মুত’আ অস্থায়ী বিবাহ: কুর’আন থেকে আলোচনা 

এখানে খুব সংক্ষেপে মুত’আ এর ব্যাপারে আলোচনা করা হবে। প্রথমে কুরআনের যে আয়াত মুত’আ এর অনুমতি দিয়ে নাজিল হয়েছিল সেটা আলোচনা করা হবে।এই আলোচনা নিম্নক্ত কয়েকটা ভাগে বিভক্ত। সাথে আহলে সুন্নাহ কর্তৃক উত্থাপিত কিছু অজুহাত নিয়েও আলোচনা ও সেগুলোর  জবাব। 

১) মুত’আ এর আয়াতটির শব্দগত আলোচনা।

২) বিভিন্ন সাহাবী এবং তাবে’ঈগন যে বলেছেন এই আয়াত মুত’আ এর জন্য তার রেফারেন্স দেওয়া হবে সুন্নি বই থেকে।

৩) এই আয়াত মুত’আ এর অনুমতি দিয়েছে – সুন্নি মুফাসসিরদের তফসির থেকে রেফারেন্স।

দ্বিতীয় অধ্যায়ে প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তুঃ

৪) হাদিসসমূহ যেখানে রসুল পাক (সঃ) অনুমতি/ নির্দেশ দিয়েছেন মুত’আ এর জন্য।

৫) “হাদীস” সমূহ যেখানে বর্ণিত হয়েছে যে রসুল পাক মুত’আকে পরে নিষিদ্ধ করেছেন- এই হাদিস গুলির খণ্ডন।এবং সেগুলো যে  পরস্পরবিরোধী সেটা দেখানো।

তৃতীয় অধ্যায়ে প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তুঃ

৬) মুত’আ আসলে দ্বিতীয় খলীফা উমার নিষিদ্ধ করেছিলেন তার প্রমান।

চতুর্থ অধ্যায়ে মুত’আ নিয়ে আরো কিছু আলোচনাঃ

সমস্ত লেখায় আহলে সুন্নাহের কিছু প্রশ্নের উত্তর ও দেওয়া হবে।  যেমনঃ 

১)উমার যদি মুত’আ বন্ধ করে থাকেন তবে সাহাবীরা তা মেনে নিলেন কেন?- এর জবাবে দেখানো হবে যে আহলে সুন্নাহ এর চোখে  অনেক মহান সাহাবী/ তাবেঈ তার পরেও মুত’আ করেছেন।

২) মুত’আ জাহিলী যুগের প্রচলিত বিবাহের রীতি ছিল রসুল পাক (সঃ) এটাকে পরের দিকে রহিত করেছেন।– এই উক্তির খণ্ডন । পরিষ্কার হাদিস দ্বারা প্রমান করবো যে এটা জাহিলি যুগের কোন প্রকার রীতি ছিল না।

৩) মুত’আ মদের মতো-এরকম উক্তির খন্ডন ,ইত্যাদি।

 মুতার আয়াতটার শব্দ গত ভাবে আলোচনা।

وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۖ كِتَابَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ ۚ وَأُحِلَّ لَكُمْ مَا وَرَاءَ ذَٰلِكُمْ أَنْ تَبْتَغُوا بِأَمْوَالِكُمْ مُحْصِنِينَ غَيْرَ مُسَافِحِينَ ۚ فَمَا اسْتَمْتَعْتُمْ بِهِ مِنْهُنَّ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ فَرِيضَةً ۚ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا تَرَاضَيْتُمْ بِهِ مِنْ بَعْدِ الْفَرِيضَةِ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا 

[Forbidden to you] are married woman, except what your right hand possesses. This Allah has written for you, and all other women besides these are permitted to you, so that you may seek them out with your wealth, seeking chastity and not fornication. So when you have contracted temporary marriage [istimt’atum] with them, then give them their words. There is no sin on you for whatever you agree to after this. Indeed, Allah is Knowing, Wise.
Al-Qur’an, Surah An-Nisa, Ayah 24

“(হারাম) তোমাদের জন্য বিবাহিত মহিলা,তাদের ছাড়া যাদের উপর তোমাদের ডান হাত প্রসারিত। এটা আল্লাহ তোমাদের জন্য লিখেছেন। আর এই গুলো ছাড়া অন্য মহিলারা তোমাদের জন্য (হালাল), তোমরা তাদেরকে তোমাদের সম্পদের বিনিময় চাইতে পারও, বিবাহে নেওয়ার জন্য অবৈধ বীর্যপাতের জন্য নয়।  আর যাদের সাথে তোমরা মুত’আ (ইস্তিমতাতুম) করেছ তাদেরকে সম্পদ দাও.…………..”

অনেক নব্য মুফাসসির(যারা কোরআন ব্যাখা করেন) এই আয়াতের মধ্যে মুত’আ দেখতে পায় না, তাই একটু ভেঙ্গে বলতে হচ্ছে।

উপরের আয়াতে আল্লাহ্‌ তা’লা এই ইস্তিমতাতুম (اسْتَمْتَعْتُمْ) শব্দ ব্যবহার করেছেন এটা মুত’আ (متعة) এর verbal form.

ভাল করে আয়াতটা পড়লে দেখতে পাবেন যে সাধারণ বিবাহের কথা বলা হচ্ছে তাতে দেনমহর দিতে বলা হচ্ছে (যেমনঃ…তোমরা তাদেরকে তোমাদের সম্পদের বিনিময় চাইতে পারো…।) ।তার পরের অংশে যেখানে  ইস্তিমতাতুম (اسْتَمْتَعْتُمْ)-করার কথা বলা হচ্ছে সেখানে আবারও বলা হচ্ছে যে তাদেরকে (মেয়েদেরকে) ইস্তিমতাতুম (اسْتَمْتَعْتُمْ) –এর বিনিময়ে কিছু সম্পদ (দেনমোহর) দাও। কিছু লোক এই ইস্তিমতাতুমকেকে ভোগ বা সংগম করা অর্থে নিয়েছে কিন্তু ইস্তিমতাতুম কে যদি ভোগ করা বলা হয় তবে এর অর্থ দাঁড়ায় যে যতবার ভোগ করা হবে ততবার কিছু সম্পদ দিতে হবে কারণ এরশাদ হচ্ছে ইস্তামতাতুম এর বিনিময় মোহর দিতে।সুতরাং ভোগ বা সঙ্গম অর্থ করা ননসেন্স ছাড়া কিছুই নয়। আসলে ইস্তিমতাতুম মুতা’আ শব্দের ভার্ব বা ক্রিয়া এর রূপ।

বিভিন্ন সাহাবী তাবে’ঈগন যে বলেছেন এই আয়াত মুত এর জন্য তার রেফারেন্স দেওয়া হবে সুন্নি বই থেকে।

এই আয়াত যে মুত’আ বিয়ের ব্যপারে সেটা প্রমানের জন্য আমার  আহলে সুন্নাহর কয়েকটা তাফসির এর রেফারেন্স দেব।

১) তাফসির ইবনে কাসির। وقد استدل بعموم هذه الآية على نكاح المتعة –এই আয়াত নিকাহ মুতআ কে প্রমানিত ( ইস্তেদাল- দালিল) করে।  (স্ক্যান এর জন্য ক্লিক করুন)

২) তাফসির এ কুরতুবিঃ وقال الجمهور : المراد نكاح المتعة الذي كان في صدر الإسلام অধিক সংখক ( সাহাবি/তাবেঈ/আলেম/তাফসীর কারক) এর মতে এই আয়াত নিকাহ মুতআ এর ব্যাপারে যা ইসলামের প্রথমের দিকে চালু ছিল

৩) তাফসীর এ সালাবিঃ وقال ابن عباس أيضا وغيره إن الآية نزلت في نكاح المتعةইবনে আব্বাস ও অনন্যরা বলেছেন যে এই আয়াত মুতআ বিয়ের জন্য নাজিল হয়েছে।

৪) তাফসির বায়যাবিঃ نزلت الآية في المتعةএই আয়াত মুতা’আ সমন্ধে নাজিল হয়েছে।

৫)দেওবন্দি আলেম তার তাফসির হাক্কানি তেঃ এই আয়াত মুত’আর ব্যপারে, যেটা ইসলামের প্রথম দিকে ছিল,এবং উবাই ইবনে কা’ব, সাঈদ ইবন জুবাইর ও ইবন আব্বাসের কেরাত থেকে এটা প্রমাণিত।( নোটঃ- এঁরা সাহাবী ছিলেন)

৬)ইমাম ইবনে হাজার আসকালানিঃ قال مقاتل نزلت في المتعة মকাতিল বলেন এটা মুত’আর জন্য নাজিল হয়েছে।( মকাতিল-তাবেঈ)

৭) ইমাম নববী  ( আহলে সুন্নাহ এর বড় আলেন যিনি মুস্লিম শরিফ এর ব্যখ্যা লিখেছে) তাঁর মজমু গ্রন্থে লিখেছেন – وقيل في قوله تعالى (فما استمتعتم به منهن فآتوهن أجورهن) المراد نكاح المتعة যেটা বলা হয় যে তার(আল্লাহের) বাক্য “যখন তোমরা মুত’আ করো (ইস্তিমতাতুম (اسْتَمْتَعْتُمْ), তাদেরকে তাদের মোহর দাও” এটা মুত’আ বিয়ের বিষয়।

অনুরূপ ভাবে আপনারা বিভিন্ন তফসীর দেখতে পারেন যেমন তাফসিরে মাযহারি, তাফসির তাবারি, দুররুল মানসুর সুয়ুতি ইত্যাদি।

৮) ইবনে কাসির বিখ্যাত তাবেঈ মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেনঃ وقال مجاهد : نزلت في نكاح المتعة

মুজাহিদ বলেছেন যে এইটা (আয়াত) নাজিল হয়েছে মুত’আ বিবাহের ব্যপারে।

উপরে সামান্য কিছু রেফারেন্স দেওয়া হল এটা প্রমান করার জন্য যে এই আয়াত মুত’আ এর ব্যাপারে নাজিল হয়েছে।

মুতা’আ কুরআনে নাজিল হওয়ার ব্যাপারে অকাট্য দলীলকে অস্বীকার না করতে পেরে কিছু কিছু নাসিবী ঘোর পথে এটা প্রমানের চেষ্টা করে যে কুরআনে অন্য আয়াতের মাধ্যমে মুতা’আ রহিত হয়ে গিয়েছে।

মনসুখের (রহিতের) আয়াত তখনই প্রযোজ্য যখন অনুমতির আয়াত বর্তমান। সুতারং এক্ষেত্রে নাসিবীরা মেনে নিচ্ছে যে কুরআনে মুত’আর অনুমতির আয়াত বর্তমান। এখন আমার দেখবো মুত’আকে সত্যই কি কোন আয়াত রহিত করেছে?

আসলে নাসিবীদের কাছে কোন প্রকৃত দলীল নেই বরং কিছু অজুহাত আছে। সেই অজুহাত গুলি আমরা  উল্লেখ করব আর সেগুলির অসারতা প্রমান করব ইনশাআল্লাহ তা’লা।

অজুহাত ) মুতা বিয়েমুহসিনাত  নয় সুতারং এই বিয়ে বৈধ নয়।

উত্তরঃ মুহাসিনাত বলতে নাসেবীরা যেটা বলতে চাইছেন যে সৎ বা চরিত্রবান, কিন্তু সেটা নয় বরং “মহসিন” যে বিবাহিত দের বোঝানো হয় সেটা দেখাচ্ছি।

আরবি আয়াতকে অন্য ভাষাতে অনুবাদ করে পড়লে যা অবস্থা হয়, নিচে আয়াতটা আবার দেওয়া হল ও আল্লামাহ ইউসুফ আলি এর ইংরেজি অনুবাদ দেওয়া হল।

الْمُحْصَنَاتُ   <<مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۖ كِتَابَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ ۚ وَأُحِلَّ لَكُمْ مَا وَرَاءَ ذَٰلِكُمْ أَنْ تَبْتَغُوا بِأَمْوَالِكُمْ م<<مُحْصِنِينَ>> غَيْرَ مُسَافِحِينَ ۚ فَمَا اسْتَمْتَعْتُمْ بِهِ مِنْهُنَّ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ فَرِيضَةً ۚ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا تَرَاضَيْتُمْ بِهِ مِنْ بَعْدِ الْفَرِيضَةِ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا {24}

[Yusufali 4:24] Also (prohibited are) women already >>married,<< except those whom your right hands possess: Thus hath Allah ordained (Prohibitions) against you: Except for these, all others are lawful, provided ye seek (them in marriage) with gifts from your property,- >>desiring chastity,<< not lust, seeing that ye derive benefit from them, give them their dowers (at least) as prescribed; but if, after a dower is prescribed, agree Mutually (to vary it), there is no blame on you, and Allah is All-knowing, All-wise.

এখানে >> الْمُحْصَنَاتُ<< (মুহসিনাত) এর মানে বিবাহিত মহিলা। দেখুন ভাল করে। যদি মুখাল্লিফিনদের হিসাবে এখানে মুহসিনাত মানে ‘চরিত্রবান’ ধরি তবে আয়াতের মানে এটা দাঁড়ায় যে  চরিত্রবান মেয়েদের বিয়ে করা হারাম!!!!!! কি অবস্থা!!দ্বিতীয় বার ঐ একই শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে সেখানেও বিবাহে নেওয়ার উদ্দেশ্য বলা হচ্ছে। এখানে مُحْصِنِينََ<< غَيْرَ مُسَافِحِينَ <<– ‘বিয়ের উদ্দশ্যে অবৈধ বীর্যপাতের জন্য নয়’ অর্থাৎ যাদের হালাল করা হয়েছে তাদের কে মালের পরিবর্তে বিয়ের উদ্দেশ্যে নিতে বলা হয়েছে। -এই গুলি সব স্থায়ী বিয়ের কথা। আর   مُسَافِحِينَ-‘মুসাফিহিন’ মানে বীর্যপাত,  ‘গাইরে মুসাফিহিন’- মানে ‘অবৈধ বীর্যপাত’ অর্থাৎ এর মানে দাঁড়ায় ‘বিয়ের উদ্দশ্যে , অবৈধ বীর্যপাতের জন্য নয়’। সুতরাং অনেক যেটা বলেন, কামনার , সেটা নয় ।এটার অর্থ অবৈধ বীর্যপাত। এটাকে ‘lust’-কামনা  বলা কিভাবে যায়?

এই বাক্যের পরেই মুত’আর বাক্য আসছে। কুরআন থেকে প্রমানিত যে সাধারণ বিয়েতে আকদ ( কবুল) সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথে মোহর ফরয হয়ে যায়। এমনকি না ছুঁয়েও যদি তালাক দেয় তবেও মোহরের অর্ধেক দিতে হবে।  কিন্তু মুত’আর আয়াতে, বলা হচ্ছে  ‘ যাদের সাথে ইস্তামতা  করেছ তাদেরকে সম্পদ দাও’।  এখানে সম্পদ দেওয়াটা ইস্তামতা এর আকদ করার উপর নির্ভর করে। যদিও আগে ঠিক হয়ে যায় কত মোহর হবে। এই বিষয় পরে আরো বলা হবে।

অজুহাত ) মুতা  Proper Chaste Marriage নয় তাই এটা বৈধ নয়।

উত্তরঃ আহলে সুন্নাহের অজুহাতের মধ্যে এটা একটা অজুহাত যে মুত’আ একটা proper chaste বিবাহ নয় অর্থাৎ একটা সৎ-চরিত্রবান বিবাহ নয়, তাই এটা হারাম । অথচ দেখুন আপনাদের কথা অনুযায়ী রসূল পাক (সাঃ) ‘ improper unchaste  Marriage’বা অসৎ বিয়ের–এর হুকুম দিচ্ছেn!!  কারন এটা কোন ধরনের বিবাদ ছাড়া প্রমানিত যে নবি (সাঃ) মুত’আ বিয়ে করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।  সুতরাং যদি আহলে সুন্নাহ বলে যে মুত’আ বিয়ে সৎ বিয়ে নয় সেক্ষেত্রে তারা আসলে রাসুল (সাঃ) কে অসৎ কাজের নির্দেশ দেয়ার  অভিযোগ করছেন যা এক প্রকার কুফরি।

নিচে কিছু হাদিস উল্লেখ করা হল যেখানে পরিষ্কার ভাবে দেখা যাচ্ছে রাসুল সাঃ মুত’আ করার নির্দেশ দিচ্ছেন। হাদিসগুলো দেওয়ার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র এটা প্রমান করা যে রাসুল (সাঃ) নির্দেশ বা হুকুম দিয়েছিলেন।

১) সুন্নি হাদিস অনুযায়ী রাসুল (সাঃ) মুত’আ করার হুকুম দিয়েছে।

قَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْمُتْعَةِ عَامَ الْفَتْحِ حِينَ دَخَلْنَا مَكَّةَ ثُمَّ لَمْ نَخْرُجْ مِنْهَا حَتَّى نَهَانَا عَنْهَا‏…….‏

“(সাবরাল জুহান্নি) রসূল সাঃ আমাদের মুতার হুকুম দিলেন……………” (أَمَر আমর মানে হুকুম)

Sahih Muslim (Arabic), Kitab al-Nikah, Hadith 3490

http://sunnah.com/muslim/16/27

২) মুসলিম শরিফের হাদিসঃ 

……… سبرة بن معبد أن نبي الله صلى الله عليه وسلم عام فتح مكة أمر أصحابه بالتمتع من النساء

সাবরা বিন মাবাদ বর্ণনা করেছেন যে মক্কা বিজয়ের দিন রসূল সাঃ  তাঁর সাহাবিদের মুতা করার হুকুম দিয়েছেন……………” 

Sahih Muslim (Arabic), Kitab al-Nikah, Hadith 3491

http://sunnah.com/muslim/16/28

উপরে হাদিসগুলোর ব্যাপারে একটা কথা যে নাসেবীরা এই ‘আমর’ أمر  এর ইংরাজিতে অর্থ করেছে ‘অনুমতি’ কিন্তু প্রকৃতপক্ষে أمر  এর মানে হুকুম বা নির্দেশ। প্রশ্ন নাসেবীরা কি লুকাতে চাইছে?

উপরের হাদিসগুলো দেওয়ার উদ্দেশ্য হল যে এটা প্রমান করা রাসুল (সাঃ) মুতা বিবাহের ‘নির্দেশ’ দিয়েছিলেন তার পবিত্র মুখ থেকে।

নিজেদের মনগড়া তফসির করতে গিয়ে কি অবস্থা!! আহলে সুন্নাহের মনগড়া কথা শুনবো যে মুত’আ অসৎ-unchaste!!  নাকি   এটা মানবো যে রসুল (সাঃ)  কোন বাজে কাজের নির্দেশ দেন না। কোনটা মানব??

অজুহাত ) যাদের বিয়ের সামর্থ্য নেই, আল্লাহ তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে অভাবমুক্ত না করা পর্যন্ত তারা যেন সংযম অবলম্বন করে।”— (সূরা আন-নূর: ৩৩)

উপরের অজুহাত দিয়ে আহলে সুন্নাহরা বলতে চায় যে মুত’আ করা যাবে না, সংযম করতে হবে। সুতারং মুত’আ বিয়ে করতে হবে না সংযম পালন করতে হবে।কারণ মুত’আ বিয়েতে সামর্থ্য লাগে না।

উত্তরঃ এটা মুত’আ বিয়েকে কিভাবে রহিত করে ? সামর্থ্য না থাকলে , সংযম করতে বলা হচ্ছে । সাধারণ বিয়েও বিয়ে, সামর্থ্য লাগে। মোহর লাগে।মুতা বিয়ে ও বিয়ে সামর্থ্য লাগে। মোহর লাগে।

আহলে সুন্নাহের এই কথা যে সূরা নুরের ৩৩ আয়াত মুত’আর বিরুদ্ধে বড় আয়াত! দেখুন আপনাদের এই “বড় খোজ” কে রসুলে আকরাম (সাঃ) কেমন ভাবে REFUTE করছেন!

সূরা নুর ৫ম-৬ম হিজরিতে নাজিল হয়েছিল, আর নবী (সাঃ) ৮ম হিজরিতে মক্কা বিজয়ের সময় মুত’আর নির্দেশ দিচ্ছেন!!

সাবরা বিন মাবাদ বর্ণনা করেছেন যে মক্কা বিজয়ের দিন রসূল সাঃ  তাঁর সাহাবিদের মুতা করার হুকুম দিয়েছেন……………  (USC-MSA web (English) reference : Book 8, Hadith 3258)

সুরা নুরঃ৩৩ আয়াত মুতার বিরূদ্ধে আহলে সুন্নাহ জেনে গেলেন, আর রসুল সাঃ নিজে জানলেন না!!!

অন্যদিকে কোন আয়াত দ্বারা অন্য কোন আয়াত রহিত হতে গেলে রাসুল (সাঃ) থেকে হাদিস এ মুতাওয়াতির লাগে যে অমুক আয়াত তমুক আয়াতকে রহিত করে দিয়েছে। এখানে কোন মুফাসসিরের মতামত চলে না কারণ কুরানের আয়াতকে রহিত কোন ছেলে খেলা ব্যাপার নয়।

সমস্ত মুসলিম জানে যে শরিয়তে (স্থায়ী বিয়ে বা অস্থায়ী বিয়ে যেটাই হোক না কেন)  মোহরের কোন সর্বোচ্চ বা সর্বনিম্ন কোন সীমারেখা রাখেনি।

ক)আহলে সুন্নাহ এর মতে লোহার আংটিও মোহর হিসাবে দিয়ে বিয়ে করা যায়।

রসূল (সাঃ )একজনকে বললেনবিয়ে করো এমনকি (মোহর হিসাবে) একটা লোহার আংটি দিয়েও

সহিহ বুখারি  USC-MSA web (English) reference, Vol. 7, Book 62, Hadith 80

খ) আহলে সুন্নাহর মতে এক জোড়া জুতা মোহর দিয়েও বিয়ে করা যায়।

বনু ফাযারাহ এর একজন মহিলা এক জোড়া স্যন্ডেল (মোহর হিসাবে) নিয়ে বিয়ে করেছিল, সুতরাং রসূল সাঃ তাকে বললেন যেতুমি কি নিজেকে নিজের সম্পদকে দিতে চাও এক জোড়া স্যন্ডেলের বিনিময়?’ সে বললহ্যা’, বললেনতিনি  (রসূল আল্লাহ সাঃ) এটাকে স্বীকৃ্তি দিলেন

  • – সুনান আত তিরমিযি খন্ড ১ পাতা ১৫২।

গ) আহলে সুন্নাহর মতে কোন টাকা পয়সা ছাড়াও বিয়ে করা যায়।

কোন কোন ব্যাক্তির সম্পূর্ণ কুরাআন মুখস্ত ছিল আর অন্যদের এর কিছু অংশ মুখস্ত ছিল, এবং তাদের বিয়ে হয়েছিল এইগুলির ভিত্তিতে

–ফাতহুল বারী সারাহ সাহিহ আল বুখারি,ইবনে হাজর আস্কালানি। খন্ড ৯ পাতা ১৭৪।

ঘ) সুন্নি ফিকহার ইমামগণ ইমাম শাফে’ই, ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল, সুফিয়ান সাওরি, ইমাম ইসহাক এর ফতয়া অনুসারে মোহরের কোন সীমারেখা নেই,বরং নিজের কাছে যাই থাক সেটাকেই মোহর হিসাবে ধার্য করা যাবে।

দেখুন ১) মজমা আস সারাহ আল মাহাযিব খন্ড ১৫ পাতা ৪৮২, ইমাম নাবমী।

২)আল মুগনি খন্ড ৬ পাতা ৬৮০, ইবনে কুযাইমাহ।

ঙ) সালাফিদের প্রিয় আলেম ইবনে হাজম তার মুহাল্লা তে লিখেছেনঃ খণ্ড ১ পাতা ৪৯৭

তার সমস্ত সম্পদের মোহর হতে পারে, কম বা বেশী, গম বা যব ইত্যাদির দামেও, এমনকি যেকোন হালাল কাজও যেমন কুরআনের থেকে কিছু শিক্ষা দেওয়া, ঘর বানান বা সেলাইয়ের কাজ এর শিক্ষা দেওয়া ইত্যাদি, যদি তারা এটা মেনে নেয়

সুতরাং উভয় বিয়ের ক্ষেত্রে কোন রকম নিম্ন সীমা নেই।

অজুহাত ) মুতা বিয়ে কামনা চরিতার্থ করার জন্য , সুতারং এটা বৈ্ধ নয়।

উত্তরঃ এর উত্তর আগেই দিয়েছি,  যেখানে পরিষ্কার ভাবে দেখিয়ে দিয়েছি যে মহসিন মানে কি আর -‘মুসাফিহিন’ মানে কি। এখানে অন্য একটা বিষয় একটু যোগ করছি মাত্র।

সুন্নি ফেকাহ অনুযায়ী যুদ্ধবন্দিনীদের সাথে কামনাচরিতার্থ করার জন্য ‘আজল’ করা যায়।(আজল- সংগম করার সময় বীর্যপাতের আগেই লিঙ্গকে বার করে নেওয়াকে বলে)

সাহিহ মুসলিমঃ আবু সিমরা আবু খুদরিকে বললেন আবু সাইদ আপনি কি শুনেছেন নাবি সাঃ আজল স্মম্নধে কিছু বলেছেন? তিনি বললেন হা, আমরা নবী সাঃ এর সাথে বিল মুস্তআলাক এর যুদ্ধে গিয়েছিলাম, আর কিছু সুন্দরী আরবকে মহিলাদের বন্দিনী করলাম,{ আমরা তাদের আমরা তাদের কামনা করলাম কারণ আমরা স্ত্রীদে্র অনুপুস্থিতিতে ভুগছিলাম, আবার আমরা তাদের জন্য মুক্তিপণ এর আশা করছিলাম। ফলে আমার তাদের সাথে সংগম করার সিদ্ধান্ত নিলাম কিন্তু আজল এর মাধ্যমে।}কিন্তু আমরা বললাম যে আমরা এটা করছি কিন্তু রসূল সা; আমাদের সাথে আছেন কেন তাকে জিজ্ঞেস করছি না? ফলে আমরা রসূল সাঃ কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনএটা কনো ব্যপার নয় যে তোমরা এটা করো আর না করো, কারণ প্রত্যেক আত্মা যার জন্মগ্রহণ করার সে জন্মগ্রহণ করবে কিয়ামত সময় পর্যন্ত। http://sunnah.com/muslim/16/147

সুতরাং কামনা চরিতার্থ করার জন্য মুতা বিবাহ এই অজুহাত ধোপে টেকে না। 

অজুহাত ) মুতা মদের মত প্রথমে হালাল ছিল পরে হারাম হয়ে যায়।

এখানে আমরা  নাসিবীদের বলতে চাই যে তার কুরআনের কোন একটা আয়াত আনুক যেখানে মদকে হালাল বলা হয়েছে!! না কুরআনে কোন আয়াত নেই যেখানে মদকে হালাল বলা হয়েছে , তবে মদকে মুত’আর সাথে কিভাবে তুলনা করা হয় ? আসলে এটা বলে সাধারণ জনগণকে ধোঁকা দেয় নাসিবীরা।

দ্বিতীয়ত নাসিবীরা কোন একটা হাদিস আনুক যেখানে রসুল (সাঃ) মদ খেতে আদেশ করছেন। অথচ মুত’আর ক্ষেত্রে কুরআনের আয়াত বিদ্যমান ও রসুলের (সাঃ) এর নির্দেশ বর্তমান।

রসূল (সাঃ) বলেছেন যে-

يقول عنها نبينا – صلى الله عليه وسلم – : ” الخمر أم الخبائث ” ( حديث حسن ذكره الألباني في السلسلة الصحيحة : 1854 )

وقال رسول الله – صلى الله عليه وسلم – : ” الخمر أم الفواحش ، و أكبر الكبائر، من شربها وقع على أمه وخالته وعمته ” ( حديث حسن بشواهده قاله الألباني في السلسلة الصحيحة : 1853 )

মদ উম্মুল খবাইস ( সিলসিলাতুস সাহিহা আল বানী)

রাসুলাল্লাহ বলেনঃ মদ উম্মুল ফওয়াহেশ,এবং সব থেকে বড় গোনাহ,যে কেউ পান করে সে নিজের মা এবং খালা এবং ফফুর সাথে যেনা করে!  ( সিলসিলাতুস সাহিহা আলবানী)

মদ কোন দিনই হালাল ছিল না, কোন নবিদের শরিয়াতেও না, নবী (সাঃ) এর শরিয়াতেও না।মদ প্রথম ইবলিশ বানায় আদম (আঃ) এর জামানায়, জিবরাইল (আঃ) জান্নাত থেকে একটা অঙ্গুরগাছ এনেছিলেন আদম (আঃ) এর জন্য, সেই গাছে আঙ্গুরের রস দিয়ে ইবলিশ মদ বানায়, পরে নুহ (আঃ) এর জামানায় আবার ইবলিশ  মদ বানায়। 

আল্লাহ কুরআনে বলেছেন যারা পূর্বে অতীত হয়ে গেছে, তাদের ব্যাপারে এটাই ছিল আল্লাহর রীতি। আপনি আল্লাহর রীতিতে কখনো পরিবর্তন পাবেন না ৩৩:৬২

কিছু সাহাবী খেতো বলে জোর করে হালাল বলা যায় না। আর মদ হারাম করে আল্লাহ আয়াত নাজিল করেছেন।

প্রশ্নঃ আমরা মুত’আ হালালের ব্যাপারে কুরআনের আয়াত আর অনেক তাফসীর কারকদের তাফসির দিয়েছি। মদ হালাল ছিল বলে কোন একটা মদ হালালের আয়াত আনুন যেখানে সাহাবীগণ, তাবেঈগণ বলেছেন যে এই আয়াত অনুসারে মদ হালাল ছিল।

অজুহাত ) উক্ত আয়াতে মুত’আর কথা বলা হচ্ছে না বরংসুবিধা নেওয়া বলা হচ্ছে বা ‘ভোগ করা’ বলা হচ্ছে  কারণইস্তামতাএর শব্দিক মানেসুবিধা প্রাপ্তহয়।

উত্তরঃ তাফসির কারকগণ নিজেরাই এটা মানে যে “ইস্তামতা” এর শরিয়াতের পারিভাষা মানে মুতা বিয়েকে বলেছেন, সেক্ষেত্রে শুধু মাত্র বিরোধিতা করার জন্যই এই অজুহাত উল্লেখ করে। তবুও নিচে বিশদ জবাব দেওয়া হল।

১) সামান্য ভাষার জ্ঞান যাদের আছে সবাই জানে যে একই শব্দ বাক্যে তার প্রয়োগের উপর ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে। “ইস্তিমতাতুম” শব্দের ক্ষেত্রেও অনুরুপ।

যদি “ইস্তিমতাতুম” শব্দের মানে  “সুবিধাপ্রাপ্ত হওয়া” ধরা হয় তবে পবিত্র কুরআনের এই শব্দের পরে যেটা বলা হয়েছে যে “………সাথে তোমরা মুত (ইস্তিমতাতুম) করেছ তাদেরকে সম্পদ দাও। এখানে তাদেরকে সম্পদ দাও বলা হচ্ছে শুধু সুবিধাপ্রাপ্ত হওয়া এর জন্য? অর্থাৎ আহলে সুন্নাহের কথা মত স্ত্রীদের থেকে সুবিধা নিলে তাদেরকে সম্পদ ( মোহরানা) দিতে হবে! যেটা একেবারে অযৌতিক কথা। আরও এই আয়াতের (“………সাথে তোমরা মুত’আ (ইস্তিমতাতুম) করেছ তাদেরকে সম্পদ দাও”) মানে এটাও দাঁড়াবে যে যতবার সুবিধা নেবে ততবার তাকে সম্পদ দিতে হবে, সেটাও আরও অযৌতিক।কেননা আপনাদের মতে আয়াতে বলা হচ্ছে সুবিধা নিলে বা ভোগ করলে সম্পদ দিতে হবে। অথচ এই আয়াতে আগে স্থায়ী বিয়ের কথ বলা হয়েছে  সেখানে মোহরের কথা আগেই উল্লেখ হয়েছে ঃ

“………তোমরা তাদেরকে তোমাদের সম্পদের বিনিময় চাইতে পারও, বিবাহে নেওয়ার জন্য অবৈধ বীর্যপাতের জন্য নয়।  আর যাদের সাথে তোমরা মুত’আ (ইস্তিমতাতুম) করেছ তাদেরকে সম্পদ দাও……………” 

অপর পক্ষে মোহর ওয়াজিব শুধুমাত্র বিয়ের ‘আকদ’ সম্পন্ন হলে – কবুল ইত্যাদির মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হলে। কোন রকম “সুবিধাপ্রাপ্ত হওয়া” (আহলে সুন্নাহের ভাষায়) এর উপর নির্ভর করে না। যেমন :এবং স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর দিয়ে দাও উপহার হিসাবে…” এমনকি বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর যদি স্ত্রীকে ছোঁয়া না হয় তবুও অর্ধেক মোহর ওয়াজিব, ২ঃ২৩৬-২৩৭ স্ত্রীদেরকে স্পর্শ করার আগে এবং কোন মোহর সাব্যস্ত করার পূর্বেও যদি তালাক দিয়ে দাও, তবে তাতেও তোমাদের কোন পাপ নেই। তবে তাদেরকে কিছু অর্থ দেবে।……………………………আর যদি মোহর সাব্যস্ত করার পর স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দিয়ে দাও, তাহলে যে, মোহর সাব্যস্ত করা হয়েছে তার অর্ধেক দিয়ে দিতে হবে…………”

সুতরাং নাসিবিদের মত অনুযাই “সুবিধাপ্রাপ্ত হওয়া” ধরলে মোহর এর কথা আসত না, মোহর বিয়ের আকদেই ফরজ হয়ে যায়। 

২) দ্বিতীয়তঃ নিচে আমরা  হাদিস উল্লেখে করছি যেখানে “ ইস্তামতা” শব্দকে মুত’আ তথা “Temporary marriage”  হিসাবে নেওয়া হয়েছে।সাহাবিগন এই শব্দকে অস্থায়ী বিয়ে হিসাবেই নিয়েছিলেন।

অ) وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ قَالَ عَطَاءٌ قَدِمَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ مُعْتَمِرًا فَجِئْنَاهُ فِي مَنْزِلِهِ فَسَأَلَهُ الْقَوْمُ عَنْ أَشْيَاءَ ثُمَّ ذَكَرُوا الْمُتْعَةَ فَقَالَ نَعَمِ اسْتَمْتَعْنَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ ‏.‏

Ati’ reported that jibir b. Abdullah came to perform ‘Umra, and we came to his abode, and the people asked him about different things, and then they made a mention of temporary marriage, whereupon he said: Yes, we had been benefiting ourselves by this temporary marriage during the lifetime of the Prophet (ﷺ) and during the time of Abu Bakr and ‘Umar.

সহিহ মুসলিমঃ USC-MSA web (English) reference : Book 8, Hadith 3248

আ) حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنِي الرَّبِيعُ بْنُ سَبْرَةَ الْجُهَنِيُّ، أَنَّ أَبَاهُ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، كَانَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏ “‏ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي قَدْ كُنْتُ أَذِنْتُ لَكُمْ فِي الاِسْتِمْتَاعِ مِنَ النِّسَاءِ وَإِنَّ اللَّهَ قَدْ حَرَّمَ ذَلِكَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ فَمَنْ كَانَ عِنْدَهُ مِنْهُنَّ شَىْءٌ فَلْيُخَلِّ سَبِيلَهُ وَلاَ تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا‏”

O people, I had permitted you to contract temporary marriage with women, but Allah has forbidden it (now) until the Day of Resurrection. So he who has any (woman with this type of marriage contract) he should let her off, and do not take back anything you have given to then (as dower).

সহিহ মুসলিমঃ  USC-MSA web (English) reference Book 8, Hadith 3255

ক)وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ خَوْلَةَ بِنْتَ حَكِيمٍ، دَخَلَتْ عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَقَالَتْ إِنَّ رَبِيعَةَ بْنَ أُمَيَّةَ اسْتَمْتَعَ بِامْرَأَةٍ فَحَمَلَتْ مِنْهُ ‏.‏ فَخَرَجَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَزِعًا يَجُرُّ رِدَاءَهُ فَقَالَ هَذِهِ الْمُتْعَةُ وَلَوْ كُنْتُ تَقَدَّمْتُ فِيهَا لَرَجَمْتُ

Yahya related to me from Malik from Ibn Shihab from Urwa ibn az- Zubayr that Khawla ibn Hakim came to Umar ibn al-Khattab and said, ”Rabia ibn Umayya made a temporary marriage with a woman and she is pregnant by him.” Umar ibn al-Khattab went out in dismay dragging his cloak, saying, “This temporary marriage, had I come across it, I would have ordered stoning and done away with it!

মুয়াত্তাঃ  USC-MSA web (English) reference  Book 28, Hadith 42

(নোটঃ উপরের হাদিস গুলিতে দেওয়া হয়েছে শুধু এটা দেখানর জন্য যে “ইস্তামতা” শব্দটি মুত’আ তথা “অস্থায়ী বিবাহ” হিসাবে সাহাবীগণ অর্থ করত। )

উপরন্ত নিচে আরও কিছু সুন্নি রেফারেন্স দেওয়া হল যে সাহাবী ও তাবেইগণ সূরা নিশা এর আলচ্য আয়াত (২৪ নং) কে যেমন ব্যাখ্যার সহিত পড়তেনঃ

সাহাবীগণ এই ভাবে পড়তেন “فما استمتعتم به منهن إلى أجل مسمى” – অর্থাৎ যাদের সাথে তোমরা মুত (ইস্তিমতাতুম) করেছ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত…………” অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ব্যাখ্যা হিসাবে যোগ করতেন, এটা প্রমান করে যে আয়াতটা মুত’আ এর ব্যাপারে।

i) তাফসির দুররুল মান্সুর।  ii) তাফসির তাবারি। iii) ফাতহুল কাদীর। iv) তাফসির ইবনে কাসির। v) তাফসির রুহুল মানি। vi) তাফসির কাসসাফ। vii) তাফসির এ মাযহারি। viii) তাফসির আহকামুল কুরআন।ix) মুস্তাদরক আল হাকিম।  x) তাফসির হাক্কানি। xi) তাফসির জামে আল বায়ান।

এই মুহূর্তে ৩০ টীর বেশী–এর রেফারেন্স আছে আহলে সুন্নার গ্রন্থ থেকে,  যেখানে বলা হয়েছে সাহাবিরা এই ভাবে পড়তেন “فما استمتعتم به منهن إلى أجل مسمى” – অর্থাৎ যাদের সাথে তোমরা মুত (ইস্তিমতাতুম) করেছ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত…………”। অর্থাৎ “নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত” ব্যাখ্যা হিসাবে যোগ করতেন,

তাফসির এ দুররুল মান্সুরঃ

وأخرج عبد بن حميد وابن جرير وابن الأنباري في المصاحف والحاكم وصححه من طرق عن أبي نضرة قال : قرأت على ابن عباس { فما استمتعتم به منهن فآتوهن أجورهن فريضة } قال ابن عباس : { فما استمتعتم به منهن إلى أجل مسمى } .

বর্ণনা করেছেনঃ  আব্দে বিন হামিদ, ইবনে জরির, ইবনে আনবারি তার মুসহফে, আর হাকিম এটাকে সহিহ সাবস্ত্য করেছেন, আবু নদরা এর মাধ্যমে বলেছেন আমরা  ইবনে আব্বাসের সামনে পড়লাম{ فما استمتعتم به منهن فآتوهن أجورهن فريضةইবনে আব্বাস বললেন{فما استمتعتم به منهن إلى أجل مسمى } অর্থাৎ(ইস্তিমতাতুম) করেছ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত

অনুরূপ ভাবে ইবনে ক’আব ও যুবাইর বিন সাইদ ও এইভাবে পড়তেন “{ فما استمتعتم به منهن إلى أجل مسمى } অর্থাৎ(ইস্তিমতাতুম) করেছ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত।   –মুশহাফ, সুলাইমান বিন আশাস, আবু দাউদ এর ছেলে।

নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া মুতা বিবাহের প্রধান শর্ত আর এটাই প্রমান করে যে এই আয়াত মুত’আ এর জন্য নাজিল হয়েছে। আর এটাও সাহাবী ও তাবেঈনদের এক জামাতের  মুতার পক্ষে আরগুমেন ছিল। 

অজুহাত ) মুতায় তালাক নেই সুতারং এটা তালাকের আয়াত দ্বারা রহিত হয়ে যায়।

উত্তরঃ কেনও? মুত’আ তে তালাক হয় আর প্রথমেই সময় নির্ধারিত হয়ে যায়। সুতরাং চুক্তিবদ্ধ হওয়ার সময় এটা ঠিক হয়ে যায়। এই ভাবেই সাহাবীগণ মুত’আ করেছে। আর রসূল সাঃ অনুমতি দিয়েছেন। সুতরাং মুত’আ সেই ভাবেই হবে যে ভাবে রসুলের যুগে হত।

আরও রসুল সাঃ তালাকের আয়াত নাজিল হওয়ার অনেক অনেক পরেও মুতার নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং তালাকের আয়াত মুতার আয়াতকে রহিত করে দেয় এটা কষ্ট কল্পনা ছাড়া কিছুই নয় যা রাসুল সাঃ এর উপরেই অভিযোগ নির্দেশ করে।

অজুহাত ) সূরা মুমিনিনের আয়াত নং মুতাকে মনসুখ (রহিত) করে দেয়

উত্তরঃ আয়াতটা দেওয়া হলঃ 

إِلَّا عَلَىٰ أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ (২৩:৬)

যে আয়াতটা দেওয়া হচ্ছে মুত’আকে রদ করার জন্য সেটা মক্কায় নাজিল হয়েছে, আর মুত’আ কে রসূল সাঃ মাদিনাতে মক্কা বিজয়ের সময়ও মুত’আ করতে অনুমতি দিচ্ছে। অর্থাৎ  মুখাল্লিফিনরা কি বলতে চান যে রসূল সাঃ জানতেন না এই আয়াত দিয়ে মক্কাতেই মুত’আ নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছে?!!!! অথচ আহলে সুন্নাহ জেনে গেল এই আয়াত মুত’আকে রহিত করে দেয়। 

সুতরাং এই  আয়াত যদি মুত’আ এর রহিত হিসাবে মানা হয় তবে রসুলের সাঃ রসুলত্বের উপর বিশ্বাস কে জলাঞ্জলি দিতে হবে।

তা সত্বেয়ও আমরা  এখানে সুন্নি উলেমাদের উক্তি তুলে ধরছি যেখানে তার পরিষ্কার ভাবে আপনার কথাকে খণ্ডন করেছে। ১, ২,৩…… সিরিয়াল নং ধরে আহলে সুন্নাহের রেফারেন্স দেওয়া হল।

১) “এবং তারা, যারা নিজের স্ত্রী অথবা তাদের ডান হাত যা অধিকার করে তা ব্যতিত নিজের ব্যক্তিগত অংশ/গোপোন অংগ/গোপোন অংশ (private parts) সংরক্ষণ/ হেফাজত করে”;- এই আয়াত এর আলোচনায় আল্লামাহ সাব্বির আহমেদ উস্মান তার “ফাতাহ আল মুসলিম সারহে মুসলিম” গ্রন্থের ভলিউম-৩, পৃষ্ঠা ২২১ এ উল্লেখ করেছেন —- উক্ত আয়াত মক্কায় নাজিল হয়েছে

২) সালাফি/আহলে হাদিসি আল্লামা ওয়াহীদ উদ্দিন জামান, তার লুগাতুল হাদিস খণ্ড ৩ পাতা ১০৫

এই আয়াতটা ‘…স্ত্রীগন যাদের উপর তোমাদের দান হাত প্রসারিত ছাড়াদুটো সূরাতে এসেছে কিন্তু সন্ধেয়বিহীন ভাবে দুটো সুরাই মক্কার। কিন্তু মুত এই আয়াতের নাজিলের পরেও করা হয়েছে (স্ক্যানের জন্য ক্লিক করুন)

৩) আল্লামা ওয়াহীদ উদ্দিন জামান তার বিখ্যাত বুখারির সারাহ, ‘তাইসীরুল বারী সারাহ সাহিহ আল বুখারিতে’ মুত’আ কে এই (২৩:১-৬) আয়াত দ্বারা রহিত কারিদের কথাকে খন্ডন করেছেনঃ

যারা  এই আয়াত  ‘..স্ত্রীগন যাদের উপর তোমাদের ডান হাত প্রসারিত ছাড়াদ্বারা মুতা হারাম বলে তাদের গলতী হয়েছে, কারণ এই আয়াত মক্কার, আর সর্বমতে মুতা এর পরেও হালাল ছিল।   স্ক্যনের জন্য ক্লিক করুন –খন্ড ৬ পাতা ১১১

৪) আল্লামা সাব্বির আহমাদ উস্মানি তার ‘ফাতাহ আল মুলহিম সারাহ মুসলিম’ এর ৩য় খণ্ড ৪৪০ পাতাতে লিখেছেনঃ

নিকাহ মুত একটা হালকা ধরনের বিয়ে এবং এটা মুবাহ ছিল এবং এটাকে হারাম করা হয়েছে সাধারণ ভাবে, যখন এই ধরনের নিকাহ কনো লাভ আনে নাতালাক, উত্তরাধিকার অথবা অন্যান্য অধিকার প্রমানিত হয় না, যেটা সাধারণ বিয়ের ক্ষেত্রে আছে। যদিও একটা দৃষ্টিকোণ থেকে এটা এক ধরনের বিবাহ।মুতার স্ত্রীলোকজাওয়াজ নাকস’ ( ) আর এই জন্যই তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়না, যখন আল্লাহ এই আয়াত নাজিল করলেন ‘‘..স্ত্রীগন যাদের উপর তোমাদের ডান হাত প্রসারিত ছাড়া……….. এই আয়াত মুতাকে বাতিল করে না, মুতার স্ত্রীলোক একভাবে স্ত্রী এর সংজ্ঞা এর মধ্যে আসে, যেমন আমারা প্রমান করেছি যে মুতা ঐসব ক্ষেত্রে প্রযেয্য যেখানে যেনা থেকে নিজে কে আলাদা/বাঁচানো করা যায়। কিভাবে_এই_আয়াতকে_মুতা_নাজাইজ_হওয়ার_প্রমান_হিসাবে_দেওয়া_যেতে_পারে_যেখানে_এই_আয়াত_মক্কার, আর আমাদের জানা অনুসারে কোন আলেম একথা দাবি করেনি মুতা খাইবারের আগে বারণ হয়েছে। যদিও খাইবারের পরে মানা হওয়ার ব্যাপারে উলেমাদের মধ্যে বিভিন্ন মত আছে।  

) তাফসির রুহ আল মাআআনি, আল্লাম আলুসি, ভলিউম১৮, পৃষ্ঠা:

هذه المقامات صريح النقل تعين القول بأن الآية مكية بمعنى أنها نزلت قبل الهجرة وأشكل الإستدلال بها على تحريم المتعة بعد تحليلها بعد الهجرة

“…উক্ত আয়াত টি মক্কায় এবং হিজরত এর পূর্বে নাজিল হয়েছিল, আর যেহেতু হিজরত এর পরে মুতা বিবাহ হালাল হয়েছিল তাই, উক্ত আয়াত মুতা বিবাহের অবৈধতার (হারাম) প্রমান হিসাবে দেওয়া মুসকিল  

স্ক্যান এর জন্য ক্লিক করুন।  অনলাইন লিংক  http://goo.gl/3bkobc 

৬) কিছু কিছু বর্ণনা কারি উক্ত আয়াত এর মাদ্ধমে মুতা বিবাহ (অস্থায়ী বিবাহ) কে নিসিদ্ধ প্রমান কোরতে চান। তারা এই যুক্তি তুলে ধরে যে, একজন মহিলা যার সাথে কেউ দাম্পত্য সম্পর্কে প্রবেশ করেছে অস্থায়ী ভাবে, তাকে না স্ত্রী বলা জায় না দাসী বলা জায়। অবশ্যই সে দাসী নয়, আবার সে স্ত্রীও নয়, কারন একজন স্ত্রীর উপর আরপিত আইনি নিসেধাজ্ঞা তার উপর প্রযোজ্য নয়। সে স্বামীর উত্তরাধিকার হতে পারেনা আবার স্বামী তার উত্তরাধিকার হতে পারেনা।অথবা সাধারন বিবাহের সাথে সম্মন্ধিয় আইন যেমন , ইদ্যত,তালাক বা ভরন পোসন ইত্যাদি আইন দারাও সে শাসিত নয়। অথবা স্বামী দারা এমন প্রতিজ্ঞা করা হয়না যে সে (লোক) তার(মহিলা) সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করবেনা। তাই তাকে দাসী বলা জায়না আবার স্ত্রী বলা যায়না।সাভাবিক ভাবেই তাই সে এই দুই(স্ত্রী,দাসী) এর বাইরে জাদের অন্বেষণ কারী কে কুরআন অপরাধী বলা হয়েছে। এই হল তাদের যুক্তি। এটি একটি জোরাল যুক্তি, কিন্তু একটি দুরবলতার কারনে মুতা নিসিদ্ধ হবার জন্য এই আয়াত টিকে মানা যায়না। মহা নবী (সঃ) মুতা চুড়ান্ত ভাবে নিষেধ করেন মক্কা বিজয় এর বছর। কিতু এর আগে মুতাহ হালাল ছিল যা  অসংখ্য বিশ্বস্ত হাদিস দারা প্রমানিত। যেখানে সর্ব সম্মত ভাবে উক্ত আয়াত মক্কায় নাজিল হয়েছে বলে স্বীকৃত সেখানে এটা কিভাবে হতে পারে যে রাসুল (সঃ) আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা আসার পরেও তা আরোপ করেন নি এবং এই নিষিদ্ধ কাজ হতে দিয়েছেন মক্কা বীজয় এর আগ পর্যন্ত”?

 “সুতারং একথা বলাই  নির্ভুল যে, মুতা হারামের বিষয়ে কুরআন মজীদের কোন সুস্পষ্ট ঘোষণার মাধ্যমে নয় বরং নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের মাধ্যমেই হারাম হয়েছে 

স্ক্যনের জন্য ক্লিক করুন —মাউলানা আবুল আলা মাউদুদি তাঁর তাফসিরে। সূরা ২৩:৬

৭) তাফসীর কাশশাফ, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ২২০, সূরা মুমিনুনের তাফসীরেঃ
যদি জিজ্ঞাসা করো, এই আয়াতের ভিতর কোথাও মুতাহর নিষিদ্ধকরণের ব্যাপারে কোন প্রমাণ আছে কি’?

জবাব হল, না, কারণ নিকাহ আলমুতাহতে একজন মহিলা স্ত্রী বলে গণ্য হবে।    স্ক্যানের জন্য ক্লিক করুন।

উপরের অজুহাত সমূহের অসারতা প্রমান করে আমরা  নিচে আরও কিছু প্রমান দিলাম যে সাহাবিগন মুতাকে  রসুলের সাঃ এর ওফাতের পরেও হালাল মনে করতেন। 

১) আহলে সুন্নার বিখ্যাত আলেম হাফিয ইবন হাজার আস্কালানি যিনি বুখারির ব্যখ্যা সহ প্রচুর বই লিখেছেন যেগুলি আহলে সুন্না নিজেরা শেষ রেফেরেন্স হিসাবে ব্যবহার করেন। তাঁর বই তালখিয আল হাবির এ লিখেছেনঃ খন্ড  ৩ পাতা ৩২৭,৩২৮   বইটি সৌদি আহলে সুন্নাহের অনলাইন লাইব্রেরী থেকে পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।   

قال وقد ثبت على تحليلها بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم جماعة من السلف منهم من الصحابة أسماء بنت أبي بكر وجابر بن عبد الله وابن مسعود وابن عباس ومعاوية وعمرو بن حريث وأبو سعيد وسلمة ومعبد ابنا أمية بن خلف قال وروا جابر عن الصحابة مدة رسول الله صلى الله عليه وسلم ومدة أبي بكر ومدة عمر إلى قرب آخر خلافته قال وروي عن عمر أنه إنما أنكرها إذا لم يشهد عليها عدلان فقط وقال به من التابعين طاوس وعطاء وسعيد بن جبير وسائر فقهاء مكة

নবী সঃ এর ওফাত এর পরে সালাফ এর একটা জামাত এটাকে ( মুত কে) হালাল মনে করত।এর মধ্যে যারা সাহাবারা হলেন আসমা বিনতে আবি বকর,জাবির  আব্দুল্লাহ, ইবনে মাসুদ, ইবনে আব্বাস, মুয়াবিয়া, আমরো বিন হারিস, আবু সাইদ, সালামা, মুওাবেদ বিন উমায়া  তিনি বলেছন জাবির  সাহাবীদের থেকে বর্ণনা করেছেন  যে ( এটা  হালাল ছিল) রাসুল সাঃ এর সময় আবু বকরের সময় আর উমারের  সময়ের কিছু অংশে , এটা বলা হয়েছে যে উমার মানা করেছে যদি  দুজন আদল সাক্ষ্যি না থাকে  সেক্ষেত্রে । কিছু তাবেঈ এটাকে হালাল মনে করতেন যেমন তাউস, আতা,সাঈদ বিন জুবাইর আর মাক্কার আধিকাংশ ফেকাহবিদ।

فأما ما ذكره عن أسماء فأخرجه النسائي من طريق مسلم القري قال دخلت على أمساء بنت أبي بكر فسألناها عن متعة النساء فقالت فعلناها على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم

যেমনটি আসমার (বিন্তে আবু বকর)থেকে বর্ণিত, ( ইমাম) নাসাঈ মুসলিম বিন কারি থেকে বর্ণনা করেছেনআমরা আবু বকরের মেয়ে আসমা এর কাছে গেলাম এবং মহিলাদের সাথে মুত এর ব্যপারে জিজ্ঞেস করলাম, সে বললেন রসুলের জামানাএ আমরা এটা করেছি

২) আল্লামা শওকানির প্রামান্য গ্রন্থ নীল আল আউতার  খণ্ড ৬ পাতা ৫৩, নিকাহ মুতাঃ

ইবনে হযম তার আল মুহাল্লাতে ইবনে আব্বাস ছাড়াও সাহাবিদের একটা জামাত থেকে বর্ণনা করেছেন আর বলেছেনএটা প্রমানিত যে সালাফদের একটা জামাতের কাছে এটা ( মুতা) হালাল ছিল, যেমন আসমা বিনতে আবি বকর, জাবির বিন আব্দুল্লাহ, ইবনে মাসুদ, ইবনে আব্বাস, মুয়াবিয়া, উম্রর বিন আল হুরায়িস, আবু সাইদ এবং সালাম বিন উমায়্যাহ বিন খালাফ………………………… আর তাবেঈদের মধ্যে যারা হালাল বলত যেমন তাউস, আতা এবং সাইদ বিন যুবাইর

৩) ইবনে কাইউম তার এলাম আল মু’আকীন, খন্ড ৩ পাতা ৪৪ঃ

أَنَّ الْمُتْعَةَ أُبِيحَتْ فِي أَوَّلِ الْإِسْلَامِ، وَفَعَلَهَا الصَّحَابَةُ، وَأَفْتَى بِهَا بَعْضُهُمْ بَعْدَ مَوْتِ النَّبِيِّ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

-“মুতা হালাল ছিল ইসলামের প্রথম যুগে এবং সাহাবাগণ এটা করেছেন আর তাদের মধ্যে আনেকেই মুতা কে হালাল মনে করত এমনকি নবী সাঃ এর মৃত্যুর পরেও

অজুহাত ৯) ঈবনে আব্বাস শেষ জিবনে তার মুতা হালালের ফতোয়া থেকে সরে এসেছিল।

ঈবনে আব্বাস যে মুত’আর ফতোয়া থেকে সরে এসেছিলেন সেগুলি একেবারে ভ্রান্ত।

নিছে প্রমান দেওয়া হল। পাঠকদের প্রতি একটু বেশি মনযোগের আবেদন করা হচ্ছে।

সহিহ মুসলিমঃ আরবি হাদিস ২৫০৮

“উরুয়া বলেন আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর মক্কাতে উঠে দাঁড়ালেন ও ভাষণ দিলেন ‘ আল্লাহ কিছু লোকের হৃদয়কে অন্ধ করেদিয়েছেন যেমন তিনি তাদের চক্ষুকে অন্ধ করে দিয়েছেন, তারা মুতার পক্ষয়ে ফতয়া দিচ্ছে’ সে ( আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর) একজনার প্রতি ইঙ্গিত দিচ্ছিল( ইবনে আব্বাসের প্রতি)।ইবনে আব্বাস তাকে ডেকে বললেন ‘তুমি এক রুড় ব্যাক্তি ও জ্ঞানহী্ন- আমার জীবনের কসম, মুত্তাকিদের সরদারের (ইমামুল মুত্তাকি)সময় মুতা করা হত’। ইবনে যুবাইর বলল ‘তবে শুধু নিজের জন্য করো, আর সেটা করলে আমরা  তোমাকে পাথর মারব’

এখানে পাঠকগন নোট করে রাখতে পারে ইমামুল মুত্তাকি হচ্ছে আলি আঃ ।

ইবনে যুবাইর ও ইবনে আব্বাসের মধ্যে  এই বিতর্ক কখন হয়েছিল?

সবার জানা মতে আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর, ইমাম হুসসাইন আঃ ও  অনান্য কিছু সাহাবী ইয়াযিদের বায়াত করেনি।

আর এর মধ্যে ইমাম হুসাইন আঃ কে ইয়াযিদ কারবালাতে শহীদ করে, আর তার পরে ইবনে যুবাইর মক্কাতে নিজের শাসন কায়েম করে। আর পরে ইয়াযিদের বাহিনী মক্কা আক্রমণ করে ইবনে যুবাইরকে হত্যা করে। সুতারং এই বিতর্ক কম পক্ষে ৬১ হিজরির পরে হয়েছে। বুড়ো বয়েসে ইবনে আব্বাস দৃস্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। ইবনে আব্বাসের মৃত্যু ৬৮ হিঃ তে হয়েছিল। সুতরাং এটা ৬১ হিজরির অনেক পরে এবং ৬৮ হিজরির আগে হবে।

ইবনে তাইমিয়ার ছাত্র ইবনে কাইউম তার ‘জাদ আল মাদ’ এর খণ্ড ২ পাতা ১৯০ তে লিখেছেনঃ

“অব্দুর রাজ্জাক বলেছেন মামুর, আউবের থেকে বর্ণনা করেছেন উরুয়া, ইবনে  আব্বাসকে বলল ‘তুমি কি আল্লাহকে ভয় করোনা যে মুত’আ কে অনুমতি দিচ্ছো’? ইবনে আব্বাস উত্তর দিল ‘তোমার মা কে জিজ্ঞেস করো’………”। 

ইবনে হাজর আস্কালানি তার ‘তালখিয আল হাবির’ বইয়ের খন্ড ৩ পাতা ৩২৮ এ লিখেছেন- 

“যেমনটি আসমার থেকে বর্ণিত, ( ইমাম) নাসাঈ মুসলিম বিন কারি থেকে বর্ণনা করেছেন- আমারা(একদল তাবেইদের জামাত) আবু বকরের মেয়ে আসমা এর কাছে গেলাম এবং মহিলাদের সাথে মুত’আ এর ব্যপারে জিজ্ঞেস করলাম, সে বললেন রসুলের জামানাএ আমরা  এটা করেছি”

মুসনাদে আবি দাউদ তিলিয়াসি লিখেছে উপর একই হাদিস লিখেছেন। খন্ড ৩ পাতা ২০৮।

আরও প্রমানঃ

ইমাম বাগভী তার তাফসিরে এই আয়াতের প্রসঙ্গেঃ

وكان ابن عباس رضي الله عنهما يذهب إلى أن الآية محكمة، ويُرخِّص في نكاح المتعة.

“ইবনে আব্বাস বলত এই আয়াত ‘মুহকামাহ’ আর এটা মুতা বিয়েকে অনুমতি দেয়”।

তাফসেরে খাজানে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করা হয়েছে-

فروي عنه أن الآية محكمة وكان يرخص في المتعة

“এটা ‘মুহকামাহ’ আর এটা মুতা বিয়েকে অনুমতি দেয়”।

মুহকামাহ সেই আয়াত গুলইকে বলা হয় যে গুলি রহিত হয়নি।

মুকামাহ মানে কি আহলে সুন্নার ইমাম মানাবি তার ফাইয আল কাদীর ( খন্ড ৪ পাতা ৫০৮) এ লিখছেনঃ

آية محكمة أي لم تنسخ

“ আয়াতে মুহাকামাহ ঐগুলো যেগুলি রহিত হয়নি”।

সুন্নি হাদিসবিদ ও আলেমদের মতে ইবনে আব্বাসের নামে যেগুলো বলা হয় যে তিনি মুতার ফতোয়া থেকে পরে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিল সেগুলি সব দুর্বল ও পরিত্যক্ত।

১) ফাতহূল বারী সারাহ সাহিহ বুখারি , ইবনে হাজর আস্কালানি, হাদিসবিদ ইবনে বাত্তাল থেকে বর্ণনা করেছেনঃ খণ্ড ৯ পাতা ১৫০।

قَالَ اِبْن بَطَّال : رَوَى أَهْل مَكَّة وَالْيَمَن عَنْ اِبْن عَبَّاس إِبَاحَة الْمُتْعَة ، وَرُوِيَ عَنْهُ الرُّجُوع بِأَسَانِيد ضَعِيفَة وَإِجَازَة الْمُتْعَة عَنْهُ أَصَحّ

“মক্কা ও ইয়ামানের লোকেরা ইবনে আব্বাসের থেকে মুত’আর অনুমতির বিষয় বর্ণনা করেছেন, আর তাঁর (ইবনে আব্বাসের) মত পরিবর্তনের বর্ণনা জাইফ( দুর্বল)। কিন্তু তাঁর মুতার অনুমতির বর্ণনা সহিহ”

২) সালাফি দের প্রিয় আলেম শাওকানি তাঁর ‘নীল আল আউতার’ এ উপরের একই কথা লিখেছেন।খন্ড ৬ পাতা ২৭১।

৩) সালাফি ওয়াহাবি ও জামাতি দের সবথেকে প্রিয় হাদিসবিদ আলবানী এরয়া আল ঘলিল খণ্ড ৬ পাতা ৩১৯ঃ

وجملة القول : أن ابن عباس رضي الله عنه روي عنه في المتعة ثلاثة أقوال : الأول : الاباحة مطلقا . الثاني : الاباحة عند الضرورة . والآخر : التحريم مطلقا وهذا مما لم يثبت عنه صراحة بخلاف القولين الأولين فهما ثابتان عنه . والله أعلم

“ইবনে আব্বাস থেকে মুতার ব্যাপারে যে বর্ণনা করা হয়েছে সেটাতে তিনটি অপশন আছেঃ

-তিনি পরিপূর্ণ ভাবে মুতার অনুমতি দিয়েছেন।

– তিনি প্রয়োজনের সময় মুতার অনুমতি দিয়েছেন। 

– তিনি সম্পূর্ণ মুতার (ফতোয়াকে) পরিত্যগ করেছিলেন- আর এইটা প্রমানিত নয়, উপরের দুটি বক্তব্যএর বিরুদ্ধে, যেখানে উপরের দুটি তাঁর থেকে প্রমাণিত”

অজুহাত ১০) ইজমার মাধ্যমে মুত’আ হারাম হয়ে গিয়েছে।

আহলে সুন্নাহের সাথে মুত’আর বিষয়ে কথা বলার সময় তারা প্রায় একটা কথা বলে যে মুত’আ হারাম হওয়ার উপর ইজমা আছে। তারা এই কথা বললেও কোন দলিল নেই। যদি প্রশ্ন করা হয় ইজমা কবে হল? কারা করলো? রাসুল সাঃ এর হাদিস অনুযায়ী ইজমায়ের শর্ত কি কি?  কোন উত্তর নেই, তবে যা বলে সেটা জমহুরের মত ইত্যাদি। কিন্তু কুরানের আয়াতের বিপরিতে ইজমা করা জায়েজ?

উপরে সাহাবা ও তাবেইদের মত দেওয়া হয়েছে সেখানে তারা মুত’আ এর হালাল হওয়ার ব্যাপারে ফতোয়া দিতেন সুতরাং ইজমায়ের কথা ধোপে টেকে না।

যাইহোক এখানে আহলে সুন্নাহের ইজমায়ের কেতাব, যা রেফারেন্স হ্যন্ডবুক হিসাবে ব্যাবহার হয় সেখানে থেকেঃ কিতাব আল ইজমা,ইমাম আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে মঞ্জুর। পাতা ১০১ মুত’আ এর ইজমার ব্যাপারে লিখেছেন।

“এই ব্যাপারে ইজমা সাবিত নয়”(স্ক্যান এর জন্য ক্লিক করুন)

অজুহাত ১১)মুত’আ জাহিলি যুগের বিবাহের একটা রীতি ছিল, রসুলে ধীরে ধীরে এটা কে নিষিদ্ধ করেছিলেন।

উপরের আলচনা থেকে এটা প্রমানিত হয়েছে যে কুরআনের আয়াত দ্বারা ও রসুলের পবিত্র বানী দ্বারা মুত’আ এর প্রচলন হয়েছে, জাহিলি যুগের এই বিয়ে ছিল না। মুতা জাহিলি যুগের বিবাহ ছিল এর পিছনে কোন কুরান ও হাদিসের দলিল নেই।  তা সত্ত্বেও নিচে বুখারির হাদিস দিয়ে তাদের এই জাহিলি চিন্তা ধারাকে রদ করা হল।

সহিহ আল বুখারিঃ قَالَ: أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخْبَرَتْهُ: أَنَّ النِّكَاحَ فِي الجَاهِلِيَّةِ كَانَ عَلَى أَرْبَعَةِ أَنْحَاءٍ: فَنِكَاحٌ مِنْهَا نِكَاحُ النَّاسِ اليَوْمَ: يَخْطُبُ الرَّجُلُ إِلَى الرَّجُلِ وَلِيَّتَهُ أَوِ ابْنَتَهُ، فَيُصْدِقُهَا ثُمَّ يَنْكِحُهَا، وَنِكَاحٌ آخَرُ: كَانَ الرَّجُلُ يَقُولُ لِامْرَأَتِهِ إِذَا طَهُرَتْ مِنْ طَمْثِهَا: أَرْسِلِي إِلَى فُلاَنٍ فَاسْتَبْضِعِي مِنْهُ، وَيَعْتَزِلُهَا زَوْجُهَا وَلاَ يَمَسُّهَا أَبَدًا، حَتَّى يَتَبَيَّنَ حَمْلُهَا مِنْ ذَلِكَ الرَّجُلِ الَّذِي تَسْتَبْضِعُ مِنْهُ، فَإِذَا تَبَيَّنَ حَمْلُهَا أَصَابَهَا زَوْجُهَا إِذَا أَحَبَّ، وَإِنَّمَا يَفْعَلُ ذَلِكَ رَغْبَةً فِي نَجَابَةِ الوَلَدِ، فَكَانَ هَذَا النِّكَاحُ نِكَاحَ الِاسْتِبْضَاعِ. وَنِكَاحٌ آخَرُ: يَجْتَمِعُ الرَّهْطُ مَا دُونَ العَشَرَةِ، فَيَدْخُلُونَ عَلَى المَرْأَةِ، كُلُّهُمْ يُصِيبُهَا، فَإِذَا حَمَلَتْ وَوَضَعَتْ، وَمَرَّ عَلَيْهَا لَيَالٍ بَعْدَ أَنْ تَضَعَ حَمْلَهَا، أَرْسَلَتْ إِلَيْهِمْ، فَلَمْ يَسْتَطِعْ رَجُلٌ مِنْهُمْ أَنْ يَمْتَنِعَ، حَتَّى يَجْتَمِعُوا عِنْدَهَا، تَقُولُ لَهُمْ: قَدْ عَرَفْتُمُ الَّذِي كَانَ مِنْ أَمْرِكُمْ وَقَدْ وَلَدْتُ، فَهُوَ ابْنُكَ يَا فُلاَنُ، تُسَمِّي مَنْ أَحَبَّتْ بِاسْمِهِ فَيَلْحَقُ بِهِ وَلَدُهَا، لاَ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَمْتَنِعَ بِهِ الرَّجُلُ، وَنِكَاحُ الرَّابِعِ: يَجْتَمِعُ النَّاسُ الكَثِيرُ، فَيَدْخُلُونَ عَلَى المَرْأَةِ، لاَ تَمْتَنِعُ مِمَّنْ جَاءَهَا، وَهُنَّ البَغَايَا، كُنَّ [ص:16] يَنْصِبْنَ عَلَى أَبْوَابِهِنَّ رَايَاتٍ تَكُونُ عَلَمًا، فَمَنْ أَرَادَهُنَّ دَخَلَ عَلَيْهِنَّ، فَإِذَا حَمَلَتْ إِحْدَاهُنَّ وَوَضَعَتْ حَمْلَهَا جُمِعُوا لَهَا، وَدَعَوْا لَهُمُ القَافَةَ، ثُمَّ أَلْحَقُوا وَلَدَهَا بِالَّذِي يَرَوْنَ، فَالْتَاطَ بِهِ، وَدُعِيَ ابْنَهُ، لاَ يَمْتَنِعُ مِنْ ذَلِكَ «فَلَمَّا بُعِثَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالحَقِّ، هَدَمَ نِكَاحَ الجَاهِلِيَّةِ كُلَّهُ إِلَّا نِكَاحَ النَّاسِ اليَوْمَ»

৪৭৫১ ইয়াহ্ইয়া ইবনু সুলায়মান আহমদ ইবনু সালিহ্ (রহঃ) উরওয়া ইবনু যুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএর সহধর্মিনী হযরত আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, জাহিলী যুগে চার প্রকারের বিয়ে প্রচলিত ছিল। এক প্রকার হচ্ছে, বর্তমান যে ব্যবস্থা চলতে অর্থাৎ কোন ব্যাক্তি কোন মহিলার অভিভাবকের নিকট তার অধীনস্থ মহিলা অথবা তার কন্যার জন্য বিবাহের প্রস্তাব দিবে এবং তার মোহর নির্ধারণের পর বিবাহ করবে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে, কোন ব্যাক্তি তার স্ত্রীকে মাসিক ঋতু থেকে মুক্ত হওয়ার পর এই কথা বলত যে, তুমি অমুক ব্যাক্তির কাছে যাও এবং তার সাথে যৌন মিলন কর। এরপর তার স্বামী নিজ স্ত্রী থেকে পৃথক থাকত এবং কখনও এক বিছানায় ঘুমাত না, যতক্ষণ না সে অন্য ব্যাক্তির দ্বারা গর্ভবতী , যার সাথে স্ত্রীর যৌন মিলন হত। যখন তার গর্ভ সুস্পষ্টবাবে প্রকাশ হত তখন ইচ্ছা করলে স্বামী তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করত। এটা ছিল তার স্বামীর অভ্যাস। এতে উদ্দেশ্য ছিল যাতে করে সে একটি উন্নত জাতের সন্তান লাভ করতে পারে। ধরণের বিবাহকে নিকাহুল ইস্তিবদাবলা হত। তৃতীয় প্রথা ছিল যে, দশ জনের কম কতিপয় ব্যাক্তি একত্রিত হয়ে পালাক্রমে একই মহিলার সাথে যৌনমিলনে লিপ্ত হত। যদি মহিলা এর ফলে গর্ভবতী হত এবং কোন সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর কিছুদিন অতিবাহিত হত, সেই মহিলা সকল ব্যাক্তিকে ডেকে পাঠাত এবং কেউই আসতে অস্বীকৃতি জানাতে পারত না। যখন সকলেই সেই মহিলার সামনে একত্রিত হত, তখন সে তাদেরকে বলত, তোমরা সকলেই জানোতোমরা কি করেছ! এখন আমরা  সন্তান প্রসব করেছি, সুতরাং হে অমুক! এটা তোমারই সন্তান। মহিলা যাকে খুশি তার নাম ধরে ডাকত, তখন ব্যাক্তি উক্ত শিশুটিকে গ্রহণ করতে বাধ্য থাকত এবং মহিলা তার স্ত্রীরূপে গণ্য হত। চতুর্থ প্রকারের বিবাহ হচ্ছে, বহু পুরুষ একই মহিলার সাথে যৌন মিলনে লিপ্ত হত এবং মহিলা তার কাছে যত পুরুষ আসত, কাউকে শয্যাশায়ী করতে অস্বীকার করত না। এরা ছিল বারবনিতা (পতিতা), যার চিহ্ন হিসাবে নিজ ঘরের সামনে পতাকা উড়িয়ে রাখত। যে কেউ ইচ্ছা করলে অবাধে এদের সাথে যৌন মিলনে লিপ্ত হতে পারত। যদি সকল মহিলাদের মধ্য থেকে কেউ গর্ভবতী হত এবং কোন সন্তান প্রসব করত তাহলে যৌন মিলনে লিপ্ত হওয়া সকল কাফাহ্ পুরুষ এবং একজন কাফাহ্’ (এমন একজন বিশেষজ্ঞ, যারা সন্তানের মুখ অথবা শরীরের কোন অঙ্গ দেখে বলতে পারতঅমুকের ঔরসজাত সন্তান)-কে ডেকে আনা হত সে সন্তানটির যে লোকটি সাথে সাদৃশ্য দেখতে পেত তাকে বলত, এটি তোমার সন্তান। তখন লোকটি সন্তানকে নিজের হিসাবে অস্বীকার করতে পারত না। যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সত্য দ্বীনসহ পাঠানো হল তখন তিনি জাহেলী যুগের সমস্ত বিবাহ প্রথাকে বাতিল করে দিলেন এবং বর্তমানে প্রচলিত শাদী ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দিলেন।

সুতরাং উপরের হাদিস দ্বারা যারা বলেন যে মুত’আ জাহিলি যুগের একটা রীতি ছিল তাদের কথা খন্ডন হয়ে যায়ে কারণ এখানে আয়শা চার ধরনের বিবাহের পূর্ণ আলোচনা করেছেন যা জাহিলি যুগে ছিল, মুতার কোন বর্ননা নেই।

(দ্বিতীয় অধ্যায় পড়ার জন্য ক্লিক করুন)