মুয়াবিয়া মুনাফেক ছিল তার প্রমান   

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَعْمَشِ، ح وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، – وَاللَّفْظُ لَهُ – أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ زِرٍّ، قَالَ قَالَ عَلِيٌّ وَالَّذِي فَلَقَ الْحَبَّةَ وَبَرَأَ النَّسَمَةَ إِنَّهُ لَعَهْدُ النَّبِيِّ الأُمِّيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَىَّ أَنْ لاَ يُحِبَّنِي إِلاَّ مُؤْمِنٌ وَلاَ يُبْغِضَنِي إِلاَّ مُنَافِقٌ ‏.‏

১৪৪ আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা এবং ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আলী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ সে মহান সত্তার শপথ, যিনি বীজ থেকে অংকুরোদগম করেন এবং জীবকুল সৃষ্টি করেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, মুমিন ব্যাক্তই আমাকে ভালবাসবে আর মুনাফিক ব্যাক্তি আমার সঙ্গে শক্রতা পোষণ করবে।

সাহিহ মুসলিম ই ফা হাদিস নং ( অন লাইন) ১৪৪

সাহাবীরা বলেন “আমরা আলী এর প্রতি ঘৃনা দেখে মুনাফেকদেরকে চিনতাম”

*ফাযাইলে সাহাবা , ইমাম হাম্বাল হাদিস নং ১০৮৬
*রিয়াদ আন নাদারা , মুহিবুদ্দিন তাবারি, খণ্ড ৩ পাতা ২৪২

মনের মধ্যে শুধু ঘৃনা রাখলে মুনাফেক হয়ে যায় হাদিস অনুজাই আর যে ঘৃনার বহিঃপ্রকাশ করবে সেট মস্ত বড় মুনাফেক ও ইসলামের শত্রু। মুয়াবিয়া ইমাম আলী আঃ এর সাথে যুদ্ধ করেছিল সিফফিনের যুদ্ধ।

যে ইমাম আলী আঃ এর সাথে যুদ্ধ করে সে রসুল পাক সাঃ এর সাথে যুদ্ধ করে

যে ইমাম আলী আঃ এর সাথে যুদ্ধ করে সে রসুল পাক সাঃ এর সাথে যুদ্ধ করে। #রাসুল সাঃ এর সাথে যুদ্ধকারী মুনাফেক, ইসলামের শত্রু মানবতার শত্রু।

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ الْبَغْدَادِيُّ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ قَادِمٍ حَدَّثَنَا أَسْبَاطُ بْنُ نَصْرٍ الْهَمْدَانِيُّ عَنْ السُّدِّيِّ عَنْ صُبَيْحٍ مَوْلَى أُمِّ سَلَمَةَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِعَليٍّ وَفَاطِمَةَ وَالْحَسَنِ وَالْحُسَيْنِ أَنَا حَرْبٌ لِمَنْ حَارَبْتُمْ وَسِلْمٌ لِمَنْ سَالَمْتُمْ

“যায়েদ বিন আরকম রাঃ বলেছেন ‘ আল্লাহর রসুল সাঃ আলী, ফাতেমা, হাসান ও হুসাইনদের সমদ্ধে বলেছেন আমি তাদের সাথে শান্তি স্থাপন করি যারা এদের সাথে শান্তি স্থাপন করে, আমি তাদের সাথে যুদ্ধরত হই যারা এদের সাথে যুদ্ধ করে”।
• সুনান তিরমিযি (বাব/ অধ্যায় ফাযাইলে ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদ) • মুস্তাদ্রক আলা সাহিহাইন, হাকিম নিশাবুরি। (অধ্যায় মান মানাকিবে আহলে রসুল সাঃ) * সুনান ইবনে মাজা, অধ্যায় ফাযাইলে হাসান ও হুসাইন।

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال : نظر النبي صلى الله عليه و سلم إلى علي و فاطمة و الحسن و الحسين فقال : أنا حرب لمن حاربكم و سلم لمن سالمكم هذا حديث حسن من حديث أبي عبد الله أحمد بن حنبل عن تليد بن سليمان فإني لم أجد له رواية غيرها و له شاهد عن زيد بن أرقم

“ আবু হুরাইরা বর্ণনা করেছেন “ রাসুল সাঃ আলী, ফাতেমা, হাসান আঃ হুসাইনের দিক দৃস্টিপাত করলেন এবং বললেন ‘আমি তাদের যাথে যুদ্ধরত থাকি যারা এদের সাথে যুদ্ধরত হয়, আর আমি তাদের সাথে শান্তি স্থাপন করি যারা এদের সাথে শান্তি স্থাপন করে”।
* ফাদাইলে সাহাবা, খন্ড ২ হাদিস নং 1350, ইমাম হাম্বাল
* মুস্তাদ্রাক ‘আলা সাহিহাইন, হাকিম নিশাবুরি। (অধ্যায় মান মানাকিবে আহলে রসুল সাঃ)

যে আলিকে গালি দিল সে রসুল পাক সাঃ কে গালি দিল

*যে আলিকে গালি দিল সে রসুল পাক সাঃ কে গালি দিলঃ*
যে আমাদের রসূলকে সাঃ কে গালি সে হারামি, অবৈধ বীর্য পাতে অবৈধ গর্ভে জন্মান। ইসলামের শত্রু, মানবতার শত্রু।

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ قَالَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْجَدَلِيِّ قَالَ
دَخَلْتُ عَلَى أُمِّ سَلَمَةَ فَقَالَتْ لِي أَيُسَبُّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ? فِيكُمْ قُلْتُ مَعَاذَ اللَّهِ أَوْ سُبْحَانَ اللَّهِ أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهَا قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ
اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ سَبَّ عَلِيًّا فَقَدْ سَبَّنِي

“আবি আব্দুল্লাহ জাদলি বলেছেন ‘ আমরা উম্মে সালামা (রাঃ) এর কাছে গেলাম, তিনি বললেন ‘তোমাদের মধ্য থেকে রসুল সাঃ কে গালি দিচ্ছো?’ আমারা বললাম ‘মায আল্লাহ , সুবহান আল্লাহ এই ধরনের কোন কিছু, তিনি ( উম্মে সালামা) বললেন আমি রসুল সাঃ কে বলতে শুনেছি ‘যে আলিকে গালি দেয় সে আমাকে গালি দেয়’”।
মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ২৫৫২৩
সুনান আল কাবির, ইমাম নাসাই, খণ্ড ৫, পাতা ১৩৩
ফাযাইলে সাহাবা, ইমাম হম্বাল, হাদিস নং ৯৭৭
মুসতাদাক ‘আলা সাহিহাইন তালখিয যাহাবি হাদিস নং ৪৬১৫
খাসাইশে আলী, ইমাম নাসাই
মাওযাম আল যাওয়াদ
কানযুল আমমাল। আরও অনেক কিতাবে।
মুয়াবিয়া আলী আঃ কে গালি দেওয়ার প্রথা চালু করেছি।
সহিহ মুসলিম, ফাযাইলে আলী অধ্যায়ে।

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ وَتَقَارَبَا فِي اللَّفْظِ قَالَا حَدَّثَنَا حَاتِمٌ وَهُوَ ابْنُ إِسْمَعِيلَ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ مِسْمَارٍ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ أَمَرَ مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ سَعْدًا فَقَالَ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسُبَّ أَبَا التُّرَابِ فَقَالَ أَمَّا مَا ذَكَرْتُ ثَلَاثًا قَالَهُنَّ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَنْ أَسُبَّهُ لَأَنْ تَكُونَ لِي وَاحِدَةٌ مِنْهُنَّ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ حُمْرِ النَّعَمِ

হাদিসটা বড় এখানে প্রথম অংশের অনুবাদ দেওয়া হল।
“মুয়াবিয়া ইবনে সুফিয়ান সা’দকে ‘গভর্নর নিযুক্ত’ করে বললেন কি তোমাকে আবু তোরাবকে (আলী) গালি দিতে বাধা দিচ্ছে? সে ( সা’দ) উত্তর দিল ‘তিনটে জিনিস যেগুলি আমি মনে রেখেছি রসুল সাঃ কে বলতে ফলে আমি তাকে (আলিকে ) গালি দেব না……………”।
উপরের হাদিস থেকে বোঝা যাচ্ছে যে মুয়াবিয়া , সাদ ইবনে আবি ওক্কাস কে কিছু বলার নির্দেশ দিল কিন্তু সাদ তা বলতে অস্বীকার করে। ফলে মুয়াবিয়া জিজ্ঞেস করে কি তোমাকে আলী কে গালি দিতে বাধা দিচ্ছে? তার উত্তরে সাদ বলে যে তিনটি জিনিস যা সে রসুল সাঃ থেকে শুনেছে।
এই একই ঘটনাকে হাফিয ইবনে হজর আস্কালানি তার সারাহ আল বুখারিতে ফাযাইলে আলী এর অধ্যায়ে লিখেছেন।

وعند أبي يعلى عن سعد من وجه آخر لا بأس به قال لو وضع المنشار على مفرقي على أن أسب عليا ما سببته أبدا

“ আবি ইয়ালা সাদের থেকে অন্য একটি সুত্রে বর্ণনা করেছেন যেটা ভুল নয় যে সাদ বলেছেন “ আমার ঘাড়ে যদি করাত রাখা হয় আলিকে গালি দিতে তবুও আমি আলিকে গালি দেব না’”।
নিচে আরও হাদিস দেওয়া হল যে মুয়াবিয়া, ইমাম আলী আঃ কে গালি দেওয়ার প্রথা চালু করেছিল তার গভর্নর দের দিয়ে।

ক) মুহিবুদ্দিন তাবারি রিয়াদুর নাদারা তে মানাকিবে আশায়েরা মুবাশসেরা অধ্যায়ে।
খণ্ড ১ পাতা ২62

عن سعيد قال أمر معاوية سعدا أن يسب أبا تراب فقال أما ما ذكرت ثلاثا قالهن رسول الله صلى الله عليه وسلم

“সাইদ বর্ণনা করেছেন ‘মুয়াবিয়া, সাদকে নির্দেশ দিল আবু তোরাবকে গালি দিতে, ফলে সাদ উত্তর দিল ‘যে সমন্ধে তুমি ( মুয়াবিয়া) বলছ,(অথচ) রসুল সাঃ তিনটি জিনিষ বলেছেন……”।
আহলে সুন্নার ইমাম মুল্লা আলী কারী তার ‘মিরকাত সারাহ মিশকাত’ এ খণ্ড ১৭ পাতা ৪৯৩ তে এটা উল্লেখ করেছে।

খ) ইবনে কাসির আল বসরি সুম্মা দামেস্কি তার বেদায়া ওয়আন নেহায়াতে খণ্ড ৭ পাতা ৩৪১ ( বাংলায় পাতা নং ৬০২) এ লিখেছে। যে ঘটনাটা ইমাম মুসলিম তার সাহিহতে বর্ণনা করেছেন সেটাকে পরিষ্কার ভাবে লিখেছে।  

وقال أبو زرعة الدمشقي : ثنا أحمد بن خالد الذهبي أبو سعيد ، ثنا محمد بن إسحاق ، عن عبد الله بن أبي نجيح ، عن أبيه قال : لما حج معاوية أخذ بيد سعد بن أبي وقاص فقال : يا أبا إسحاق ، إنا قوم قد أجفانا هذا الغزو عن الحج حتى كدنا أن ننسى بعض سننه ، فطف نطف بطوافك . قال : فلما فرغ أدخله دار الندوة ، فأجلسه معه على سريره ، ثم ذكر علي بن أبي طالب فوقع فيه ، فقال : أدخلتني دارك ، وأجلستني على سريرك ، ثم وقعت في علي تشتمه ؟

“ যখন মুয়াবিয়া হজ্জ এ গিয়েছিল সাদের হাত ধরে বলল ‘হে আবি ইসহাক আমার ঐ জনগণ যারা হজকে পরিত্যাগ করেছি যুদ্ধ বিগ্রহের জন্য এমনকি আমরা এর প্রায় সব নিয়ম ভুলে গিয়েছি, সুতারং আমারা আপনার তাওয়াফের অনুকরনে তাওয়াফ করেছি। যখন তারা হজ শেষ করল সে (মুয়াবিয়া) সাদের কাছে আলোচনা ঘরে তার সাথে গদির উপর বসল, তারপর সে (মুয়াবিয়া) আলিকে উল্লেখ করল ও লানত দিল, সাদ বলল ‘ যে তুমি আমাকে তোমার বাড়িতে এনে তোমার সোফাতে বসিয়ে আলিকে গালি দিতে শুরু করেছ”? ( বাংলা স্কানের জন্য ক্লিক করুন

গ) মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা খণ্ড ৭ পাতা ৪৯৬ ও ইবনে মাজা খণ্ড ১ পাতা ৪৫ এ বর্ণনা করেছেন।

عن سعد بن أبي وقاص قال قدم معاوية في بعض حجاته فدخل عليه سعد فذكروا عليا فنال منه فغضب سعد وقال تقول هذا

“হজ্জ থেকে ফেরার পথে সাদ, মুয়াবিয়া ও তার সাথীদের সাথে সাক্ষাৎ হয় এবং আলিকে উল্লেখ করে তখন মুয়াবিয়া আলিকে গালমন্দ করে, ফলে সাদ রাগান্বিত হয়ে বলে ‘তুমি এই রকম বলছ কেন’?

فنال منه)) أي نال معاوية من علي وتكلم فيه

এখন সাদ রাগান্বিত হল কেন? মুয়াবিয়া অবশ্যই আলী আঃ কে প্রশংসা করছিল না!

ঘ) তাবারি তার ইতিহাসে ৫১ হি এর ঘটনার পরিপেক্ষিতে লিখেছেন। (খণ্ড ১৮ পাতা ১২২ ইং অনুবাদ)
“ যখন মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান, মুঘিরা ইবনে শুবাহকে কুফার গভর্নর করলেন জুমাদা ৪১ এ ( সেপ্টেম্বর ২ অক্টবর ৩০ 66১), সে ( মুয়াবিয়া) তাকে ডেকে পাঠাল। আল্লাহের প্রশংসা করার পর বললঃ
‘আর অবশ্যই এক ধরয্যশীল লোককে অতিতে তিরস্কার করা হয়েছে…………বিজ্ঞজনকে আদেশ দেওয়া ব্যতীত এমন কাজ করে যেটা তুমি চাও। যদিও আমি তোমাকে বেশকিছু বিষয়ে উপদেশ দিতে চাই, কিন্তু সেগুলি কে নাইবা বললাম, রবং তোমার উপর ভরসা করলাম আমার খুশির বিষয় গুলিতে।……………। আমি তোমাকে তোমার একটা গুনের ব্যাপারে উপদেশ দিচ্ছি যে আলিকে গালমন্দ ও সমালোচনা করা থেকে বিরত হয়োনা আর উসমানের জন্য আল্লাহের রহমত বর্ষণের ও ক্ষমা প্রার্থনা করা থেকে বিরত হয়োনা।আলী এর সাহাবিদের উপর লজ্জাজনক আবস্থা চালু রাখো, তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখো ও তাদের কথা শুন না………”।
তাবারি তার ইতিহাসে উপরউক্ত খন্ডের ১৪৯ পাতায় লিখেছেন।
“মুয়াবিয়ার দুত তাদের কাছে এল এবং ছয় জনকে ছেড়ে দিতে বলল ও আট জনকে হত্যা করতে নির্দেশ দিল, আর বলল আমাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে তোমাদেরকে সুযোগ দিতে আলিকে ছেড়ে দিতে ও লানাত দিতে। যদি তোমরা এটা করো তবে আমরা তোমাদেরকে ছেড়ে দেব, আর যদি অমান্য করো তবে আমরা তোমাদেরকে হত্যা করবো”।
উপরের ইতিহাস থেকে এটা বোঝা যাচ্ছে যে মুয়াবিয়া কি নির্দেশ দিয়ে তার দুতকে পাঠিয়েছিল।

ঙ) ইমাম হাসান আঃ মুয়াবিয়াকে ইমাম আলী আঃ কে গালি দিতে বারন করছে।
ইমাম হাসান আঃ ও মুয়াবিয়ার সাথে যখন চুক্তি হয় তখন তাতে একটা শর্ত ছিল যে ইমাম আলী আঃ কে গালি দিতে পারবে না।
আল কামিল ফিত তারিখ, ইবন আসির, খণ্ড ৩ পাতা ২৭২
“হাসান, মুয়াবিইয়ার থেকে যে পাঁচ মিলিয়ন কুফার বাইতুল মাল ও দারাবজারদ এর ট্যাক্স এবং আলিকে লানাত না দিতে দাবী করল, মুয়াবিয়া আলিকে লানাত দেওয়াকে মানলো না, ফলে সে ( হাসান) বলল তখন আলিকে না লানত দিতে যখন সে শুনতে পায়। মুয়াবিয়া এটাকে গ্রহণ করল কিন্তু এটা পূর্ণ করতে বিফল হল…………”।

চ) ইমাম যাহাবি তার ‘আল আবার ফি খবর’ এর খণ্ড ১ পাতা ১৮ এ উল্লেখ করেছেন

ثم كتب إلى معاوية على أن يسلم إليه بيت المال وأن لا يسب عليًا بحضرته وأن يحمل إليه خراج فسا ودارابجرد كل سنة

“ অতপর সে (হাসান আঃ) মুয়াবিয়াকে লিখল কুফায়ের বাইতুল মাল দিতে, আলিকে গালি না দিতে আর দারাবজারদের ট্যাক্স প্রত্যেক বছর তাকে দিতে”।

ছ) তাবারি তার তারিখ এ লিখেছেন
“ হাসান, মুয়াবিয়ার সাথে শান্তি চুক্তির শর্ত করে যে তার বাইতুল মাল আরও দারাবজারদের ট্যাক্স এবং আলিকে যেন গালমন্দ না করা হয় যেটা তার কানে আসে।
খণ্ড ১৮ পাতা ৫
ইমাম যাহাবি তার ‘সিয়ার আলাম আন নাবুলা’তে ও লিখেছেন
“……তার (হাসানের) সামনে যেন আলিকে লানত না করে”।

জ) ইবনে কাসির তার ‘আল বিদায়া ও আন নিয়াতে’ খণ্ড ৮ পাতা ১৭ উল্লেখ করেছেন।

فاشترط أن يأخذ من بيت مال الكوفة خمسة آلاف ألف درهم، وأن يكون خراج دار أبجرد له، وأن لا يسب علي وهو يسمع

“হজরত হাসান এই শর্তে খিলাফাতের দাবী পরিত্যাগ করতে রাযী হলেন যে, তাকে কুফার বাইতুল মাল থেকে পঞ্চাশ লক্ষ দিরহাম দিতে হবে, আবজারাদ অঞ্চলের খাজানা দিতে হবে আর আলির প্রতি কোন #গালমন্দ যে না করা হয় যেটা তার কানে আসে”।

সুন্নি অনলাইন প্রপাগন্ডা লাইব্রেরী এর থেকে  লিংক ঃ http://islamport.com/d/3/tkh/1/16/230.html
মুয়াবিয়ার নাপাক বীর্যে লালিত নাসিবিগণ ইবনে কাসিরের এই বর্ণনাকে বিভিন্ন অনলাইন এডিশন থেকে তুলে দিয়েছে। যেমন মহা নাসিবি প্রপাগ্নডা সাইট www.al-eman.com থেকে। যদিও এটা হার্ড কপিতে এখন পাওয়া যায় এবং আরও কিছু সুন্নি অনলাইন লাইব্রেরিতেও পাওয়া যায়।

মুয়াবিয়া আলী আঃ কে গালি ও লানত দিত এই গুলি হাদিস ও তারিখের কিতাব সমূহে প্রচুর বর্ণনা হয়েছে। আমি নিচে আরও দুটি রেফারেন্স উল্লেখ করলাম যেখান মুসলিম শরিফের হাদিস (যেটা আগেই দেওয়া হয়েছে) এর আলোচনা করেছে।
১) কুরতুবি তার “আল মুফহাম’ এর খণ্ড ২০ পাতা ২৫ এ লিখেছেনঃ

وقول معاوية لسعد بن أبي وقاص : ما منعك أن تسب أبا تراب ؛ يدل : على أن مقدم بني أمية كانوا يسبون عليا وينتقصونه

“মুয়াবিয়া, সাদকে যেটা বলেছিল ‘কি তোমাকে আলিকে গালমন্দ করতে বিরত করছে’? তা থেকে বোঝা যায় যে বানী উমাইয়ার প্রথম জেনারেশন আলিকে গালমন্দ করত”।

২) নাসিবিদের সর্দার ইবনে তাইমিয়া তার “মিনহাজ আস শুন্না” এর খণ্ড ৫ পাতা ৪২ এ উল্লেখ করেছেন

وأما حديث سعد لما أمره معاوية بالسب فأبى

“সাদ সমন্ধে যে হাদিস, যাতে মুয়াবিয়া তাকে লানত দিতে বলে কিন্তু সে না করে”।

মধ্যেখানে আলি আঃ এর ফজিলাতে একটা সাহিহ হাদিস উল্লেখ করলাম।

أخبرنا أبو أحمد محمد بن محمد الشيباني من أصل كتابه ثنا علي بن سعيد بن بشير الرازي بمصر ثنا الحسن بن حماد الحضرمي ثنا يحيى بن يعلي ثنا بسام الصيرفي عن الحسن بن عمرو الفقيمي عن معاوية بن ثعلبة عن أبي ذر رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : من أطاعني فقد أطاع الله و من عصاني فقد عصي الله و من أطاع عليا فقد أطاعني و من عصي عليا فقد عصاني
هذا حديث صحيح الإسناد و لم يخرجاه
تعليق الذهبي قي التلخيص : صحيح

রাসুল সাঃ বলেছেন ‘যে আমাকে মান্য করলো সে আল্লাহকে মান্য করলো আর যে আমাকে অমান্য করল সে আল্লাহকে অমান্য করলো, যে আলিকে মান্য করলো সে আমাকে মান্য করল আর যে আলিকে অমান্য করলো সে আমাকে অমান্য করলো”। 

হাকিম নিশাপুরি ও যাহাবী উভয়ই  এই হাদিসকে সাহিহ বলেছেন।

মুয়াবিয়ার রহস্য জনক মর্যাদা

মুয়াবিয়া যখন ক্ষমতায় আসে এবং ক্ষমতার উপর কব্জা করে সেই সময় উমাইয়া পেটুয়াদের দিয়ে মসজিদে মসজিদে হাদিস বানিয়ে বলা হত যেখানে মুয়াবিয়ার কিছু কিছু শান বর্ণনা করা হত। আর রাজ শক্তির বলে সেই সব রাষ্ট্রের সমস্ত অঞ্চলে পাঠিয়ে দেওয়া হত।

শুধু তাই নয় ইমাম আলী আঃ এর নামে যে সব হাদিস পাক রাসুল সাঃ বলেছেন সেগুলি মুয়াবিয়ার নামে চালনা করা হত।
এই রকম এক জাল বানানো হাদিস যে রসুল সাঃ দোয়া করেছেন যে *আল্লাহ মুয়াবিয়াকে ‘হাদি’ বানিয়া দাও…।*
হাদি মানে গাইড আল্লাহের তরফ থেকে পথপ্রদর্শক, যে হাদি হবে তাকে মাহদি হতে হবে মাহদি মানে হেদায়াত প্রাপ্ত। যে আল্লাহের তরফ থেকে হেদায়াত প্রাপ্ত হয় সেই অন্যদের জন্য হাদি হয়।

নাসিবি ও মুয়াবিয়ার অবৈধ সন্তানরা এই তথা কথিত হাদিস কে জোরে শোরে বলে মুয়াবিয়ার ক্রাইম কে লুকবার চেস্টা করে।
এখন নাসিবিদের কাছে প্রশ্ন এমন কোন ইতিহাস দেখাতে পারবে যেখানে রসুল পাক সাঃ মুয়াবিয়াকে লোক জনের কাছে হেদায়াত করতে পাঠিয়েছিল?

প্রথমে আমি এই তথাকথিত হাদিস নিয়ে আলোচনা করব।
১) আল্লামা মুবারাকপুরি এই হাদিসের হাসিয়াতে ইবনে আব্দুল বার এর বর্ণনা তুলে ধরেছেন “হাফেজ ইবনে আব্দুল বার বলেছেন “তার সাহাবিয়াতের প্রমান নেই আর তার সনদ সহিহ নয়”
অর্থাৎ বর্ণনা কারী আব্দুর রহমান ইবনে আবি উমাইরা এর সাহাবিয়াত প্রমাণিত নয় অর্থাৎ সে নবি পাক থেকে শোনে নি,
২) হাসসান সাক্কাফ তার ‘তানাকুদাত আল আল আল্বানি’ এর খণ্ড ২ পাতা ২২৮ এ লিখেছেন।
“আব্দুর রহমান ইবনে আবি উমাইরা থেকে মরফু হাদিস ( হে আল্লাহ তাকে হেদায়াত কর আর তাকে হাদি বানাও) মুয়াবিয়ার সমন্ধে, এটা কোন উপায় সহিহ নয়”।
৩) ইবনে আবি হাতিম তার ‘এলাল আল হাদিস’এ খণ্ড ২ পাতা ৩৬২ এ লিখেছেন।
“আব্দুর রহমান বিন আবি উমাইরা এই হাদিস রাসুল সাঃ এর থেকে শোনেনি”।
ইমাম যাহাবি তার ‘সিয়ার আলাম আন নাবুলা’তে খণ্ড ৩ পাতা ১২৬ এ
“ সনদ বিচ্ছিন্ন”
খুবই দুঃখ জনক ভাবে নাসিবিদের লজ্যা এখানেই শেষ নয়!

মুয়াবিয়ার শানে রচিত একটাও হাদিস সহিহ নয়

ক) ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ুতি তার কিতাব ‘আল লাইলে আল মাসনুয়া খণ্ড ১ পাতা ৪২৪
ইবনে জাওজি তার ‘আল মাওযুয়াত’ এর খণ্ড ২ পাতা ২৪ এ লিখেছেন।

قال الحاكم سمعت أبا العباس محمد بن يعقوب بن يوسف يقول سمعت أبي يقول سمعت إسحق بن إبراهيم الحنظلي يقول لا يصح في فضل معاوية حدي

“…… ইসহাক বিন ইব্রাহীম বলেছেন ‘ মুয়াবিয়ার শানে কোন সহিহ হাদিস নেই’”।
খ) মুহাদ্দিস শেইখ আব্দুল হক দেহলবি তার ‘শারাহ মিসকাত শরীফ’ এখন খণ্ড ৪ পাতা ৭১৬ এ মুয়াবিয়ার শানে কয়েকটা হাদিস বর্ননা করে লিখেছেন এই তথা কথিত ‘হাদি’ ‘হাদিস’ ও উল্লেখ করে লিখেছেন।
“জামে আল উসুল এ বহু মুহাদ্দিস আলেম এটা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে মুয়াবিয়ার শানে একটা ও সাহিহ হাদিস নেই”

গ) ইমাম যাহাবি তার ‘সিয়ার আলাম আন নাবুলা’তে খণ্ড ৩ পাতা ১৩২ তে লিখেছেন।

الأصم حدثنا أبي سمعت ابن راهويه يقول لا يصح عن النبي صلى الله عليه وسلم في فضل معاوية شيء

“ ইসহাক ইবনে রাওয়াই বলেছেন ‘মুয়াবিয়ার শানে একটাও সহিহ হাদিস নেই”

ঘ) শাওকানি তার ‘ফাও্যাইদ আল মুজমু’আ’-এর ১৪৭ পাতাতে লিখেছেনঃ-
“ইবন হেব্বান বলেছেন মুয়াবিয়ার শানে সমস্ত হাদিস জালি”।

ঙ) আল্লামা বদ্রুদ্দিন ‘আইনি তার সারাহ বুখারি উমদাতুল কারী এর খণ্ড ৭ পাতা ৯৯৪ এ লিখেছেনঃ

فإن قلت قدر ورد في فضيلته احاديث كثيرة. قلت نعم ولكن ليس فيها حديث يصح من طريق الإسناد نص عليه إسحاق بن راهويه والنسائي وغيرهما ، فلذلك قال باب ذكر معاوية ولم يقل فضيلة ولا منقبة

“যদি তুমি বল যে মুয়াবিয়ার শানে অনেক হাদিস বর্ণনা হয়েছে, তবে আমি বলব হা কিন্তু সেগুলির একটাও সহিহ সনদ সহ বর্ণিত হয়নি আর এটাই ইসহাক ইবনে রাওয়াই এবং নাসাই ও অন্যান্যরা বলেছেন। আর সেই জন্যই তিনি (বুখারি) বাবের নাম রেখেছেন ‘জিকরে মুয়াবিয়া’- মুয়াবিয়ার বর্ণনা, মুয়াবিয়ার গুলাবলি বা মুয়াবিয়ার মর্যাদা রাখেন নি”।
পাঠকগন অবগত আছে যে বুখারি তার সাহিহতে সাহাবিদের মর্যাদা বর্ণনা করতে গিয়ে যে সমস্ত বাব ( অধ্যায়) গঠন করেছে তার নাম সাধারণত ‘মানাকিব’ বা ফাযাইল শুরু করেছেন। কিন্তু মুয়াবিয়ার ক্ষেত্রে শুধু মাত্র লিখেছেন “জিকরে মুয়াবিয়া’ মানে মুয়াবিয়ার আলোচনা।

একই বিষয় হাফেজ ইবনে হাজর আস্কালানি তার ‘ফাতহুল বারী সারাহ সাহিহ আল বুখারি’ এর খণ্ড ৭ পাতা ১০৪ এ লিখেছেন।
“বুখারি মুয়াবিয়ার অধ্যায়ে বাবের নাম দিয়েছেন ‘জিকরে মুয়াবিয়া’ ( মুয়াবিয়ার আলোচনা) কিন্তু তিনি ‘মনাকিব’ ( মর্যাদা) বা ‘ফাযাইল’ (প্রশংসা/গুণাবলী) লেখেননি কেননা এই হাদিস দিয়ে ‘মনাকিব’ বোঝান যায় না………ইবনে আবি আসিম মুয়াবিয়ার মনাকিবে একটা বই লিখেছেন তেমন উমার গুলাম সালাবি ও আবু বকর আল নাক্কাস, কিন্তু ইবন যাওযি তার ( কিতাব) ‘মাওযুয়াত’ এ কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন যেগুলি আগে উল্লেখিত আলেমরা লিখেছেন তারপর ইসহাক ইবনে রাওয়াই এর উক্তি উল্লেখ করেছেন যে “মুয়াবিয়ার শানে কোন সাহিহ হাদিস নেই’। আর এই কারনেই বুখারি (মুয়াবিয়ার ক্ষেত্রে বাবের নাম) প্রশংসা রাখেনি করেন নি”।

চ)ইমাম কাস্তালানি তার ‘সারাহ বুখারি ইরসাদ আস সারি’ এর খণ্ড ৬ পাতা ১৪১ এ
“তিনি (বুখারি) মুয়াবিয়ার ‘মর্যাদা’ বা ‘গুণাবলী বলে অধ্যায়ের নাম রাখেনি নিন্দা হিসাবে”

ছ) আরও এক নাসিবি ইবনে খালিক্কান তার ‘তারিখ’ এ খণ্ড ১ পাতা ৩৫ এ লিখেছেনঃ
“সুনানে নাসাইয়ের লেখক আহমাদ বিন আলী হাদিসের হাফিয ছিল এবং তার যুগে আহলে হাদিসের ইমাম ছিল। তার জিবনের শেষের দিকে তিনি দামিস্কে গিয়েছিলেন এবং তাকে মুয়াবিয়ার গুণাবলী সমন্ধে বলতে বলা হয়, ইমাম নাসাই বললেন মুয়াবিয়ার নিজেকে বাঁচাক, আমি তার কি প্রশংসা করব, আমি তার একমাত্র যে ‘গুনটা’ জানি তা হল রাসুল আল্লাহ সাঃ তাকে অভিসম্পাদ দিয়েছে ‘আল্লাহ যেন তার পেট কখোনই না ভরায়’”।

জ) মুয়াবিয়ার চরম ভক্ত ইবনে তাইমিয়া তার ‘মিনহাজ আস সুন্না’ এর খণ্ড ৪ প্তা ৪০০ এ লিখেছেঃ
“জনগণের একটা দল মুয়াবিয়ার মনাকিবে হাদিস জাল করেছে এবং তারা নবির সাঃ থেকে এব্যপারে যে হাদিস বর্ণনা করেছে সেগুলি মিথ্যা”।

ঝ) মুয়াবিয়ার শানে কোন সাহিহ হাদিস না পাওয়ার জন্য ও মুয়াবিয়ার জন্য কোন হাদিস না বানানোর জন্য হাদিসের ইমাম হাকিম কে মুয়াবিয়ার অবৈধ পুত্ররা প্রানে মেরে ফেলার আয়োজন করে ফলে ইমাম হাকিম লুকিয়ে বাস করতে থাকে।
ইবনে কাসির তার ‘আল বেদায়া ওয়া আর নিহায়া’তে খণ্ড ১১ পাতা ৪০৯ এ উল্লেখ করেছেন।

وقال أبوعبدالرحمن السلمي : دخلت على الحاكم وهو مختف من الكرامية لا يستطيع يخرج منهم ، فقلت له : لو خرجت حديثا في فضائل معاوية لأسترحت مما أنت فيه ، فقال: لا يجئ من قبلي لا يجئ من قبلي

“আব্দুর রহমান আল সালামি বর্ণনা করেছেন ‘আমি হাকিমের কাছে গিয়েছিলাম যখন তিনি কারামিয়াদের থেকে লুকিয়ে ছিলেন এবং তিনি বার হতে পারছিলেন না তাদের জন্য, আমি তাকে বললাম ‘আপনি যদি মুয়াবিয়ার শানে হাদিস বর্ণনা করেন তবে আপনি এই অবস্থা থেকে বার হতে পারেন’ হাকিম বললেন ‘ আমি এটা করতে পারি না, আমি এটা করতে পারি না”।

মুয়াবিয়ার শরিয়াত জ্ঞান নিয়ে  আলোচনা

উপরে মুয়াবিয়ার শানে হাদিস গুলির যে সম্পূর্ণ গা জোয়ারি বানান তা দেখানোর পরে এখন ‘হাদি’ মুয়াবিয়ার শরিয়াত জ্ঞান নিয়ে একটু আলোচনা করা হল। তার আগে পাঠকদেরকে উপরে হাদি বলতে কি বোঝায় সেটা আর একবার পড়ে নিতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

১) ‘হাদি’ মুয়াবিয়া, আবু সুফিয়ানের হারাম ছেলেকে ভাই বলে প্রতিষ্ঠিত করে।
যিয়াদ ইবনে আবিহ ( যিয়াদ তার বাপের ছেলে এটা অবৈধ ছেলেদের কে বলা হত) বা যিয়াদ ইবনে সুমাইয়া ( সুমাইয়া মায়ের নাম ছিল) আবু সুফিয়ান অবৈধ ভাবে সুমাইয়াকে সংগম করারা ফলে যিয়াদ উতপন্ন হয়।
ক)সুয়ুতি তার ‘আল দেবাজ আলা মুসলিম’ এর খন্ড ১ পাতা ৮৪ এ লিখেছেনঃ
“মুয়াবিয়া যখন যিয়াদকে নিজের বাপ আবু সুফিয়ানের বলে চিহ্নিত করেন অথচ সে (যিয়াদ) যিয়াদ বিন আবিহ বলে তার পরিচয় ছিল কেননা তার মা তাকে উবাইদের শয্যায় জন্ম দিয়েছিল, আর ইসলামে এ্টা প্রথম শরিয়াতের নিয়ম যেটাকে পরিবর্তন করা হয়েছিল”।

খ) আল কামিল ফিত তারিখে ইবনে আসির বর্ণনা করেছেনঃ ( খন্ড ৩ পাতা ৬৮)
“তারা রসুল সাঃ এর নিয়ম কে ত্যাগ করেছিল কেননা রসুল সাঃ বলেছেন বৈধ সন্তান হল যে বিবাহের মাধ্যমে জন্ম নেয়”।

গ) ইমাম হাম্বল
“আহমাদ বিন হাম্বল বলেছে ‘শরিয়াতের নিয়ম যেটা প্রথম প্রত্যাখ্যান করা হয় সেটা যিয়াদের বিষয়”।
মাসাইল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল, পাতা ৮৯।

‘হাদি’ মুয়াবিয়া শরিয়াতের উত্তরাধিকারী নিয়ম পাল্টায়

ইবনে কাসির তার ‘আল বেদায়া ও আন নিহায়া’ খণ্ড ৮ পাতা ১৪১ এ লিখেছেঃ
“সুন্না হচ্ছে কাফির মুসলিমের উত্তরাধিকার হতে পারবে না, আর না মুসলিম কাফিরের উত্তরাধিকারী হতে পারবে, যিনি প্রথম প্রথম এটা চালূ করেন যে মুসলিম কাফিরের থেকে উত্তরাধিকার পাবে, কিন্তু কাফির মুসলিমের উত্তরাধিকার পাবে না তিনি হলেন মুয়াবিয়া, বানী উমায়া একই নিয়ম চালু রেখেছিল, উমার বিন আব্দুল আযিযের সময় তিনি সুন্নাকে ফিরিয়ে আনেন, কিন্তু হিশাম আবার মুয়াবিয়া ও বানী উমাইয়াদের নিয়মে ফিরে যান”।
এখন দেখুন সাহিহ বুখারি এর হাদিস খণ্ড ৮ হাদিস নং ৭৫৬
“রসুল আল্লাহ সাঃ বলেছেন ‘একজন মুসলিম কাফেরের উত্তরাধিকারি হতে পারবে না, আর না একজন কাফের মুসলিমের উত্তরাধিকারী হতে পারবে”।

(লেখার পরিসর সংক্ষেপ রাখার জন্য মাত্র একটা বা দুটি করে রেফারেন্স দিচ্ছি)

নাসিবিদের ‘হাদি’ মুয়াবিয়া রক্তপনের নিয়ম পালটায়

ইবনে কাসির তার ‘আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া’ এ লিখেছেঃ

ومضت السنة‏:‏ أن دية المعاهد كدية المسلم، وكان معاوية أول من قصرها إلى النصف، وأخذ النصف لنفسه‏.‏

“আর একটি সুন্না যাকে যেটাকে বিলুপ্ত করা হয়েছিল তা হল মুসলিমের দিয়াত ( রক্তপন)আর কাফিরের দিয়াত সমান, কিন্তু মুয়াবিয়া প্রথম লোক যে এটাকে অর্ধেক করে দিয়েছিল আর বাকি অর্ধেক নিজের জন্য রেখেছিল”। — খণ্ড ৮ পাতা ১৩৯

মুয়াবিয়া গনিমতের মাল বন্টনে নিজের শরিয়াত কায়েম করে

নাসিবিদের ‘হাদি’ মুয়াবিয়া গনিমতের মাল বন্টনে আল্লাহ ও আল্লাহের রাসুলের নিয়মের বিপরীতে নিজের শরিয়াত কায়েম করে।

কুরআন ও সুন্না অনুজাই যুদ্ধ লব্ধ জিনিসের এক পঞ্চমাংশ খাজানাতে যাবে আর বাকি চার পঞ্চমাংশ যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারিদের মধ্যে বন্টন করে দিতে হবে।
মুয়াবিয়ার উকিল ও দালালদের ‘আমিরুল নাওয়াসিব’ মুয়াবিয়া ইবনে হিন্দ নির্দেশ দিল সোনা ও রুপাকে লোকজনের মধ্যে বন্টন না করতে।

بعث زياد الحكم، فأصابوا غنائم كثيرة، فكتب زياد: إن أمير المؤمنين أمر أن تصطفى له الصفراء والبيضاء.

“যিয়াদ, আল হাকিম বিন আমরও আল গাফারি কে লিখেছিল যখন যে খোরাসানের গভর্নর ছিল যে ‘ আমিরুল মোমেনিন’ চান গণিমতের মাল থেকে হলুদ (সোন) আর সাদা (রুপা)লোকদের কে না বন্টন করতে”।
– আল ইস্তিয়াব খন্ড ১ পাতা ৩৫৮
– তাফসির দুররুল মানসুর, আল্লামা সুয়ুতি, খণ্ড ৬ পাতা ২৩৪, ৬৫ঃ২ এর তাফসিরে।
-সিয়ার আলাম নাবুলা, যাহাবি, খণ্ড ২ পাতা ৪৭৫।
-আল মুসতাদরাক আলা সাহিহাইন, হাকিম, খণ্ড ৩ পাতা ৪৪২।
– মুসান্নাফ ইবনে আবি সায়বা, খণ্ড ৭ পাতা ২৭০।

অনুরূপ ভাবে সুন্নি আলেমগন আরও উল্লেখ করেছেনঃ

“ইবনে হাবিব বর্ণনা করেছেন যে যিয়াদ, আল রাবী বিন যিয়াদকে লেখেন ‘ আমির আল মুমিনিন ( মুয়াবিয়া) আমাকে লিখেছেন যে তোমাকে নির্দেশ দিতে যে হলুদ (সোনা) আর সাদা গুলোকে রেখে দিতে বাকিগুলি বন্টন করে দিতে”।
ইস্তিয়াব, খণ্ড ২ পাতা ৩৮১
আসাদুল গাবা, খণ্ড ২ পাতা ৩৬।
আল কামিল ফিত তারিখ, ইবনে আসাকির, খণ্ড ৩ পাতা ৪৭০।

নাসিবিদের ‘হাদি’ মুয়াবিয়া ‘হারাম’ পান করেছে

আহলে সুন্নার ইমাম, ইমাম আহমেদ বিন হাম্বল তার মুসনাদে হাম্বলে খণ্ড ৫ পাতা ৩৪৭ এ উল্লেখ করেছেন।

عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ قَالَ
دَخَلْتُ أَنَا وَأَبِي عَلَى مُعَاوِيَةَ فَأَجْلَسَنَا عَلَى الْفُرُشِ ثُمَّ أُتِينَا بِالطَّعَامِ فَأَكَلْنَا ثُمَّ أُتِينَا بِالشَّرَابِ فَشَرِبَ مُعَاوِيَةُ ثُمَّ نَاوَلَ أَبِي ثُمَّ قَالَ مَا شَرِبْتُهُ مُنْذُ حَرَّمَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مُعَاوِيَةُ كُنْتُ أَجْمَلَ شَبَابِ قُرَيْشٍ وَأَجْوَدَهُ ثَغْرًا وَمَا شَيْءٌ كُنْتُ أَجِدُ لَهُ لَذَّةً كَمَا كُنْتُ أَجِدُهُ وَأَنَا شَابٌّ غَيْرُ اللَّبَنِ أَوْ إِنْسَانٍ حَسَنِ الْحَدِيثِ يُحَدِّثُنِي

“আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদা বর্ণনা করেছেন “আমি ও আমার আব্বা মুয়াবিয়ার কাছে গেলাম,মুয়াবিয়া আমাদের ফারসের উপর বসতে দিল এবং আমাদের জন্য খাদ্য পরিবেশন করল ও আমরা খেলাম, তারপর মুয়াবিয়া শারাব নিয়ে এল, মুয়াবিয়া পান করল ও আমার আব্বাকে দিল, আমার আব্বা বললেন *এটা আমি রসুল সাঃ হারাম করার* পর থেকে পান করেনি”।
মুয়াবিয়ার হারাম বীর্যে পয়দা হওয়া নাসিবিদের কাছে তাদের হারাম বাপের পর্দা ফাঁস হয়ে যায় এই হাদিসে তাই কিছু নাসিবি এটাকে এড়িয়ে যাওয়ার বাহানা খোঁজে।

মা’যাম আয যাওয়াদ এ ইমাম হাইসামি এটাকে উল্লেখ করে লিখেছেন

رواه أحمد ورجاله رجال الصحيح

আহমেদ বর্ণনা করেছেন এবং বর্ণনাকারিগন সাহিহ।
আল্লামাহ হাসান সাক্কাফ, বর্তমানে জর্ডনের ইমাম নমবি সেন্টারের চিফ তিনি ইবনে জাওজির কিতাব ‘দুফা শুবাহ আল তাসবিহ’ এর হাশিয়া লেখাতে এই হাদিসের নোটে লিখেছেন ‘বর্ণনা কারীগণ সব সাহিহ মুসলিমের বর্ণনা কারী”
শেইখ শুয়াইব আরনাউত মুসনাদে আহমাদ এর এই হাদিসের কমেন্ট এ বলেছেন ‘শক্তিশালী সনদ’।
সুতারং এটাকে অস্বীকার করার কোন উপায় নাসিবিদের নেই।

আরও দেখুন মুয়াবিয়ার দারু প্রীতি এবং দারু খেয়ে মাতাল হওয়ার কথা ইবনে আসাকির তার তারিখে উল্লেখ করেছেন। আরবিটা দেওয়া হল।

عبد الله بن الحارث بن امية بن عبد شمس بن عبد مناف وفد على معاوية وهو كبير ذكر أبو علي الحسين بن القاسم الكوكبي نا أحمد بن عبيد نا حسين بن علوان الكلبي عن عنبسة بن عمرو قال وفد عبد الله بن الحارث بن امية بن عبد شمس على معاوية فقربه حتى مست ركبتاه رأسه ( 2 ) ثم قال له معاوية ما بقي منك قال ذهب والله خيري وشري قال معاوية ذهب والله خير قلبك وبقي شر كثير فما لنا عندك قال إن أحسنت لم أحمدك وإن اسأت لمتك قال والله ما انصفتني قال ومتى أنصفتك فوالله لقد شججت أخاك حنظلة فما أعطيتك عقلا ولا قودا وأنا الذي أقول * أصخر بن حرب لانعدك ( 3 ) سيدا * فسد غيرنا إذ كنت لست بسيد * وانت الذي تقول * شربت الخمر حتى صرت كلا * على الأدنى ومالي من صديق وحتى ما أوسد من وساد * إذا أنشو سوى الترب السحيق * فوثب على معاوية يخبطه بيده ومعاوية ينحاز ويضحك

নাসিবিদের ‘হাদি’ মুয়াবিয়া মদ চোরাচালান করত

মুহাদ্দিস শাহ আব্দুল আযিয দেহলবি তার শিয়া বিরোধী প্রপাগ্নডা বই ‘তোফা ইসনা আশারি’এর পাতা ৬৩৮ এ লিখেছেনঃ
“আবাদা বিন সামিত সিরিয়াতে ছিল তিনি মুয়াবিয়ার লাইন দেওয়া উটের বহর দেখলেন যেগুলির পিছনে মদ ঝোলান ছিল, আবাদা জিজ্ঞেস করল ‘এতে কি আছে’? লোকজন বলল এতে মদ আছে যেগুলি মুয়াবিয়া বিক্রি করতে পাঠিয়েছে। আবাদা একটা ছুরি নিয়ে উটের (ঝোলান) দড়ি গুলি কেটে দিল যাতে সব মদ পড়ে যায়”।

এই রেওয়াত ইবনে আসাকির এর তারিখ এ দামিস্ক ,যাহাবির সিয়ার আলাম নাবুলাতেও পাওয়া যায় কিন্তু মনে হচ্ছে নতুন ভার্সন থেকে মুয়াবিয়ার নামটা তুলে দিয়ে ‘অমুক’ বসান হয়েছে।

তা সত্ত্বেও আবাদা বিন সামিত যে মদ গুলি ফেলে দেয় সেগুলি সিরিয়ার শাসকএর ছিল সেকথা এই বই গুলিতে উল্লেখ আছে।আর সেটাই যথেষ্ট প্রমানের জন্য যে সিরিয়ার শাসক মুয়াবিয়া ছিল।

শেখ শোয়াইব আরনাউত সিয়ার আলাম নাবুলার হাসিয়াতে এটাকে ‘হাসান’ উত্তম হাদিস বলে বর্ণনা করেছেন।
মদ চোরাচালান করার আরও হাদিস পাওয়া যায় যেমন মুত্তাকী আল হিন্দি তার ‘কানযুল আম্মাল’ এ উল্লেখ করেছেন। খণ্ড হাদিস নং ১৩৭১৬

عن محمد بن كعب القرظي قال : غزا عبد الرحمن بن سهل الانصاري في زمن عثمان ، ومعاوية أمير على الشام ، فمرت به روايا خمر تحمل ، فقام إليها عبد الرحمن برمحه ، فبقر كل رواية منها فناوشه (2) غلمانه حتى بلغ شأنه معاوية ، فقال : دعوه فانه شيخ قد ذهب عقله فقال : كذب والله ما ذهب عقلي ولكن رسول الله صلى عليه وسلم نهانا أن ندخله بطوننا واسقيتنا ، وأحلف بالله لئن أنا بقيت حتى أرى في معاوية ما سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم لابقرن (1) بطنه أو لاموتن دونه.

“মুহাম্মাদ বিন কা’ব আল কুরযি বর্ণনা করেছে ‘আব্দুর রাহমান বিন সাহল আল আনসারি উসমানের জামানায় একটা যুদ্ধে যোগদান করেছিলেন এবং মুয়াবিয়া সিরিয়ার আমির ছিল, তার সামনে দিয়ে মদের ব্যরেল যাচ্ছিল ফলে তিনি বর্শা নিয়ে গেলেন এবং সব ব্যরেল খুঁচিয়ে দিলেন। গোলামেরা বাধা দিতে লাগল এমনকি মুয়াবিয়ার কাছে খবর দেওয়া হল এব্যপারে। মুয়াবিয়া বলল ‘ওকে ছেড়ে দাও ও বুড়ো আর ওর মাথার দোষ হয়েছে’, (আব্দুর রহমান) বলল ‘আল্লাহের কসম ও মিথ্যা বলেছে, আমার মাথার দোষ হয়নি, রসুল সাঃ আমাদের এটা পান করতে বারণ করেছেন, আমি আল্লাহের কসম করে বলছি যদি আমি ততদিন বেঁচে থাকি সেটা দেখতে যেটা আমি রসুল সাঃ থেকে শুনেছি মুয়াবিয়া সমন্ধে, হয় আমি মুয়াবিয়ার পেট চিরে দেব অথবা মারা যাব”।

( নোটঃ রসুল সাঃ থেকে কি শুনেছিল সেটা হল যে রাসুল সাঃ মুয়াবিয়া কে অভিসম্পাত দিয়েছিল যে মুয়াবিয়ার পেট কক্ষন ভরবে না …সাহিহ মুসলিম। ইনশাআল্লাহ পরে যথা সময়ে উল্লেখ করা হবে।)

উপরুক্ত হাদিসটা আরও অনেক কিতাবে উল্লেখ করেছে যেমনঃ
১) ইবনে আসাকির এর আসদুল গাবা, খণ্ড ১ পাতা ৬৯৯।
২) আল ইসাবা, খণ্ড ৪ পাতা ৩১৩।
৩) তারিখ দামিস্ক, খণ্ড ৩৪ পাতা ৪২০। অনলাইনের লিংক দেওয়া হল। http://goo.gl/977Stt

নাসিবিদের ‘মাওলা’ ও ‘হাদি’ মুয়াবিয়া মূর্তির চোরা কারবার করত

মুয়াবিয়ার আব্বা হুজুর হজরত আবু সুফিয়ান সারা জীবন আল্লাহ ও তার রসুল সাঃ সাথে যুদ্ধ করেছে শেষে মক্কা বিজয়ের সময় নিরুপায় হয়ে আত্বসমর্পণ করে ( তিন দিন পরে রসুল পাক সাঃ তাদেরকে আজাদ করে ফলে এদেরকে তুলাকা বলে মানে মুক্তি প্রাপ্ত) কিন্তু ঠিক মক্কা বিজয়ের ঠিক আগেই কাবা থেকে মানতের মূর্তি মুয়াবিয়ার মাধ্যমে চোরা পথে ভারতীয় বাণিজ্য কারীদের হাতে তুলে দেয় যারা সমুদ্র পথে গুজারাতে এর মানতের মানে মন্দির বানায় যার নাম দেয় সু-মানত, আর এটা থেকেই সোমনাথ শব্দটা এসেছে।

পরবর্তী গজনভি এই ইতিহাসের পথ ধরে সোমনাথ মন্দির ধংশ করে দেয়। (মনে রাখা দরকার গজনবি যখন ভারতে আসে সেই সময় সারা ভারতে মন্দির ছিল তিনি সারা উত্তর ভারত গুরে ঘুরে গুজারাতে গিয়ে সোমনাথ ভাঙয়ে)।
মুয়াবিয়া এই মূর্তি প্রেম ও চোরাচালানের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিজে যখন শাসক হয়েছিল ভারতে মূর্তি বিক্রি করত। হাদিস পড়ে মনে হচ্ছে ভারত থেকে মূর্তি সাপ্পাই এর বড় টেন্ডার পেয়েছিল।

হানাফি ইমাম সারকাশি (মৃঃ ৪৮৩ হি), যাকে সামস আল আইম্মা ( ইমামদের সূর্য) বলে তিনি তার বিখ্যাত কেতাব ‘আল মাবসুত’ এর খণ্ড ১৪ পাতা ৪৬ এ লিখছেনঃ

وذكر عن مسروق – رحمه الله – قال : بعث معاوية – رضي الله عنه – بتماثيل من صفر تباع بأرض الهند فمر بها على مسروق – رحمه الله – قال : والله لو أني أعلم أنه يقتلني لغرقتها ولكني أخاف أن يعذبني فيفتنني والله لا أدري أي الرجلين معاوية رجل قد زين له سوء عمله أو رجل قد يئس من الآخرة فهو يتمتع في الدنيا وقيل : هذه تماثيل كانت أصيبت في الغنيمة فأمر معاوية – رضي الله عنه – ببيعها بأرض الهند ليتخذ بها الأسلحة والكراع للغزاة فيكون دليلا لأبي حنيفة – رحمه الله – في جواز بيع الصنم

“মসরুক রঃ বর্ননা করেছেঃ বলেন মুয়াবিয়া (রাঃ) কিছু তামার/পিতলের মুর্তি ভারতে বেচার জন্য পাঠায়- যা মসরুক রঃ এর পাশ থেকে চলে গেলো – তখন মসরুক রঃ বলেন আল্লাহর কসম যদি আমি জানতাম যে (মুয়াবিয়া)আমাকে মেরে ফেলবে, তাহলে আমি ডুবিয়ে ফেলতাম, কিন্ত আমি ভয় করি যে মাবিয়া আমাকে শাস্তি দেবে এবং আমাকে নিয়ে ফিতনায় জড়িয়ে দেবে। আল্লার কসম আমি জানিনা যে মাবিয়া কোন ধরনের মানুষ,সে কি তাদের মধ্যে অন্তর্ভক্ত? যাদেরর অপকর্মে তাদের জন্য সুন্দর করে দেখানো হয়। নাকি তাদের অন্তর্ভক্ত যারা পরকাল থেকে নিরাশ হয়ে পার্থিব আনান্দে মেতে উঠেছে। বলা হয় মুর্তিগুলো গনিমত হিসাবে পেয়েছে,,, সুতরাং মাবিয়া ভারতে বেচার আদেশ দিলেন যাতে করে তার দ্বারায় যুদ্ধর জন্য অস্ত্র ও ঘোড়া কিনতে পারে। এটাই আবু হানিফার (রহঃ) জন্য মুর্তি বেচা বৈধতার দলিল”।

সুন্নি প্রপাগ্নডা লাইব্রেরির অনলাইন এডিশনের খণ্ড ৭ পাতা ২৬৯। অনলাইন লিংক  http://goo.gl/LNyAic

এখানে বলে রাখি মাযহাবে আহলে বাইতে পুজার সরঞ্জাম কেনা বেচা হারাম।

নাসিবিদের ‘হাদি’ বুড়ো বয়েসে নগ্ন মহিলার দেহ পরীক্ষা নিরিক্ষ্যা করত ও তার যৌনাঙ্গ সংগম না করতে পারায় হতাশা প্রকাশ করত

ইবনে কাসির তার ইতিহাস ‘আদি থেকে অন্ত’ ( আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া) খণ্ড আটে
“ইবনে আসাকির মুয়াবিয়ার গোলাম খাদিজ আল হাযি এর বৃত্তান্তে বর্ণনা করেছেন যে মুয়াবিয়া একটি সুন্দরী ও ফর্শা বাঁদি কিনল ও সে(খাদিজ)তাকে উলঙ্গ করে মুয়াবিয়ার সামনে পেশ করল তখন তার ( মুয়াবিয়ার) হাতে একটা ছড়ি ছিল আর সে নিছু হয়ে তার( বাঁদির) যৌনাঙ্গএর দিকে ইঙ্গিত করে বলল ‘এই সঙ্গম অঙ্গটা যদি আমার হত! তুমি তকে ইয়াযিদের কাছে নিয়ে যাও’ অতপর বললেন না রাবি’আ বিন উমরূ আল কারশিকে ডাক’। সে একজন ফকিহ ছিল। যখন সে এল মুয়াবিয়া তাকে বলল যে ‘এই বাঁদিকে আমার সামনে নগ্ন অবস্থায় আমার সামনে আনা হয়েছে আর আমি তার এই অঙ্গ সেই অঙ্গ দেখেছি আর আমি এখন তাকে ইয়াযিদের কাছে দিতে চাই’। সে বলল ‘হে আমিরুল মমেনিন এটা করবেন না, এটা সাহিহ নয়’। মুয়াবিয়া বলল ‘আপনার উপদেশ ঠিক’। বর্ণনা কারী বলেন মুয়াবিয়া তখন সেই বাঁদিকে ফাতিমার বিনতে মুহাম্মাদ এর (অতিতের) গোলাম আব্দুল্লাহ বিন মাস’আদাত ফাযারিকে দিয়ে দিলেন সে কালো ছিল আর তাকে বললেন ‘এর মাধ্যমে তোমার সন্তানদের ফর্শা করে নাও’।

এটা থেকে বোঝা যায় যে মুয়াবিয়া কত বুদ্ধিমান ছিল কেননা সে তার দিকে কামনার চোখে দেখেছে আর তার সামনে দুর্বল হয়েছে আর সে ইয়াযীদকে দিতে ভয় পেলেন কুরআনের আয়াতের জন্য……”।

‘হাদি’ মুয়াবিয়ার অবৈধ সন্তানদের জন্য এই ঘটনা এক গাইড (হেদায়াত) তারা নগ্ন মহিলার সঙ্গম না করতে পারায় হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে পারে, আর পরবর্তীতে হতাশা চরম হলে তাদের ভাই ইয়াযিদের (লাঃ) মত নিজের মায়ের উপর ঝাপিয়ে পড়তে পারে।

নাসিবিদের ‘হাদি’ মুয়াবিয়ার ফতোয়া হারাম মাল খাওয়া ও পরস্পরকে হত্যা করা

সহিহ মুসলিম বাংলা অনলাইন নং ৪৬২৪। ( হাদিসটা একটু বড় প্রয়োজনীয় অংশ অনুবাদ করে দেওয়া হয়।)
………………তারপর যদি অপর কেউ তার সাথে (নের্তৃত্ব লাভের অভিলাষে) ঝগড়ায় প্রবৃত্ত হয় তবে ঐ পরবর্তী জনের গর্দান উড়িয়ে দেবে। (রাবী বলেনঃ) তখন আমি তার নিকটে- ঘেঁষলাম এবং তাকে বললাম, আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি সত্যই আপনি (নিজ কানে) কি তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট থেকে শুনেছেন তখন তিনি তার দু-কান ও অন্তঃকরণের দিকে দুহাত দিয়ে ইশারা করে বললেনঃ আমার দু”কান তা শুনেছে এবং আমার অন্তকরণ তা সংরক্ষণ করেছে। তখন আমি তাকে লক্ষ্য করে বললাম, ঐ যে আপনার চাচাতো ভাই মূয়াবিয়া (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) তিনি আমাদেরকে আদেশ দেন যেন আমরা আমাদের পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করি আর একে অপরকে হত্যা করি অথচ মহিমানিত ও প্রতাপালিত আল্লাহ বলেছেনঃ হে ‘ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না, ব্যবসা সূত্রে পারস্পরিক সন্তুষ্টির ভিত্তিতে চাড়া এবং তোমরা পরস্পরে হানাহানি করোনা। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি অত্যন্ত দয়াশীল’। রাবী বলেনঃ, তখন তিনি (আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আস) কিছুক্ষণের জন্য চুপ থাকলেন। তারপর বললেনঃ, আল্লাহর আনুগত্যের ব্যাপার সমূহে তুমি তার আনুগত্য করবে এবং প্রতাপালিত ও মহিমান্বিত আল্লাহর অবাধ্যতার ব্যাপারসমূহে তার অবাধ্যতা করবে”।
সহিহ মুসলিমের ইংরাজি অনুবাদ হাদিস নং ৪৫৪6 অনলাইন লিংক দেওয়া হল। http://sunnah.com/muslim/33/74

সুতারং নাসিবিদের হাদি আল্লাহ ও আল্লাহের কুরআনের বিপরিতে ফতোয়া দেয়।

নাসিবিদের ‘হাদি’ মুয়াবিয়া নিজের খুশি মত ঈদের নামাযে পরিবর্তন করেছে

ক) আল্লামাহ সুয়ুতি তার ‘তারিখে খুলাফা’ এর পাতা ২০০ উল্লেখ করেছেন।
“যুহুরি ঈদের নামাযের ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন যে , প্রথম ব্যাক্তি যিনি নামাজের আগে খুতবা চালু করেন তিনি মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান”।

খ) ইমাম শাফেই তার ‘আল উম’ এর খণ্ড ১ পাতা ২৬৯ এ বর্ণনা করেছেন” (অনলাইন লিংক http://goo.gl/cgPPWC)

«أَنَّ النَّبِيَّ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ كَانُوا يَبْتَدِئُونَ بِالصَّلَاةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ حَتَّى قَدِمَ مُعَاوِيَةُ فَقَدَّمَ الْخُطْبَةَ»

“আব্দুল্লাহ বিন ইয়াযিদ আল খুতামি বলেছেন ‘নবি সাঃ আবু বকর, উমার ও উসমান খুতবা শুরু করার আগে নামায পড়ত, মুয়াবিয়া এসে খুতবা (নামাযের)আগে করে দিয়েছে”।
‘হাদি’ মুয়াবিয়া ঈদের নামাযে আযান ও ইকামাহ চালু করেছিলঃ

ক) ইবনে কাসির তার আল বেদায়া ও আন নেহায়াতে খণ্ড ৮ পাতা ১৩৯

وقال قتادة‏:‏ عن سعيد بن المسيب‏:‏ أول من أذن وأقام يوم الفطر والنحر معاوية

“কাতাদা, সাইদ ইবনে মুসাইব থেকে বর্ণনা করেছেন যে ‘ মুয়াবিয়া প্রথম ব্যাক্তি যে ঈদ আল ফিতর ও ঈদ আল আযহার নামাযে আযান ও ইকামাহ চালু করেছিল’”।

খ) কিতাব আল ইলম খণ্ড ১ পাতা ২২৯ এ
“ইমাম যুহুরি বর্ণনা করেছেন যে রাসুল আল্লাহ সাঃ, আবু বকর, উমার ও উসমান ঈদের নামাযে আযান ও ইকামা ছাড়া পড়াতেন, কিন্তু মুয়াবিয়া আযান ও ইকামাহ চালু করেছিলেন”।

গ) ইবনে হাজর আস্কালানি তার ফাত আল বারী সারাহ সাহিহ আল বুখারি’র খণ্ড ২ পাতা ৫২৯ এ লিখেছেনঃ
“ঈদের নামাযে কে আযান চালু করেছিল সে বিষয় বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। ইবনে শেবা সাহিহ সনদ সহ বর্ণনা করেছেন এটা মুয়াবিয়া (চালু করেছিলেন), যেখানে শাফি বলেছেন এটা ইবনে যিয়াদ বসরাতে চালু করেছিল, দাউদ বলেছেন মারওয়ান চালু করেছিল কিন্তু প্রচুর সংখ্যক হাদিস এটাকে সাপোর্ট করে না। (আসলে) মুয়াবিয়া এটাকে চালু করেছিল যেমন ভাবে তিনি ঈদের নামাজের পূর্বে খুতবা চালু করেছিল”।

আল্লহের রাসুলের শত্রু অথচ ‘হাদি’ মুয়াবিয়ার প্রিয় সন্তানরা যদি তাদের অবৈধ বাপের কাজে লজ্জিত না হয় তবে সাহিহ মুসলিম থেকে নিচের হাদিস পড়ে নেওয়া দরকার।

মুসলিম শরীফ অনলাইন এডিশনঃ
১৯২১ মুহাম্মাদ ইবনু নুমায়র (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ঈদের দিন সালাতে উপস্থিত ছিলাম। তিনি খূতবার পূর্বে প্রথমে সালাত আরম্ভ করলেন তাতে আযান ও ইকামত ছিল না। তারপর তিনি, গায়ে হেলান দিয়ে দাড়ালেন এবং আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করার জন্য আদেশ দিলেন।……………………”।

আরও একটি হাদিসঃ
১৯২৪ ইয়াহিয়া ইবনু ইয়াহিয়া, হাসান ইবনু রাবী , কুতায়বা ইবনু সাঈদ ও আবূ বাকর ইবনু শায়বা (রহঃ) সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একাধিক বার আযান ইকামত ব্যতীত উভয় ঈদের সালাত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আদায় করেছি।

মুয়াবিয়া প্রেমি নাসিবিদের একটু চোখ বন্ধ করে ভুল বকার স্বভাব আছে সেক্ষেত্রে ইমাম মালিক এর ফাতোয়া দেওয়া হল।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক অধ্যায় ‘দুই ঈদের গোসল……’। কিতাব নং ১০ নং ১০.১.১ ( ইং অনুবাদ)

“ইয়াইয়া মালিকের থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি একের অধিক আহলে ইলমদের থেকে শুনেছেন যে ‘ ঈদ আল ফিতর ও ঈদ আল আযা এ কোন আযান ও ইকামাত নেই নবি সাঃ এর জামানা থেকে। (ইমাম) মালিক বলেছেন ‘এই সুন্নার ব্যাপারে আমাদের মধ্যে কারো দ্বিমত নেই’।
 অনলাইন লিংক http://goo.gl/1bbmDY

নাসিবিদের ‘হাদি’ মুয়াবিয়া নামায থেকে তাকবির কমিয়ে দিয়েছিলেন

ক) আহলে সুন্নার ইমাম বাদ্রুদ্দিন ‘আইনি তার ‘উমদাতুল কারী শারাহ সাহিহ বুখারি’এর খণ্ড পাতা ৫৮ এ উল্লেখ করেছেনঃ

وقال الطبري إن أبا هريرة سئل من أول من ترك التكبير إذا رفع رأسه وإذا وضعه قال معاوية

“তাবারি বলেছেন ‘আবু হুরাইরাকে জিজ্ঞেস করা হল কে প্রথম ব্যাক্তি যিনি সেজদার সময় ও মাথা উঠানোর সময় তকবিরকে ত্যাগ করেছিলেন, তিনি ( আবু হুরাইরা) উত্তর দিলেন ‘মুয়াবিয়া’।

খ) আল্লামাহ জালালুদ্দিন সুয়ুতি তার আল ওয়াসিল এলাল মুসামেরাহ’ এর ১৬৪ এ

أول من نقص التكبير معاوية

“প্রথম যে ব্যাক্তি তাকবির কমিয়ে দিয়েছিলেন সে হল মুয়াবিয়া”

গ) সালাফিদের প্রিয় আহলে সুন্নার আলেম কাজী শাওকানি তার ‘নীল আল আউতার’ খণ্ড ২ পাতা ২৬৫ এ
“তাবারি আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেছেন যে প্রথম যে তাকবির ত্যাগ করেছিল সে মুয়াবিয়া। এটাও আবু উবাইদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে প্রথম যে জন এটা ত্যাগ করেছিল সে হল যিয়াদ, এই বর্ণনাগুলি পরস্পর বিরোধী নয় কারণ যিয়াদ ত্যাগ করেছিল মুয়াবিয়া ত্যাগ করেছিল তাই, আর মুয়াবিয়া ত্যাগ করেছিল উসমান ত্যাগ করেছিল তাই”।

শাওকানি ঐ একই পাতায় আহলে সুন্নার আকাইাদের ইমাম তাহাবি এর উক্তি উল্লেখ করেছে মুয়াবিয়ার নাম না নিয়েইঃ
“আত তাহাবি বলেছেন যে বনি উমাইয়া সেজদার সময় তকবিরকে ত্যাগ করেছিলেন কিন্তু ওঠার সময় না, আর এটাই প্রথম সুন্নাত নয় যে তারা ত্যাগ করেছিল”।

নাসিবিদের ‘হাদি’ মুয়াবিয়ার ফতোয়া একই সাথে দুই বোন বিয়ে করা যাবে

আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ুতি তার তাফসীর “দুররুল মানসুর ফি তাফসীর আল মাসুর” এর খণ্ড ২ পাতা ৪৭৭ এ(৪:২৩ এর তাফসীরে) লিখেছেন ‘হাদি’ মুয়াবিয়ার বরবাদি ফতোয়া।

“কাসিম বিন মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন যে একই সাথে দুই বোনকে বিয়ে করা যাবে কিনা। মুয়াবিয়া উত্তর দিল ‘এতে কোন আসুবিধা নেই’। এটা শোনার পর নুমান বিন বাসির বলল ‘তুমি এই ফতোয়া দিয়েছ’? মুয়াবিয়া বলল ‘হা’”।

নাসিবিদের ‘হাদি’ একজনের সাক্ষ্যির বেদআত ইসলামে ঢুকিয়েছে

ক) হানাফি দেওবান্দি আলেম আল্লামাহ মুহাম্মাদ আব্দুল হাই লাকনোভি তার ‘সারাহ মুয়াত্তায় ইমাম মুহাম্মাদ’ এর পাতা ৩৬৩ তে লিখেছেনঃ

ذكر ذلك ابن ابي ذئب عن ابن شهاب الزهري قال سألته عن اليمين مع الشاهد فقال : بدعة وأول من قضى بها معاوية

“ইবনে আবিল দিয়াব বর্ণনা করেছেন যে তিনি ইবনে শেহাব আল যুহুরি কে একজন সাক্ষীর শফথের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন ‘এটা বেদআত আর প্রথম যে জন এটা করত সে হল মুয়াবিয়া”।
খ) আহলে সুন্নার ইমাম আল্লামা তাফতাযানি তার ‘শারাহ তালঈহ’ এর পাতা ৪৩০ এঃ

وذكر في المبسوط أن القضاء بشاهد ويمين بدعة وأول من قضى بها معاوية

“আল মাবসুত এ এটা বলা হয়েছে একজনের সাক্ষীয় আর শফথের উপর ভর করে বিচার বেদআত, প্রথম যে এটা সংযুক্ত করে তিনি হলেন মুয়াবিয়া”।

লোকজন নাসিবিদের ‘হাদি’ মুয়াবিয়ার ভয়ে ও ইমাম আলী আঃ এর প্রতি ঘৃনায় রাসুলের সুন্নাত ছেড়ে দিয়েছিল

হজের সময় তালবিয়া পাঠ করা আল্লাহের রসুলের সুন্নাহ, কিন্তু মুয়াবিয়া ও তার সাংগ পাংগ নাসিবিরা এই তালবিয়া পাঠ করা ছেড়ে দিয়েছিল ইমাম আলী আঃ এর প্রতি ঘৃনা ও শত্রুতায়।

ক)

( سنن النسائي )
3006 أخبرنا أحمد بن عثمان بن حكيم الأودي قال حدثنا خالد بن مخلد قال حدثنا علي بن صالح عن ميسرة بن حبيب عن المنهال بن عمرو عن سعيد بن جبير قال كنت مع ابن عباس بعرفات فقال ما لي لا أسمع الناس يلبون قلت يخافون من معاوية فخرج ابن عباس من فسطاطه فقال لبيك اللهم لبيك لبيك فإنهم قد تركوا السنة من بغض علي .تحقيق الألباني :
صحيح الإسناد

“সাইদ বিন যুবাইর বর্ণনা করেছেন ‘আমরা ইবনে আব্বাসের সাথে আরাফাতে ছিলাম তখন তিনি বললেন ‘ও সাইদ! আমি লোকজনের তালবিয়া পাঠ শুনতে পাচ্ছি না কেন’? আমি বললাম ‘মুয়াবিয়ার ভয়ে’।তখন ইবনে আব্বাস তার তাবু থেকে বার বললেন ‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক,লাব্বাইক, তারা সুন্নাকে ত্যাগ করেছে আলির প্রতি ঘৃনায়”।
*সুনানে নাসাই। নাসিবি আল্লামাহ আলবানি তার তাহকিক এ এই হাদিস্কে সহিহ সাবস্ত করেছেন
* সাহিহ ইবন খুজাইমা খণ্ড ৪ পাতা ২৬০।
* মুসতাদরাক আলা সাহিহাইন খণ্ড ১ পাতা ৩৬৪,৩৬৫।ইমাম হাকিম এটাকে বুখারি ও মুসলিমের হাদিসের মানে বলেছেন।

খ) বাইহাকি তার সুনান আল কুবরা হাদিস বর্ণনা করেছেন তাতে ইবনে আব্বাস মুয়াবিয়াকে লানাত দিয়েছিল সুন্না ছেড়ে দেওয়ার জন্য।

البيهقي الكتاب: السنن الكبرى
– أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْعَلَوِيُّ , أنبأ عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ الشَّرْقِيِّ , ثنا عَلِيُّ بْنُ سَعِيدٍ النَّسَوِيُّ , ثنا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ , ثنا عَلِيُّ بْنُ صَالِحٍ , عَنْ مَيْسَرَةَ بْنِ حَبِيبٍ النَّهْدِيِّ , عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرِو , عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ , قَالَ: كُنَّا عِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ بِعَرَفَةَ , فَقَالَ: ” يَا سَعِيدُ مَا لِي لَا أَسْمَعُ النَّاسَ يُلَبُّونَ؟ ” فَقُلْتُ: يَخَافُونَ مُعَاوِيَةَ فَخَرَجَ ابْنُ عَبَّاسٍ مِنْ فُسْطَاطِهِ , فَقَالَ: ” لَبَّيْكَ اللهُمَّ لَبَّيْكَ وَإِنْ رَغِمَ أَنْفُ مُعَاوِيَةَ اللهُمَّ الْعَنْهُمْ فَقَدْ تَرَكُوا السُّنَّةَ مِنْ بُغْضِ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْه

“……………………………………………………………………তখন ইবনে আব্বাস তার তাবুথেকে বার হয়ে বললেন ‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক,লাব্বাইক’,মুয়াবিয়ার বিরোধিতায়, আল্লাহ তাদেরকে লানত দিক, তারা সুন্নাকে ত্যাগ করেছে আলির প্রতি ঘৃনায়”। (খণ্ড ৫ পাতা ১১৩)

গ) শেখ হাসান মালিকি ‘সুহবা ওয়াল সাহাবা’ এর হাশিয়ার পাতা ৬৪ এ লিখেছেনঃ
“কেউ এটাকে (তালবিয়া)ত্যাগ করেনি সিরিয়ার লোকজন ছাড়া কারণ আলির প্রতি তাদের ঘৃনা। কেননা সে (আলী) আরাফাতের দিন তালবিয়া পড়ত যেমন রসুল সাঃ পড়তেন, সেজন্য ইবনে আব্বাস বলেছেন ‘তারা আলির প্রতি ঘৃনায় সুন্না ত্যাগ করেছেন”।
(নোটঃ এখানে একটা কথা বলে রাখি তথাকথিত আহলে সুন্না প্রকৃত মুসলিম শিয়াদের বিরোধিতা করারা জন্য অনেক সুন্না ত্যাগ করেছে সেটা সুন্নিরা নিজেরাই তাদের লেখায় উল্লেখ করেছে)

ঘ) সালাফি/ওহাবিদের আর এক প্রিয় আলেম মুহাম্মাদ আল সিন্ধি তার সুনান এ নাসাঈএর সারাহতে উল্লেখ করেছেন।

أي لأجل بغضه أي وهو كان يتقيد بالسنن فهؤلاء تركوها بغضا له

“তাদের ঘৃনার কারণে, যেহেতু সে (আলী) সুন্নার প্রতি দৃড় প্রতিজ্ঞ ছিল, তাই তারা এটাকে ত্যাগ করেছিল তার ( আলির) প্রতি ঘৃনার কারণে”।

নাসিবিদের ‘হাদি’ এবং তাদের উত্তরসুরী বানী উমাইয়া ‘বিসমিল্লাহ…’ জোরে বলা ত্যাগ করেছিল আলির আঃ প্রতি ঘৃনার জন্য

তাফসীর আল কাবির, ফখরুদ্দিন রাযী তার তাফসেরের বিসমিল্লাহ আর রাহমান আর রাহিম এর তাফসীরে লিখেছেনঃ
“ইমামা শাফেই রাহিমুল্লাহ তার সনদে বর্ণনা করেছেন যে মুয়াবিয়া মদিনাতে এসে নামাজের ইমামতি করলেন, নামাযে সে না ‘বিসমিল্লাহ আর রাহমান আর রহিম পড়েছেন আর না রুকু ও সেজদাতে যাওয়ার সময় তাকবির বলেছেন। সালাম শেষ করার পর মুহাজির আর আনসার চিল্লাতে লাগল ‘হে মুয়াবিয়া তুমি নামাযে চুরি করেছ, কোথায় বিস্লিম্মাহ আর রহমান আর রাহিম আর কোথায় তাকবির রুকুতে ও সেজদাতে’? শাফেয়ী বলেছেন ‘মুয়াবিয়া ক্ষমতাবান শাসক ছিল এবং শক্তিশালী (সেনা বাহিনী) ছিল, ফলে যদি ‘বিসমিল্লাহ’ জোরে বলা মুহাজির ও আনসারদের চোখে প্রমাণিত ব্যাপার না হত তবে তারা ‘বিস্মিল্লাহ’কে ত্যাগ করার জন্য বিরোধিতা করতে পারত না।

……………বাইহাকি তার ‘সুনান আল কুবরা’তে আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেছেন যে নবি সাঃ পড়েছেন ‘বিসমিল্লাহ হির রহমান নির রাহিম’ জোরে। ইবনে আব্বাস ইবনে উমার, ইবনে যুবাইর ও জোরে পড়েছেন। আলী ইবনে আবি তালিব ‘বিসমিল্লাহ হির রহমান নির রাহিম’ নামাযে জোরে পড়তেন আর এটা প্রমাণিত যে কেউ দ্বীনের ব্যাপারে আমি ইবনে আবি তালিবকে অনুসরণ করেছে সে হেদায়াত পেয়েছে, আর এটার প্রমান হল রসুল সাঃ বলেছেন ‘ ও আল্লাহ, সত্যকে সেই দিকে ঘুরিয়ে দাও যে দিকে আলী ঘোরে’…………আলি ‘বিমিল্লাহ’ জোরে বলার ব্যপারে সবধান ছিল, কিন্তু যখন দেশ বনি উমাইয়ারা শাসন করত তারা ‘বিস্লিম্মাহ’কে বলা জোরে থেকে বিরত থাকত আলির কর্ম পদ্ধুতিকে দূরে সরানোর জন্য, আর সেই জন্য হতে পারে আনাস তাদের ভয়ে ভীত ছিল আর এটাই বিপরিত মুখি হাদিসের কারন”।
খণ্ড ১ পাতা ১৮০,১৮১

আমি এখানে নিজের থেকে কিছু লিখলাম না বা ব্যাখ্যা করলাম না। শুধু মাত্র বিভিন্ন রেফারেন্স তুলে ধরলাম। কারন শুদ্ধ লোকেদের জন্য শুদ্ধ কথা বোঝাতে বেশি কিছু বলতে লাগে না।

কিছু নাসিবিদের আপত্তি ও তার  জবাব

আপত্তি ১)
 আপনার আপত্তির উত্তর নিম্নে দেয়া হল সেই সাথে আল্লামাহ তাকি উসমানীর থেকে যেটা দিয়েছেন সেটার ও উত্তর দেওয়া হল।
আপনার কমেন্ট /////তাবারির এই বর্ননাটাই হচ্ছে অনেকের একমাত্র কুড়ানো মানিক যেটার মাধ্যমে তারা মুয়াবিয়া(রাঃ) এবং তাঁর সকল আঞ্চলিক প্রশাসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে মুয়াবিয়া(রাঃ) নিজে এবং তাঁর সকল আঞ্চলিক প্রশাসক আলি(রাঃ)কে মিম্বরে বসে গালিগালাজ করতেন।///

জবাবঃ
১) মুয়াবিয়া যে আলী আঃ কে গালি দিত সেটা এই একটা রেফারেন্স নয়, ইতিহাসে ও হাদিস প্রচুর আছে তার কিছু কিছু আমি উল্লেখ করেছি একটা মাত্র দেওয়া হয় নি। আশাকরি আপনি আমার লেখাটা পড়ে কমেন্ট করেছেন। ( কিন্তু সেটা মনে হচ্ছে না তাই অনুরোধ রইল ভাল করে পড়ে নেওয়ার জন্য)

২) তাবারির যে বর্ণনাকে উল্লেখ করা হয়েছে সেটা একটি মাত্র সনদ থেকে তাবারি বর্ণনা করেননি বরং মাল্টিপেল বর্ণনা কারিদের থেকে নিয়ে নিজের ভাষ্যে লিখেছেন।  তাবারির স্ক্যানের জন্য ক্লিক করুন।  
আরও একটা কথা পরিস্কার করে দেওয়া দরকার অজস্র সুন্নি বর্ণনার মাঝে কোন শিয়া বর্ণনা একই বিষয় থাকলে বিষয়টা শক্তিশালী হয় দুর্বল হয় না।

আর আগেও যেমন বলেছি যে সুন্নি রেজাল অনুজাই কাউকে শিয়া বলা হলে সে শিয়া হয়ে যায় না। শিয়া রেজাল থেকে দেখাতে হয় সে শিয়া ছিল। সুন্নিরা এমন হাজারো সুন্নিদেরকে শিয়া বলে কারন তাদের সাথে হয়ত কিছু মতের মিল হয় না।

আপনার কমেন্ট//// “মুগিরা (রাঃ)উঠে দাঁড়ালেন এবং বরাবরের মত এবারেও আলি(রাঃ) এবং উসমান(রাঃ)এর বিষয়ে বলেন, “হে আল্লাহ্‌!উসমান(রাঃ)কে রহম করুন,ক্ষমা করুন।তাঁর উত্তম কাজের বিনিময় দান করুন।কেননা কোরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক তিনি আমল করেছেন।এমনকি আমাদের রক্ত বাঁচাতে মজলুম অবস্থায় শাহাদাত বরন করেছেন।হে আল্লাহ্‌!তাঁর সমর্থক,শুভানুধ্যায়ী,অনুরক্ত,কিসাসের দাবি উত্থাপনকারিদের প্রতি রহম করুন।তারপরে তিনি উসমান(রাঃ) এর হত্যাকারিদের প্রতি বদদোয়া করলেন। ///

////খেয়াল করে দেখুন আবু মুহান্নাফের এই কথাই প্রমান করে যে মুগিরা(রাঃ) কক্ষনো আলি(রাঃ) কে কটাক্ষ করে কিছু বলতেন না। কেবল উসমান(রাঃ) এর হত্যাকারিদের প্রতি অভিসম্পাত দিতেন।আর সেটাই শিয়া ঐতিহাসিকদের বর্ননাতে আলি(রাঃ) এর প্রতি অভিসম্পাত হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে।////
জবাবঃ
উপরের কমেন্টর সারবস্তু থেকে যে একটি যুক্তি খাড়া করার চেষ্টা করা হয়েছে সেটি হলঃ
মুগিরা (লাঃ) এখানে উসমানের কাতিলদের উপর লানত /গালি দিত কিন্তু আলী আঃ এর উপর নয়। এখানে আমি জবাবে দেখাব যে উসমানের কাতিল বলতে মুগিরা কাকে বোঝাত এবং প্রমান দেব যে আলিকেই আঃ দিত। 

উপরে আপনার যে কমেন্ট বা তাবারি থেকে বাংলাতে দিয়েছে //…………“মুগিরা (রাঃ)উঠে দাঁড়ালেন এবং বরাবরের মত এবারেও আলি(রাঃ) এবং উসমান(রাঃ)এর বিষয়ে বলেন, “হে আল্লাহ্‌!উসমান(রাঃ)কে রহম করুন,ক্ষমা করুন।তাঁর উত্তম কাজের বিনিময় দান করুন।কেননা কোরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক তিনি আমল করেছেন।এমনকি আমাদের রক্ত বাঁচাতে মজলুম অবস্থায় শাহাদাত বরন করেছেন।হে আল্লাহ্‌!তাঁর সমর্থক,শুভানুধ্যায়ী,অনুরক্ত,কিসাসের দাবি উত্থাপনকারিদের প্রতি রহম করুন।তারপরে তিনি উসমান(রাঃ) এর হত্যাকারিদের প্রতি বদদোয়া করলেন।///
সেটার ইংরাজিতে তাবারির অনুবাদ থেকে দিলাম পড়ে নিন। আপনার উদ্ধৃতি  আধা, এখানে  দেখুন মুঘিরা  উসমানের ব্যাপারে আলি আঃ কে দোষারোপ করা থেকে বিরত হত না  এবং   লানত/গালি দিত উসমানের কাতিলদের উপর সুতরাং উসমানের কাতিল বলতে কাকে বোঝাছে সেটা পরিষ্কার। তাবারির স্কানের জন্য ক্লিক করুন। 

এখন আমি তাবারির ঐ রেফারেন্স ছাড়াও আরও প্রমান দিলামঃ যেগুলি পড়তে গেলে তাকি উসমানের চোখ ঝাপসা হয়ে যায়।

১) কামিল ফিত তারিখ, ইবনে আসির, ৫১ হিঃ এর ঘটনাতে।
“মুয়াবিয়া মুগিরাকে গভর্নর নিযুক্ত করে বলল ‘ আমি তোমাকে সাধারণ বুদ্ধিতে নিযুক্তি দিয়েছি, আমি ডাকছি এই শর্তে যে তুমি তোমার এই কাজ চালিয়ে যাবে যে, তুমি আলিকে হীন ও লানত করা বন্ধ করবে না আর উসমানের উপর রহমত জন্য দোয়া করতে বন্ধ করবে না। মুগিরা কিছুকাল কুফার গভর্নর ছিল আর সেই সময় সে আলী কে লানত/গালি দিত ও হীন করত”।

২) মুসনদে আহমাদ ইবন হাম্বল খণ্ড ৩ পাতা ১৮৫, “আবদুল্লা আল মাযিনি বর্ণনা করেছেন ‘যখন মুয়াবিয়া কুফা ত্যাগ করলেন মুগিরা বিন শুবাকে নিযুক্ত করলেন তিনি বললেন মুগিরা বাগ্মিদের ভাড়া করেছিলেন আলী কে অপদস্ত করার জন্য”।
মুহাক্কেক শেখ শোয়াইব আরনাউত এই হাদিস কে হাসান বলেছেন।  স্কানের জন্য ক্লিক করুন। 

৩) ফাযাইলে সাহাবা, ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল, খণ্ড ১ পাতা ১৪২,১৪৩

عن عبدالرحمن بن الأخنس أن المغيرة بن شعبة خطب فنال من فلان

“আব্দুর রহমান বিন আল আখনাস বর্নানা করেছেন “মুগিরা বিন শুবা খুতবা দিলেন আর অমুককে অভিসম্পাত দিলেন…………।
ওসিউল্লাহ বিন বিন মুহাম্মাদ আব্বাস হাসিয়াতে লিখেছেন অমুক মানে আলী।
এই হাদিসের সনদ সহিহ বলে মুহাক্কিক উল্লেখ করেছেন। স্কানের জন্য ক্লিক করুন। 

৪) খোদ উসমান তাকি তার “হজরত মুয়াবিয়া আওর তারিখি হাকাইক’ এ লিখেছেন
“মুগিরা বিন শোবার সামনে একজন আলিকে লাগাতার গালি দিতে শুরু করলে সাইদ বিন যাইদ মুগিরাকে তিরস্কার করে বললেন তোমার সামনে এই ব্যাক্তি আলিকে গালি দিচ্ছে আর তুমি কিছু করছ না?

এই বর্ননা থেকেই বোঝা যায় যে মুগিরা যে সব লোক জন কে ভাড়া করেছিল ( ২ নং হাদিস দেখুন) তারা কেমন ভাবে ইমাম আলী আঃ কে গালি দিত।

৫) আরও দেখুন উসমান তাকি এর চোখ ঝাপসা হয়ে যায় এই হাদিস দেখতে!
সুনান আল কাবির, ইমাম নাসাই, খণ্ড ৭ হাদিস নং ৮১৪৮

عن عبدالله بن ظالم قال خطب المغيرة بن شعبة فسب عليا فقال سعيد بن زيد أشهد على رسول الله صلى الله عليه وسلم لسمعته يقول أثبت حراء فإنه ليس عليك إلا نبي أو صديق أو شهيد

“আবু জলম বর্ণনা করেছেন ‘মুগিরা বিন শুবা খুতবা দিল ও আলিকে গালি দিল, সাইদ বিন যাইদ বললেন ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি রাসুল সাঃ বলেছেন……………”।

৬) উসমান তাকি এর চোখ থেকে চশমা খুলে যায় এই হাদিস পড়তে।

أن المغيرة بن شعبة سب علي بن أبي طالب فقام إليه زيد بن أرقم فقال : يا مغيرة ألم تعلم أن رسول الله صلى الله عليه و سلم نهى عن سب الأموات فلم تسب عليا و قد مات
هذا حديث صحيح على شرط مسلم و لم يخرجاه

“মুগিরা বিন শূবা আলীকে গালি দিতে শুরু করল, ফলে যায়েদ বিন আরকম (রাঃ) উঠে দাঁড়াল ও বলল যে ‘তুমি কি জান রসুল আল্লাহ সাঃ মৃতদের গালি দিতে বারন করেছে আর তুমি আলিকে গালি দিচ্ছ যে মারা গিয়েছে”?
মুস্তাদরক আলা সাহিহাইন খণ্ড ১ পাতা ৫৪১ হাদিস নং ১৪১৯, সাহিহ বুখারি ও মুসলিমের মানে।
আল বানী তার ‘সিলসিলাত আহদিস আস সাহিয়া’এর খণ্ড ৫ পাতা ৫২০ তে এটাকে উল্লেখ করে সাহিহ সাবস্ত্য করেছেন।
এই হাদিস কে আরও অনেক কাট ছাট করে উল্লেখ করেছেন। অনলাইন লিংক  http://goo.gl/M9Ifuo
  

আহলে সুন্নার চতুর্থ খলিফা আলী ইবনে আবি তালিব কে মুঘিরা ইবনে শোবা মুয়াবিয়ার প্রিয় গভর্নর গালি দিত। আর তাই আহলে সুন্না যাদের রুট ইমাম আলী আঃ এর সাথে শত্রুতায় শুরু হয়েছে তাকে ( মুগিরা ও মুয়াবিয়াকে) রাদি আল্লাহ আনহু বলে!