওলিদঃ  শিকা।

খঃ২ পাঃ১৫৬ মুহাম্মাদ বিন ইসহাক,  সুদুক।

খঃ২ পঃ৩৩১ হারুন বিন ইসা, শিকা।

খঃ১ পাঃ৬০৪ আব্দুল্লাহ বিন হারুন, সুদুক। খঃ২ পাঃ৮৪ আমর বিন আলি,  জ্ঞানী, তাকরিব আত তাহজিব ১/৭৪১ শিকা, হাফিজ।

মহান তাবেই সাইদ বিন যুবাইর  মক্কায় একজন মহিলা তাবেঈর সাথে মুত’আ করেছিলেন।

 ফাতহুল বারী সারাহ সাহিহ আল বুখারি খন্ড ৯ পাতা ১৭৪

“ইবনে হজম উল্লেখ করেছেন ‘রাসুল সাঃ এর ওফাতের পরে যারা মুত’আকে হালাল মনে করত এবং এর উপরে বলিষ্ঠ ভাবে ছিল তাদের মধ্যে ইবনে মাসুদ, মুয়াবিয়া, আবু সাইদ, ইবনে আব্বাস, সালামা, মাবাদ, উমাইয়ার পুত্র, জাবির এবং আমরো বিন হুরাইস, জাবির সাহাবীদের মুত’আ এর ব্যাপার উল্লেখ করেছেন আবু বকর ও উমারের জামানায়, তাবেইনদের মধ্যে মক্কার ফকিহগন তাউস, সাইদ বিন জুবাইর এবং আতা মুতাকে হালাল মানত”

মুসান্নাফের আব্দুর রাজ্জাক খন্ড ৭ পাতা ৪৯৬ এ আমরা পড়ি হাদিস নং ১৪০২০ (হার্ড কপি)

“ইবনে যুরাইজ>আব্দুল্লাহ বিন উসমান বিন খুরাইস বলেছেন ‘মক্কায় একজন সুন্দরি ইরাকী মহিলা ছিল যে হজ্জ করছিল এবং তার আবু উমাইয়া নামে এক ছেলে ছিল। সাইদ বিন যুবাইর তার কাছে প্রায় যেত। ফলে আমি জিজ্ঞাস করলাম ‘ও আবা আব্দুল্লাহ, ওই মহিলার কাছে তুমি প্রায় যাও কেন? সাইদ উত্তর দিলেন ‘আমি তাকে মুত’আ বিবাহ করেছি, সাইদ আরো বলল মুত’আ এটা হালাল, পান করার পানির মত”। (অনলাইন লিংক)  

আসাকরি পাঠকদেরকে মহান তাবেই সাইদ ইবনে যুবাইরের পরিচয় করে দিতে হবে না। আহালে সুন্নাহ এই মহান তাবেই এর গুনগান লিখে শেষ করতে পারে না। বুখারি মুসলিম সহ চারটে সুনানে এই মহান তাবেঈ বর্নিত হাদিস আছে। সুতরাং আহলে সুন্নাহের নাসেবীরা কি বলতে চায় যে সাইদ ইবনে যুবাইর যেনা করেছে? ( নাউযুবিল্লাহ)

আহলে সুন্নাহের ইমাম ইবনে আবি মালিকা (মৃঃ ১১৭ হিঃ) মুত’আ এ বিশ্বাস করতেন।

ইবনে আবি মালিকার ব্যাপারে যাহাবি তার সিয়ার আলাম নাবুলা খন্ড ৫ পাতা ৮৯ এ উল্লেখ করেছেন ‘ঈমাম, হুজ্জা, হাফিজ’ আরও বলেছেন ‘আলেম, মুফতি হাদিস বর্ননাকারী দক্ষ’।

মুত’আ নিয়ে আলোচনায় মাওয়ার্দি তার “আল হাওই আল কাবীর ফি ফেকহা মজহাব ইমাম শাফেই” এর খন্ড ৯ পাতা ৮৩২ তে ইবনে আবি মালিকার দৃষ্টি ভঙ্গি তুলে ধরেছেন।

وَحُكِيَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وابن أبي مليكة، وابن جريج – والإمامية – رأيهم فيه جوازاً

“ইবনে আব্বাস, ইবনে আবি মালিকা, ইবনে যুরাইয ও ইমামিয়াদের থেকে এটা যায়েজের বর্ননা হয়েছে”। (সৌদি প্রপাগন্ডা লাইব্রেরী অনলাইন লিংক)

সাহাবী ‘সালামাহ বিন উমাইয়া’ মুত’আ করেছিলেন উম্মে ইরাকের সাথে।

 ফতহুল বারী সারাহ সাহিহ আল বুখারি ইবনে হাজর আস্কালানী। খন্ড ৯ পাতা ১৭৪ এ উল্লেখ করেছেন

فروى عبد الرزاق بسند صحيح عن عمرو بن دينار عن طاوس عن ابن عباس قال ‏”‏ لم يرع عمر إلا أم أراكة قد خرجت حبلى، فسألها عمر فقالت‏:‏ استمتع بي سلمة بن أمية 

“আব্দুর রাজ্জাক সহিহ সনদ সহ বর্ননা করেছেন আমর বিন দিনার থেকে তিনি তাউস থেকে তিনি ইবনে আব্বাস থেকে যে উমার , উম্মে ইরাকে কে ডেকে পাঠিয়েছিলেন যে অন্তঃস্বত্বা ছিল,  উমার তাকে জিজ্ঞাস করলে সে বলল যে সালামা বিন উমাইয়ার সাথে মুত’আ করেছে”। 

ইবনে হজম তার জামহারাত আনসাব আল আরব এর খন্ড ১ পাতা ১৫৯ এ উল্লেখ করেছেঃ (দার আল কুতুব ইল্মিয়া, বেইরুত প্রকাশিত)

فولد سلمة بن أمية: معبد بن سلمة: أمه أم أراكة ، نكحها سلمة نكاح متعة في عهد عمر أو في عهد أبي بكر، فولد له منها معبد

“সালামাহ এর ছেলে মাবাদ। মাবাদ এর মা উম্মে ইরাক, সালামাহ তার সাথে মুত’আ বিয়ে করেছিল যার ফলে মাবদ জন্ম গ্রহন করে আবু বকর বা উমারের সময়ে”।

তাকরিব আত তাহজিব এ হাফেজ ইবনে হাজির আস্কালানী সালামাহ বিন উমাইয়ে এর ব্যাপারে উল্লেখ করেছেন ‘সালামাহ বিন উমাইয়া আত তামিমি আল কুফি, ইয়ালা বিন উমাইয়া এর ভাই, সাহাবী একটা হাদিস বর্ননা করেছে”। ( খন্ড ১ পাতা ৩৭৬)

সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে মাসুদ রাঃ মুত’আ এ বিশ্বাস করতো

 সাহিহ মুস্লিমঃ ৩২৮০।  আবদুল্লাহ (ইবনে মাসুদ)  (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে জিহাদে অংশ গ্রহণ করতাম এবং আমাদের সঙ্গে আমাদের স্ত্রীগণ থাকত না। আমরা বললাম, আমরা কি খাসী হব না? তিনি আমাদের তা থেকে নিষেধ করলেন। তারপর তিনি পরিধেয় বস্ত্র দানের বিনিময়ে আমাদের নির্দিষ্ট কালের জন্য নারীদের বিবাহ করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর আবদুল্লাহ (রাঃ) পাঠ করলেনঃ “হে মুমিনগণ! আল্লাহ তোমাদের জন্য উৎকৃষ্ট যেসব বস্তু হালাল করেছেন, সেই সমুদয়কে তোমরা হারাম করো না এবং সীমালংঘন করো না আল্লাহ সীমালংঘনকারীদের পছন্দ করেন না।” (সূরা মায়িদাঃ ৮৭)

https://hadithbd.com/hadith-link.php?hid=12891

ইমাম নবমী তার আল মিনহাজ এখ খন্ড ৯ পাতা ১৮২  এই হাদিসের হাসিয়াতে লিখেছেন

فيه إشارة إلى أنه كان يعتقد إباحتها كقول إبن عباس وإنه لم يبلغه نسخها

“এটাতে ইশারা আছে যে তিনি (ইবনে মাসুদ) এটা জায়েযে বিশ্বাস করতেন যেমন ইবনে আব্বাস বলেছেন এবং তিনি এটার (মুতার) রহিত হয়ে যাওয়ার প্রচার করতেন না”।

আহলে সুন্নাহের ইমাম ইবনে যুরাইয সর্বোচ্চ ৯০ জন মহিলার সাথে মুত’আ করেছিলেন।

যাহাবী তার ‘সিয়ার আলাম নাবুলা’ এর খন্ড ৬ এর পাতা ৩২৫ এ উল্লখে করেছেনঃ

ابن جريج ع عبد الملك بن عبد العزيز بن جريج الإمام العلامة الحافظ شيخ الحرم أبو خالد وأبو الوليد القرشي الأموي المكي صاحب التصانيف

“ইবনে যুরাইয, আব্দুল মালিক বিন আব্দুল আজীজ বিন যুরাইয ছিম ইমাম, আল্লামাহ, হাফিজ, শেইখ আল হারাম (মক্কার হারাম), আবু খালিদ এবং আবুল ওয়ালিদ আল কারসী আল উমাবী আল মাক্কি, কেতাব সমূহের লেখক”।     

 পাতা ৩৩১ ঃ “ইবনে যুরাইয মুত’আয় বিশ্বাস করত,৬০ জন মহিলার সাথে মুতা’ বিয়ে করেছিল”।

سمعت الشافعي يقول استمتع ابن جريج بتسعين امرأة حتى إنه كان يحتقن في الليل بأوقية شيرج طلبا للجماع

 পাতা ৩৩৩ ঃ “শাফেয়ী বলেছেন ‘ইবনে যুরাইয ৯০ জন মহিলার সাথে মুত’আ করেছিল। আর প্রতি রাতে একটু করে তেল ব্যাবহার করত সঙ্গমের জন্য”।

এখন আহলে সুন্নাহ কি বলবে? শীয়ারা মুত’আ কে মুবাহ মানে তাই অজ্ঞ নাসেবীরা নানা ফতোয়া লাগায় এখন কোথায় ফতোয়া লাগাবে?

আহলে সুন্নাহের ফেকার ইমাম, ইমাম মালিক এর মতে মত’আ হালাল।

আহলে সুন্নাহে বিভিন্ন কেতাবে ইমাম মালিকের মতামত উল্লেখ করেছে আমরা এখানে তার কিছু উল্লেখ করছি।

আল হেদায়া খন্ড ২ পাতা ১৬ (বাংলা স্ক্যান)

وقال مالك هو جائز لأنه كان مباحا فيبقى إلى أن يظهر ناسخه

“মালিক বলেছেন এটা জায়েজ,  কেননা এটা মুলত জায়েজ ছিলসুতরাং রহিতকারী সাবস্ত্য হওয়া পর্যন্ত বৈধতা অব্যহত থাকবে” 

হেদায়া হানফিদের কাছে এত বিখ্যাত বই সেটা লেখার প্রয়োজন পড়ে না। হানাফিদের কাছে এটা কুরানের মত অপ্রতিদ্বন্দ্বী।(হেদায়ার ভুমিকা দেখুন)

অনেকে অজুহাত দেয় যে ইমাম মালিক নিজের হাদিসের কেতাব মুয়াত্তায় মুত’আ নিশেদ হয়ে যাওয়ার হাদিস উল্লেখ করেছেন। ফকিহদের ক্ষেত্রে এটার জবাব আমরা হেদায়ার সারাহ আনায়া সারাহ আল হিদায়াতে থেকে পাই।

 وليس كل من يروي حديثا يكون واجب العمل لجواز أن يكون عنده ما يعارضه أو يرجح عليه

“যে হাদিস লিখেছেন তার উপর এটা ওয়াজিব নয় যে সে এই হাদিসের উপর আমল করে কেননা হতে পারে তার কাছে বিপরীত কোন হাদিস আছে যেটা সে প্রাধান্য দেয়”। (খন্ড ৪ পাতা ৩৯২)

কিছু গোড়া লোক বলতে চায় ইজমা দ্বারা মুত’আ রহিত হয়ে গিয়েছে আর ইবনে আব্বাস মত পরিবর্তন করেছিল এর আগে আমরা প্রমান করেছি কোন ইজমা হয়নি এবং সাহাবারা ও তাবেইরা মুতা করেছেন। ইবনে আব্বাস তার মত পরিবর্তন করেনি।

হানফিদের বিখ্যাত মুফতি কাজী খান তার ‘ফতোয়ায় কাজী খান’ এ উল্লেখ করেছেন “বিয়ে সিদ্ধ হয় না মুত’আ এই ব্যাক্যের ব্যবহারে, আমাদের কাছে এটা ভুল এবং জায়েজ নয়, ইবনে আব্বাসের  ও মালিকের মতের বিপরিতে” খন্ড ১ পাতা ১৫১ স্ক্যান

হানাফিদের শামসুল আইম্মা সারখাসী  এর কেতাব ‘আল মাবসুত’ এর খন্ড ৫ পাতা ১৫২ এ উল্লেখ করেছেন। (দারুল মারেফা প্রাকাশীত)

وتفسير المتعة أن يقول لامرأته : أتمتع بك كذا من المدة بكذا من البدل ، وهذا باطل عندنا جائز عند مالك بن أنس وهو الظاهر من قول ابن عباس رضي الله عنه

“…………এবং এটা আমাদের কাছে  বাতিল, কিন্তু জায়েজ মালিক বিন আনাসের কাছে জাহির যে একই বক্তব্য ইবনে আব্বাসের রাদিল্লাহ আনহু”।

আহলে সুন্নাহের ফেকার ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল মুতা হালাল মনে করতেন

 ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের মতে মুত’আ মকরুহ, হারাম নয়।

ইবনে কাদামাহ তার মুগনীতে এর খণ্ড ৭ পাতা ৫৭১ এ উল্লেখ করেছেন

وقال أبو بكر فيها رواية أخرى : أنها مكروهة غير حرام ، لأن ابن منصور سأل أحمد عنها ؟ فقال : يجتنبها أحب إلي ، قال : فظاهر هذا الكراهة دون التحريم

“আবু বকর বলেছেন যে আর একটা বর্ননা আছে যেখানে এটা( মুত’আ) কে মকরুহ মনে করা হয়েছে হারাম নয়, কেননা ইবনে মন্সুর, ইমাম আহমাদকে এই ব্যাপারে জিজ্ঞাস করেছিল।এবং তিনি (ইমাম হাম্বল) বললেন ‘আমার মতে এটাকে না করাই ভালো’। আবু বকর বলেন ‘জাহির যে এই বক্তব্য অনুযায়ী এটা(মুত’আ) অপছন্দনীয় কিন্তু হারাম নয়’।

ইবনে কাসীর তার তাফসীরে মুতার আয়াতের ব্যখ্যায় ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের মতামত তুলে ধরেছেন।

وقد رُويَ عن ابن عباس وطائفة من الصحابة القولُ بإباحتها للضرورة، وهو رواية عن الإمام أحمد بن حنبل، رحمهم الله تعالى

“ইবনে আব্বাস ও একদল সাহাবাদের থেকে এটা বর্ননা করা হয়েছে প্রয়োজনের সময় এটার অনুমতি আছে, আর ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহিমুল্লাহের থেকে ও এইরূপ  বর্ননা আছে”।

আহলে সুন্নাহের ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের কাছে মুত’আ হারাম নয় সুতরাং আহলে সুন্নাহগন কি বলতে চান যে মুত’আ যেনা? যার নির্দেশ রাসুল সাঃ দিয়েছিলেন, সাহাবারা করেছিলেন এবং তাবেইরা করেছেন। তাদের মতে রাসুল সাঃ যেনা করা নির্দেশ দিয়েছিলেন! কত নিকৃষ্ট ধারনা রাসুল সাঃ এর প্রতি এদের। এদিকে হানাফিদের মতেও কেহ যদি মুত’আ করে তবে তার বিয়ে বাতিল হবে না। এবং কোন হদ ও নেই। (দেখুন বিভিন্ন হানাফি ফতোয়ার কেতাব)

না বরং কুরান হাদিস দ্বারা ও বিভিন্ন সাহাবীদের আমল দ্বারা মুত’আ প্রমানিত রাসুল সা: পরেও।

নিরপেক্ষ্য পাঠকদের কাছে বিচারের আবেদন রইল।

(অন্যান্য অধ্যায় পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন)