ইবনে সাবাঃ সুন্নি মতে জলিল ও কদর সাহাবাদের গুরু ছিল

নাসিবিরা তাদের পূর্ব পুরুষের পথে চলে তাদের পূর্ব পুরুষদের কুকর্ম ঢাকতে বিভিন্ন গল্প ফাঁদে যাতে করে তাদের পূর্ব পুরুষদের কুকর্ম ঢাকা যায়। যেমন আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা এর গল্প!

এদেকে নাসিবিরা বলে যে তাদের সমস্ত সাহাবী রা নক্ষত্রের তুল্য। আর আহলে সুন্নারা তাদের দ্বীনকে সাহাবাদের উপর নির্ভর করে চলে।তাদের দ্বীনকে সাহাবাদের থেকে নিয়েছে।

(নোটঃ শিয়ারা সেই সব সাহাবাদেরকে মানে যারা আহলে বাইত আঃ দের সাথে কোন রূপ শত্রুতা রাখে না বা আহলে বাইত আঃ দের বিরুদ্ধে কোন রূপ ‘বুগজ’ প্রযোগ করে না।)

অথচ নাসিবিরা তাদের ধর্মের মুল নিয়েছে নাসিবি তথা কথিত সাবাবা ও নাসিবি ও খারেজী তাবেইনদের থেকে।

শিয়া বইয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা এর কোন শিক্ষা নেই- অথচ নাসিবিরা দেখুন কিভাবে সাহাবাদের কে আহদুল্লাহ ইবনে সাবা এর ছাত্র হিসাবে তুলে ধরছে আর আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার নির্দেশ পালন করছে বলে অভিযোগ করছে।

বর্তমান যুগের বড় সালাফি নাসিবি আলেম যার পিছনে এখন নব্য নাসিবি তস্য নাসিবিরা মোমাছির মত ছূটে সেই উসমান আল খামিস আল কুওয়াতি তার বই ‘হুকবা মিন তারিখ’ এর পাতা ১৩০-১৩১ এ আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা এর আলোচনা করার সময় লিখেছেঃ-

আব্দুল্লাহ ইবন সাবার প্রচারকারী

“আর তার ( আব্দুল্লাহ ইবন সাবার) প্রচার কারীদের মধ্যে যারা তার দাওয়াতকে প্রচার করেছিল তারা হল আল গাফেরি বিন হারব, আব্দুর রহমান বিন উদাইস আল বালাবি, কানানা বিন বাশার, সাউদা বিন হামরান, আব্দুল্লাহ বিন যাইদ বিন ওয়ারকা, আমর বিন হামক আল খুজাই, হারকুস বিন যুহাইর, হাকিম বিন জাবালা, কিতীরা আল সাকূনী ও অনান্যরা…”।  (স্ক্যান এর জন্য ক্লিক করুন)

আরও আহমেদ মাসকুরাহ তার ‘তাজারেব আল উমাম’ এর ৩৯২ পাতায় লিখেছেনঃ

و خرج أهل مصر و معهم ابن السوداء، و كنانة بن بشر، و سودان بن حمران، و في أهل الكوفة زيد بن صوحان، و الأشتر النخعي، و في أهل البصرة حكيم بن جبلة و بشر بن شريح و أميرهم حرقوص بن زهير،

 “মিসরের লোকেরা বার হল আর ইবনে সাওদা (ইবনে সাবা ) তার মধ্যে ছিল এবং তার সাথে কানানা বিন বাশর, সাওদান বিন হামরান, আর কুফা এর লোকেদের মধ্যে যাইদ বিন সাউহান আল আশতার আল নাখাই, আর বসারা এর লোকদের মধ্যে হাকিম বিন জাবালা, বাশার বিন শুরাইল, আর তাদের নেতা ছিল হারকুস বিন যুহাইর”।

এখানে আহমাদ মাসকুরাহ বা উসমান খামিস নতুন কিছু কথা বলে নি, ইবনে সাবা এর জনক উমার বিন সাইফ আত তামিমি সময় থেকেই বলে আসছে। আহলে সুন্নাহ সাহাবাদেরকে ইবনে সাবার ছাত্র বলে আসছে।

ইবনে সাবা আবিস্কারের পিছনে আহলে সুন্নাহের এক উদ্দেশ্য

ইবনে সাবা আবিস্কারের পিছনে আহলে সুন্নাহের এক উদ্দেশ্য আছে সেটা হল সেই যুগে যত কিছু খারাব হয়েছে সব ‘যত দোষ নন্দ ঘোষ’ এই ফর্মুলায় ফেলে ইবনে সাবার উপরে চাপিয়ে দেওয়ায় যায় যাতে বড় বড় খলিফার ও সাহাবীদের দোষ অন্যের ঘাড়ে ফেলা যায়।

এখন দেখি উপরের নাম গুলির মধ্যে যাদের উসমান খামিস ইবন সাবা এর ফলোয়ার বলেছে তাদের মধ্যে আব্দুর রহমান ইবন উদাইস কে ছিলেনঃ

জারকলি তার ‘আল আলাম’ এর খণ্ড ৩ পাতা ২১৬ এ লিখেছেন

  عبدالرحمن بن عديس بن عمرو البلوي شجاع صحابي ممن بايع تحت الشجرة شهد فتح مصر ثم كان قائد الجيش الذي بعثه ابن ابي حذيفة (والي مصر) إلى المدينة لخلع عثمان

“আব্দুর রহমান বিন উদাইস বিন আমর আল বালাবি, সে একজন সাহাবী ছিলেন, সাহসী ছিলেন এবং গাছের নিচে বায়াতকারিদের একজন ছিলেন (বায়াত এ রিজোয়ান), তিনি মিশর বিজয় প্রতক্ষ্য করেছেন, ইবনে আবি হুযাইফা (মিসরের ওলি/শাসক) উসমানকে উৎখাত করতে যে সেনা পাঠিয়েছিল তার নেতা ছিলেন”।

আরও

“আব্দুর রাহমান ইবনে উদাইস গাছের নিচে বায়াত ( বায়াত এ রেযোয়ান) কারিদের মধ্যে ছিল”।–ইবনে হাজর আস্কালানি, ইবনে আব্দুর বারর্।ও বহু গ্রন্থকার।

আহলে সুন্না এই ‘ইবনে সাবার অনুসারির” #সাহাবী থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। যেমন তাবারানি তার ‘মওজাম আল আউসাত’, বাইহাকি তার ‘দালাইলে নাবুয়াত’ প্রভুত গ্রন্থে।

অনুরূপ ভাবে উসমান আল খামিস আর এক জনের নাম আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার অনুসারি হিসাবে উল্লেখ করেছেন যিনি হলেন ‘আমর বিন হামাক বিন কাহেল আল খুজাই’

জারকালি তার ‘আল আলাম’ এর খণ্ড ৫ পাতা ৭৬ এ লিখেছেঃ

 عمرو بن الحمق بن كاهل الخزاعي الكعبي صحابي من قتلة عثمان

“উমার বিন হামাক বিন কাহাল বিন খুজাই আল কাবি, সে একজন সাহাবী ছিল এবং তিনি উসমানে হত্যা কারিদের একজন

(আরও অন্যান্য সাহাবিদের মারেফাতের বই দেখুন)

ইবনে সাবার তথাকথিত ‘অনুসারিদের’ হাদিস শিয়া গ্রন্থে পাওয়া যায় না

যদিও আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার তথাকথিত ‘অনুসারিদের’ হাদিস শিয়া গ্রন্থে পাওয়া যায় না বরঞ্চ আহলে সুন্নার হাদিসের বই সমূহে ইবনে সাবার এই অনুসারি উমার বিন হামাক – এর হাদিস বর্ণনা খুঁজে পাওয়া যায়।যেমন সুনান ইবনে মাজা, মুস্নাদে ইমাম আহঅমাদ ইবনে হাম্বল, আল মুস্তাদরাক আল হাকিম, সুনান বায়হাকি, সুনানে ইমাম নাসাই, মওজাম আত তাবারানি। সাহিহ ইবনে হিব্বান, ইত্যাদিতে।

এবার দেখি আরও একজন আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা এর অনুসারি কে ছিলেন। উসমান আন খামিসের উপরের লিস্ট থেকে কানানা বিন বাশার  এর সম্বন্ধে ‘তারিখ আল দামিস্ক’ ইবনে আসাকির লিখেছেন। খণ্ড ৫০ পাতা ২৫৭।

كنانة بن بشر بن سلمان ويقال بن بشر بن عتاب التجيبي الأيدعاني أحد من سار إلى حصر عثمان وممن تولى قتله روى عنه حيان بن الأعين بن نمير بن سليع الحضرمي

“কানানা বিন বাশার বিন সালমান, যাকে বিন বাশার বিন উতাব আল তুজাইবি আল আইদিয়ানি নামেও বলা হয়, তিনি উসমানকে ঘেরাও ও হত্যাকারিদের একজন ছিলেন। হাইয়ান বিন নুমাইর বিন সালী আল হাদ্রামি তার থেকে বর্ণনা করেছেন”।

আরও দেখা যাক আল খামিস এর লিস্ট থেকে হারকোউস বিন যুহাইর এর সমন্ধে।

জারকালি তার আল আলাম এর খণ্ড ২ পাতা ১৭৩ তে লিখেছেনঃ

حرقوص بن زهير بن السعدي الملقب بذي الخويصرة صحابي من بني تميم

“হারকোউস বিন যুহাইর বিন সাদি যাকে জি খুওয়াইরেসা বলা হয়- বানী তামিম এর সাহাবী ছিলেন”।

আরও!!! —-

উপরের লিস্ট থেকে আরও একটা নাম নেওয়া যাক দেখি আহলে সুন্নারা কেমন ভাবে সাহাবিদেরকে ইবনে সাবার এর অনুসারি বলছেন!!লিস্টের আর এক নাম হাকিম বিন জাবালা

জারকালি তার আল আলামের খণ্ড ২ পাতা ২৬৯।

حكيم بن جبلة العبدي من بني عبد القيس صحابي كان شريفا مطاعا من أشجع الناس ولاه عثمان إمرة السند ولم يستطع دخولها فعاد إلى البصرة واشترك في الفتنة أيام عثمان

“হাকিম বিন জাবালা আল আবাদি, তিনি বানী আব্দুল কাইস থেকে সাহাবী ছিলেন, তিনি সম্মানিত ছিল আর তার লোকমান্য ছিলেন, উসমান তাকে সিন্দ এর সৈন্য বাহিনীর প্রধান করে পাঠিয়েছিলেন কিন্তু তিনি বিফল হয়েছিলেন এটা (সিন্দ)বিজয় করতে, তিনি সুতারং বসরাতে ফিরে আসেন, এবং তিনি উসমানের জামানাতে ফেতনাতে অংশ গ্রহণ করে”।

হজরত আম্মার ইবনে ইয়াসির ও আবু যর গিফারি রাঃ

বিখ্যাত ঐতিহাসিক ইবনে খলদুন তার বিখ্যাত তারিখ এ গর্বের সাথে আরও সাহাবিদের নাম লিখেছেনঃ

وتأخر عمار بن ياسر بمصر واستماله ابن السوداء وأصحابه خالد بن ملجم وسودان بن حمران وكنانة بن بشر

“আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাঃ) মিসর থেকে ফিরতে দেরি করলেন আর এইভাবে ইবনে সাওদা (ইবনে সাবা) তাকে তার সাথে খালিদ বিন মুলজিম, সাওদান বিন হামরান ও কানানা বিন বাশরকে আকৃষ্ট করেন”।

বর্তমান যুগের আলেম হাসান বিন মালিক তার বই ‘নাহও এনকাদ আত তারিখ’ এর পাতা ৭১ এ লিখেছেনঃ

فأنت تجد في رواياته أن أبا ذر وعمار بن ياسر من تلاميذ عبدالله بن سبأ

“(সাইফ বিন উমার) তার বর্ণনাতে এটা দেখা যাবে আবু যার ও আম্মার বিন ইয়াসির আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার ছাত্র ছিলেন”।

এবং পাতা ১৪৯ এ লিখেছেনঃ

هو يذكر أبا ذر وعمار بن ياسر وعدي بن حاتم رضي الله عنهم وغيرهم يذكرهم في أعوان عبدالله بن سبأ

“সে ( সাইফ বিন উমার) উল্লেখ করেছে যে আবু যর, আম্মার বিন ইয়াসির, আদি বিন হাতিম রাদি আল্লাহু আনহুম ও অন্যান্যরা আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার সাহায্য কারী ছিলেন”।

এখন পাঠকদেরকে নিশ্চয়ই ভাল ভাবেই জানে যে হজরত আম্মার ইবনে ইয়াসির ও আবু যর গিফারি রাঃ কে ছিলেন!

ইবনে সাবার ‘অনুসারী’দের থেকে নাসিবিরা হাদিস ও হেদায়াত নিয়েছে

এটা অদ্ভুত নয় কি যে নাসিবিরা প্রখ্যাত সাহাবী ও তাবেইনদের কে আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার অনুসারি ও ছাত্র বলে উল্লেখ করেছে। এবং শুধু তাই নয় শিয়া গ্রন্থ সমূহে আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার থেকে কোন বর্ণনা নেই অথচ এখানে উল্লেখিত আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার ‘অনুসারী’দের থেকে নাসিবিরা হাদিস ও হেদায়াত নিয়েছে। তবে কারা আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার অনুসারি?

উপরের আলোচনা থেকে একথাও পরিষ্কার হয়ে যায় যে নাসিবিরা যাদেরকে ভালবাসে বলে বলে সেটা মেকি। আর যখন সেই সাহাবিদেরকে এরা মিথ্যা অভিযোগ করতে ছাড়ে না তবে অন্যান্য মুসলিমদের নামে কি পরিমাণ  মিথ্যা প্রপাগন্ডা করতে পারে।