মুত’আ হাদিস থেকে আলোচনা   

যেহেতু এটা পরিষ্কার ভাবে প্রমাণিত যে রাসুল সাঃ নিজে কুরানের আয়াত অনুযায়ী মুত’আ এর প্রচলন করেছিলেন, তাই আমরা  দুটি হাদিস সমুহ উল্লেখ করবো যেখানে মুত’আ এর নির্দেশ/অনুমতি রসুল সঃ দিচ্ছেন।

আব্দুল্লাহ (ইবন মাসুদ) বর্ণনা করেছেন যেআমরা রসুলের সাথে পবিত্র যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতাম, আর আমাদের সাথে কেউ ( স্ত্রী) থাকত না।সুতারং আমরা বললাম যে আমরা কি হিজড়াদের নিতে পারি? তিনি এটা বারন করলেন, কিন্তু আমাদের মহিলাদের সাথে মুত কারার অনুমতি দিলেন।এবং এটা পড়লেন ‘… যারা তোমরা বিশ্বাস করো( ইমানদার) আল্লাহ্যে ভালোগুলি তোমাদের জন্য হালাল করেছেন তা হারাম করো না, কিন্তু সীমা লঙ্ঘন করো না(:৮৭)

Sahih Bukhari :USC-MSA web (English) reference : Vol. 7, Book 62, Hadith 13   এবং Sahih Muslim :USC-MSA web (English) reference : Book 8, Hadith 3243

জাবির বিন আব্দুল্লাহ সালামা বিন আকঅয়া বলেন রসুল সঃ আমদের কাছে এলেন আমাদেরকে (মহিলাদের থেকে) লাভবান হতে নির্দেশ  দিলেন। অর্থাৎ মুত এর অনুমতি দিলেনে।

Sahih Muslim: USC-MSA web (English) reference : Book 8, Hadith 3247

এখন আমরা  সেই হাদিসগুলি উল্লেখ করবো যেখানে বর্ণিত হয়েছে যে রসুল পাক সাঃ মুত কে পরে নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলেন। এবং সেই গুলির আলচনা করবো।

প্রথমে যে হাদিসটা আহলে সুন্নার ভাইরা উল্লেখ করেন। (রেফারেন্স এর জন্য হাদিস নং গুলির উপর ক্লিক করুন) 

১) মুসলিম শরিফঃ আলি, ইবনে আব্বাসকে বললেন যে খাইবারের ( যুদ্ধের) দিন আল্লহের রসুল মুত আর গৃহপালিত গাধার মাংস খাওয়া চিরকালের জন্য হারাম করেছেন।   

USC-MSA web (English) reference : Book 8, Hadith 3265 

Book #008, Hadith #3265)

(Book #008, Hadith #3266)

(Book #008, Hadith #3267)

এই হাদিসের প্রসঙ্গে একটু আলচনা করে নেওয়া দরকার। খাইবারএর যুদ্ধে জয়লাভের দিন সন্ধ্যায় রসুল সাঃ নিজের তাবু থেকে বার হয়ে দেখলেন যে চারিদিকে ছোট ছোট  আগুন জ্বালিয়ে কিছু রান্না হচ্ছে, নবী সঃ জিগ্যেস করলেন যে ব্যপারটা কি? যখন অবগত হলেন যে গাধার গোস্ত রান্না হচ্ছেন তখন তিনি বললেন যে গৃহপালিত গাধার গোস্ত খাওয়াকে হারাম করা হয়েছে। তখন যারা রান্না করছিলেন হাঁড়িগুলি উলটিয়ে দিলেন। এই বিষয় এটাও বর্নিত হয়েছে যে খুমস আদায়ের আগেই গাধাগুলিকে জাবাহ করে রান্না করা হচ্ছিল তাই হারাম করা হয়েছে। 

যাইহোক এখন প্রশ্ন এই পরিস্থিতিতে তিনি মুত’আ কে কেনো আনবেন, যেটা আপ্রসঙ্গিক।

দেখুন এখানে আমরা খাইবার এর এই ঘটনার অন্যান্য হাদিস সংক্ষেপে তুলে ধরছি, যেখানে অন্য কোন সাহাবী মুতআর কথা বলেনি।

বুখারি থেকেঃ (ইংরাজি অনুবাদের সংখ্যার রেফারেন্স উল্লেখ করা হল)

১) সাহাবী ইবনে আবি আউফা “…………গাধার মাংস খাওয়া চিরকালের জন্য বারন করেছেন (Book#53, Hadith #383)

২) সাহাবী আনাস “…… গাধার মাংস খেতে বারন করেছেন (Book #59, Hadith #510)

৩) সাহাবী ইবন উমার “……খাইবারের দিন গাধার মাংস খেতে নিসেদ করেছেন .  (Book #59, Hadith #528)

৪) সাহাবী জাবির বিন আব্দুল্লাহ খাইবারের দিন আল্লাহের রসুল গাধার মাংস খেতে নিষিদ্ধ করেছেন……” (Book #59, Hadith #530)

৫) সাহাবী আল বারা বিন আযাইব খাইবারের যুদ্ধের সময় রসুল সঃ গাধার মাংস ফেলে দিতে নির্দেশ দেনরান্না করা বা কাঁচা…” (Book #59, Hadith#535)

৬) সাহাবী আল বারা ও ইবনে আবি আউফা ঃ খাইবারের দিন যখন রান্নার পাত্র আগুনের উপর ছিল, রসূল সাঃ বললেন পাত্রগুলি উল্টে দাও(Book #59, Hadith #533)

৬) ইবনে উমার খাইবারের যুদ্ধের দিন রসুল সঃ #রসুন আর গাধার মাংস খাওয়া বারণ করেছেন(Book #59, Hadith #526)

  সংগ্রহতে এই মুহূর্তে ২১ টা হাদিস খাইবার সম্মন্ধে আছে মুসলিম আর বুখারি থেকে সবটাতেই শুধু মাত্র গাধার মাংশ খাওয়ার ব্যপারে । এখানে দেখা যাচ্ছে মোট ৬ জনেরও বেশি সাহাবী খাইবারের এই ঘটনা উল্লেখ করেছেন। সবাই শুধু গাধার মাংসের হারামের কথা বলেছেন– এক মাত্র আলি আঃ থেকে গাধার মাংস এর সাথে মুত’আ হারাম হওয়ার কথা উল্লেখ হয়েছে। সুতরাং আলি আঃ থেকে বর্ণিত হাদিস নিঃসঙ্গ হাদিস। যেটা অন্য হাফ ডজনের ও বেশী  জনের বর্ননা থেকে আলাদা আর এইখানেই উক্ত বর্ণনার ( আলি আঃ এর থেকে মুত’আ হারামের বর্ণনা) দুর্বল হয়ে যাওয়া প্রমাণিত হয়ে।

মজার বিষয় যে লক্ষ্য করুন ৬ নং হাদিসটাতে যেখানে এই খাইবারে #রসুন খাওয়াকে গাধার মাংসের মত হারাম করেছেঅথচ উম্মাতের কেউ বুখারির এই হাদিসটা মানে বলে আমরা  দেখেনি, যদি কেউ দেখে থাকেন তাবে  বলতে পারেন. বরং রসুন আর পেয়াজ দিয়ে ঈদের গোস্ত রান্না না করলে মজাই থাকে না।

যাইহোক উপরের আলচনা থেকে এটা বোঝা গেল যে মুতা’আ নিশেদ হাদিসটার মান কতো টুকু।

খাইবারে হাদিস নিয়ে বিশদ আলোচনা

খাইবারের আল্লাহের রাসুল সাঃ মুতাকে হারাম করেছে আলি আঃ থেকে যা বর্নণা করা হয়েছে এটা নিয়ে আহলে সুন্নাহদের শোরগোল করতে দেখা যায়, এর আগে দেখানো হয়েছে যে এই হাদিসের এক নিষঙ্গ হাদিস এবং খাইবারের পরেও রাসুল সাঃ মুত’আ করার নির্দেশ দিয়েছে। আসলে যেহেতু এটা আলি আঃ থেকে আহলে সুন্নাহরা জাল করেছে আর শীয়ারা আলি আঃ কে মান্য করে তাই এই হাদিসকে দেখিয়ে শিয়াদের বলা হয় যে দেখো তোমরা আলিকে মানো (আঃ) অথচ আলির (আঃ) থেকে হারামের বর্ননা এসেছে। একথা মনে রাখা দরকার আহলে সুন্নাহের বর্নিত হাদিস শীয়াদের জন্য হুজ্জাত নয়, এ সত্ত্বেও এখানে আরো বিশদ আলোচনা করা হলঃ

১)  ঐতিহাসিক ভাবে প্রমান হয় এই হাদিস জাল কারণঃ

  • এই হাদিসে এটা বলা হচ্ছে যে আলি (আঃ) ইবনে আব্বাসকে ডেকে এনে বলছেন যে খাইবারে রাসুল সাঃ মুতাকে হারাম করে দিয়েছেন। অথচ আলি আঃ এর ইন্তেকালের পরে অনেক বছর পর্যন্ত ইবনে আব্বাস জীবিত ছিলেন। আলি আঃ এর শাহাদাত ৪০ হিজরিতে আর ইবনে আব্বাসের ইন্তেকাল ৬৮ হিজরিতে।

আহলে সুন্নাহরা বুখারির এই হাদিকে তুলে ধরে বলে ইবনে আব্বাসের ভুলকে আলি (আঃ) ধরিয়ে দিয়েছিলেন। অথচ এটা সর্বত ভাবে বর্নিত যে ইবনে আব্বাস রাঃ জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মুতা হালালের ফতোয়া দিয়ে গিয়েছেন।

ইবনে আব্বাস শেষ জীবনে মক্কায় থাকতেন আর ইবনে যুবাইর মক্কায় তার নিজের খেলফাত কায়েম করেছিল ইয়জিদের শাষন কালের শেষের দিক থেকে। যা ইমাম হুসাইন আঃ এর শাহাদত ৬১ হিজরিরি পরে। আর তখন ইবনে যুবাইরের সাথে ইবনে আব্বাসের কথা কাটাকাটি হয় মুতা নিয়ে কেননা ইবনে আব্বাস মুতা হালালের ফতোয়া দিতেন। সুতরাং আলির (আঃ) থেকে খাইবারের হাদিস শুনে ইবনে আব্বাস তার ফতোয়া থেকে সরে এসেছিলেন তা যে জাল সেটা প্রমান হয় বরং ইবনে আব্বাস তার ফতোয়া থেকে সরি এসে ছিলেন এটাকে এটা প্রমান করার জন্য এই হাদিসটাকে বানিয়েছে। কিন্তু জাল ধরা পড়ে যখন দেখা যায় ইবনে আব্বাস তার জীবনের শেষ পর্যন্ত মুতা হালালের ফতোয়া দিয়ে এসেছেন।

আল ইসবা, ইবনে হজর আস্কালানী খন্ড ৪ পাতা ৫৬৮ঃ

وقال سعيد بن جبير كان بن عباس يقول إذا جاءنا الثبت عن علي لم نعدل به

“ইবনে আব্বাস বলেছেনঃ আলির থেকে কোন মত পেলে আমরা তার থেকে ( সেই মত থেকে) কোন দিন মতপার্থক্য করে নি”।

আলি আঃ থেকে ইবনে আব্বাসের মত দিয়েছেঃ তাফসীরে দুররুল মানসুর ( সুরা নিশার ২৪ আয়াতের তাফসীরে), আল্লামাহ সুয়ুতিঃ

‘উমার যদি মুত’আকে মানা না করতো তবে খুবই অসৎ চরিত্রের লোক ছাড়া কেহই যেনা করতো না’।

এই একই কথা ইমাম আলি আঃ বলেছেন তা তাবারী উল্লেখ করেছেন, (স্ক্যানের জন্য ক্লিক করুন

২) সুন্নি হাদিস বিদ ও ঐতিহাসিকগণ নিজেরাই খাইরাবের মুত’আ হারামের হাদিসের সঠিকতার ব্যাপারে সন্ধিহান।

ক) উমদাতুল কারী শারাহ বুখারিঃ খন্ড ৮ পাতা ৩১১ঃ

وقال ابن عبد البر وذكر النهي عن المتعة يوم خيبر غلط وقال السهيلي النهي عن المتعة يوم خيبر لا يعرفه أحد من أهل السير ورواة الأثر

“ইবনে আব্দুল বার বলেছেনঃ ‘খাইবারের দিনে মুত’আ নিষেদ হওয়ার কথা ভুল’, আল সহাইলি বলেছেন ‘খাইবারের দিনে মুত’আ হারাম হওয়ার ব্যাপারে ঐতিহাসিকগন ও রেওয়াইতকারীগন দের কেহই অবগত নয়’।

খ) আহলে সুন্নাহের মুহাদ্দেস আবু উমারের মতামত তুলে ধরেছেন বিভিন্ন সুন্নি কেতাবেঃ

وقال أبو عمر: إنه غلط فلم يقع في غزوة خيبر تمتع النساء،

“এটা সম্পুর্ন ভুল। খাইবারের যুদ্ধের মেয়েদের (সাথে) মুত’আ করা সংগঠিত হয়নি”।

শারাহ মুওয়াহিব আল লুদুনিয়া, যারকানী, খন্ড ৩ পাতা ২৮৭

গ) আহলে সুন্নাহের বিভিন্ন কেতাবে আবু আওনাহয়ের সাহিহ থেকে উধৃতি দিয়েছে;

وَقَالَ أَبُو عَوَانَة فِي صَحِيحه سَمِعْت أَهْل الْعِلْم يَقُولُونَ : مَعْنَى حَدِيث عَلِيّ أَنَّهُ نَهَى يَوْم خَيْبَر عَنْ لُحُوم الْحُمُر ، وَأَمَّا الْمُتْعَة فَسَكَتَ عَنْهَا

আমি আহলে ইলমদের থেকে বলতে শুনেছি যে আলির হাদিস যেখানে খাইবারে শুধুমাত্র গৃহপালিত গাধার মাংশ খাওয়া হারাম বলেছে আর মুতার ব্যাপারে নিশ্চুপ(কোন উল্লেখ নেই)”

নিচে কয়েকটা রেফারেন্স দেওয়া হল। পাঠকগন এছাড়া প্রচুর কেতাবে এই কথা পেয়ে যাবেন।

  • ফাতহুল বারি সারাহ সাহিহ আল বুখারি খন্ড ৯ পাতা ১৬৯
  • নীল আল আউতার, শাওকানী খন্ড ৬ পাতা ১৪৬
  • সুনান আল বাইহাকী খন্ড ৭ পাতা ২০১
  • যাদ আল মাদ, ইবনে কাউউম, খন্ড ১ পাতা ৪৪৯

ইবনে কাইউম  ও অন্যান্য আহলে সুন্নাহের আলেমগন বলেছেন যে খাইবারে মুত’আ হয়নি  মুত’আ আহলে কিতাবের মহিলাদের সাথে করা তখন হালাল ছিল না  সুরা মায়েদায় আহলে কিতাবের সাথে বিয়ের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। আর সুরা মায়েদা হচ্ছে সব থেকে শেষের নাজিল হওয়া সুরা।

সাইদ বিন যুবাইর তাবেঈ যিনি গৃপালিত গাধার মাংশ খাওয়া হারাম বলতেন কিন্ত মুতার এর হালালের পক্ষে ফতোয়া দিতেন তার থেকে বর্নিত খাইবারের হাদিস দিয়ে এই আলোচনা শেষ করছি।  সাহিহ আল বুখারী 

২৯৩৪। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … (আবদুল্লাহ) ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খায়বারের যুদ্ধের সময় আমরা ক্ষুধায় কষ্ট পাচ্ছিলাম। খায়বার বিজয়ের দিন আমরা পালিত গাধার দিকে এগিয়ে গেলাম এবং তা যবেহ করলাম। যখন তা হাঁড়িতে বলক আসছিল তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘোষণা দানকারী ঘোষণা দিলঃ তোমরা হাড়িগুলো উপুড় করে ফেল। গাধার গোশত থেকে তোমরা কিছুই খাবে না। আবদুল্লাহ (ইবনু আবূ আওফ) (রাঃ) বলেন, আমরা (কেউ কেউ) বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এজন্য নিষেধ করেছেন, যেহেতু তা থেকে খুমুস বের করা হয় নি। (রাবী বলেন) আর অন্যরা বললেন, বরং তিনি এটাকে নিশ্চিতভাবে হারাম করেছেন। (শায়বানী বলেন) আমি এ ব্যাপারে সাঈদ ইবনু জুবায়র (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, নিশ্চিতভাবে তিনি তা হারাম করেছেন।   https://hadithbd.com/show.php?BookID=1&HadithNo=2934

মুত’আ হারামের বিভিন্ন হাদিসের আলোচনা

দ্বিতীয়ত আমরা  পাঠকবৃন্দকে খাইবারের মুতা’আ হারামের হাদিসটি আবার পড়ার জন্য এখানে উল্লেখ করলাম, নিচের আলচনাতে পরিষ্কার হয়ে যাবে যে হাদিসটা বানানো।

“…আলি, ইবনে আব্বাসকে বললেন যে খাইবারের (যুদ্ধের) দিন আল্লহের রসুল মুত আর গৃহপালিত গাধার মাংস খাওয়া চিরকালের জন্য হারাম করেছেন

এই হাদিসে মুত’আকে চিরকালের জন্য হারাম করা হয়েছে!  খাইবারের যুদ্ধ হয়েছিল ৬স্ট হিজরিতে।

অথচ ৭ম হিজরিতে উমরাতুল ক্বাযা এর সময় আবার মুতার অনুমতি হচ্ছে আর চিরকালের জন্য বারণ হচ্ছে!!

ইবনে হাজর আস্কালানি তার তালখিজ আল হাবির এর খণ্ড ৪ বিষয় নং ১০৬৩ তেঃ ইবনে হাজর আস্কালানি এই হাদিস কে হাসান সাবিত করেছেন।

قال عبد الرزاق في مصنفه عن معمر عن عمرو عن الحسن قال ما حلت المتعة قط إلا ثلاثا في عمرة القضاء ما حلت قبلها ولا بعدها وشاهده ما رواه بن حبان في صحيحه من حديث سبرة بن معبد قال خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فيا قضينا عمرتنا قال لنا ألا تستمتعوا من هذه النساء

আব্দুর রাজ্জাক তার মুসান্নাফ হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন মুতা  না উমরাতুল ক্বাযা এর আগে হালাল ছিল আর না পরে

এখন ৬স্ট হিজরিতে খাইবারে যদি মুত চিরকালের জন্য হারাম হয়ে হিজরিত এ বর্ণনা হচ্ছে যে না তার আগে মুতা হালাল ছিল আর না তার পরে হালাল ছিল!!

উপরে দুবার ৬য় ও ৭ম হিজরিতে মুতা  দুই দুই বার *চিরকালের (!)* জন্য হারাম হলে  তবে ৮ম হিজরিতে মক্কা বিজয়ের সময় সাহাবীরা আবারও কিভাবে মুত’আ করেন আর রসুল পাক সাঃ কিভাবে অনুমতি দেন?

মক্কা বিজয়ের সময় রসুল পাক সাঃ মুতা’আর অনুমতি দিয়েছিলেন এই বিষয় বেশ কিছু হাদিস আছে আমরা   দু-একটা সাহিহ মুসলিম থেকে তুলে ধরছি।

প্রথম হাদিসঃ

সবরাল জুহান্নি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে আল্লাহের রসুল (মক্কা) বিজয়ের বছরে মুত করার অনুমতি দিয়েছিলেন, যখন আমরা মক্কাতে প্রবেশ করেছিলাম, এবং এর থেকে বার হয়েছিলাম রসুল এটাকে( মুত) করতে নিশেদ করেছিলেন যখন

http://www.searchtruth.com/book_display.php?book=008&translator=2&start=0&number=3257#3257

দ্বিতীয় হাদিসঃ

রাবি বিন সাবরা বলেছেন যে তার পিতা রসুলের সাথে মক্কা বিজয়ের সময় যুদ্ধে গিয়েছিলেন। সেখানে আমরা ১৫ দিন ছিলাম আর আল্লহের রসুল আমাদের মুত করার অনুমতি দিয়েছিলেন………………………সুতারং আমরা  তার (একটা মেয়ে) সাথে মুত করলাম, এবং ততক্ষণ পর্যন্ত এর থেকে ( মুতআর থেকে) বার হয় নি যতক্ষণ না রসুল সাঃ এটাকে নিশেদ করলেন।

http://www.searchtruth.com/book_display.php?book=008&translator=2&start=0&number=3253#3253

আহলে সুন্নার হাদিস আনুযাই ৬স্ট ও ৭ম হিজরিতে মুত’আ চিরকালের জন্য  হারাম হয়ে গিয়েছে অথচ ৮ম হিজরিতে রসুল মুত’আ করার অনুমতি দিচ্ছেন!

আরও মজার বিষয় এই ৮ম হিজরিতে মক্কা বিজয়ের সময়ই সুন্নি হাদিস অনুযায়ী রসুল সাঃ মুত কে আবার চিরকালের জন্য হারাম করছেন (!) দেখুন নিছের হাদিস মুসলিম শরীফ থেকে। উপরের প্রথম হাদিস যিনি বর্ণনা করেছেন তার থেকেই হাদিস!

সাবরাল জুহান্নি তার পিতার থেকে বর্ণনা করেছেন যে রসুল সঃ মুত করতে বারণ করেছেন আর বলেছেন যে এটা হারাম আজ থেকে কেয়ামত পর্যন্ত, যদি তোমরা কিছু (মোহর) দিয়ে থাকো তাবে তা ফেরত নিয় না

http://www.searchtruth.com/book_display.php?book=008&translator=2&start=0&number=3262#3262

http://www.searchtruth.com/book_display.php?book=008&translator=2&start=0&number=3255#3255

প্রিয় পাঠক এখনো আশ্চায্যের বাকি আছে। ৮ম-৯বম হিজরিতে আউতাসের (হুনাইন যুদ্ধেরমক্কা বিজয়ের পর) সময় রসুল সাঃ আবারও মুত’আ এর অনুমতি দিচ্ছেন!

সহিহ মুসলিম থেকেঃ 

“আইয়াশ বিন সালামা তার পিতার সুত্রে বর্ণনা করেছেন যে আল্লাহের রসুল সাঃ আউতাসের বছরে ( হুনাইন এর সময়) তিন দিনের জন্য মুত করার অনুমতি দিয়েছেন তার পরে তিনি এটাকে নিশেদ করেলেন

USC-MSA web (English) reference: Book 8, Hadith 3251

https://hadithbd.com/show.php?BookID=2&HadithNo=3288

অনুরূপ ভাবে হাদিস অনুযায়ী প্রমান পাওয়া যায় সাহাবীগন রসুলের অনুমতিতে ৯ম হিজরিতে তাবুকের সময় মুতআকে অনুমতি দিচ্ছেন আবার চিরকালের জন্য হারাম করছেন!

সুন্নি হাদিসে আবার ১০ম হিজরিতে  বিদায় হজের সময় রসুল মুত কে হারাম করছেন।

আশ্চায্যের বিষয়  সুন্নি হাদিস অনুসারে রসুল সাঃ একবার হালাল আবার চিরকালের জন্য হারাম আবার হালাল আবার হারাম আবার হালাল আবার হারাম …ইত্যাদি করতেই থেকেছেন।

সুন্নি উলামরা এখোন ঠিক করে গুনে উঠতে পারেনি তাদের কেতাবে রাসুল সাঃ কতবার মুত’আ তথাকথিত ভাবে হারাম করেছে। কেহ বলেন দু বার অনুমতি দিয়ে হারাম করেছে, কেহ বলে তিন বার কেহ বলে ৭ বার, ৯ বার অনুমতি দিয়ে হারাম করেছে। আল্লাহের আইন নিয়ে যে এরা কি পরিমান খেলা করেছে তা এদের মুতার হাদিস দেখলেই বোঝা যায়। যে যেমন ভাবে পারে মুতা হারাম নিয়ে হাদিস গেঁড়েছে যার যখন মনে হয়েছে তখনকার যে কোন একটা সময় বলে দিয়েছে। উপরের হাদি সমূহ থেকে প্রমান হয় কোথায় কখন মুতা হারাম হচ্ছে তাঁর কোন ঠিকানা নেই।

এটা রসুলের সাঃ এর উপর অস্থির মস্তিষ্কের ( fickle mind) আরোপ ছাড়া কিছু নয়ে। এঁরা রসুল সঃ কে এমন দেখাতে চেয়েছেন যে তিনি কি করেন সেটা নিজেও জানেন না, কি বলেছেন আর কখন কি হারাম করেছেন তা নিজেও ভালো করে জানেন না। একবার হালাল করেন আরেকবার চিরকালের জন্য হারাম করেন আবার হালাল করেন আবার চিরকালের জন্য হারাম………………লাইন চলতেই থাকছে।

আসলে তা নয়- আমাদের প্রয় নবী সাঃ এই সব থকে মুক্ত। রসুল এই ধরেনে  পরস্পর বিরোধী আত্মবিরোধী থেকে মুক্ত। রাসুল সাঃ আল্লাহের আইনের সাথে এই ধরনের মস্করা করা থেকে মুক্ত।

এই মুত’আ হারামের হাদিস  মানুষ বানিয়েছে তাই এর মধ্যে এত বৈপরিত্ত (contradiction)

আল্লাহ্‌ ও তার রসুলের বানির মধ্যে কোন বৈপরিত্ত নেই, কুরআনে দেখুন-

তোমরা কি কুরআনের উপর চিন্তা করোনা? যদি এটা আল্লাহ্ব্যতিত অন্য কারও থেকে আসতো তোমরা এর মধ্যে অনেক বৈপরিত্ব দেখতে পেতে।(:৮২)

বিভিন্ন আহলে সুন্নাহের আলেমগন প্রচুর কষ্ট করেছেন যে জোড়াতালি দিয়ে বিভিন্ন ভাবে হাদিস দ্বারা মুত’আ হারাম হয়েছে সেটা প্রমান করার। তাদের সমস্ত প্রচেষ্টা ও কষ্টের শেষে যা তারা বলতে চেয়েছেন তা অশ্বডিম্ব ছাড়া কিছুই নয়। আল্লাহের আইন সর্বদা সুউচ্চ তার বিপরীতে দিনের শেষে ফাঁকা হাত।

তৃতিয় অধ্যায়ের জন্য ক্লিক করুন।