মুত’আ নিয়ে শিয়া সুন্নি আরো আলোচনা

নাসিবি কতৃক শিয়া হাদিসের অপব্যাবহারঃ

কিছু অর্ধ শিক্ষিত নাসিবি কয়েকটা শিয়া হাদিস উল্লেখ করে বলতে চায় যে শিয়া হাদিসেও মুতা নিষিদ্ধ এর কথা বলা আছে।

নিচে একটা উল্লেখ করা হলঃ

নাসিবি উক্তি

“শিয়াদের নিজেশ্ব হাদিস আলি রাঃ থেকে বর্ণিত আছে যে নবি সাঃ খাইবারের দিন মুতা হারাম করে দিয়েছে। (তাহজিব, খণ্ড ৭ পাতা ২৫১) লেখক বলেছেন যে আলি তাকিয়া করে মিথ্যা বলেছেন। ইস্তিবার এর খন্ড ৩ পাতা ১৪২ এ আলি বলেছেন মুতা হারাম। আবারও তারা আলি এর বিরুদ্ধে তাকিয়া করে মিথ্যা বলেছেন বলে উল্লেখ করেছে”।

নাসিবিগন এই দুটি হাদিস এনে উল্লাসে ফেটে পড়ে ঠিক যেমন ইয়াজিদ (লাঃ) ইমাম হুসাইন আঃ এর মাথা কেটে সামনে রেখে ভেবেছিল আলে রসুল সাঃ কে ধংশ করে দিয়েছেন, এন নাসিবিরা ভাবে আলে মুহাম্মদ সাঃ এর অনুসারিদের ধংশ করা যাবে।

উপরন্তু উপরে যেখান থেকে নাসিবিরা তুলে ধরেছে সেখানেও মিথ্যা বলেছে, শেখ তুসি এই হাদিস কে উল্লেখ করে খন্ডন করে কথনই বলেন নি যে “আলি আঃ তাকিয়া করে মিথ্যা বলেছেন”। এটা নাসিবিদের মিথ্যা উক্তি যেমন নাসিবিদের ধর্মই মিথ্যার উপর বসানো।

শেখ তুসি বলেছেন এটা তাকিয়ার হাদিস। ইমাম আলি আঃ তাকিয়া করেছেন বা মিথ্যা বলেছেন বলে নি। অর্থাৎ এই শব্দ গুলি এক অশিক্ষিত নাসিবি  হাজার ডাবল অশিক্ষিত নাসিবিকে খাওয়াচ্ছে যা তারা মিথ্যায় ভাবে ।

জবাবঃ

১) কোন হাদিস যদি কুরআনের আয়াতের অনুমতি নির্দেশ এর বিপরীতে হয় তবে সে হাদিস পরিতক্ত্য।

নাসিবিরা যেহেতু কুরআন মানে না আর নিজেদের খেয়াল খুশিমত দ্বীন যাপন করে সে ক্ষেত্রে তাদের যত্র তত্র হাদিস যা বানানো ও কুরআন বিরোধী সেগুলি গ্রহন করতে দেখা যায়।

উক্ত হাদিস কুরআনে মুতার আয়াতের অনুমতির বিরুদ্ধে সুতারং ঐ হাদিস পরিত্যক্ত।

অথচ কুরআনে মুতা রহিত করে কোন আয়াত নাজিল হয় নি।

২) আহলে সুন্নার কথা অনুযায়ী কোন হাদিস যোগ্য আলেম দ্বারা ভেরিফাই বা অথরিটিটিভ গ্রন্থে না থাকলে সেটা বিশ্বাস যোগ্য নয় ( সুত্রঃ তোফা ইশ্না আশারি)।

অনুরূপ ভাবে উপরের দুটি হাদিসই কোন শিয়া আলেমদের দ্বারা ‘সাহিহ” কৃত নয় বা কোন শিয়া প্রামান্য কিতাবে নেই।

৩) তাহজিব ও ইসতিবসার এর লেখক শেখ তুসি নিজেই এটা হাদিস কে রিজেক্ট করে দিয়েছে।

“ এই হাদিস তাকিয়ার অন্তর্গত, প্রকৃত পক্ষে এটা শিয়া বিরোধিদের হাদিস, আলেমগন জানেন যে আমাদের ইমানগনদের  মযহাব অনুযায়ী মুতা মুবাহ”। (তাহজিব আল আহকাম, খন্ড ৭ পাতা ২৫১।)

আল্লামাহ মজিলিসি এটাকে রিজেক্ট করে দিয়েছেনঃ আল আখইয়ার খণ্ড ১২ পাতা ৩২

“বোঝা যায় যে এটি যায়েদিদের বানানো যেমন তাদের বেশীর ভাগ হাদিস থেকে বোঝা যায়”।

৪) খাইবারের হাদিস দুর্বল এবং সুন্নি হাদিসঃ

যেহেতু ইমাম আলি আঃ সহ সমস্ত ইমামদের বর্ণনা মুতাকে হালাল  হিসাবে বলা হয়েছে, ফলে খারেজী ও নাসেবিগন ইমাম আলি আঃ থেকে হাদিস বানিয়েছে যে খাইবারের দিন মুতা হারাম করা হয়েছে। এই সুন্নি হাদিস বুখারি, মুসলিম সহ আহলে সুন্নার প্রভুত গ্রন্থে পাওয়া যায়।

এই তথাকথিত হাদিসকে শিয়া আলেমগন উল্লেখ করে রিজেক্ট করে দিয়েছে।

এই হাদিস এর বর্ণনাকারী হুসাইন বিন আলওয়ান এর ব্যাপারে রেজাল আল কাশি ও রেজাল আল কাবির এ উল্লেখ হয়েছেঃ

“সে কুফি আমা”

শিয়া রেজালের ভাষায় আমা মানে সুন্নি এবং তাদের হাদিস রিজেক্টের।

আরও একজন বর্ণনাকারী আমরও বিন খালিদ ও সুন্নি ছিল ( ওয়াসিল আস শিয়া খণ্ড ৩০ পাতা ৪৩৮)

আর সুন্নি রেজাল অনুযায়ী ও সে মিথ্যাবাদি ও মাতরুক ( যে হাদিস বানায়/পরিত্যক্ত) ছিল।

ইবনে হাজার বলেছেন ‘ মাতরুক’।

ইয়াইয়া ইবনে মুইন বলেছেন ‘মিথ্যুক’।

আবু যোহরা বলেছেন ‘সে হাদিস বানাত’।

সুতারং এটা মিথ্যবাদি সুন্নিদের তরফ থেকে বানানো হাদিস সেটা পরিষ্কার ভাবে বোঝা যায়।

অপরদিকে ২০০ এর বেশি শিয়া হাদিস আছে পবিত্র ইমাম আঃ থেকে যে মুতা এর অনুমতির ব্যাপারে।

আল্লামাহ আবুল ফজল আল বাবেলি তার ‘রাসায়েল ফি দিরায়াত আল হাদিস” এর খণ্ড ১ পাতা ৪৮৮ এঃ

“ যদি বিপরীত ধর্মী হাদিস পাওয়া যায় তবে বেশী সংখ্যক হাদিসের উপর জোর দিতে হবে”

উপরের আলোচনা এর সংক্ষিপ্তসারঃ

  • এটা কুরআনের আয়াতের বিরুদ্ধে।
  • এটা মাওলা আলি আঃ সহ ইমামগনদের হাদিসের বিরুদ্ধে।
  • এটা প্রচুর পরিমাণ হাদিসের বিরুদ্ধে।
  • এটা সুন্নি মিথ্যুকদের বানানো, এর বর্ণনা কারিগন সুন্নি মাতরুক।

মরহুম আয়াতুল্লাহ আগা সাইয়েদ আবুল কাশেম আল খুই রাহিমুল্লাহ এই হাদিস উল্লেখ করে তার কিতাব “আল বায়ান ফি তাফসীর আল কুরআন” এর পাতা ৩১৭ তে লিখেছেন।

“ উত্তরঃ প্রথমতঃ ‘আহাদ’ হাদিস মনসুখ করতে পারে না, যেমন আমরা বহুবার উল্লেখ করেছি।

দ্বিতীয়তঃ এই বর্ণনা সমূহ আহলে বাইত আঃ থেকে বর্ণিত মুতাওয়াতির হাদিস এর বিপরীতে যে গুলিতে মুতা হালাল হওয়ার পক্ষে বলা হয়েছে যে নবি সাঃ কক্ষনই এটাকে মানা করে নি”।

http://www.shiaweb.org/quran/bayan/pa63a.html

একই বইয়ের ৩২২ পাতায় তিনি পরিষ্কার ভাবে লিখেছেনঃ

“আলি আঃ থেকে মুতার বারণের ব্যপারে যে সমস্ত বর্ণনা এসেছে সব গুলি সন্ধেয় হীন ভাবে মাওজু (জাল)”।

৫) তাকিয়া ইমাম আলি আঃ এর দ্বারা নয় বরং অন্য  বর্ণনাকারীরঃ

উপরে আগেই লিখেছি আহলুল নওয়াসিব ওয়াল খারেজিন নিজে রা মিথ্যা ভাবে ঢুকিয়ে দিয়েছে যে ইমাম আলি আঃ তাকিয়া করেছে!

অথচ বর্ণনায় কোথাও বলা হয় নি যে ইমাম আলি আঃ তাকিয়া করেছেন।

ফায়েজ আল কাসানি তার আল ওয়াফি এর খণ্ড ৩ পাতা 55 এঃ

“এই ধরনের হাদিসে আলি আঃ এর প্রতি তাকিয়ার কথা বলা অসম্ভব, কিন্তু এটা সম্ভব অন্য বর্ণনাকারীদের পক্ষে”।

মাওলা আলি আঃ বরং খোলা খুলি ভাবে বলেছেন যেঃ

عن عبدالله بن سليمان قال سمعت أبا جعفر (عليه السلام) يقول كان علي (عليه السلام) يقول: لولا ما سبقني به بني الخطاب ما زنى الا شقي

“ আবা জাফার আঃ বলেছেনঃ আলি আঃ এটা বলতেন যে খাত্তাবের পুত্র  যদি এটা মানা না করত তবে খুবই অসৎ চরিত্রের (সাকী) লোক ছাড়া কেউ যেনা করত না”। (আল কাফি খন্ড ৫ পাতা ৪৪৮, সাহিহ হাদিস)

উপরুক্ত হাদিস সুন্নি সুত্রে সুন্নি গ্রন্থে ও উল্লেখ হয়েছে। যেমন তাফসীরে তাবারীতে আলি আঃ থেকে বর্নিত যে ‘উমার যদি মুত’আকে মানা না করতো তবে খুবই অসৎ চরিত্রের লোক ছাড়া কেহই যেনা করতো না’।

স্ক্যানের জন্য ক্লিক করুন।

এখন আমরা যদি হাদিসটার সনদ ( চেন) বিশ্লেষণ করি বোঝা যায় যে যদি তাকিয়ার কথাই ওঠে তবে তাকিয়া যায়েদ বিন আলি (যায়নাল আবেদিন আঃ এর ছেলের) এর পক্ষ থেকে, কারন প্রথম দুই বর্ণনাকারী যারা যায়েদ এর কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন আমা সুন্নি, আমরও বিন খালিদ ও হুসাইন বিন আলওয়ান। সবাই জানে যে যাইদ বিন আলি যাইনাল আবেদিন ওমাইয়াদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন এবং উমায়ারা তাঁকে হত্যা করার জন্য খুজছিল ফলে সুন্নি পরিবেশে সুন্নিদেরকে সুন্নি হাদিস না বর্ণনা করলে উমাইদের হারাম খোর নাসিবিরা তাঁকে ধরিয়ে দিয়ে উমাইয়াদের থেকে ইনাম নিতে পারে।