ইমাম হুসাইন (আঃ) কে কারা হত্যা করেছে? – ২

(ওহাবি, নাসেবীদের ও আহলে সুন্নাহদের প্রপাগন্ডার জবাব)

৩) কুফা থেকে কারা চিঠি লিখেছিল তাদের পরিচয়। খাস ও আমা এবং তাদের মধ্যে কারা হুসাইন (আঃ) এর জন্য জীবন দিয়েছিল ও কারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল এবং সেই সময়ে কুফার পরিস্থিতি।

কুফা থেকে কারা চিঠি লিখেছিল ও তাদের পরিচয়ঃ

আগের অধ্যায়ে এটা দেখানো হয়েছে কুফায় শিয়াদের প্রকারভেদ ও অবস্থা। সংখ্যালঘু আকায়েদী শীয়া, পলিটিক্যাল শীয়া, সাধারণ জনগণ এবং ইমাম আলী (আঃ) এর বিরোধীগণ যারা কুফায় অবস্থান করত।

খাস শিয়াদের চিঠিঃ

মুয়াবিয়ার মৃত্যুর খবর এবং হুসাইন (আঃ) বায়াত না করে মদিনা থেকে মক্কায় এসেছেন এই খবর ছড়িয়ে পড়ে তখন কুফার সংখ্যালঘু আকাইদি শীয়া যারা আহলে বাইতদের (আঃ) বৈধ খলিফা মানত তারা বয়স্ক সাহাবী সুলাইমান বিন সর্দ রাঃ এর বাড়িতে মিটিং করে। মুয়াবিয়ার মৃত্যুতে খুশি জ্ঞাপন করে ও আল্লাহকে শুকরিয়া জানায়, সুলাইমান বিন সর্দ রাঃ বলেনঃ

মুয়াবিয়ার মৃত্যু হয়েছে এবং হুসাইন ইয়াজিদের বায়াত করেতে অস্বীকার করেছে এবং মদিনা থেকে মক্কায় গমন করেছে। তোমারা তাঁর ও তাঁর পিতার শিয়া। যদি তোমরা মনে কর যে তাঁর প্রতি আনুগত্য ও তাঁর শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করায় তোমাদের তরফ থেকে কোন কমতি হবে না তবে এসো আল্লাহর নামে তাকে আমরা চিঠি লিখি কিন্তু যদি তোমরা ভাবো যে তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা আছে তবে তাকে ছেড়ে দিয়ে আল্লাহের ওয়াস্তে তার জীবনকে বিপদের মধ্যে ফেলো না(তাবারী খন্ড ১৯ পাতা ২৪, ইং অনুবাদ)

এরপরে তারা ইমাম হুসাইন (আঃ) কে চিঠি লিখলঃ

بسم الله الرحمن الرحيم. لحسين بن علي من سليمان بن صرد والمسيب ابن نجبة ورفاعة بن شداد وحبيب بن مظاهر وشيعته من المؤمنين والمسلمين من أهل الكوفة. سلامٌ عليك، فإنا نحمد إليك الله الذي لا إله إلا هو، أما بعد، فالحمد لله الذي قصم عدوك الجبار العنيد الذي انتزى على هذه الأمة فابتزها أمرها، وغصبها فيئها، وتأمر عليها بغير رضاً منها، ثم قتل خيارها، واستبقى شرارها، وجعل مال الله دولةً بين جبابرتها وأغنيائها، فبعداً له كما بعدت ثمود! إنه ليس علينا إمام، فأقبل لعل الله أن يجمعنا بك على الحق. والنعمان ابن بشير في قصر الإمارة لسنا نجتمع معه في جمعة، ولا نخرج معه إلى عيد، ولو قد بلغنا أنك قد أقبلت إلينا أخرجناه حتى نلحقه بالشأم إن شاء الله؛ والسلام ورحمة الله عليك.

বিসমিল্লাহ আর রাহমানির রাহিম, হুসাইন ইবনে আলির প্রতি সুলাইমান বিন সর্দ এবং মুসাইব বিন নাজাবা এবং রিফাহ বিন শাদ্দাদ এবং হাবিব বিন মাযাহিরের কুফার মোমিন মুসলমান শীয়াদের পক্ষ থেকে (চিঠি), সালামুন আলিইকা, আমরা আল্লাহের প্রশংসা করছি যিনি ছাড়া কোন ইলাহা নেই। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি আপনার শত্রুকে ভেংয়ে দিয়েছে, অত্যাচারী যে তার জনগনের উপর চেপে বসে ছিল।…………………… আমাদের উপর কোন ইমাম নেই সুতরাং আসুন, যাতে আপনার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদেরকে সত্যের উপর একত্রিত করতে পারে। নুমান বিন বাসির গভর্নরের মহলে আমরা তাঁর সাথে জুমার বা ঈদের নামাজ পড়িনা। যদি আমরা জানি যে আপনি আসছেন তবে আমরা তাকে বহিস্কার করে সিরিয়ায় পাঠিয়ে দিবো, ইনশাআল্লাহ্‌ । ওয়াস সালামু ওয়া রাহমাতুল্লাহ আলাইক (*তারিখ তাবারি, ৬০ সালের ঘটনা সমূহে, *আল মুনতাযাম, ইবনে জওজি খণ্ড ২ পাতা ১৯৩, *অনুরূপ আল কামিল ফিত তারিখ ইবনে আসির। )

এই চিঠি যারা লিখেছিল তাদের নামঃ ১) হজরত সুলাইমান বিন সর্দ ২) মুসাইব ইবনে নাজাবা ৩) রিফাহ বিন শাদ্দাদ ৪) হাবিব বিন মাযাহির।

এই চিঠি যা খাস আকাইদি শিয়ারা লিখেছিল তারা কতজন হবে? কারণ সুলাইমান বিন সর্দ রাঃ এর বাড়িতে মিটিং হয় সেখানে নিশ্চয়ই ১০ জনের বেশি হবে না তা সহজেই বোঝা যায়।

এই চিঠি ইমাম হুসাইনের (আঃ) কাছে নিয়ে যায় ১) আব্দুল্লাহ আল হামদানি ২) আব্দুল্লাহ বিন ওয়াল। (তাবারি, ইবনে কাসির, আল কামিল ফিত তারিখ ইবনে আসির)

ইমাম হুসাইন (আঃ) এর কাছে চিঠি লেখা হয়েছে এই সংবাদ ধিরে ধিরে কুফায় ছড়িয়ে পড়তে থাকলো, ফলে সাধারন জনগণ, পলিটিক্যাল শিয়া, আমা (আম জনগণ) এবং সুযোগ সন্ধানি লোকেরা ও চিঠি লেখার বিষয় ভাবতে থাকে। যারা এন্টি এস্ট্যাব্লিস্টমেন্টে ভুগছিল তারাও ইমাম হুসাইন (আঃ) এর বায়াত না করার খবরে বিষয়টা নিয়ে খুশি হল।

আগেই দেখানো হয়েছে যে যিয়াদ ও ইবনে যিয়াদের অত্যাচারে কুফায় সামান্য কিছু খাস শিয়া ছিল আর সংখ্যাগুরু আম জনতা যারা পরবর্তিতে আহলে সুন্নাহ নেয়।

জনগণের চিঠিঃ

আম কুফিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায় এবং ৫৩ টা চিঠি তৈরি হয় মাত্র ২ দিনের মধ্যে, যাতে ১ জন বা ২জন থেকে ৪ জনের হস্তাক্ষর থাকে। এইসব দেখে খাস শিয়াদের বিশ্বাস জন্মায় যে কুফায় সত্যি ইমাম হুসাইন (আঃ) এর জন্য জায়গা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু খাস শিয়ারা এটা ভুল এসেস্মেন্ট করেছিল। জনগণ এই চিঠিগুলি বিশ্বস্ত শিয়াদের দ্বারা হুসাইন (আঃ) এর কাছে পাঠায়, বাহকদের নাম ছিল ১) কায়স বিন মাশের ২) আব্দুর রাহমান বিন আব্দুল্লাহ ৩) আম্মারা বিন উবাইদ আস সালুলি।

জনগনের মধ্যে উৎসাহ দেখে খাস শীয়ারা আরো দুদিন পরে লেখেঃ “তাড়াতাড়ি আসুন, জনগণ আপনার জন্য অপেক্ষ্যে করছে আর অন্য কাউকেও নিজেদের নেতা মানার জন্য প্রস্তুত নয়। সুতরাং জলদি করুন (তাবারি, ৬০ সালের ঘটনা সমূহ)

এই চিঠি পাঠায় ১) হানি বিন উরুয়া ২) সাইদ বিন হানাফি এর মাধ্যমে।

সুবিধাবাদিদের চিঠিঃ

জনগনের হাওয়া দেখে সুবিধাবাদিরা ও লিখতে শুরু করলো। তারা লিখলো জমিন আবার উর্বর হয়েছে, গাছগাছালি ফল দিচ্ছে আর পুকুরের জল প্রবাহিত হচ্ছে। সুতারং আপনি আসুন যখনই আপনার জন্য একটা সৈন্যদল প্রস্তুত আছে। (তাবারি,৬০ সালের ঘটনা সমূহ)

এই চিঠি ছয় জন লিখেছিল তাদের নাম ১) শাবাষ বিন রাবেঈ ২) হাজ্জর বিন আবজর ৩) ঈয়াজিদ বিন হারিস বিন ঈয়াজিদ বিন রাইম ৪) আজরাহ বিন কায়েস ৫) উমরাও বিন হাজাজ ৬) মুহাম্মদ বিন উমারি তামিমি। (প্রগুক্ত)

এই সুবিধাবাদি লোক যারা পরে পার্টি বদলে ইয়াজিদের দলে যোগ দিয়েছিল এবং ইমাম হুসাইন (আঃ) এর হত্যায় সাহায্য করেছিল। এদের নেতা শাবাষ বিন রাবেঈ ছিল যে খারেজি ছিল পরে খারেজিরা পরাজিত হলে আবার আলী (আঃ) এর দলে যোগ দেয়। আমরা ইনশাআল্লাহ দেখাবো যে এই সাবাষ বিন রাবেঈ এর সাথে আহলে সুন্নার সখ্যতা, এই ব্যাক্তি আবুবকর ও উমারের খেলাফেতের বিশ্বাসী ছিল এবং সুন্নি হাদিসের কেতাবে এই ব্যাক্তির হাদিস বিদ্যমান। ফলে পাঠকগন বুঝতেই পারছে যে যারা সুবিধাখোর হিসাবে চিঠি লিখেছিল এবং পরে পার্টি বদলিয়ে ইয়াজিদের সাপোর্ট করেছিল তারা আজাকের কারা! আমরা এও দেখাবো যে খাস শিয়ারা কিভাবে ইমাম হুসাইন (আঃ) কে সাহায্য করেছিল এবং কিভাবে জীবন দিয়েছিল।

উপরে সুযোগসন্ধানী লোকেরা যারা ইমাম হুসাইনকে (আঃ) চিঠি লিখেছিল এবং পরে বিপক্ষ্যে যোগ দিয়েছিল অর্থাৎ বিশ্বাস ঘাতকতা করেছিল তাদের সাথে আহলে সুন্নাহর সখ্যত্বার প্রমান দেওয়া হল।

১) শাবাষ বিন রাবেইঃ আবু দাউদ, ইবনে মাজা তার থেকে হাদিস নিয়েছে, বুখারির ওস্তাদ আব্দুর রাজ্জাক ও ইবনে আবি শায়বা তাদের নিজ নিজ মুসান্নাফে শাবাষ থেকে হাদিস বর্ননা করেছে। আহলে সুন্নাহর বড় রেজাল শাস্ত্রের পণ্ডিত ইবনে হিব্বান তাকে তাঁর শিকাত এ উল্লেখ করেছেন। ইমাম নাসাঈ তাঁর সুনান আল কাবির এ হাদিস বর্ননা করেছেন। যাহাবি তার সিয়ার আলাম নাবুলাতে উল্লেখ করেছেন এবং শরিফ ও বাহাদুর বলেছেন এবং খারেজি হয়ে গিয়েছি ছিল এবং পরে তওবা করে ফিরে এসেছিল বলে উল্লেখ করেছ। ইবনে জাওজি উল্লেখ করেছেন সে খারেজিদের নেতা ছিল।

২) হাজ্জর বিন আবজরঃ কানযুল আম্মাল, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা এই ব্যাক্তির থেকে হাদিস বর্নণা করেছেন। বুখারি তার তারিখ আল কবির এর উল্লেখ করেছেন। ইবনে সাদ তাকে সম্মানিয় ব্যাক্তিদের মধ্যে রেখেছেন।

আশা করা যাচ্ছে যে বাকীরাও এদের নেতা শাবাষ বিন রাবেঈ এর সাথে যুক্ত হয়েছিল।

পরবর্তিতে ৪র্থ অধ্যায়ে আরো দেখানো হবে এই সব আম শিয়াদের দ্বারা চিঠি লেখা ও ইমাম হুসাইন (আঃ) এর হত্যায় যুক্ত ব্যাক্তিদের সাথে আহলে সুন্নাহর সংযুক্ততা। সেটা আর প্রমান করবে যে আহলে সুন্নাহ কোন লজ্জায় নিজেদের নাম বদলিয়ে নিয়েছে।

অপর দিকে যারা খাস শিয়া যারা প্রথম চিঠি লিখেছিল এবং সেই সব শিয়ারা যারা চিঠির আদান প্রদান করছিল তাদের কথা উল্লেখ করা হলঃ

১) সাহাবী সুলাইমান বিন সর্দঃ

ক) ইবনে হাজর আস্কালানি তার তকরিব আত তাহযিব এর খণ্ড ১ পাতা ৩৭৮ এ সুলাইমান বিন সর্দ রাঃ কে সাহাবী বলেছেন।

খ) যাহাবি তার আল কাশিফ এর খণ্ড ১ পাতা ৪৬০ ( এন্ট্রি নং ২১০১) এ হজরত সুলাইমান বিন সর্দ রাঃ কে সাহাবী বলেছেন।

سليمان بن صرد أبو مطرف الخزاعي الكوفي صحابي

ঘ) যাহাবি তার ‘সিয়ার আলাম নাবুলা’ পাতা ৩৯৪ -৩৯৫ এ লিখেছেনঃ

سُلَيْمَانُ بنُ صُرَدٍ أَبُو مُطَرِّفٍ الخُزَاعِيُّ الكُوْفِيُّ * (ع

الأَمِيْرُ، أَبُو مُطَرِّفٍ الخُزَاعِيُّ، الكُوْفِيُّ، الصَّحَابِيُّ.

لَهُ: رِوَايَةٌ يَسِيْرَةٌ.

وَعَنْ: أُبَيٍّ، وَجُبَيْرِ بنِ مُطْعِمٍ.

وَعَنْهُ: يَحْيَى بنُ يَعْمَرَ، وَعَدِيُّ بنُ ثَابِتٍ، وَأَبُو إِسْحَاقَ، وَآخَرُوْنَ

قَالَ ابْنُ عَبْدِ البَرِّ: كَانَ مِمَّنْ كَاتَبَ الحُسَيْنَ لِيُبَايِعَهُ،

সুলাইমান বিন সর্দ, কুফাতে খুজাইদে নেতা ছিলেন, সাহাবী ছিলেন। তিনি কিছু হাদিস বর্ণনা করেছেন উবাই, যুবাইর বিন মুতিম থেকে। আর তার থেকে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন ইয়ামার এবং উবাই বিন সাবিত এবং আবু ইসহাক অন্যান্যরা। ইবনে আব্দুল বার বলেছেন যে তিনি (সুলাইমান বিন সর্দ) তাদের মধ্যে ছিলেন যারা হুসাইনকে চিঠি লিখেছিল আর তাঁকে বায়াত করেছিল

ঙ) ইবনে আব্দুল বার তার ‘আল ইসতিয়াব ফি মারেফাতে আসহাব’ এর খণ্ড ২ পাতা ৪৩, ৪৪ এ উল্লেখ করেছেনঃ

سليمان بن صرد بن الجون

بن أبي الجون بن منقذ بن ربيعة بن أصرم الخزاعي من ولد كعب بن عمرو بن ربيعة وهو لحي بن حارثة بن عمرو بن عامر وهو ماء السماء عامر بن الغطريف والغطريف هو حارثة ابن امرىء القيس بن ثعلبة بن مازن وقد ثبت نسبه في خزاعة لا يختلفون فيه يكنى أبا مطرف كان خيراً فاضلاً له دين وعبادة كان اسمه في الجاهلية يساراً فسماه رسول الله صلى الله عليه وسلم سليمان ………………………………

وكان فيمن كتب إلى الحسين بن علي رضي الله عنهما يسأله القدوم إلى الكوفة

সুলাইমান বিন সর্দ…… ভাল ধর্মভীরু লোক ছিল, জাহেলিয়াতের যুগে তার নাম ছিল লাসীর রাসুল আল্লাহ (সাঃ) পরিবর্তন করে সুলাইমান রাখেন………তিনি তাদের মধ্যে একজন ছিল যারা হুসাইন ইবনে আলী কে লিখেছিল এবং কুফাতে আমন্ত্রন করেছিল

এই সাহাবীর বর্নিত হাদিস বুখারিতেও আছে।

বৃদ্ধ এই সাহাবী ইমাম হুসাইন (আঃ) কে চিঠি লিখে কুফায় আসতে ডেকেছিলেন। কিন্তু কারবালাতে যখন ইয়াজিদের সেনা ইমাম হুসাইন (আঃ) এর পথ আটকায় তখন কারবালায় যেতে পারেনি। অনলাইনে অজ্ঞ নাসেবী ও আহলে সুন্নাহর তরফ থেকে এই সাহাবীকে যা ইচ্ছে তাই বলা হয়। যে শিয়া সুলাইমান বিন সর্দ চিঠি লিখেছিল কিন্তু সাহায্যের জন্য কারবালায় আসেনি সুতরাং শিয়ারা ইমাম হুসাইন (আঃ) কে হত্যা করেছিল। পরবর্তিতে আমরা অবশ্যই দেখাবো যে ইবনে যিয়াদ কুফায় কি পরিস্থিতি করে দিয়েছিল যে লোকেরা চাইলেও সাহায্য করতে পারেনি। এখানে এইটুকু উল্লেখ করা হল যে এই সাহাবীর নেতৃত্বে কারবালা পরবর্তিতে ৪,০০০ লোকের এক সেনা তৈরি করে যাদেরকে ইতিহাসে তাওবাবুন বলে আখ্যাইত করা হয়।

ইবনে কাসির তার আল বেদায়া আন নেহায়াতে খন্ড ৮ পাতা ২৪৭ তেঃ কুফা বাসীর কথাতে লিখেছেনঃ

فَاجْتَمَعُوا فِي دَارِ سُلَيْمَانَ بْنِ صُرَدٍ وَهُوَ صَحَابِيٌّ جَلِيلٌ،

তারা জলিল (সম্মানিত) সাহাবী সুলাইমান বিন সর্দ এর বাড়িতে জমা হল

এরা কারবালায় ইমাম হুসাইন (আঃ) এর রাওযায় একরাত কাটায় এবং ইয়াজিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। এবং সিরিয়ার সেনা বাহিনির সাথে যুদ্ধে আইনুল বারদা নামক জায়গাতে শহিদ হল। আল্লাহ এই মহান সাহাবী উত্তম যাজা দান করুক।

২) মুসাইব ইবনে নাজাবাঃ ইনিও পরবর্তিতে তাওবাবুনদের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যাক্তিবর্গের মধ্যে সামিল হন এবং সুলাইমান বিন সর্দের (রাঃ) এর ঘরে বক্তব্য রাখেন ও তওবাবুনদেরকে মোটিভেট করেন এবং ইবনে যিয়াদ ও শামের বাহিনীদের সাথে লড়াই করতে গিয়ে শহিদ হন।

৩) আব্দুল্লাহ বিন ওয়ালঃ এই খাস শীয়া যিনি ইমাম হুসাইন (আঃ) ও কুফার শীয়াদের চিঠি আদান প্রদান করত তিনিও আইনুল বারদা এর যুদ্ধে শহিদ হন। ইনি দ্বিতীয় ব্যাক্তি হিসাবে আইনুল বারদা এর যুদ্ধে তওবাবুনদের ঝান্ডা উত্তোলন করেন।

৪) রিফাহ বিন শাদ্দাদঃ ইনিও সুলাইমান বিন সর্দ রাঃ এর বাহিনিতে যুক্ত হন এবং আইনুল বারদার যুদ্ধে ঝান্ডা উত্তোলন করেন।

৫) হাবিব বিন মাযাহির (রহঃ) ইমাম হুসাইন (আঃ) এর সাথে কারবালায় শহিদ হন এবং জান্নাতুল আদেনে চিরস্থায়ী ঠিকানা লাভ করেন। শিয়াদের প্রত্যেক মজলিশে হাবিব বিন মাজাহিরের গুণগান করা হয় তার কথা স্বরণ করা হয়। শিয়াদের বাচ্চা বাচ্চা হাবিব বিন মাযাহিরের নাম জানে। আহলে সুন্নাহর আলেম ইনার নাম জানেও না।

যে সব বিশ্বস্ত শিয়ারা চিঠির আদান প্রদান করতেনঃ

৬) কায়স বিন মাশে্রঃ আহলুল বাইত (আঃ) দের শীয়ারা সব সময় এই মহান শীয়াকে মনে রাখবে যেভাবে তাকে ইবনে জিয়াদ কতৃক হত্যা করা হয়েছে! ইমাম হুসাইন (আঃ) কতৃক পাঠানো উত্তরের চিঠি নিয়ে যখন ফিরছিল তখন ইবনে জিয়াদের সেনা কতৃক কাদসিয়াতে ধরা পড়ে এবং ইবনে যিয়াদের কাছে পাঠানো হয়। ইবনে যিয়াদ তার প্রসাদের বারান্দায়  নিয়ে গিয়ে হুসাইন (আঃ) কে গালি দিতে বলে কিন্তু কায়েস বিন মাশের লোকদের সামনে ইমাম হুসাইন (আঃ) কে প্রশংসা ফলে উপর থেকে ফেলে দিয়ে ইবনে যিয়াদ তাকে হত্যা করে।

৭) আব্দুর রাহমান বিন আব্দুল্লাহ ইমাম হুসাইন (আঃ) এর অনুমতি নিয়ে কারবালায় যুদ্ধে কবিতা পড়তে পড়তে প্রবেশ করে এবং জীবনের শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ করে শাহাদত লাভ করেন।

৮) সাইদ বিন হানফি, যোহরের পরে যখন যুদ্ধ মারাত্বক আকার ধারন করে তখন সাইদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হানফি ইমাম হুসাইন (আঃ) সামনে দাড়িয়ে যায় এবং ইমামের দিকে আগত তীরগুলি তাঁর বুক ভেদ করে এবং শাহাদত প্রাপ্ত হন।

৯) হানি বিন উরুয়া, যাকে ইবনে যিয়াদ নির্মম ভাবে কুফায় হত্যা করে , মুসলিম বিন আকীলকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য।

উপরে কুফা থেকে যারা চিঠি লিখেছিল তাদের পরিচয় দেওয়া হল। খাস শিয়ারা কিভাবে জীবন দিয়েছিল আর আমা (আম জনতা) যারা পরবর্তীতে আহলে সুন্নাহ নাম নিয়েছে তাদেরও পরিচয় দেওয়া হল এবং আহলে সুন্নাহর কাছে তারা কত প্রিয় তারও প্রমান দেওয়া হয়েছে, যে আহলে সুন্নাহর কিতাবে তাদের সহিহ হাদিস আছে এবং তারা আহলে সুন্নাহর কাছে শিকা (বিশ্বস্ত)। সুতরাং একথা দিবালোকর মত পরিষ্কার যে ইমাম হুসাইন (আঃ) এর হত্যায় আহলে সুন্নাহর হাত রক্তাত্ব। পরবর্তি অধ্যায়ে ইনশাআল্লাহ আরো প্রমান দেওয়া হবে।

সেই সময়ে কুফার পরিস্থিতি।

হুসাইন (আঃ) এর মক্কা ত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ে ফলে বসরায়ে যে ক’জন শিয়া ছিল তাদের মধ্যে ও মিটিং শুরু হয়। এক বুড়ির (মারিয়া বিন্তে সাদ ) বাড়িতে গোপনে মিটিং হত।

ইবনে যিয়াদ তখন বসরার গভর্নর ছিল, তাকে খবর দেওয়া হল যে হুসাইন (আঃ) মক্কা ত্যাগ করেছে। সে তার এডমিনিস্ট্রেটরদের নির্দেশ জারি করল যে রক্ষাকর্তা পাঠিয়ে বসরার সব পথের চেকিং নেওয়া হয়। (তাবারি ইং খন্ড ১৯ পাতা ২৭)

ইয়াজিদ ইবনে নুবাই যে আবদে কায়েস গোত্র থেকে ছিল। হুসাইন (আঃ) এর সাহায্যে সে বের হবে, তার দশটা ছেলেকে ডেকে বলল যে কারা আমার সাথে যাবে? তার দুই পুত্র আব্দুল্লাহ আর উবাইদুল্লাহ তার সাথে যেতে রাজি হল। তারপরে সে ওই মহিলার ঘরে তার সাথিদের বলল যে  আমি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আর আমি এখন বার হচ্ছি। তারা বলল যে  আমরা তোমার জন্য ভয় পাচ্ছি ইবনে যিয়াদের অনুসারিদের জন্য।  (তাবারি খন্ড ১৯ পাতা ২৭, ইং অনুবাদ)

এই ব্যাক্তি তার দুই ছেলেকে নিয়ে ইমাম হুসাইন (আঃ) এর কাছে পৌছায় এবং পরে কারবালাতে শহীদ হন। ( সুত্রঃ তাবারী খন্ড ১৯ পাতা ২৭)

এদিকে ইমাম হুসাইন (আঃ) কুফায় মুসলিম বিন আকীল কে পাঠান অবস্থা তদন্ত করার জন্য। মুসলিম বিন আকীল কুফায় পৌঁছালে হৈ চৈ পরে যায়, কুফার তৎকালীন গভর্নর নুমান বিন বাশীর মুসলিম বিন আকীলকে গ্রেফতার না করলেও সবাইকে সাবধান করে দেয় কোন রকম গন্ডগোল না করার জন্য। তখন কুফায় ইয়াজিদের শীয়ারা – ইয়াজিদের দলের লোকেরা ইয়াজিদকে চিঠি লেখেঃ

মুসলিম বিন আকীল কুফায় এসেছে আর শীয়ারা হুসাইন বিন আলির হয়ে তার হাতে বায়াত করছে। যদি আপনি কুফানদের চান তবে একজন কঠিন লোককে এখানে পাঠান যে আপনার হুকুম তালিম করবে এবং ওই কাজ করবে ঠিক সেই ভাবে আপনি আপানার শত্রুদের প্রতি ব্যাবহার করেন। নুমান বিন বাশীর একজন দুর্বল লোক বা দুর্বলের মত ব্যাবহার করছে(তাবারি খন্ড ১৯, পাতা ৩০)

এই ধরনের চিঠি যা ইয়াজিকে কুফা থেকে আহলে সুন্নাহর মোতবার লোকেরা লিখেছিল তাদের নামঃ

১) আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম বিন সাইদ আল হাযরামি। ২) আম্মারা বিন উকবাহ ৩) উমার বিন সাদ বিন আবি ওক্কাস। (তাবারি খন্ড ১৯ পাতা ৩০)

পাঠকদের মনে রাখা দরকার এই উমার বিন সাদই সেই জন যে কারবালায় ইয়াজিদের সেনা প্রধান ছিল ও যে যুদ্ধের প্রথম তীর ছোড়ে। আরো একটা ব্যাপার যা এই প্রবন্ধের মুল প্রসঙ্গ যা এখানে প্রকাশ হয় যে এই ব্যাক্তি আহলে সুন্নাহর হাদিসবিদদের কাছে ‘শিকা’ তথা বিসস্ত বর্ননা কারী এবং সুন্নি মুহাদ্দিসগন ইনার থেকে খুশির সাথে হাদিস নিয়েছে ধর্ম শিক্ষা নিয়েছে। পরে এই বিষয় বিষদ বর্নণা করা হবে।

এখানে পাঠকের আর একটা গুরুত্বপুর্ন বিষয় বলতে চাই যা থেকে প্রমান হয় যে মুহাম্মাদি ইসলামকে ও মুহাম্মাদ (সাঃ) এর বংশধরকে ধ্বংস করতে আহলে সুন্নাহর পঞ্চম ও ষষ্ঠ খলিফা (মুয়াবিয়া ও ইয়াজিদ) কাদের সাহায্য নিয়েছিল!

উপরের চিঠি পাওয়ার পরে ইয়াজিদ তার উপদেষ্টা সারজুনকে ডাকল পরামর্শার জন্য। এই সারজুন মুয়াবিয়ারও উপদেষ্টা ও সেক্রেটারি ছিল সারজুনের নাম স্যার জন (Sir John) আরবিতে স্যার জন এর উচ্চারণ সারজুন হয়ে গিয়েছে, যে একজন রোমান খ্রীস্টান ছিল। (সুত্রঃ তাবারি খন্ড ১৯ পাতা ১৮ ও পাতা ৩০)। সারজুন পরামর্শ দিল যে উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদকে কুফা ও বসরার দায়িত্ব দেওয়া হোক। সেই মত ইয়াজিদ ইবনে যিয়াদকে চিঠি লেখেঃ

কুফা থেকে আমার শিয়ারা আমাকে লিখেছে যে ইবনে আকীল কুফাতে অবস্থান করছে এবং লোকজন জড় করছে মুসলিমদের মধ্যে বিদ্রোহ করার জন্য। সুতারং তুমি যখন আমার এই পত্র পড়বে কুফায় যাও ও ইবনে আকীলকে খোঁজ এমন বানে যেন তুমি দানা খুজছো এবং তাকে খুঁজে বার কর। তাকে চেন দিয়ে বাধো, হত্যা করো কিংবা বিতাড়িত করো( তাবারী খন্ড ১৯ পাতা ১৮ এবং ৩১)

এখানে উল্লেখ্য যে কুফা থেকে যারা চিঠি লিখেছিল তাদেরকে ইয়াজিদ নিজের শিয়া বলেছে। আর কুফা থেকে আব্দুল্লাহর চিঠিতে লেখা হয়েছে যে “……শীয়ারা হুসাইন বিন আলির হয়ে তার হাতে বায়াত করছে। যদি আপনি কুফানদের চান… সুতারং বোঝা যাচ্ছে যে আম কুফিরা আর ইয়াজিদের শিয়ারাও ইবনে আকীলের হাতে বায়াত করছিল। কেননা জনগণের একটা বড় অংশ এবং যারা এতদিন ইয়াজিদের শিয়া বা অনুসারি ছিল তাদের হুসাইনের দলে হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছে চিঠিতে। বলা হচ্ছে কুফানদের যদি ফেরত চান বা কুফানদের যদি অধিকারে চান।

ইবনে যিয়াদ কুফায় এসে কারফিউ জারি করেঃ 

রাতের অন্ধকারে ইবনে যিয়াদ মুখ ঢেকে কুফায় প্রবেশ করে। ফলে সবাই ভাবে যে হুসাইন (আঃ) এসেছেন কিন্তু যখন জানতে পারলো যে এটা ইবনে যিয়াদ সবাই ছত্রভঙ্গ হয়েগেল। পরে ইবনে যিয়াদ জনগনকে সালাতের জন্য ডাক দিয়ে ঘোষনা দিল যা তাবারি খন্ড ১৯ পাতা ৩৪ এ উল্লেখ করেছেঃ

……….সে বলতে থাকল, সে আরিফ আর জনগকে প্রচন্ড পরীক্ষায় ফেলল আর বলল আমাকে লেখো আগুয়ান্তিক সমন্ধে, আর তোমাদের মধ্যে যাদেরকে আমিরুল মোমিনের (ইয়াজিদ) খুজছে, তোমাদের মধ্যে যারা হুরুরিয়া (খারেজি) আর যারা বিশৃঙ্খলা ও ফেতনা সৃষ্টি করতে চায়। তোমাদের মধ্যে যারা এই লিস্ট বানিয়ে আমাদেরকে দেবে তারা ক্ষতি থেকে মুক্ত থাকবে। আর যারা কারো নাম লিখবে না তাদেরকে এটাই নিশ্চয়তা দিতে হবে যে তাদের ইরাফায় এমন কোন ব্যাক্তি নেই আমাদের বিরোধিতা করবে বা আমাদের ক্ষতি করবে। যে এটা করবে না তার সুরক্ষা দেওয়া হবে না, আর তার রক্ত ও সম্পত্তি আমাদের জন্য হালাল হবে। আর যদি যে কোন আরিফের ইরাফায় ওই নাম আছে যাকে আমিরুল মোমেনিন চাইছে অথচ সে আমাদেরকে জানায় নি, তাকে তার ঘরের দরওয়াজায় ক্রশবিদ্ধ করা হবে, আমি তার ইরাফাকে বাতিল করে দেব ভাতা দেওয়া বন্ধ করে দেব, অথবা তাকে উমান বা আল যাররাতে নির্বাসন দেব

( তৎকালীন যুগে তহশিলের কেরানীদের কাছে জনগণের নাম ঠিকানা, গোত্র, জন্ম তারিখ লিপি বদ্ধ থাকত মনে হচ্ছে সেটাকেই ইরাফা বলা হচ্ছে এবং যারা লিখত তাদেরকে আরিফ বলা হচ্ছে)।

অর্থাৎ ইবনে যিয়াদ কুফায় এসেই সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।

কুফায় ইয়াজিদের সরকারী আর্মি ও পুলিশ বাহিনী মজুদ ছিল।

কুফায় এসে ইবনে যিয়াদ সরকারি পুলিশদের নির্দেশ দেয় যে মুসলিম বিন আকিলকে সহ তার সাহায্যকারিদের গ্রেফতার করার জন্য। এই কাজের জন্য ইয়ামানি গোত্র প্রধান কাসির বিন শিবাব ও মুহাম্মাদ বিন আশাসকে ভার দেয়। (তাবারী খন্ড ১৯ পাতা ৪৯;)

“কাসীর, কালব গোত্রের একজনের সাথে দেখায় পায় যার নাম আবদুল আলা বিন ইয়াজিদ। সে অস্ত্র নিয়ে যাচ্ছিল মুসলিম বিন আকীলের ও অন্যান্য যুবকদের সাথে যুক্ত হতে। কাসীর তাকে পাকড়াও করে ইবনে যিয়াদের কাছে নিয়ে গেল এবং এই ব্যাক্তির ব্যাপারে বলল, কিন্তু লোকটা বলল যে সে তার কাছে আসছিল। ইবনে যিয়াদ বলল, ‘নিশ্চই নিশ্চই! আমার মনে পড়েছে তুমি আমকে এই ব্যাপারে ওয়াদা করেছিলে’! ইবনে যিয়াদ তাকে গারদে দিতে বলল।

মুহাম্মাদ বিন আশাস বনু উমারাহ গোত্রের ঘরদের দিকে গেল। উমারাহ বিন সালখিন আল আজদি তার কাছে এল, সে অস্ত্র নিয়ে ইবনে আকীলের কাছে যাচ্ছিল। মুহাম্মাদ বিন আশাস তাকে ধরে ইবনে যিয়াদের কাছে পাঠাল, ইবনে যিয়াদ তাকে কারাগারে দিল”।

এখানে পাঠকগনকে মুহাম্মাদ বিন আশাসকে নোট করে রাখার জন্য অনুরোধ করছি। আহলুল বাইত (আঃ) দের এই শত্রুর সাথে আহলে সুন্নাহর সখ্যতা যথা সময়ে দেখানো হবে।

পরিস্থিতি দেখে ইবনে যিয়াদ এই কথা রটিয়ে দেয় যে সিরিয়া থেকে ইয়াজিদের বাহিনী আসছে। ফলে কুফা বাসিদের মধ্যে আর সন্ত্রাস সৃষ্টি করা যায়। এখনও আহলে সুন্নাহরা বলেবে যে ইমাম হুসাইন (আঃ) এর কতল শিয়ারা করেছে? আসলে ইয়াজিদের প্রতি তাদের মুহাব্বত এবং ইমাম হুসাইন (আঃ) এর কতলে তাদের হাত দিবালোকের মত পরিষ্কার। তা তাদের এই সব লোকেদের সাথে সখ্যতা দেখলেই বোঝা যায়।

যত্রতত্র গ্রেফতার করা শুরু করা হয় যাকে সন্দেহ হয় তাকে গ্রেফতার করে ও হত্যা করে ইমাম হুসাইন (আঃ) এর বাল্য বন্ধু মুখতার ইবন আবু উবাইদা আস সাকাফি রহঃ কে গ্রেফতার করা হয় আব্দুল্লাহ বিন হারিস বিন নোফালকে গ্রেফতার করা হয়। হজরত মুসলিম বিন আকীল রাঃ কেও গ্রেফতার করা এবং হত্যা করা হয় সাথে হানি বিন উরুয়াকেও হত্যা করা হয়। ইয়াজিদ এই বিষয় ইবনে যিয়াদকে নির্দেশ জারি করে। (তাবারী খন্ড ১৯ পাতা ৬৪)

ইয়াজিদ লেখে আমার কাছে খবর আছে যে হুসাইন বিন আলী ইরাকের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। সুতারং লক্ষ্য রাখো ও নজরদারি করো যেকোন সন্দেহ জনক ব্যাক্তির উপর। যেকোন সন্দেহ জনক ব্যাক্তিকে গ্রেফতার কর কিন্তু তাদেরকেই হত্যা করো যারা তোমার বিরুদ্ধে লড়াই করে

ইয়াজিদের এই নির্দেশ ইবনে যিয়াদ খুবই কঠোর ভাবে প্রয়োগ করেছিল ইবনে যিয়াদ নিজেই এই কথা বলেছে ইয়াজিদের মৃত্যুর পরে এমন কোন সন্দেহভাজন লোক ছিল না যারা গভার্মেন্টের বিরোধতা করতে পারে যাদেরকে কারারুদ্ধ করা হয়নি (তারিখ তাবারি খন্ড ৭ পাতা ১৮)

আরো ইয়াজিদের মৃত্যুর পরে ইবনে যিয়াদ যখন কুফা থেকে সিরিয়াতে পালাচ্ছিল সাইফের সাথে দেখা হয় তখন ইবনে যিয়াদ বলেঃ

এখন নিজের মনে হচ্ছে কেন যে আমি সব বন্দিদের গর্দান উড়িয়ে দিলাম না(তারিখ তাবারি খন্ড ৭ পাতা ৭০)

এই উপরে এই কথাগুলি এটাই প্রমান করে যে কুফাতে ইবনে যিয়াদ কি অবস্থা চাপিয়ে দিয়েছিল। গ্রেফতার ও নজরদারি ও হত্যার মাধ্যমে কুফায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছি।

কুফা থেকে আসা যাওয়ার পথে নজরদারি শুরু করে।

ইয়াজিদের চিঠি পেয়ে ইবনে যিয়াদ কুফা থেকে আসা যাওয়ার পথ সমূহে নজরদারির পোস্ট বসায়।

পুলিশের প্রধান হুসন বিন তামিম নিজে আল কাদিসিয়াহতে অবস্থান নিল অশ্ববাহিনীকে কাদিসিয়াহ ও কাফফানের মধ্যবর্তি জায়গাতে এবং কাদিসিয়াহ থেকে কুতকুতানাহ ও লালা পর্যন্ত অবস্থান করানোর জন্য। (তাবারি খন্ড ১৯ পাতা ৮৩ ইং)

* লালা হচ্ছে কুফা ও বসরার মধ্যবর্তি একটা জায়গা।

ফলে বোঝা যাচ্ছে যে কুফাকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। এর আগেই বলা হয়েছে যে ইমাম হুসাইন (আঃ) এর দ্যূত কায়েস বিন মাশের ধরা পড়েছিলেন এবং যাকে ইবনে যিয়াদ নির্মম ভাবে হত্যা করে, তিনি এই কাদিসিয়াহতে পুলিশ প্রধান হুসন ইবনে তামিমের হাতে ধরা পড়েন।

এরপরেও ইবনে যিয়াদ যুদ্ধের জন্য কুফাবাসীদেরকে চাপ প্রয়োগ করে এবং লোকদেরকে প্রেরণ করে কিন্তু তারা কুফার দিকে ফিরে আসতে থাকে, এই প্রবনতা ঠেকাতে ইবনে যিয়াদ সুওাইদ বিন আব্দুর রাহমানকে একটা সেনাদল দিয়ে পাঠায়। এক সময় ইবনে আব্দুর রহমান সিরিয়া থেকে আগত এক ব্যবসায়ীকে ধরে এবং ইবনে যিয়াদের কাছে পাঠিয়ে দেয় ইবনে যিয়াদ দৃষ্টান্তমুলক সন্ত্রাস কায়েম করার জন্য তাকে হত্যা করে ফলে আম জনতা যারা কারবালায় থেকে ফিরে আসছিল তারা ভয় পেয়ে আবার কারবালায় ফিরে যায়।

সুতরাং ইতিহাস বীক্ষণ করলে দেখা যায় যেঃ

১) কুফায় খাস শিয়াদেরকে গ্রেফতার করা হয়, জেলে গর্দান ওড়ানো হয়।

২) আম জনগণ ও আম শীয়াদের মধ্যে ইমাম হুসাইন (আঃ) কে সাহায্য করতে চাইত সম্পুর্ন ভাবে অপারগ হয়ে যায় কারণ কুফা ও কুফা সংলগ্ন অঞ্চলে কারফিউ জারি হয়ে যায়।

৩) জনগনকে সন্ত্রাসের মাধ্যেম বাধ্য করা হয় ইমাম হুসাইন (আঃ) এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে।

এখানে পাঠকগনকে আবারো মনে করিয়া দেই যে এই আম শিয়া ও আম জনগনই আজকে আহলে সুন্নাহ সেটা আমরা আগেই প্রমান করেছি। পরবর্তিতে দেখানো হবে যে ইমাম হুসাইন (আঃ) এর খাস হত্যাকারীদের সাথে আহলে সুন্নাহর মাখামাখি ও সখত্যা। যদিও এর আগে আম জনগণের মধ্যে যারা চিঠি লিখেছিল তাদের পরিচয় দেওয়া হয়েছে এবং এরা ইমাম হুসাইন (আঃ) এর বিরুদ্ধে কারবালায় ছিল ও এদের সাথে আহলে সুন্নাহর প্রবল সম্পর্ক দেখানো হয়েছে। এটাও দেখানো হয়েছে যে আহলে সুন্নাহ তাদের থেকে হাদিস শিক্ষা নিয়েছে।

খাস শিয়ারা কারবালায় ইমাম হুসাইন (আঃ) এর সাথে জীবন দিয়েছিলঃ

উপরে বর্নিত যে কুফায় এর সামরিক ও সন্ত্রাসী রাজত্ব কায়েম হওয়ার পরেও কুফায় যারা খাস শিয়া ছিল তাদের মধ্যে অনেকেই কারবালায় ইমাম হুসাইন (আঃ) এর সাথে থেকে যুদ্ধ করে শাহাদাত বরন করেছিল।

১) ইমাম হুসাইন (আঃ) এর চিঠি পড়ার পরে মুসলিম ইবনে আকীলের কাছে যারা সহায়তা করার অঙ্গীকার করেছিল তারা আবিস বিন আবি শাবাব আল শাকিরি, সাইদ বিন আব্দুল্লাহ আল হানাফি ও হাবিব বিন মাযাহির, এরা তিনজনই ইমামের (আঃ) এর কাছে পৌঁছিয়েছিলেন এবং যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেছেলেন। (সুত্রঃ তাবারি ইং খন্ড ১৯ পাতা ২৯)

২) কুফাতে মুসলিম বিন আকীল যাদেরকে দায়িত্ব  দিয়েছিল সেই মুসলিম বিন আওসাজা আল আসাদি ও আবু সুমামাহ আল সাইদি ( তাবারি খন্ড ১৯ পাতা ২৯) এই দুজনও ইমাম (আঃ) এর সাথে কারবালায় শাহাদাত বরণ করে। (সুত্রঃ তাবারি খন্ড ১৯ পাতা ১৩৭ ও ১৪২)

৩) কুফার শিয়া খাসদের মধ্যে যারা কারবালায় ইমাম হুসাইন (আঃ) এর পাশে থেকে যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেছিল তাদের মধ্যে বুরাইর বিন হুদাইর। তারিখ তাবারি ইং খন্ড ১৯ পাতা ১১৯ এ দেখুন। ফুটনোটে উল্লেখ হয়েছে যে সে কুফায় শিয়াদের একজন প্রথম শ্রেনীর নেতা ছিল। সে একজন কারী ছিল। (দেখুন তাবারি ইং খন্ড ১৯ পাতা ১৩৩)

৪) আনাস বিন হারিস, রাসুল (সাঃ) এর একজন সাহাব ছিল যাতে ইবনে আসির তার আসাদুল গাবা ও ইবনে হাজর আস্কালানি তার বই আল ইসাবাতে উল্লেখ করেছেন। সে একজন কুফি ছিল এবং সে কারাবালায় গিয়েছিল ইমাম হুসাইন (আঃ) কে সাহায্য করেতে যখন ইমাম কারবালায় পৌঁছিয়েছিলেন।

৫) নাফি আল হিলালি আল জামালি (তাবারি ইং খন্ড ১৯ পাতা ১৪৫)।

৬) হানযালা বিন আসাদ (তাবারি খন্ড ১৯ পাতা ১৪৬/৭)

তাবারি ও অন্যান্য ইতিহাসে আরো ২৫ জনের ও বেশি নাম উল্লেখ হয়েছে যারা কুফার খাস শীয়া ছিল এবং কারবালায় ইমাম হুসাইন (আঃ) এর সাথে থেকে প্রান দিয়েছে।

কিন্তু নাসেবীরা ও আহলে সুন্নাহরা এদের নাম কখনই বলবে না কারণ তাতে তারা যে ইমাম হুসাইন (আঃ) কে হত্যা করেছিল তা প্রকাশ পাবে এবং এটাও প্রকাশ পাবে যে হত্যাকারীদের সাথে তাদের সখ্যতা কি!

এরপরেও নাসেবীরা কি ভুল আউড়াতে থাকবে যে শিয়ারা হুসাইন (আঃ) কে হত্যা করেছে!

যে খাস শিয়ারা ইমাম হুসাইন (আঃ) কে সাহায্য করতে পারেনি পরিস্থিতির কারণে তাদের কার্যক্রমঃ

এর মধ্যে আমরা দেখেছি যে খাস শিয়ারা ইমাম হুসাইন (আঃ) কে চিঠি লিখেছিল ও ইয়াজিদের বিরুদ্ধে কুফায় মুভমেন্ট করেছিল তারা কুফায় বন্দি হয়েছিল বা কুফায় হত্যা করা হয়েছিল বা এমন পরিস্থিতির স্বীকার হয়েছিল যে গৃহবন্দি হয়েছিল নজরদারী ও কারফিউর কারণে। আরো দেখেছি অনেকেই ইমাম হুসাইন (আঃ) এর কাছে কারবালায় এসে ইমামের পাসে থেকে জীবন দান করেছিল।

এখন আমরা আলোচনা করবো যে সব খাস শিয়া ইমাম হুসাইন (আঃ) কে চিঠি লিখেছিল কিন্তু ইমাম হুসাইন (আঃ) কে সাহায্য করতে পারেনি তারা পরবর্তিতে কি করেছিল ও কাদের দোষ দিয়েছিল। তওবাবুনদের কথা আগেই বলেছি এখানে সংক্ষেপে বলা হল।

তাবারী খন্ড ৭ পাতা ২৭ (আঃ) উল্লেখ করেছেন যখন ইমাম  হুসাইন (আঃ) কতল হয় এবং ইবনে যিয়াদ নুখাইলা থেকে কুফায় ফিরে আসে, শীয়ারা নিজেদের মধ্যে দেখা করল এবং একে অপরকে  সমালোচনা করতে লাগল এবং তাদের দুর্বলাতার জন্য  দুঃখ  প্রকাশ করতে লাগল, তারা মনে করতে লাগল যে তার বড় এক অপরাধ করে ফেলেছে যে তারা ইমাম হুসাইন আঃ কে ডেকেছিল এবং পৌঁছালে তাকে সাহায্য করার প্রতিশ্রতি দিয়েছিল, তারা যেতে পারেনি এবং সে (ইমাম আঃ) তাদের প্রতিবেশি অঞ্চলে কতল হয়েছে এবং তারা মনে করল এই ভুল থেকে মুক্ত হওয়া যাবে না যতক্ষন না যারা তাকে হত্যা করায় শামিল হয়েছে তাদেরকে হত্যা করা অথবা এইকাজ করতে গিয়ে নিজেদের প্রান দেওয়া

সুতরাং উপরের বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার হয় যে, যে সব খাস শিয়া কারবালায় যেতে পারেনি তারা পরিকল্পনা নিয়েছিল তাদেরকে হত্যা করবে যারা ইমাম হুসাইন (আঃ) এর হত্যায় শালিম ছিল। অর্থাৎ এই খাস শিয়ারা কারবালায় ইমাম হুসাইন (আঃ) এর হত্যায় কোন রকম জড়িত ছিল না।

ইমাম হুসাইন (আঃ) যারা চিঠি লিখেছিল তাদের কথা বললে সর্বপ্রথম জলীল সাহাবী সুলাইমান ইবনে সর্দ রাঃ এর কথা বলতে হয়। (যার পরিচয় আগেই দেওয়া হয়েছে)। কারবালার ঘটনার পরে খাস শিয়ারা তার বাড়িতে আবারো জড়ো হনঃ ইবনে কাসীর তার ‘আল বেদায়া আন নেহায়া’ এর খন্দ ৮ পারা ৪৪৮ বাং এর উল্লেখ করেছেনঃ

তারা প্রসিদ্ধ সাহাবী সুলাইমান বিন সর্দ রাঃ এর ঘরে একত্রিত হয়। আর তাদের মধ্যে ছিলেন পাঁচজন নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। তাঁরা হলে সুলাইমান বিন সর্দ সাহাবী, মুসাইব ইবনে নুজাবা আল ফাযারি……

এঁদের মধ্যে মুসাইব ইবনে নুজাবা উঠে ভাষন দিলেন যা ইবনে কাসীর তার তার আল বেদায় ওয়া আন নেহায়াতে উল্লেখ করেছেন বাংলা অনুবাদ খন্ড ৮ পাতা ৪৪৯।

তারিখে তাবারির খন্ড ৭ পাতা ৪৮ এ মুসাইব ইবনে নাজবা এর ভাষন উল্লেখ করেছেন আমরা আমাদের সত্যবাদিতার জন্য গর্ববোধ করতাম এবং আমাদের শিয়াদের ব্যাপারে প্রশংশা করতাম কিন্তু আল্লাহ আমাদেরকে যখন পরীক্ষা নিলেন তখন আমাদের দাবী ভুল প্রমাণিত হল। আমারা হুসাইন (আঃ) কে ডেকেছিলাম এবং তাকে সাহায্য করবার জন্য বলেছিলাম। ………………………………………………অবশ্যই আমাদের ভুল মার্জনা যোগ্য নয়। কিন্তু এখন আমাদের কাছে সুযোগ আছে তাদেরকে হত্যা করতে যারা তাঁর (ইমামের আঃ) হত্যায় অংশ গ্রহন করেছে অথবা আমরা এই কাজ করতে গিয়ে জীবন দান করব

উপরের বক্তব্য আরো একবার নাসেবীদের প্রোপাগান্ডাকে ধুলিৎসাত করে দেয় যে শিয়ারা ইমাম হুসাইন (আঃ) কে হত্যা করেছিল। উপরের বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে যে খাস শিয়ারা কুফায় শহর বন্দি হয়ে পড়েছিল এবং তাঁরা তাদেরকে হত্যা করার সঙ্কল্প নেয় যারা ইমাম হুসাইনের (আঃ) হত্যায় সাহায্য করেছিল এবং অংশগ্রহন করেছিল।

বিভিন্ন শেখ আমা ইমাম হুসাইনের (আঃ) হত্যা জড়িত ছিল, শীয়ারা নয়।

ইয়াযিদের মৃত্যুর পরে যখন কিছু করার সুযোগ এল তখন সুলাইমান ইবনে সর্দ রাঃ বলেন ঘটনাক্রম বিবেচনা করে দেখা গিয়েছে যে হুসাইনের হত্যার জন্য কুফার গোত্র প্রধানরা যুক্ত আছে তারা যদি তোমাদের পরিকল্পনা জানতে পারে যা তাদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে তবে তারা উগ্রভাবে তোমাদের বিরোধতা করবে। আর যারা আমাদের সাহায্য করবে সেটা দেখার পরে বোঝা যায় তারা যত সংখ্যক যে তাদের দ্বারা প্রতিশোধ নেওয়া যাবে না আর না উদেশ্য সফল হবে, আর শত্রুদের কোন ক্ষতিকারা যাবে বারং উল্টে এদেরকে কচুকাটা করে দেবে। সুতারং আমি তোমাদের বলছি যে তোমাদের লোকজনকে ছড়িয়ে দাও ও অন্যদের বোঝাও আমাদের সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য(তাবারি খন্ড ৭ পাতা ৫২)

সুতরাং এটা প্রমাণিত হয় যে ইমাম হুসাইনের কতলে কুফার ‘আমা’ দের শেইখরা জড়িত ছিল। কুফার অন্যান্য খাস শিয়ারাও একথা উল্লেখ করেছে যেমন উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ পরে ভাষণ দিলেনঃ শত্রুরা রাসুলের নাতিকে হত্যা করার জন্য দৃড় সংকল্প ছিল আর তাঁর বন্ধুরা তাকে সাহায্য করেনি ……………………………… তাঁর হত্যাকারি ও অত্যাচারিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ছাড়া এখন কোন রাস্তা নেই।  ( তাবারি খন্ড ৭ পারা ৫২)

শীয়ারা যখন কুফা থেকে কারবালায় গেল ইমাম হুসাইন (আঃ) এর হত্যাকারিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য তখন মুসান্না বিন মাখবারিয়া ভাষন দিলেনঃ হুসাইন ও তাঁর আনসারদের হত্যাকারী দলকে আমারা আমাদের শত্রু মনে করি আমরা তাদের থেকে নিজেদের পৃথক করি, আমরা আমাদের ঘর ছেড়েছি তাদের প্রত্যেককে ধ্বংস করার জন্য(তাবারি খন্ড ৭ পাতা ২২১)

এরা কারবালায় একরাত কাটায় এবং সুলাইমান ইবনে সর্দ রাঃ এর নেতৃত্বে যুদ্ধরত হয় এবং দামেস্কের বাহিনীর সাথে যুদ্ধরত এক পর্যায়ে আইনুল বারদাতে শাহাদাত বরন করে এবং সুলাইমান ইবনে সর্দ ও মুসাইব ইবনে নাজাবার শির মোবারক মারোয়ান ইবনে হাকাম (লাঃ) এর কাছে পাঠিয়ে দেয়। তখন হজরত সুলাইমান ইবনে সর্দ রাঃ এর বয়স ৯৩ ছিল। (সুত্রঃ
“আল বেদায়া ওয়া আন নেহায়া (বাংলা) খন্ড ৮ পাতা ৪৬৪)

নোটঃ অপর দিলে ইবনে যিয়াদ সেসব শীয়া নেতাদের কুফায় ধড়পাকড় করেছিল তাদের মধ্যে সাহসি ও ইমাম হুসাইন (আঃ) এর বাল্যবন্ধু হজরত মুখতার রহঃ ছিলেন। মুখতার সুলাইমান বিন সর্দ ও তাঁর সাথিদেরকে বারণ করছিল কোন কিছু করার এবং তার মুক্তি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছিল যাতে একসাথে ইয়াজিদ ও ইবনে যিয়াদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে। মুখতার বলেছিল যে ইবনে যিয়াদ ও তাদের মত নীচ প্রকৃতির লোকদের মোকাবিলা তাঁরা ( সুলাইমান বিন সর্দ ও তাঁর সাথিরা) করতে পারবে না, মুখতারের মত লোক দরকার। কিন্তু সুলাইমান বিন সর্দ রাঃ এবং তাঁর সাথিদের বক্তব্য ছিল যে মুখতার আদেও জেল থেকে বার হতে পারবে কিনা ঠিক নেই আর তত দিনে যদি তারা ইন্তেকাল করে তবে আল্লাহের কাছে কি জবাব দেবে। এই বিশেষ যুক্তিগুলোর ভিত্তিতে সুলাইমান বিন সর্দ ও তাঁর সাথীরা যুদ্ধ করে।

উপরের ঘটনা সমূহ থেকে বোঝা যায় যে কুফার থেকে কিছু লোক চিঠি লিখেছিল তাদের প্রকারভেদ।

১) আম শিয়া যারা পরবর্তিতে নাম বদলে আহলে সুন্নাহ নাম নিয়েছে

২) আম জনগণ

৩) খাস শিয়া

এদের মধ্যে আম শিয়া ও জনগণ যারা ইমাম হুসাইন (আঃ) এর কতলে অংশগ্রহন করেছিলে তাদের সাথে আহলে সুন্নাহর সখ্যতা ও মুহাব্বাত আর অপর দিকে খাস শীয়ারা ইমাম হুসাইন (আঃ) এর হত্যাকারীদের সাথে যুদ্ধ করে এবং শাহাদাত বরণ করে।

পরবর্তি পোস্টে বাকি অংশগুলি প্রকাশ করা হবে যেগুলিঃ

৪) ইমাম হুসাইন (আঃ) ও নবী পরিবারের হত্যায় ইয়াজিদ, সাহাবা, সাহাবদের পুত্ররা ও উসমানের ধর্মের লোকেরা সহ কারা জড়িত ছিল তার প্রমাণ। এই সব হত্যাকারিদের সাথে আহলে সুন্নাহ ও নাসেবীদের সখ্যতা।

৫) ইয়াজিদ লা’নাতুল্লাহ আলাইহির চরিত্র ও কর্মকান্ড। আহলে সুন্নাহর বিভিন্ন আলেমদের মতামত।

৬) নাসেবী আহলে হাদিসি, নজিদি ও আহলে সুন্নাহর বিভিন্ন মিথ্যা প্রপাগান্ডা ও প্রশ্নের জবাব।

এখানে নাম পরিবর্তনের একটা ছোট্ট ঘটনা উল্লেখ করে শেষ করছি। বিভিন্ন সময় দেখা যায় যে বিভিন্ন ক্রিমিনালরা খুনখারাবী করে আইনের হাত থেকে বাঁচতে ও সমাজে অপাংতেও না থাকতে নিজের নাম বদলে সাধু সাজে। গত বছরেই ভারতে এমন এক সাধু ধরা পড়েছে সুদীর্ঘ ১০ বছর পরে। তার বাড়ি বিহারে ছিল। সে কলকাতায় এক খুন করে এবং টাকা পয়সা নিয়ে পালায়। পরে সে রাজস্থানে একটা আশ্রম বানায় ও সাধুবাবা সেজ বসে। সে নাম পালটিয়ে নেয় ও ভেশ ও পালটিয়ে নেয়। কলকাতার পুলিশ তার বাড়ির স্ত্রীর ফোন ও মেয়ের ফোন ট্যাপ করতে থাকে তাতে দেখা যায় যে প্রায় প্রতিদিন রাজস্থান থেকে ভিন্ন ভিন্ন ফোন নং থেকে ফোন আসছে। তার সেই সব যোগাড় করে রাজস্থানে গিয়ে ওই নাম বদলিয়ে নেওয়া খুনিটাকে বেশ কিছুদিন ধরে ওয়াজ করে। গলারস্বরের স্যাম্পেল নিয়ে নিশ্চিত হয়ে পাকড়াও করে। সুতরাং নাম বদলিয়ে নেওয়া জনগণ থেকে সাবধান।

(লেখাটাকে রিভিশন বা এডিট ছাড়াই প্রকাশ করা হল সুতরাং বানান গুলো বা অন্য কোন ভুল-ভ্রান্তি থাকলে নোটিসে আনলে সংশোধন করে দেওয়া হবে)